২৭শে ফেব্রুয়ারি, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ রাত ১২:৫৩
ব্রেকিং নিউজঃ
অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ বিনির্মাণ করছেন শেখ হাসিনা : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সাংবাদিক হত্যা-নির্যাতন কি ‘স্বাভাবিক’ হয়ে উঠল চট্রগ্রামের পটিয়া উপজেলায় প্রায় দেড় শতাধিক সংখ্যালঘু হিন্দু পরিবারকে ভিটে বাড়ি থেকে উচ্ছেদ করে নতুন বাইপাস সড়ক করার অপচেষ্টা চলছে। মিনি পাকিস্তানের প্রবক্তা ফিরহাদ হাকিমের বাইকের পিছনে সওয়ার কেন মমতা ব্যানার্জী ? সংক্ষিপ্ত বিশ্ব সংবাদ : ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২১ দিনে ১০০০ ক্যালরি ঝরাবেন কীভাবে অশীতিপর স্বামী-স্ত্রীর মহাধুমধামে পুনঃবিবাহ সৈয়দ আবুল মকসুদ আর নেই প্রকৃতির নীরব কান্না পর্ব -১ সভ্যতার শুরুতে গড়ে ওঠা করাতি সম্প্রদায় এখন প্রায় বিলুপ্ত!

‘তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে যারা গ্রেফতার করিয়েছিল, তাদের হিসাব নেওয়া হবে’

রিপোর্টার নাম
  • আপডেট টাইমঃ মঙ্গলবার, মার্চ ২৭, ২০১৮,
  • 87 সংবাদটি পঠিক হয়েছে

সেনা সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে যারা বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে গ্রেফতার করিয়েছিলেন, তাদের হিসাব-নিকাশ নেওয়া হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি। নিজের গ্রেফতারের কথা তুলে ধরে শেখ হাসিনা বলেন, ‘ক্ষমতায় থেকে তখন অত্যাচার নির্যাতন করেছে বিএনপি সরকার। আর তত্ত্বাবধায়ক সরকার আসার পর প্রথম গ্রেফতার করা হলো আমাকে। কারা এই কাজ করেছে তা আমি জানি। তাদের হিসাব-নিকাশ পরে করব।’
মঙ্গলবার (২৭ মার্চ) রাজধানীর কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশনে আওয়ামী লীগ আয়োজিত স্বাধীনতা দিবসের আলোচনায় দলীয় সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
আলোচনায় দীর্ঘ বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশের স্বাধীনতার পর থেকে বিভিন্ন সময়ে কী কী ষড়যন্ত্র হয়েছে তার উল্লেখ করেন। এর সূত্র ধরেই সেনা সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকার আমলে তাকে গ্রেফতারের কথা তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী।
১৯৯৬ সালে ক্ষমতায় আসার পর দেশের উন্নয়ন করলেও ষড়যন্ত্রের কারণে ২০০১ সালের নির্বাচনে জয়ী হতে পারেননি উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, ‘২০০১ সালে ষড়যন্ত্র হলো। ভোট বেশি পেয়েও ক্ষমতায় আসতে পারিনি। ওই সময় বিএনপি-জামায়ত জোট ক্ষমতায় এসে শুরু করলো জুলুম-অত্যাচার। পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর মতো তারা গ্রামের পর গ্রাম নির্যাতন চালিয়েছে। মানুষকে নির্মমভাবে হত্যা করেছে, মানুষের চোখ তুলে নিয়েছে, হাত-পা ভেঙে দিয়েছে, ক্ষেতের ফসল নষ্ট করেছে, ঘর পুড়িয়ে দিয়েছে, পুকুর কেটে দিয়েছে, আগুন দিয়ে পুড়িয়ে মানুষ মেরেছে। ভোট দেওয়ার (আওয়ামী লীগকে) অপরাধে এমন কোনও অত্যাচার নেই, তারা করেনি। ছয় বছরের শিশুকে পর্যন্ত ধর্ষণ করেছে। প্রতিহিংসার বশে তারা পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর পদাঙ্ক অনুসরণ করে এসব করেছে। পাঁচ পাঁচটি বছর দুর্নীতিতে চ্যাম্পিয়ন করেছে বাংলাদেশকে।’
বিএনপি-জামায়াত জোটের সময়ের বিবরণ তুলে ধরে শেখ হাসিনা বলেন, ‘তারা বাংলাভাই সৃষ্টি করেছে। বাংলাদেশকে সন্ত্রাসের দেশে পরিণত করেছে। গ্রেনেড হামলা তো আছেই। এভাবে অত্যাচার করে আওয়ামী লীগকে নিশ্চিহ্ন করে দেওয়ার চেষ্টা করেছে তারা, ইতিহাসকে মুছে ফেলার চেষ্টা করেছে।’
২০০৮ সালের নির্বাচনেও যেন আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় না আসতে পারে, তার জন্যও ষড়যন্ত্র হয়েছে বলে উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী। কিন্তু সব ষড়যন্ত্রকে নস্যাৎ করেই আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এসেছে। তিনি বলেন, ‘আমরা সরকার গঠন করলাম। আমাদের লক্ষ্য ছিল দেশকে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় গড়ে তুলব। যে মুক্তিযোদ্ধারা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে যুদ্ধ করে দেশকে স্বাধীন করলেন, তারা ভিক্ষা করবে বা রিকশা চালাবে, এটা অপমানজনক। তাদের সন্তানেরা পড়ালেখার সুযোগ পাবে না, সেটা হতে পারে না। তাই আমরা ক্ষমতায় এসে তাদের জন্য কোটার ব্যবস্থা করলাম। আমরা চেষ্টা করছি সবার মধ্যে ইতিহাসকে ছড়িয়ে দেওয়ার। তরুণ প্রজন্ম ধীরে ধীরে উজ্জীবিত হচ্ছে, তারা সঠিক ইতিহাস জানতে পারছে। অথচ ইতিহাসকে মুখে ফেলার চেষ্টা করা হয়েছিল। কিন্তু তারা জানে না, ইতিহাস কেউ মুছে ফেলতে পারে না।’

আওয়ামী লীগ সভাপতি বলেন, ‘২০০৮ সালে সরকার গঠন করেছি। এরপর ২০১৩ সালে তারা এক দুর্বিষহ অবস্থা তৈরি করে। সেই অবস্থা আমরা সামাল দিয়েছি। ২০১৪ সালে আবার নির্বাচন হয়, মানুষের ভোটে ক্ষমতায় আসি। কিন্তু তারা ২০১৫ সালে অগ্নিসন্ত্রাস করে। সাড়ে ৩ হাজার মানুষ পুড়িয়েছে। হাজার হাজার গাড়ি, বাস, ট্রাক, লঞ্চ আগুন দিয়ে পুড়িয়েছে। সরকারি অফিসে আগুন দিয়েছে। কেন আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এলো—এটাই তাদের অন্তর্জ্বালা। তারা তো ক্ষমতায় থেকে ভোগ-বিলাস করেছে, মানি লন্ডারিং করে ধরা পড়েছে। এতিমখানার টাকা পর্যন্ত আত্মসাৎ করেছে। সবকিছু ধরা পড়েছে। এতে আমাদের কোনও হাত নেই। কিন্তু আদালত তাদের সাজা দিলে তারা মানে না। তারা কিছুই মানে না। তারা ক্ষমতায় থেকে মানুষকে হত্যা করেছে, এখনও তাই করতে চায়। দেশের কোনও উন্নয়ন তারা চোখেই দেখে না।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা ক্ষমতায় আসার পর দেশ এগিয়ে যাচ্ছে। জাতির পিতা মাত্র সাড়ে ৩ বছরে যুদ্ধবিধ্বস্ত বাংলাদেশকে স্বল্পোন্নত দেশে রূপ দেন। এর ৪৩ বছর পর আজ দেশ উন্নয়নশীল হয়েছে। আমরা জনগণের কল্যাণে কাজ করেছি। আমরা বাজেট বাড়িয়েছি, দেশের জনগণের মাথাপিছু আয় বাড়িয়েছি।’ এ সময় বিএনপি জোটের ক্ষমতায় থাকাকালে ২০০৫-০৬ অর্থবছরের বিভিন্ন তথ্যের সঙ্গে বর্তমান সরকারের মেয়াদের একই খাতের বিভিন্ন তথ্যের তুলনা তুলে ধরেন শেখ হাসিনা।

তিনি বলেন, ‘আমরা কমিউনিটি ক্লিনিকের মাধ্যমে জনগণের দোড়গোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিচ্ছি। আমরা ডিজিটাল বাংলাদেশের ঘোষণা দিয়েছি। মানুষ এখন সেবা পাচ্ছে, কর্মসংস্থানের সুযোগ পাচ্ছে, মানুষ কাজ করার সুযোগ পাচ্ছে। বাংলাদেশ এখন স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণ করতে যাচ্ছে। এই স্যাটেলাইটের পর পর্যায়ক্রমে আরও স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণ করা হবে। আমরা মেট্রোরেল নির্মাণ করছি। আমরা ফ্লাইওভার তৈরি করেছি, হাইওয়েগুলো চার লেন করে দিচ্ছি। পদ্মা সেতু নিয়ে ষড়যন্ত্র হয়েছিল, আমাদের চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দেওয়া হয়েছিল। সেই চ্যালেঞ্জ আমরা মোকাবিলা করছি।’

এই পোস্টটি শেয়ার করুন...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ ...
© All rights Reserved © 2020
Developed By Engineerbd.net
Engineerbd-Jowfhowo
Translate »