১লা মার্চ, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ সন্ধ্যা ৬:২৯
ব্রেকিং নিউজঃ
মূর্খদের পিছনে সময় নষ্ট করা আহাম্মকী ছাড়া আর কিছুই নয়। প্রার্থী তালিকা প্রকাশে দেরী কেন !! ভাইজানের ব্রিগেড !! বরিশালের বিখ্যাত সুগন্ধা নাসিকা-শক্তিপীঠ (তাঁরাবাড়ি) পরিদর্শনে আসার সম্ভাবনা রয়েছে – ভারতের প্রধানমন্ত্রীর নরেন্দ্র মোদির বাংলা মাসীকে চায় না ২ মে আমার কথা মিলিয়ে নেবেন পিকে: স্বপন মজুমদার মুশতাকের মৃত্যু: স্বচ্ছ তদন্তের দাবি জানাল যুক্তরাষ্ট্র রাজ্য রাজনীতিতে বিজেপি’র পর সিপিএম প্রধান বিরোধী শক্তি হয়ে ওঠার লক্ষ্যে ঘুঁটি সাজাচ্ছে !! আট দফায় বেনজির ভোট পশ্চিম বাংলায়! অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ বিনির্মাণ করছেন শেখ হাসিনা : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সাংবাদিক হত্যা-নির্যাতন কি ‘স্বাভাবিক’ হয়ে উঠল

জাফর ইকবালের ওপর হামলা: ‘লোন উলফ’ না ‘টার্গেটেড’?

রিপোর্টার নাম
  • আপডেট টাইমঃ রবিবার, মার্চ ৪, ২০১৮,
  • 92 সংবাদটি পঠিক হয়েছে

সিলেটে লেখক ও অধ্যাপক ড. মুহম্মদ জাফর ইকবালের ওপর হামলার ঘটনাটি ‘লোন ওলফ’ (নিজে থেকে জঙ্গিবাদে উদ্বুদ্ধ  আক্রমণকারী) না ‘টার্গেটেড হামলা’,  সে বিষয়ে এখনও নিশ্চিত হতে পারেননি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তারা। তারা বলছেন, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতার হওয়া ফয়জুর রহমান একা ও জঙ্গিবাদে বিশ্বাসী হয়ে হামলা চালিয়েছে বলে সে দাবি করেছে। তবে জঙ্গিবিরোধী কার্যক্রমের সঙ্গে যুক্ত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, এটি একটি ‘টার্গেটেড’ হামলা। তারা বলছেন, জঙ্গিরা সাধারণত টার্গেট করা ব্যক্তির মাথা ও ঘাড়ে কোপায়। যেন অল্প সময়েই টার্গেটেড ব্যক্তি মারা যায়। জাফর ইকবালের ক্ষেত্রে একই ধরনের ঘটনা দেখা গেছে। তবে সৌভাগ্যক্রমে তিনি বেঁচে গেছেন।

ঢাকার কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম ইউনিটের উপ-কমিশনার মহিবুল ইসলাম বলেন, ‘গ্রেফতার হওয়া ফয়জুলকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। তার দাবি অনুযায়ী, সে একাই এই হত্যাকাণ্ডে অংশ নিয়েছে। কিন্তু সে একা ছিল,  না তার সঙ্গে আরও লোকজন ছিল, তা জানার চেষ্টা চলছে।’ তিনি আরও বলেন, ‘জাফর ইকবালকে যে মঞ্চের ওপর হামলা চালানো হয়, সেখানে বহিরাগত আর কারা উপস্থিত ছিল, তা আমরা খতিয়ে দেখছি। এ সংক্রান্ত ছবি ও ভিডিওগুলো বিশ্লেষণ করা হচ্ছে। আর কারা ছিল তাদের পরিচয় শনাক্তের চেষ্টা চলছে।’

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, ধারাবাহিক জঙ্গিবিরোধী অভিযানের কারণে নিষিদ্ধ ঘোষিত জঙ্গি সংগঠনগুলো কোণঠাসা হয়ে পড়েছে। এ কারণে জঙ্গি মতাদর্শে বিশ্বাসী কেউ কেউ নিজ সিদ্ধান্তেই  এ ধরনের হামলা চালাতে পারে।  এ কারণে একাধিক লোকজনের বদলে ‘লোন উলফ’ বা ‘সিঙ্গেল অ্যাটাকে’র মতো হামলা চালানো শুরু করেছে জঙ্গিরা। নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা বলছেন, জঙ্গিদের হামলার নতুন এই ‘ট্রেন্ড’ ভয়ঙ্কর। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর জন্য এ ধরনের হামলা ঠেকানোও অনেক কঠিন।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সূত্রগুলো বলছে, বিশ্বজুড়েই জঙ্গি হামলার ধরন পাল্টে যাচ্ছে। বর্তমানে জঙ্গিবাদের পরিভাষায় লোন উলফ বা সিঙ্গেল অ্যাটাকের ঘটনা ঘটছে বেশি। বাংলাদেশের ‘হোম গ্রোন’ জঙ্গিরাও এই ট্রেন্ড বেছে নিয়েছে। এর আগে ২০১৫ সালের ২৫ ডিসেম্বর আহমদিয়া জামে মসজিদে ‘লোন উলফ’ হামলার ঘটনা ঘটেছিল।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, ‘লোন উলফ’ হামলার অর্থ হলো একা একজন ব্যক্তির ‘টার্গেটেড’ কোনও স্থানে গিয়ে আত্মঘাতী হামলা করা। এ ধরনের হামলার কারণে হামলাকারী জীবিত না থাকায় তার কাছ থেকে কোনও তথ্য সংগ্রহ করতে পারে না আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। ‘লোন উলফ’ হামলাকারী একা টার্গেটেড স্থানে যাওয়ার কারণে মানুষের সন্দেহও কম থাকে। সম্প্রতি বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ‘লোন উলফ’ হামলার ঘটনা ঘটেছে।

জঙ্গিদের নিয়ে কাজ করা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তারা বলছেন, জঙ্গিবিরোধী ধারাবাহিক অভিযানের কারণে জঙ্গিদের দলবদ্ধ হয়ে কোনও আস্তানায় অবস্থান করা কিছুটা কঠিন হয়ে পড়েছে। এ কারণে তারা বিচ্ছিন্ন হয়ে যাচ্ছে। তাদের মধ্যে কেবল এনক্রিপ্টেড মেসেঞ্জার অ্যাপসের মাধ্যমে যোগাযোগ হয়ে থাকে। এ কারণে একজন ‘লোন উলফ’ জঙ্গি নিজের বাড়িতে পরিবারের সঙ্গে থেকেও গোপনে-গোপনে হামলার  প্রস্তুতি নিতে পারে।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তাদের মতে, সংঘবদ্ধ জঙ্গিদের চেয়ে ‘লোন উলফ’-এর সদস্যদের নিয়ন্ত্রণ করা অনেক কঠিন। তবে সংঘবদ্ধ জঙ্গিদের মধ্যেও এখন ‘কম জানো, নিরাপদে থাকো’ এই তত্ত্ব অনুসরণের প্রবণতা বাড়ছে। সম্প্রতি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর জিজ্ঞাসাবাদে এমন তথ্য দিয়েছে গ্রেফতার হওয়া অনেক জঙ্গি।

সম্প্রতি এক আলাপচারিতায় কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্স ন্যাশনাল ক্রাইম ইউনিটের (সিটিটিসি) প্রধান মনিরুল ইসলাম বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘‘বিশ্বজুড়েই টেরোরিস্টদের হামলার ধরন পাল্টাচ্ছে। টেরোরিস্ট হামলার ট্যাকটিকসের পরিবর্তন এসেছে। তাদের ট্রাক কিংবা অন্য ধরনের গাড়ি নিয়ে হামলা করতে দেখা যাচ্ছে বিভিন্ন দেশে। লোন অ্যাক্টর বা ‘লোন উলফ’ অ্যাটাকের সংখ্যা বেড়ে যাচ্ছে। বাংলাদেশে আগামীতে এটা ইফেক্টিভলি কন্ট্রোল করা না গেলে তারা এই ধরনের হামলা করতে পারে।’

এ বিষয়ে নিরাপত্তা বিশ্লেষক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) সাখাওয়াত হোসেন  বলেন, ‘জঙ্গিদের এই ট্রেন্ড খুবই ভয়ঙ্কর। এটা সামনের দিনগুলোয় বাংলাদেশের জন্য অনেক খারাপ অবস্থা সৃষ্টি করবে। আত্মঘাতী হামলা আগেও হয়েছে। বিশেষ করে ২০০৫ সালে এমন দু’টি ঘটনা ছিল। কিন্তু বর্তমান সময়ে যে আত্মঘাতী হামলা দেখা যাচ্ছে, সেগুলো অনেক বেশি ডেসট্রাক্টিভ।’ তিনি আরও বলেন, ‘র‌্যাবের নির্মাণাধীন সদর দফতরের ভেতরে ঢুকে যাওয়া মানে অনেক বেশি আতঙ্কের বিষয়। মনে হচ্ছে জঙ্গিরা আরও অনেক স্পর্শকাতর স্থানে হামলার পরিকল্পনা করে বসে আছে। এসব ঠেকাতে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।’

প্রসঙ্গত, এর আগে শুক্রবার (২ মার্চ) দুপুর ১টা ১০ মিনিটে আশকোনায় র‌্যাবের নির্মাণাধীন সদর দফতরে দেয়াল টপকে প্রবেশ করে এক যুবক আত্মঘাতী হামলা চালায়। বোমা বিস্ফোরণে শরীর ছিন্নভিন্ন হয়ে মারা যায় হামলাকারী। এতে দু’জন র‌্যাব সদস্য আহত হয়েছেন। র‌্যাব কর্মকর্তারা বলছেন, হামলাকারী জঙ্গি দলের সদস্য। তবে কোন দলের, তা নিশ্চিত করে জানাতে পারেননি তারা।

এই পোস্টটি শেয়ার করুন...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ ...
© All rights Reserved © 2020
Developed By Engineerbd.net
Engineerbd-Jowfhowo
Translate »