৩রা ডিসেম্বর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ সকাল ১০:১৮

উপজেলা চেয়ারম্যানের ঘুমন্ত শিক্ষিকার ছবি তোলা কতটা যৌক্তিক?

রিপোর্টার নাম
  • আপডেট টাইমঃ শনিবার, অক্টোবর ২১, ২০১৭,
  • 209 সংবাদটি পঠিক হয়েছে


এই সেই বীরপুরুষ! জকিগঞ্জ উপজেলা চেয়ারম্যান ইকবাল আহমেদ তপাদার। যিনি লুকিয়ে লুকিয়ে একজন ঘুমন্ত নারীর কাছে গিয়েছেন, তার ছবি তুলে ফেসবুকে দিয়েছেন।

একজন শিক্ষক বা শিক্ষিকার ক্লাসরুমে ঘুমানো কতটা অন্যায়, সেটা মাপার জন্য লোক আছে। কী পরিস্থতিতে তিনি ঘুমিয়ে পড়েছিলেন, তার জবাবদিহিতা নেয়ারও নিশ্চয়ই লোক আছে। কিন্তু একজন উপজেলা চেয়ারম্যান কোন অধিকারে অনুমতি ছাড়া ক্লাসরুমে ঢোকেন? কিভাবে তিনি একজন ঘুমন্ত নারীর ছবি তোলান? কিভাবে তিনি একজন ঘুমন্ত নারীর অত কাছে যান? আমি মনে করি শিক্ষিকা ক্লাসরুমে ঘুমিয়ে অপরাধ করলে তার বিচার হবে, তবে সেটা পরে; আগে এই উপজেলা চেয়ারম্যানের বিচার চাই। একজন সম্মানিত শিক্ষিকাকে অপদস্ত করায় তার বিরুদ্ধে নারী নির্যাতন আইনে মামলা হতে পারে। বিনা অনুমতিতে তোলা ছবি ফেসবুকে দেয়ায় মামলা হতে পারে আইসিটি আইনের ৫৭ ধারায়। দুটি মামলা একসাথে চলতে পারে।

এবার আসি ঘুম প্রসঙ্গে। সেই শিক্ষিকা তার ফেসবুকে লিখেছেন, তার শরীর খারাপ ছিল। তিনি ছুটি চেয়েও পাননি। মানুষ মানুষই, রোবট নয়। তার শরীর ভালো থাকবে, খারাপ থাকবে। ভালো শরীরও হঠাৎ খারাপ হয়ে যেতে পারে। হুটহাট ঘুমও পেতে পারে। সংসদে মন্ত্রী-এমপিদের ঘুমের দৃশ্য টিভিতে সরাসরি দেখা যায়। এমনকি প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতিতে আলোচনা সভার মঞ্চে দলের নেতাদের ঘুমাতে দেখা যায়। আমি প্রায়শই দুপুরে খাওয়ার পর চেয়ারে বসে ১০ মিনিটের ঘুম দেই। মুন্নীর Munni Saha মোবাইলে আমার ঘুমের অনেক ছবি আছে। সে ভদ্রতা করে ফেসবুকে দেয় না। তাই আমি মনে করি না, ক্লাসরুমে অসুস্থ হয়ে টেবিলে মাথা রেখে ঘুমিয়ে পড়াটা অন্যায় নয়। বরং তার সহকর্মীরা যে তার অসুস্থতাটুকু আগে থেকে টের পায়নি, তাদের জন্য তিরষ্কার।

শিক্ষিকার ঘুমিয়ে থাকার ছবিটি আমার কাছে খারাপ লাগেনি। বরং একজন মানুষ আরামে ঘুমাচ্ছে, এটা দেখতেও ভালো লাগে। তবুও তার সম্মানহানির শঙ্কায় ছবিটি শেয়ার করলাম না।

 

এই পোস্টটি শেয়ার করুন...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ ...
© All rights Reserved © 2020
Developed By Engineerbd.net
Engineerbd-Jowfhowo
Translate »