১৭ই এপ্রিল, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ বিকাল ৩:০৫
ব্রেকিং নিউজঃ
সাতক্ষীরা হিন্দু নাবালিকা ছাত্রী অপহরণকারী প্রধান শিক্ষক শামীম আহমেদ গ্রেফতার চলে গেলেন চিত্রনায়িকা কবরী(মিনা পাল) পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা সর্বদলীয় বৈঠকে ধাপে ধাপে ভোটের পক্ষেই মত ভাড়া না দেওয়ায় বের করে দিলেন বাড়িওয়ালা, ঘরে তুলে দিল পুলিশ এত ঘন ঘন অডিও টেপ ফাঁস হচ্ছে, না ইচ্ছে করে করা হচ্ছে !! শিবালয়ে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের কাছে চাঁদা না পেয়ে ছাত্রলীগের তাণ্ডব ইসলাম ধর্ম কবুল না করলে দেশ ছাড়ার হুমকি সিটি স্ক্যান করাতে হাসপাতালে খালেদা জিয়া আফগানিস্তান থেকে মার্কিন সৈন্য প্রত্যাহারের সিদ্ধান্তে উদ্বিগ্ন ভারত সুখরঞ্জন দাশগুপ্ত, বাংলাদেশ থেকে বিতাড়িত এক বর্ণ বিদ্ধেষীর লেখার প্রতিবাদ!

ভগবান মনুর প্রতিলোম বিধান ও শুদ্রগণ

রিপোর্টার নাম
  • আপডেট টাইমঃ রবিবার, জানুয়ারি ১৪, ২০১৮,
  • 328 সংবাদটি পঠিক হয়েছে

লেখকঃ ভানুলাল দাস
————————————————————-
প্রতিলোম বিবাহ শাস্ত্রসম্মত নয়। তাই প্রতিলোমজাত সন্তানরা পিতার উচ্চবর্ণ বা নিম্নবর্ণ নির্বিশেষে শুদ্রবর্ণ হবে। এমনকি ব্রাহ্মণ ক্ষত্রিয় ও বৈশ্য ত্রিদ্বিজের মধ্যে প্রতিলোম বিবাহ হলেও সন্তানরা মাতা বা পিতার দ্বিজবর্ণ প্রাপ্ত হবে না, তারা শুদ্রবর্ণ হবে।

(১) ব্রাহ্মণীতে ক্ষত্রিয় দ্বারা জাত পুত্র সূত নামে পরিচিত হবে। প্রতিলোম নীতি অনুসারে সন্তানের বর্ণ শুদ্র হবে এবং মর্যাদা হবে শুদ্রের।
যেমন, মহাভারতের কর্ণকে সূতপুত্র বলে ক্ষত্রিয় অর্জুন ঘৃনা করতেন এবং দ্রোনাচার্য তাকে অস্ত্র শিক্ষা দিতে চাননি।

(২) ব্রাহ্মণীর গর্ভে বৈশ্যের সন্তান বৈদেহ ও ক্ষত্রিয়নারীর গর্ভে বৈশ্যের সন্তান মাগধ নামে পরিচিত। মনু ১০/৯।
এই বর্ণসংকরগুলোর সবারই বর্ণ হবে শুদ্র। প্রতিলোমজের দোষে তারা শুদ্রবর্ণ প্রাপ্ত হবে। মাগধের মর্যাদা হবে বৈদেহ থেকে উচ্চ।

প্রতিলোম বিবাহ যেহেতু মনুশাস্ত্র নিষিদ্ধ ও নিন্দনীয় করেছে এবং তা নিবৃত্ত করতে চেয়েছে, তাই এমন বিবাহজাত সন্তানের মাতার বর্ণ যত উচ্চ হবে জাতকের মর্যাদা হবে হীনতর। এজন্যই বৈশ্য পিতার ঔরসে বর্ণশ্রেষ্ট ব্রাহ্মণীর গর্ভজাত সন্তান ’বৈদেহ’ এর মর্যার্দা ক্ষত্রিয় নারীর গর্ভের সন্তান ‘মাগধ’ এর চেয়ে হীনতর।

(৩) বৈশ্য নারীর গর্ভে শুদ্রের সন্তান হবে আয়োগব এবং সন্তান শুদ্রবর্ণের হবে।

(৪) ক্ষত্রিয় নারীর গর্ভে শুদ্রের পুত্র ক্ষত্তা এবং সন্তান শুদ্রবর্ণ হবে।

(৫) ব্রাহ্মণীর গর্ভে শুদ্রপুত্র হবে অধম চন্ডাল।

‘শুদ্রাদায়োগবঃ ক্ষত্তা চান্ডালশ্চাধামো নৃণাম
বৈশ্যরাজন্যবিপ্রাসু জায়ন্তে বর্ণসঙ্করাঃ।’ মনুসংহিতাঃ ১০/১২
–শুদ্র দ্বারা বৈশ্যাজাত সন্তান হয় আয়োগব, ক্ষত্রিয়জাত হয় ক্ষত্তা, ব্রাহ্মণীজাত হয় মানুষের মধ্যে অধম চন্ডাল। শুদ্র দ্বারা ত্রিবর্ণ দ্বিজনারীতে যে সন্তান হয় তারা প্রতিলোম হেতু শুদ্রজাতীয় বর্ণসংকর উৎপন্ন হয়।

শুদ্র দ্বারা বৈশ্যা, ক্ষত্রিয়া ও ব্রাহ্মণীতে যে সন্তান হবে, তারা হবে প্রতিলোম বর্ণসংকর জাতি। এরা সবাই শুদ্র হবে, কখনও বর্ণসংকর জাতক মাতার মত উচ্চবর্ণের হবে না। সবাই শুদ্র হবে, কিন্তু মাতা ও পিতার বর্ণের মধ্যে যত ফারাক হবে সন্তান হবে মর্যাদার দিক থেকে তত নিম্ন। শুদ্রের প্রতিলোম বিবাহে মাতা যত উচ্চতর হবে শুদ্রবর্ণের সন্তানের মর্যাদা হবে ততই নিম্নতর।
যেমন, শুদ্র দ্বারা ব্রাহ্মণীর গর্ভের সন্তান চন্ডালের মর্যাদা পাবে, যা শুদ্রের মধ্যে সবচেয়ে নিম্নতর।

শুদ্রমাতার অনুলোমজাত বর্ণসংকর, শুদ্রপিতার প্রতিলোমজ সন্তান এবং ত্রিবর্ণ দ্বিজের প্রতিলোমজ সন্তানগনই বৃহত্তর শুদ্র সমাজ গঠন করেছে। অনার্য ব্রাত্যজনদের বংশধর, আর্যনারীর গর্ভে শুদ্রদ্বারা উৎপাদিত বংশধর ও দ্বিজবর্ণের প্রতিলোমজ বংশধর মিলে মহাজাতি শুদ্র গড়ে ওঠেছে।

মহান শুদ্রজাতির গঠন

উপমহাদেশের সংখ্যাগরিষ্ট শুদ্রজাতিরা এখানকার ভূমিপুত্র। হিন্দুধর্মে তারা অবহেলিত ও নিষ্পেষিত। আজন্ম আধ্যাত্মিক ও আর্থ-সামাজিক বৈষম্যের শিকার তারা। বহিরাগত আর্যরা আদিবাসী অনার্যদের শুদ্র বর্ণ হিসেবে হিন্দু ধর্মে জায়গা দিয়েছে বটে, তবে শাসন শোষনের সুবিধার্থে তাদের নানা উপবর্ণে বিভক্ত করে রেখেছে। মহান শুদ্রবর্ণের অন্তর্ভূক্ত নিমোক্ত জাতিসত্তাসমুহ :

(১) আদিবাসী অনার্য জাতিগোষ্ঠী।

(২) প্রতিলোম বিবাহে শুদ্রপুরুষের ঔরসে
দ্বিজবর্ণের নারী থেকে উৎপন্ন জাতিগোষ্ঠী।

(৩) প্রতিলোম বিবাহে দ্বিজবর্ণ পুরুষ দ্বারা স্ববর্ণের চেয়ে উচ্চবর্ণের নারীর গর্ভে উৎপন্ন জাতিগোষ্ঠী ( যেমন, ব্রাহ্মণ মাতা ও ক্ষত্রিয় পিতার সন্তান ‘সূত’)।

(৪) অনুলোম বিবাহে তিন দ্বিজবর্ণের ঔরসে শুদ্র নারীর গর্ভজাত জাতিগোষ্ঠী।

(৫) উচ্চ বা নিম্ন বর্ণের পুরুষের ঔরসে বিবাহ বহির্ভূত বর্ণ নির্বিশেষ নারীর গর্ভজাত মানবগোষ্ঠী।

(৬) দ্বিজবর্ণের লোকরা অধর্মাচরন করে সমাজ দ্বারা পতিত হয়ে শুদ্র বর্ণে অন্তর্ভূক্ত হলে।

(৭) শুদ্র সমাজে মেলামেশার কারণে যে দ্বিজরা বর্ণচ্যুত হয়ে শুদ্র হয়েছে তাদের ‘ব্রাত্যজন’ বলা হয়ে থাকে। পতিতের চিহ্ন হিসেবে ব্রাত্যদের কপালে লৌহশলাকা দ্বারা পোড়াদাগ দিয়ে দেয়া হত, যাতে সহজেই চেনা যায়।

এই পোস্টটি শেয়ার করুন...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ ...
© All rights Reserved © 2020
Developed By Engineerbd.net
Engineerbd-Jowfhowo
Translate »