১১ই মে, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ রাত ১২:২৮

ববি’তে কর্মকর্তা কর্তৃক শিক্ষক লাঞ্চিত। ডীনকে লাঞ্চিত করলো কর্মকর্তা, ফেসবুকে আপত্তীকর মন্তব্য নিয়ে ক্ষোভ

রিপোর্টার নাম
  • আপডেট টাইমঃ রবিবার, এপ্রিল ২২, ২০১৮,
  • 127 সংবাদটি পঠিক হয়েছে

 


বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞান ও প্রকৌশল অনুষদের ডীন ড. হাসিনুর রহমানকে লাঞ্চিত করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। বৃহস্পতিবার দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থ ও হিসাব শাখার সহকারী পরিচালক বরুন কুমার দে’র সাথে ওই শিক্ষকের কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে তাকে লাঞ্চিত করা হয়। এ ঘটনার বিচার চেয়ে ওই শিক্ষক বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ও শিক্ষক সমিতি বরাবর একটি আবেদন করেছেন। এর পরপরই বৃহস্পতিবার রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থ ও হিসাব শাখার অপর এক সহকারী পরিচালক সামাজীক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে তার নিজের ভেরিফাইড একাউন্ট থেকে শিক্ষকদের নিয়ে চরম অবমাননাকর ও আপত্তিকর মন্তব্য করায় বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল শিক্ষকদের মাঝে চরম অসন্তোষ দেখা দেয়। এ ঘটনার নিন্দা ও বিচার দাবি কওে শিক্ষক সমিতির পক্ষ থেকে শুক্রবার রাতে বিবৃতি দেয়া হয়। তবে বিষয়টি নিয়ে শিক্ষক সমিতি ও বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মকর্তারা পৃথক কয়েক দফা বৈঠক করেছেন। গতকাল শনিবার অনুষ্ঠিত হওয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট সভায় আলোচনা করার কথা থাকলেও তা না হওয়ায় আজ রবিবার সাধারন সভা আহবান করেছে শিক্ষকরা। সেখান থেকে পরবর্তী কর্মসূচি ঘোষনার কথা রয়েছে।
ঘটঁনার শিকার বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞান ও প্রকৌশল অনুষদের ডীন, মৃত্তিকা ও পরিবেশ বিজ্ঞানের চেয়ারম্যান, ছাত্র নির্দেশনা ও পরামর্শ কেন্দ্রের পরিচালক এবং সিন্ডকেট সদস্য ড. হাসিনুর রহমান এর সাথে কথা বলে এবং তার দেয়া অভিযোগের ভিত্তিতে জানা যায়, বৃহস্পতিবার দুপুরে তিনি অর্থ ও হিসাব শাখার সহকরী পরিচালক বরুন কুমার দে’র সেল ফোনে অফিসের কাজের জন্য বেশ কয়েক বার ফোন দেন। কিš ‘ তিনি তা রিসিভ করেননি এবং পরবর্তীতে ফোনও করেননি। এ কারনে তিনি দুপুর তিনটায় তার দপ্তরে যান। সেখানে যাওয়ার পরে বরুন কুমার দে তার কক্ষে গিয়ে কথা বলার কথা বলেন। বরুন কুমার দে এক ঘন্টা পওে ড. হাসিনুর রহমানের কক্ষে গেলে তার কাছে ফোন রিসিভ না করা এবং পরবর্তীতে ফোন না করার কারন জানতে চাওয়া হলে তিনি ক্ষিপ্ত হয়ে যান। শিক্ষকের অধীনস্থ নয় এমনটি দাবি করে বরুন কুমার দে অশ্লীল ব্যাবহার করতে থাকেন। তিনি বিষয়টি উপাচার্য মহোদয়কে অবহিত করার কথা বললে বরুন কুমার দে ওই শিক্ষককে লাঞ্চিত করেন। এ সময় ওই শিক্ষকের কক্ষে অবস্থান নেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন বিভাগের চেয়ারম্যান ড. মো.আলাউদ্দিন, কোস্টাল স্টাডিজ এন্ড ডিজেস্টার ম্যানেজমেন্ট বিভাগের চেয়ারম্যান ড. হাফিজ আশরাফুল হক ও পদার্থ বিজ্ঞান বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ড. খোর্শেদ আলম ওই কর্মকর্তাকে নিবৃত করেন।
ওই দিন রাত ৮ টা ৫৮ মিনিটে বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থ ও হিসাব শাখার সহকারি পরিচালক জনাব আতিকুর রহমান তার গধংঁস অঃরয়ঁৎ নামের ফেসবুক আইডিতে শিক্ষকদের নিয়ে একটি পোস্ট করেন। তাতে উল্লেখ করেন ”শিক্ষককরা কি আমাদের সকলকে তাদের ছাত্র মনে করেন? এাঁ কি তাদের বোঝার ভুল না কি জ্ঞানের অভাব”। ওই পোস্টটিতে বিশ্ববিদ্যলয়ের বেশ কয়েকজন কর্মকর্তা শিক্ষকদের নিয়ে আপত্তিকর, অবমাননাকর ও বিরুপমন্তব্য করেন। এতে মারাত্মক ভাবে ক্ষিপ্ত হয়ে উঠেন শিক্ষকরা। তাই শুক্রবার তাৎক্ষনিক এসকল বিষয় নিয়ে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির কার্যনির্বাহী কমিটি একটি জরুরী সভায় মিলিত হন।
বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সমিতির সাধরন সম্পাদক আবু জাফর মিয়া বলেন, বিজ্ঞান ও প্রকৌশল অনুষদের ডীন ড. হাসিনুর রহমান একজন জেষ্ঠ্য ও সর্বজন শ্রদ্ধেয় শিক্ষক। তাকে লাঞ্চিত করেছেন অর্থ ও হিসাব দপ্তরের সহকারি পরিচালক বরুন কুমার দে। একই সাথে ওই শিক্ষককে হুমকি প্রদান করেন। ড. হাসিনুর রহমান আমাদের কাছে এ ঘটনা বর্ণনা কওে সুষ্ঠ ুবিচার দাবী করে একটি লিখিত আবেদন দিয়েছেন। অভিযোগ পাবার পরে শুক্রবার বিকালে কার্যনির্বাহী কমিটির সভা করেছি। এরপর ওই অভিযোগ পত্র আমরা উপাচার্যকে দিয়েছি। সিন্ডিকেটে বিষয়টি নিয়ে সিদ্ধান্তের কথা থাকলেও তা হয়নি। তাই আজ রবিবার শিক্ষক সমিতির সাধারন সভা আহবান করা হয়েছে। সেখানে সাধারন শিক্ষকদের মতামতের ভিত্তিতে পরবর্তী কর্মসূচি দেয়া হবে। আবু জাফর মিয়া আরো বলেন, অর্থ ও হিসাব দপ্তরের কর্মকর্তারা প্রায়ই শিক্ষকদের অসম্মান কওে কথা বলেন। সামজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শিক্ষকদের নিয়ে বিভিন্ন সময়ে কুরুচিপূর্ণ পোস্ট দেন। আমরা এ বিষয় গুলোকেও উপাচার্য মহোদয়কে জানিয়েছি। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন শিক্ষক বলেন, অর্থ দপ্তরের কর্মকর্তারা অত্র বিশ^বিদ্যায়ের ট্রেজাররের ছত্রছায়ায় এই ধরনের কর্মকান্ড বারংবার করে যাচ্ছে। আমরা এর দ্রুত প্রতিকার চাই।
এ বিষয়ে জনাব বরুন কুমার দে’র সঙ্গে বারবার ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করেও পাওয়া যায়নি।
বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্টার মো. মনিরুল ইসলাম প্রথমে বিষয়টি জানেন না বললেও পরবর্তীতে বলেন, এটা নিজেদের আভ্যন্তরীন বিষয়। সকলে মিলে মিমাংসা করে নিলেই হয়। তবে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিষয় নিয়ে কোন মন্তব্য করাটা চাকুরিবিধি পরিপন্থী। যদি এটা কেউ করে থাকেন তবে প্রমান সাপেক্ষে ব্যাবস্থা নেয়া হবে।
বিশ্ববিদ্যালয়েরউপাচার্য অধ্যাপক ড. এসএমইমামুলহকবলেন, আমিঅভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টিতদন্তকরাহবে। এরপরেব্যাবস্থা নেয়াহবে। তবে এ ঘটনাটিসিন্ডিকেটে তোলারবিষয়ছিলোনাতাইআলোচনাহয়নিবলেজানান।
শামীম আহমেদ

এই পোস্টটি শেয়ার করুন...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ ...
© All rights Reserved © 2020
Developed By Engineerbd.net
Engineerbd-Jowfhowo
Translate »