২৭শে ফেব্রুয়ারি, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ সন্ধ্যা ৬:১৭

ভূমি কর্মকর্তা আতাউর ঘুষ খেয়ে ১০.৭৪ একর হিন্দু সম্পত্তি লিখে দেন মুসলিমদের

রিপোর্টার নাম
  • আপডেট টাইমঃ মঙ্গলবার, ফেব্রুয়ারি ২৭, ২০১৮,
  • 99 সংবাদটি পঠিক হয়েছে

 

নওগাঁর পত্নীতলা উপজেলার ভূমি অফিসের সীমাহীন দুর্নীতিতে বিপাকে প্রকৃত হিন্দু ভূমি মালিকরা। রেহাই নেই খোদ খাসজমি ভিপি জমিও। সাধারণ মানুষ তাদের জমিজমা নিয়ে চরম বিপদের মধ্যে রয়েছেন। উপজেলার খাস খতিয়ানের প্রায় ৫০ একর জমি ভূমি অফিসের অসাধু কর্মকর্তা ও দালালদের যোগসাজশে ব্যক্তি মালিকানায় খারিজ করায় বিপাকে পড়েছেন লিজ গ্রহীতারাও। লিজ গ্রহীতাদের অভিযোগের প্রেক্ষিতে রাজশাহী বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয় থেকে দফায় দফায় তদন্ত হলেও অসাধু কর্মকর্তা, কর্মচারী ও দালালদের দৌরাত্বে লিজ গ্রহীতারাসহ সাধারণ মানুষ প্রতিনিয়ত প্রতারিত ও চরম হয়রানির শিকার হচ্ছেন।

জানা গেছে, পত্নীতলা উপজেলা রাজস্ব অফিসের অধীনে ৬টি ইউনিয়ন ভূমি অফিস রয়েছে। সম্প্রতি পত্নীতলা ইউপির মহেষপুর এলাকার প্রায় ১১ একর, বাজিতপুর ও শম্ভুপুর মৌজার ১৫/৮৫, ১৬/৮৫, ১৭/৮৫ ও ১৮/৮৫ ভিপি কেসের প্রায় ২৬ একর সরকারী জমি ভূমি অফিসের অসাধু কর্মকর্তা, কর্মচারী ও দালালদের যোগসাজশে কয়েক কোটি টাকা ঘুষের বিনিময়ে ব্যক্তি মালিকানায় খারিজ, খাজনা করে দেয়া হয়েছে। প্রেক্ষিতে উক্ত ভিপি জমির লিজ গ্রহীতাদের পক্ষে জনৈক মোহাম্মদ আলী, গোলাম মোস্তফা ও সাইজ উদ্দীনের অভিযোগের প্রেক্ষিতে ইতোপূর্বে বিভিন্ন ইলেক্ট্রনিক মিডিয়া ও পত্রপত্রিকায় খবর প্রকাশের পর দফায় দফায় উর্ধতন কর্তৃপক্ষসহ রাজশাহী বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয় থেকে তদন্ত হলেও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা, কর্মচারীরা বহাল তবিয়তে রয়েছেন। এ ব্যাপারে এলাকার ভূমিহীনদের পক্ষে বছর ২৫ জুলাই মোহাম্মদ আলী এবং গোলাম মোস্তফা ও সাইজ উদ্দীন এ বছরের ১৫ জানুয়ারি ভূমি সচিব ও বিভাগীয় কমিশনার বরাবরসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দফতরে লিখিত অভিযোগ করেন। লিখিত অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, ১৯৯৮ সালে ভূমি আপীল বোর্ড (২-৫৫/৯৮ নম্বর মামলা) পোরশার নিতপুরের বাসিন্দা মৃত যমুনা প্রসাদ ভগত নামের এক ব্যক্তির ১ হাজার ১শ’ বিঘা জমি খাস খতিয়ান ভুক্ত ঘোষণা করে। এসব খাস জমি পোরশা, সাপাহার ও পত্নীতলার কৃষ্ণপুর ইউনিয়নের মহেষপুর মৌজার আরএস ৬১৩ নম্বর খতিয়ানের ১০ একর ৭৪ শতক (৩২ বিঘা ৮শতক) জমি স্থানীয় ভূমিহীন ২৬ ব্যক্তি ইজারা নেয়ার জন্য ২০০৫ সালে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে আবেদন করেন। ইজারা না পেলেও ওই ভূমিহীন ব্যক্তিরা ২০০৫ সাল থেকে জমিগুলো ভোগদখল করে আসছিলেন। কিন্তু ২০১৬ সালের অক্টোবর মাসে পত্নীতলার মহেষপুর গ্রামের আশরাফ আলী ও আবদুস সালাম, তকিপুর গ্রামের শরিফুল ইসলাম ও আবদুল জব্বার, উষ্টি গ্রামের সুরেন কুমার এবং সাপাহারের করলডাঙ্গা গ্রামের আবদুল কাদের ওই সব জমি তাদের রেকর্ডভুক্ত দাবি করে ভূমিহীনদের উচ্ছেদ করে দেন। কৃষ্ণপুর ইউনিয়ন ভূমি অফিসের উপসহকারী কর্মকর্তা আতাউর রহমান তৎকালীন সময় ভারপ্রাপ্ত ভূমি কর্মকর্তার (ইউএনও) সহযোগিতায় প্রায় ৬০ লাখ টাকা উৎকোচের বিনিময়ে জালিয়াতি করে ওই ১০ একর ৭৪ শতক জমি কয়েকজন ব্যক্তির নামে খারিজ করে দেন।

এ দিকে ১৯৪৭ সালে মহাদেবপুরের এনায়েতপুর গ্রামের সুরেন্দ্রনাথ বকশি ভারতে চলে যাওয়ায় তার রেখে যাওয়া অত্র এলাকার বাজিতপুর, শম্ভুপুর, হাসেমবেগপুর, চকরাম, ওড়নপুর, মহেষপুর, আদিমৌজা, বজরুক মাহমুদপুর, মালাহার, জিওলসহ বেশ কয়েকটি মৌজায় প্রায় ১শ’ একর জমি সরকারী খাস খতিয়ানে অর্পিত সম্পত্তি হিসেবে গৃহীত হয়। ১৯৮৫ সাল থেকে সরকারী জমি পত্নীতলা উপজেলার বাজিতপুরের গোলাম মোস্তফা, শম্ভুপুরের সাইজ উদ্দীনসহ অত্র এলাকার প্রায় ৩৫/৪০জন ভূমিহীন ব্যক্তি ১৫/৮৫, ১৬/৮৫, ১৭/৮৫ ও ১৮/৮৫ ভিপি কেসের বাজিতপুর ও শম্ভুপুর মৌজার প্রায় ২৬ একর জমি লিজের মাধ্যমে ভোগ দখল করে আসলেও হঠাৎ করে রাজনৈতিক প্রভাব খাঁটিয়ে উপজেলার জনৈক জয়নব বেওয়া ও আনোয়ারা বেওয়াসহ বিভিন্ন নামে ভূমি অফিসের অসাধু কর্মকর্তা ও দালালদের যোগসাজশে গোপনে বড় অঙ্কের উৎকোচের বিনিময়ে ৩৯১৫/১৬-১৭, ৩৯৯৯/১৬-১৭ নং খারিজের মাধ্যমে উক্ত সম্পত্তি ব্যক্তি মালিকানায় খারিজ, খাজনা করে দেয়া হয়। ভুক্তভোগীরা খারিজ বাতিলের জন্য ভূমি সচিব ও বিভাগীয় কমিশনারসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দফতরে লিখিত অভিযোগ করেন। উক্ত লিজ গ্রহীতাদের অভিযোগের প্রেক্ষিতে রাজশাহী বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয় থেকে দফায় দফায় তদন্ত হলেও অসাধু কর্মকর্তা, কর্মচারী ও দালালদের দৌরাত্ম্যে লিজ গ্রহীতারাসহ সাধারণ মানুষ প্রতিনিয়ত প্রতারিত ও চরম হয়রানির শিকার হচ্ছেন।

এ বিষয়ে পত্নীতলা উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) আবদুল করিম বলেন, গত বছর ১ ফেব্রুয়ারি এখানে যোগদানের আগে কী হয়েছে আমার জানা নেই। তবে এখানে এসে অভিযোগকারী মোহাম্মদ আলীর খারিজটি বাতিল করা হয়েছে। অন্যান্য অভিযোগের তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। অভিযোগের প্রেক্ষিতে সম্প্রতি রাজশাহী বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয় থেকে তদন্তের ব্যাপারে উপ-ভূমিসংস্কার কমিশনার রাজশাহীর একেএম বেনজামিন রিয়াজীর কাছে জানতে চাইলে তিনি জানান, বিষয়টি নিয়ে তদন্ত চলমান রয়েছে। তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।

এই পোস্টটি শেয়ার করুন...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ ...
© All rights Reserved © 2020
Developed By Engineerbd.net
Engineerbd-Jowfhowo
Translate »