৭ই মার্চ, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ রাত ১১:০৮
ব্রেকিং নিউজঃ
নন্দীগ্রামের মহাযুদ্ধে শুভেন্দুই যে দলের প্রধান মুখ সেরকম বার্তাই দিলেন মোদী-শাহ’রা !! ভারতের প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশে শ্রীধাম ওড়াকান্দি সহ ২টি শক্তিপীঠ পরিদর্শন করবেন। সোনালী হাতছানিতে উথাল-পাতাল রূপোলী আকাশ !! ফের আর একবার ঐতিহাসিক নাম হয়ে উঠতে চলেছে নন্দীগ্রাম !! উজিরপুরে ঝরে পড়া শিশুদের নিয়ে ভোসড এর উপানুষ্ঠানিক শিক্ষার অবহিতকরণ সভা প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা এইচ টি ইমাম আর নেই কিছু বিশেষ ফ্যাক্টর বিজেপি’র সম্ভাবনা জোরদার করছে !! ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এক দিনের সফরে আসছেন বৃহস্পতিবার বিজেপি ক্ষমতায় এলে অরাজকতা থাকবে না, বললেন যোগী ৪১তম বিসিএস নিয়ে যা বললেন পিএসসির চেয়ারম্যান

স্বাধীনতার ৪৭ বছরেও কান্না থামেনি ঠাকুরগাঁওয়ের বঞ্চিত বিধবাদের

রিপোর্টার নাম
  • আপডেট টাইমঃ সোমবার, এপ্রিল ২৩, ২০১৮,
  • 82 সংবাদটি পঠিক হয়েছে

স্বাধীনতার ৪৭ বছর ধরে কাঁদছে ঠাকুরগাঁওয়ের বঞ্চিত বিধবারা। কিন্তু এখনো পায়নি তাদের স্বামী হত্যার বিচার ও স্বীকৃতি। এই কান্না বুকের মধ্যে চেপে রেখে টেনে নিয়ে যাচ্ছে জীবনের দুঃসহ বোঝাকে। একদিকে প্রিয়তম স্বামী হারানোর বেদনা আর অন্যদিকে জীবন যাপনের যন্ত্রণা-এ নিয়ে করুন কষ্টে তারা পার করছে দীর্ঘ ৪৭টি বছর। ওরা ছিল প্রায় ৩শ’ বিধবা রমণী। কেউ ভিক্ষা করে, কেউ বা দিন মজুরের কাজ করে নিজের জীবনটা চালিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন।

২৩ এপ্রিল ঠাকুরগাঁওয়ের জাঠিভাঙ্গা গণহত্যা দিবস। ১৯৭১ সালের এই দিনে পাকিস্তানি ও এদেশীয় দোসররা সদর উপজেলার ১৫টি গ্রামে তিন হাজারেরও বেশি নিরীহ বাঙালিকে জাঠিভাঙ্গায় জড়ো করে হত্যা করেছিল। সেই গণহত্যায় আত্মদানকারীদের স্ত্রীরা বেঁচে আছেন অর্ধাহারে অনাহারে। তাদের খবর নেওয়ার কেউ নেই। এদিকে দিনটি স্মরণে নেই সরকারি বা বেসরকারি সংগঠনের কোনো কর্মসূচি।

১৯৭১ সালের ২২ এপ্রিল ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার পাঁচটি ইউনিয়নের চকহলদি, সিঙ্গিয়া, চন্ডিপুর, বাসুদেবপুর, গৌরিপুর, মিলনপুর, জগন্নাখপুর, শুকানপুখুরীসহ ১৫টি গ্রামের তিন সহস্রাধিক নিরীহ মানুষ প্রাণ বাঁচাতে ভারতের উদ্দেশে যাত্রা শুরু করেন। জাঠিভাঙ্গা এলাকায় তাদের পথরোধ করে এ দেশীয় স্বাধীনতা বিরোধীরা। পরদিন ২৩ এপ্রিল সকালে পাকসেনাদের খবর দেয় স্থানীয় রাজাকাররা। পরে নিরীহ এই বাঙালিদের লাইনে দাঁড় করিয়ে পাকহানাদাররা গুলি করে হত্যা করে। নিহতদের লাশ পাশের পাথরাজ নদীর তীরে ফেলে সামান্য মাটি চাপা দেয় তারা। একদিনেই বিধবা হয় প্রায় সাড়ে ৩শ’নারী। সেই গণহত্যায় আত্মদানকারী পরিবারের তিন শতাধিক বিধবা বেঁচে আছেন খেয়ে না খেয়ে। বয়সের ভারে ন্যুয়ে পরলেও আজো অনেকেই বয়স্ক বা বিধবা ভাতা পাচ্ছেন না।

সদর উপজেলার জগন্নাথপুর গ্রামের তিরপা মোহন গণহত্যায় গুলিবিদ্ধ হয়ে নানা রোগে ভোগে বিছানায় পড়ে আছেন। প্যারালাইসিস রোগে আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসা করতে পা পেরে পঙ্গু জীবন যাপন করছেন তিনি। জগন্নাথপুরের আশামনি বেওয়া ও জাঠিভাঙ্গা বুড়াশিব গ্রামের ভুটরী বেওয়া অভিযোগ করে বলেন, একটি বিধবা ভাতার কার্ডে তিন মাস পরপর পাই মাত্র ৯শ’ টাকা। এ দিয়ে কি সংসার চলে? আর শীতের মৌসুম এলে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে পাই একটি কম্বল। সারা বছর আর কেউ কোনো খবর রাখে না।

দেশ স্বাধীন হওয়ার ৪৭ বছর পেরিয়ে গেলেও স্বামী হারা বিধবা ও স্বজন হারা মানুষগুলো আজও পায়নি শহীদ পরিবারের মর্যাদা।

ঠাকুরগাঁও ভারপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার বদিউদ্দৌজা বদর জানান, গণহত্যায় সকল শহীদদের বিধবাদের স্বীকৃতির জন্য অনেক আন্দোলন সংগ্রাম করেছি। কিন্তু স্বাধীনতার ৪৬ বছরেও সরকার বিষয়টি নজরে নেননি। আমরা সকলে চাই ওই সকল বিধবাদের স্বীকৃতি ও তাদের স্বামী হত্যার বিচার।

এই পরিবারগুলোকে রাষ্ট্রীয়ভাবে সব সুযোগ সুবিধা দেওয়া হোক সরকারের কাছে এমন অনুরোধ করেন ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলা চেয়ারম্যান তৈমুর রহমান।

ঠাকুরগাঁও জেলা প্রশাসক আকতারুজ্জামান জানান, মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় সরকার কাজ করে যাচ্ছে। ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলায় জাঠিভাঙ্গা গণহত্যার শহীদের পরিবারগুলোর স্বীকৃতি ও সরকারি সুযোগ সুবিধা বিষয়ে মুক্তিযোদ্ধা মন্ত্রণালয়ে সুপারিশ করবো।

জগন্নাথপুর গড়েয়া শুকানপুখরীসহ ৪টি ইউনিয়নের অসহায় এই বিধবাদের পুনর্বাসনের পাশাপাশি পাকহানাদার বাহিনী সে দিনের দোসর স্থানীয় যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের আওতায় আনা হোক এ দাবি ঠাকুরগাঁওবাসীর।

উল্লেখ্য, ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার শুখানপুখুরি ইউনিয়নের জাটিভাঙ্গা গ্রাম। যখন দেশে যুদ্ধ শুরু হয়ে গেছে। পাকসেনারা মানুষের ঘরবাড়ি জ্বালিয়ে দিচ্ছে। বাড়ি থেকে ধরে এনে মানুষকে হত্যা করছে। তখন উপায় না পেয়ে আশপাশের কয়েকটি ইউনিয়নের শতশত লোক ২৩ এপ্রিল ভারতে আশ্রয়ের উদ্দেশ্যে স্ত্রী সন্তান সহায়-সম্বল নিয়ে রওয়ানা হয়। ভোরের দিকে স্থানীয় রাজাকার তাদের পথরোধ করে টাকা পয়সা সোনা গয়না লুট করে নেয়।

এরপর তাদের সবাইকে ঐ গ্রামে আটক করে রাখে। পরে রাজাকারেরা পাকসেনাদের খবর দেয়। পাকবাহিনী এসে বেলা ১০টার দিকে ৫ শতাধিক লোককে লাইনে দাঁড় করিয়ে ব্রাশ ফায়ার করে পাখির মতো হত্যা করে। যারা গুলিতে মারা যায়নি পরে বেয়নেট খুঁচিয়ে তাদের হত্যা করে। আশপাশের লোকজন দিয়ে লাশ নদীর পাড়ে স্তূপ করে মাটি চাপা দেয়। পরে তাদের যুবতী স্ত্রীদের ওপর বর্বর নির্যাতন চালায়। যারা সহজে রাজি হয়নি তাদের অনেককে গুলি করে।

এই পোস্টটি শেয়ার করুন...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ ...
© All rights Reserved © 2020
Developed By Engineerbd.net
Engineerbd-Jowfhowo
Translate »