১লা আগস্ট, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ রাত ৩:৪৯

সাড়া না পেয়ে অটোরিকশা ধর্মঘট নিয়ে লুকোচুরি

রিপোর্টার নাম
  • আপডেট টাইমঃ সোমবার, নভেম্বর ২৭, ২০১৭,
  • 177 সংবাদটি পঠিক হয়েছে

অ্যাপভিত্তিক (উবার, পাঠাও) পরিবহন সেবা বন্ধসহ আট দফা দাবিতে সিএনজিচালিত অটোরিকশার ধর্মঘটের ডাক দিয়েছিল ঢাকা ও চট্টগ্রাম জেলা সিএনজি অটোরিকশা শ্রমিক ঐক্য পরিষদ। সোমবার (২৭ নভেম্বর) ও আগামীকাল মঙ্গলবার ঢাকা ও চট্টগ্রামে এ কর্মসূচি পালিত হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু এতে খোদ অটোরিকশার চালক ও মালিকদেরই সাড়া মেলেনি। তাদের সমর্থন না পেয়ে এখন কর্মসূচি নিয়ে লুকোচুরি করছে সংগঠনটি। তারা বলছে, ধর্মঘট নভেম্বরে নয়, ডিসেম্বরে করার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। নেতাদের এমন বক্তব্যে বিস্ময় প্রকাশ করেছেন অটোরিকশা চালকরা।

ধর্মঘট পালনের জন্য সিএনজি অটোরিকশা শ্রমিক ঐক্য পরিষদের নেতারা গত কয়েকদিন ধরে এলাকাভিত্তিক চালক ও মালিকদের সঙ্গে বৈঠক করেন। কিন্তু কোনও বৈঠকেই ধর্মঘটের পক্ষে চালক ও মালিকদের সমর্থন আদায় করতে পারেননি সংগঠনটির নেতারা।  তারা বরং যাত্রীদের সঙ্গে দূরত্ব কমানোর তাগিদ দিয়েছেন। এছাড়া, মালিকদের অতিরিক্ত টাকা জমা নেওয়াসহ নানা হয়রানির কারণে অ্যাপভিত্তিক সেবা দিতে আগ্রহী সিএনজিচালিত অটোরিক্শার চালকরাও। যে কারণে ধর্মঘটের পক্ষে নেই তারা।

সমর্থন না পেয়ে কর্মসূচি একমাস পেছানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন সিএনজিচালিত অটোরিক্শা চালকরা। তারা জানান, প্রথমে নেতাদের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ২৭ ও ২৮ নভেম্বর সিএনজিচালিত অটোরিকশার ধর্মঘট পালন করা হবে। এর কারণ হিসেবে অ্যাপভিত্তিক পরিবহন সার্ভিস বন্ধসহ নানা যুক্তি তুলে ধরা হয়। কিন্তু সাধারণ চালকরা এই যুক্তি মানতে নারাজ। তাদের মতে, উবার, পাঠাও-এর চেয়ে অটোরিকশার ভাড়া বেশি। সরকার নির্ধারিত মিটারেও তারা গাড়ি চালাতে পারেন না। ফলে সাধারণ যাত্রীরা অ্যাপভিত্তিক সার্ভিসগুলোর দিকেই ঝুঁকছেন। এতে সিএনজিচালিত অটোরিকশা কোণঠাসা হয়ে পড়ছে। এ অবস্থায় ধর্মঘটে গেলে হিতে বিপরীত হবে বলে মনে করছেন সাধারণ চালকরা। অ্যাপ বা অনলাইন সার্ভিসের আওতায় না গেলে যাত্রী হারিয়ে পথে বসার আশঙ্কাও করছেন তারা।

কর্মসূচির বিষয়ে জানতে চাইলে ধর্মঘট ডাকা সংগঠন সিএনজি অটোরিকশা শ্রমিক ঐক্য পরিষদের সাধারণ সম্পাদক সাখাওয়াত হোসেন দুলাল বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘নভেম্বরে আমাদের কোনও ধর্মঘটের কর্মসূচি নেই। আমাদের ধর্মঘট ২৭ ও ২৮ ডিসেম্বর। কিছু কিছু গণমাধ্যম কর্মসূচি নিয়ে ভুল সংবাদ পরিবেশন করেছে। খবর প্রকাশিত হওয়ার পর বিভিন্ন এলাকা থেকে আমাদের শ্রমিক নেতা ও সিএনজি চালকরা আমাকে ফোন করে কর্মসূচির কথা জানতে চেয়েছেন। আমি তাদের বলেছি আগামী ডিসেম্বরের ২৭ ও ২৮ তারিখে আমাদের ধর্মঘট। তখন জানতে পারি গণমাধ্যমে ভুল তথ্য প্রচার হয়েছে।’

ভুল তথ্য প্রচারের পর এতদিনেও কেন প্রতিবাদ বা সঠিক তথ্য জানানো হয়নি জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমরা তো পত্রিকা পড়ি না। আমাদের সিএনজি চালকরা অনেকেই পত্রিকা পড়েন না। যে কারণে এই সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে।’ ডিসেম্বরের ধর্মঘট শতভাগ পালন হবে বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি।

গত ১৫ নভেম্বর ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে এক সংবাদ সম্মেলনে ২৭ ও ২৮ নভেম্বর ঢাকা ও চট্টগ্রামে ধর্মঘটসহ এক মাসের কর্মসূচি ঘোষণা করেছিলেন সাখাওয়াত হোসেন দুলাল।

শুধু ধর্মঘটের সময় পরিবর্তনই করেনি সংগঠনটি, এখন ‍পুরনো কর্মসূচির সঙ্গে নতুন আরও একটি বিষয় যুক্ত করেছে। সেটি হচ্ছে, ৩ ডিসেম্বর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে জমায়েত হয়ে বুয়েট কর্তৃপক্ষ বরাবর স্মারকলিপি প্রদান।

ঢাকা ও চট্টগ্রাম জেলা সিএনজি অটোরিকশা শ্রমিক ঐক্য পরিষদের ডাকা এই কর্মসূচির সঙ্গে ঢাকা অটোরিকশা শ্রমিক ইউনিয়নের কোনও সম্পর্ক নেই বলে জানিয়েছেন ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ হানিফ খোকন।

তিনি বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘তারা কী বলতে চায় আমাদের বোধগম্য নয়। একবার বলে উবার-পাঠাও বন্ধ কর, আবার বলে তাদের উন্মুক্তভাবে চলতে দিতে হবে। আবার কর্মসূচি ঘোষণা করে বলে এই তারিখে না ওই তারিখে। এমন জন ও শ্রমিকবিচ্ছিন্ন কর্মসূচির সঙ্গে আমাদের শ্রমিকদের কোনও সম্পর্ক নেই। আমরা এই কর্মসূচি পালন করব না।’ তিনি আরও বলেন, ‘প্রকৃতপক্ষে একটি কুচক্রীমহল সরকারকে বিভ্রান্ত করে শ্রমিকদের ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে নিজেদের স্বার্থ হাসিলের জন্য এমন দাবি জানিয়ে সিএনজি অটোরিকশা শ্রমিকদের যাত্রীদের প্রতিপক্ষ করে তুলছে।’ যারা অবৈধভাবে শ্রম আইন লঙ্ঘন করে অবৈধ ধর্মঘট করে তাদের বিরুদ্ধে যাতে ব্যবস্থা নেওয়া হয় সে দাবি জানান তিনি।

কর্মসূচি সম্পর্কে জানতে চাইলে রাজধানীর নন্দীপাড়া এলাকার একটি গ্যারেজের সিএনজিচালিত অটোরিকশার চালক বশির উদ্দিন বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘এতদিন শুনেছি নভেম্বরের ২৭ ও ২৮ তারিখে ধর্মঘট। কিন্তু আজ (সোমাবার) সকালে শুনি ধর্মঘট নভেম্বরে নয়, ডিসেম্বরে। এক পক্ষ বলে ধর্মঘট পালন করতে হবে, আবার অন্যপক্ষ বলছে এই ধর্মঘট অবৈধ। আমরা তাহলে কী করবো? আমরা তো জিম্মি।’

একই কথা বলেন যাত্রাবাড়ী এলাকার সিএনজিচালক রমজান আলী। তিনি বলেন, ‘ধর্মঘট ভাত দেবে না। সিএনজির চাকা ঘুরলে ভাড়া আসবে। ভাড়া আসলে পরিবার চলবে। ধর্মঘট করলে কী হবে? বরং যাত্রীরা ইন্টারনেটে (অ্যাপভিত্তিক সার্ভিস) গিয়ে ভাড়া মোটরসাইকেলে চলে যাবে। তখন তো আমাদেরই ক্ষতি হবে।’

জানতে চাইলে ঢাকা মহানগর সিএনজি অটোরিকশা মালিক সমিতির সভাপতি বরকত উল্লাহ বুলু বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘আমরা নিয়মের পক্ষে। কারও ব্যক্তিস্বার্থ হাসিল করতে আমরা ঢাল হিসেবে ব্যবহৃত হব না।’

তিনি ধর্মঘট আহ্বানকারীদের প্রতি ইঙ্গিত করে বলেন, ‘মিডিয়ায় দেখলাম ২৭ নভেম্বর থেকে ৪৮ ঘণ্টা তাদের ধর্মঘট। এখন দেখি সেটা এক মাস পিছিয়ে গেল। যাদের নিজের কথায় ঐক্য নেই তারা শ্রমিকদের ঐক্যবদ্ধ করবে কিভাবে?’

এই পোস্টটি শেয়ার করুন...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ ...
© All rights Reserved © 2020
Developed By Engineerbd.net
Engineerbd-Jowfhowo
Translate »