২৮শে ফেব্রুয়ারি, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ রাত ৮:৫৮
ব্রেকিং নিউজঃ
বরিশালের বিখ্যাত সুগন্ধা নাসিকা-শক্তিপীঠ (তাঁরাবাড়ি) পরিদর্শনে আসার সম্ভাবনা রয়েছে – ভারতের প্রধানমন্ত্রীর নরেন্দ্র মোদির বাংলা মাসীকে চায় না ২ মে আমার কথা মিলিয়ে নেবেন পিকে: স্বপন মজুমদার মুশতাকের মৃত্যু: স্বচ্ছ তদন্তের দাবি জানাল যুক্তরাষ্ট্র রাজ্য রাজনীতিতে বিজেপি’র পর সিপিএম প্রধান বিরোধী শক্তি হয়ে ওঠার লক্ষ্যে ঘুঁটি সাজাচ্ছে !! আট দফায় বেনজির ভোট পশ্চিম বাংলায়! অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ বিনির্মাণ করছেন শেখ হাসিনা : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সাংবাদিক হত্যা-নির্যাতন কি ‘স্বাভাবিক’ হয়ে উঠল চট্রগ্রামের পটিয়া উপজেলায় প্রায় দেড় শতাধিক সংখ্যালঘু হিন্দু পরিবারকে ভিটে বাড়ি থেকে উচ্ছেদ করে নতুন বাইপাস সড়ক করার অপচেষ্টা চলছে। মিনি পাকিস্তানের প্রবক্তা ফিরহাদ হাকিমের বাইকের পিছনে সওয়ার কেন মমতা ব্যানার্জী ? সংক্ষিপ্ত বিশ্ব সংবাদ : ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২১

রোহিঙ্গা নির্যাতনের বদলা নিতেই বোধগয়াতে জেএমবি’র হামলা?

রিপোর্টার নাম
  • আপডেট টাইমঃ বুধবার, ফেব্রুয়ারি ৭, ২০১৮,
  • 115 সংবাদটি পঠিক হয়েছে

বৌদ্ধদের পবিত্র তীর্থস্থান বোধগয়া, যেখানে ভগবান বুদ্ধ ‘বোধি’ লাভ করেছিলেন বলে তারা বিশ্বাস করেন। সেই শহর গত ১৯ জানুয়ারি কেঁপে উঠেছিল পর পর কয়েকটি ছোট মাপের বিস্ফোরণে। তিব্বতিদের ধর্মগুরু দালাই লামা তখন ওই শহরেই ছিলেন। তিনি সবেমাত্র একটি ভাষণ শেষ করেছেন, আর সেই উপলক্ষে তার হাজার হাজার শিষ্যও বোধগয়াতে সমাগত ছিলেন।

বিস্ফোরণের ঠিক পর পরই শহরের কালচিন্তন ময়দান থেকে উদ্ধার হয় দুটি শক্তিশালী তাজা বোমা। জায়গাটা ছিল বোধগয়ার টিবেটান গেস্ট হাউসের প্রবেশপথ ঘেঁষে, দালাই লামা তখন সেখানেই অবস্থান করছিলেন।

এই ঘটনার তদন্তে নিযুক্ত ভারতের ন্যাশনাল ইনভেস্টিগেশন এজেন্সি (এনআইএ ) এখন দাবি করছে, বোধগয়ার ওই হামলা চালানো হয়েছিল মিয়ানমারে রোহিঙ্গা মুসলিমদের ওপর নির্যাতনের বদলা নিতেই।

এনআইএ-র এক শীর্ষ কর্মকর্তা এদিন দিল্লিতে বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘এই ঘটনায় জড়িত সন্দেহে এপর্যন্ত অন্তত তিন জন সন্দেহভাজন জেএমবি (জামায়াতুল মুজাহিদিন বাংলাদেশ) জঙ্গিকে আটক করা হয়েছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা জানিয়েছে, রাখাইনে বৌদ্ধ বা মগরা যেভাবে মুসলিমদের ওপর নির্মম অত্যাচার ও গণহত্যা চালাচ্ছে, তার প্রতিশোধ নিতেই বোধগয়াকে আক্রমণের লক্ষ্য হিসেবে বেছে নেওয়া হয়েছিল।’
বোধগয়াতে জেএমবি (বা নব্য জেএমবি) পরপর অন্তত আটটি বিস্ফোরণ (সিরিয়াল ব্লাস্ট) ঘটানোর পরিকল্পনা করেছিল বলে আটক  ব্যক্তিরা জেরার মুখে স্বীকার করেছে। যদিও পরিকল্পনার ভুলে তাদের সেই লক্ষ্য পুরোটা পূর্ণ হয়নি।

এই পরিকল্পনার কথা প্রথম ফাঁস হয় বুধবার (৩১ জানুয়ারি), যখন কলকাতা পুলিশের বিশেষ টাস্ক ফোর্সের (এসটিএফ) জালে ধরা পড়ে পয়গম্বর শেখ (২৪) ও জমিরুল শেখ (৩১) নামে দুই জেএমবি সদস্য। এরা দুজনেই মুর্শিদাবাদ জেলার বাসিন্দা। তবে পয়গম্বরকে নিজের বাড়ি থেকে ধরা হলেও জমিরুল ধরা পড়ে দার্জিলিং জেলায়।

এসটিএফ-এর ডেপুটি কমিশনার মুরলীধর শর্মা জানান, এরা দুজনেই বোধগয়া হামলার ঘটনায় সক্রিয়ভাবে জড়িত ছিল। তাদের কাছ থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে মুর্শিদাবাদের ধুলিয়ানে একটি গোপন আস্তানা থেকে অন্তত ২০০ কেজি অ্যামোনিয়াম নাইট্রেট ও বিস্ফোরক বানানোর অন্যান্য সরঞ্জাম, ৫০টি ডেটোনেটর এবং ল্যাপটপ উদ্ধার করা হয়। ওই বাড়িটির মালিক অবশ্য পুলিশি অভিযানের আগেই গা ঢাকা দেন।

বোধগয়ায় ব্যবহৃত বোমাগুলোও ধুলিয়ানের ওই বাড়িটিতেই বানানো হয়েছিল বলে তদন্তকারীরা ধারণা করছেন।

পরে পয়গম্বর ও জমিরুলের কাছ থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে শনিবার (৩ ফেব্রুয়ারি) কলকাতার কাছ থেকে আটক করা হয় এই চক্রের তৃতীয় আরেক সদস্যকে। হামলায় জড়িত আরও  কয়েকজনের খোঁজে ব্যাপক তল্লাশিও চলছে।এনআইএ  সূত্রে জানা যাচ্ছে, নব্য জেএমবি’র প্রধান সালাউদ্দিন আহমেদ ও তার সহকারী জাহিদুল ইসলাম (ওরফে বোমা মিজান) মিলেই স্থির করেছিল রোহিঙ্গাদের ওপর অত্যাচারের বদলা নিতে পশ্চিমবঙ্গের উত্তরাঞ্চলে ও বিহারে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা বৌদ্ধ তীর্থস্থানগুলোতে হামলা চালানো হবে।

এমন কী এর জন্য মোট আটটি মডিউলও তৈরি করা হয়েছে, যার প্রতিটিতেই রয়েছে দশ-বারোজন করে জেএমবি সদস্য। আটটির মধ্যে পাঁচটি মডিউলের বেস বা মূল ঘাঁটি মুর্শিদাবাদে।

কলকাতা পুলিশের এসটিএফের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, পশ্চিমবঙ্গে জেএমবি’র সঙ্গে দুটি অল্প পরিচিত রোহিঙ্গা জঙ্গি সংগঠন— আকা মুল মুজাহিদিন (এ এম এম) ও জইস-ই-মহম্মদেরও ঘনিষ্ঠ সংযোগ গড়ে উঠেছিল বলে তারা প্রমাণ পেয়েছেন। কীভাবে রোহিঙ্গাদের ওপর অত্যাচারের বদলা নেওয়া যেতে পারে, তা নিয়ে তাদের মধ্যে নিয়মিত কথাবার্তাও হতো।

প্রসঙ্গত, ২০১৩ সালের ৭ জুলাইতেও  বোধগয়ার মহাবোধি কমপ্লেক্সটি (যেটি একটি ইউনেসকো ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ সাইট) পর পর ১০টি বিস্ফোরণে কেঁপে উঠেছিল। সেই ঘটনার সূত্র ধরে যে জঙ্গিরা তখন ধরা পড়ে, তারাও তখন জানিয়েছিল— ২০১২ সালে মিয়ানমারে রোহিঙ্গাদের ওপর নির্যাতনের বদলা নিতেই সেই হামলা চালানো হয়।
সেই দফায় রোহিঙ্গা নির্যাতনের ঘটনা প্রায় পাঁচ বছর কেটে গেছে। গত বছরের আগস্ট থেকে ব্যাপক আকারে নতুন করে রোহিঙ্গা নির্যাতন শুরু হয়েছে। আর  সেই সঙ্গে আক্রমণের আশঙ্কা বেড়েছে ভারতে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা বৌদ্ধ তীর্থস্থানগুলোতে!

এই পোস্টটি শেয়ার করুন...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ ...
© All rights Reserved © 2020
Developed By Engineerbd.net
Engineerbd-Jowfhowo
Translate »