৪ঠা মার্চ, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ বিকাল ৩:৫৬
ব্রেকিং নিউজঃ
উজিরপুরে ঝরে পড়া শিশুদের নিয়ে ভোসড এর উপানুষ্ঠানিক শিক্ষার অবহিতকরণ সভা প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা এইচ টি ইমাম আর নেই কিছু বিশেষ ফ্যাক্টর বিজেপি’র সম্ভাবনা জোরদার করছে !! ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এক দিনের সফরে আসছেন বৃহস্পতিবার বিজেপি ক্ষমতায় এলে অরাজকতা থাকবে না, বললেন যোগী ৪১তম বিসিএস নিয়ে যা বললেন পিএসসির চেয়ারম্যান ভারতের অভ্যন্তরে বসবাসকারী সশস্ত্র পাকিস্তানপন্থীরা কী আদৌ শান্তির পক্ষে? খায়রুল বাশার লিটনকে সাতলা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হিসেবে পুনরায় দেখতে চায় ইউনিয়নবাসী একুশে বিজেপির প্রার্থী বাছাইয়ে সঙ্ঘের ছোঁয়া,ডঃ জিষ্ণু বসু হতে পারেন মূখ্যমন্ত্রী । মোটা সূঁচ আনুন, নেতাদের চামড়া অনেক মোটা হয়! ভ্যাকসিন দেওয়ার আগে প্রধানমন্ত্রী কথা শুনে হেসে ফেললেন নার্স

ফেসবুক প্রেমে এখন লাশকাটা ঘরে তাসপিয়া

রিপোর্টার নাম
  • আপডেট টাইমঃ বুধবার, মে ২, ২০১৮,
  • 247 সংবাদটি পঠিক হয়েছে

লাশকাটা ঘরে পড়ে আছে ১৫ বছর বয়সী তাসপিয়ার লাশ। পুরো নাম তাসপিয়া আমিন। পড়াশোনা নগরীর সানশাইন গ্রামার স্কুল অ্যান্ড কলেজে, নবম শ্রেণিতে। বুধবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে পতেঙ্গা সমুদ্র সৈকত এলাকা থেকে অজ্ঞাত হিসেবে তার মরদেহ উদ্ধার করে পতেঙ্গা থানা পুলিশ। পতেঙ্গা সমুদ্র সৈকত এলাকার ১৮ নম্বর ব্রিজের উত্তর পাশে পাথরের উপর উপুড় হয়ে পড়ে থাকা লাশটি উদ্ধার করা হয়।

পতেঙ্গা থানার উপপরিদর্শক আনোয়ার হোসেন জানান, সকালে স্থানীয় পথচারীরা মৃতদেহটি দেখতে পেয়ে থানায় খবর দেয়।

খবর পেয়ে পুলিশ গিয়ে মৃতদেহটি উদ্ধার করে। একই সাথে সিআইডি সংগ্রহ করেছে মরদেহের সকল তথ্য-উপাত্ত। আগামীকাল বৃহস্পতিবার সকালে ময়নাতদন্ত শেষে পরিবারের কাছে তাসপিয়ার লাশ হস্তান্তর করা হবে।

 

এদিকে, এ ঘটনায় তাসপিয়ার বয়ফ্রেন্ড আদনান মির্জাকে আটক করেছে পুলিশ। আদনান নগরীর দক্ষিণ খুলশী এলাকায় থাকে। তাদের গ্রামের বাড়ি লোহাগাড়ার পদুয়া ইউনিয়নে। আর পড়ালেখা সানশাইন গ্রামার স্কুলেই।

এর আগে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় নগরীর ওআর নিজাম রোডের গোল পাহাড় মোড়ে চায়না গ্রিল নামে একটি রেস্টুরেন্টে প্রেমের এক মাস পূর্তিতে মিলিত হয় তাসপিয়া ও আদনান। সেখানে প্রায় ২০ মিনিট অবস্থান করে তারা দুজন।

রেস্টুরেন্টের বয় উজ্জ্বল জানান, মঙ্গলবার শবে-বরাত ও মে দিবসের ছুটির কারণে বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে রেস্টুরেন্ট খোলা হয়। এর প্রায় আধা ঘণ্টা পর অর্থাৎ ৫টা ২০ মিনিটের দিকে রেস্টুরেন্টে আসে ওই যুগল। তারা রেস্টুরেন্টের ৮নং কেবিনে বসে। এরপর খাবার ওর্ডার নিতে গেলে শুধু দুটি আইসক্রিম অর্ডার করে তারা।

প্রায় ১৫ থেকে ২০ মিনিট অবস্থানের পর দুজন চলে যায়। এসময় দুইটি আইসক্রিমের মূল্য ১৫০ টাকা করে মোট ৩০০ টাকা এবং ৭৫ টাকা ভ্যাট ও ট্যাক্স মিলিয়ে ৩৭৫ টাকা পরিশোধ করে আদনান। এরপর সপ্তম তলার এই রেস্টুরেন্ট থেকে লিফটে একই সাথে নেমে যায় তারা। রেস্টুরেন্ট থেকে বের হয়েই তাসপিয়াকে একটি সিএনজি অটোরিকশাতে তুলে দেয় আদনান। পরে আরেকটি সিএনজি অটোরিকশাটিযোগে আদনানও স্থান ত্যাগ করে।

 

তাসপিয়ার পরিবারের সাথে আলাপকালে স্বজনরা জানান, তাসপিয়ার ব্যবসায়ী বাবা মো. আমিন মঙ্গলবার বিকেলে নামাজ পড়তে গিয়েছিলেন মসজিদে। বাসায় তাসপিয়ার মা ব্যস্ত ছিলেন গৃহস্থালি কাজে। তাসপিয়া বাসা থেকে কাউকে না বলেই বেরিয়ে যায়।

নামাজ পড়ে এসে তাকে বাসায় না পাওয়ায় বিচলিত হন বাবা। আগে থেকেই আদনানের সাথে তাসপিয়ার সম্পর্কের বিষয়টি জানা ছিল তার। খোঁজাখুঁজির পর তাসপিয়াকে না পেয়ে তার বন্ধুদের কাছ থেকে আদনানের মোবাইল নম্বর সংগ্রহ করেন বাবা। এরপর কল করে আনা হয় আদনানকে। তাকে নিয়ে মঙ্গলবার রাত ৯টার দিকে চায়না গ্রিল রেস্টুরেন্টে যান তারা। সিসিটিভি ফুটেজ দেখে বিস্তারিত বোঝার চেষ্টা করেন।

আদনানও স্বীকার করে একসাথে রেস্টুরেন্টে খাওয়ার কথা। এরপর তাসপিয়াকে আদনান সিএনজি অটোরিকশায় তুলে দিয়েছিল বলেও জানায়। মঙ্গলবার বিকেল ৬টা ১০ মিনিট পর্যন্ত ঘটনা আদনানের স্বীকারোক্তির সাথে মিলে গেছে। সিসিটিভি ফুটেজও বলছে একই কথা। তবে এর পরের ঘটনা উল্টো।

 

অভিযোগ করা হয় নগরের পাঁচলাইশ থানায়। পুলিশ রাত সাড়ে ৯টার দিকে আদনানকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়। এ সময় ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ করা হয় আদনানকে। সেখানে প্রায় দুই-দেড় ঘণ্টার মাথায় আদনানের দুই বড়ভাই ফিরোজ ও আকরাম তাসপিয়াকে বাসায় পাঠানোর শর্তে ছাড়িয়ে নেয় আদনানকে।

রফিকুল ইসলাম নামে তাসপিয়াদের এক নিকটাত্মীয় জানান, সন্ধ্যায় যখন তাসপিয়াকে পাওয়া যাচ্ছিল না, তখন তাসপিয়ার মা বেগম আমিন আদনানকে মোবাইল ফোন করে বাসায় ডাকেন। রাত ৮টার দিকে আদনান ওআর নিজাম রোডে তাসপিয়াদের বাসার সামনে গিয়ে তাসপিয়ার মায়ের সাথে দেখা করে। এসময় তাসপিয়া কোথায় জানতে চাইলে আদনান জানায়, রেস্টুরেন্ট থেকে বের হয়েই তাসপিয়া বাসায় চলে এসেছে। তবে তাসপিয়া সে সময়ও বাসায় ফিরেনি।

রফিকুল ইসলাম আরো জানান, ফেসবুক ও ইমোতে যখন ম্যাসেজ আদান-প্রদান হতো, বিষয়টি ঠিকই টের পেয়েছেন তাসপিয়ার মা। এ সময় থেকে মেয়েকে চোখে চোখে রাখার চেষ্টা করেন তিনি। তবে এর মধ্যেও যে এমন হবে?

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক তাসপিয়ার এক আত্মীয় জানান, তাসপিয়ার সাথে আদনানের সম্পর্কের কথা তাসপিয়ার বাবা মোহাম্মদ আমিনকে কয়েক দিন আগে জানিয়ে দিয়েছেন তাসপিয়ার মা। ওই সময়ই তাসপিয়ার বাবা মোহাম্মদ আমিন আদনানকে ডেকে শাসিয়ে দেন। মেয়ের পথ থেকে সরে যেতে কড়া ভাষায় জানিয়ে দেন তিনি।

এ ঘটনায় তদন্তকারী কর্মকর্তা ও পতেঙ্গা থানার উপপরিদর্শক আনোয়ার জানান, সকালে মৃতদেহ উদ্ধারের পর দুপুরের দিকে তাসপিয়াকে শনাক্ত করেন পরিবারের সদস্যরা। এর আগে সুরতহাল রিপোর্ট তৈরি ও সিআইডি তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করে। বিকেল ৫টার দিকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়া হয় ময়নাতদন্তের জন্য।

আনোয়ার জানান, তাসপিয়াকে পাথরের উপর উপুড় হয়ে পড়ে থাকাবস্থায় পাওয়া গেছে। পরনে হালকা গোলাপি সালোয়ার কামিজ। গায়ের রঙ ফর্সা। তবে দুই চোখ ও হাঁটুতে হাল্কা আঘাতের চিহ্ন আছে। মুখের মধ্যে ফেনা ছিল।

ধর্ষণ করা হয়েছে কি না জানতে চাইলে এই তদন্তকারী অফিসার জানান, সেটা সিআইডির ফরেনসিক রিপোর্ট পেলে বলা যাবে। সে ব্যাপারে সিআইডি তাদের প্রয়োজনীয় আলামত সংগ্রহ করেছে। এছাড়া তাসপিয়ার বয়ফ্রেন্ড আদনানকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করার পর বলা যাবে ঘটনাটি কী।

বিকেল ৫টায় নগরীর পতেঙ্গা থানা থেকে একটি অ্যাম্বুলেন্সে করে তাসপিয়ার মৃতদেহ চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে নিয়ে আসেন পুলিশ সদস্য আরাফাত। এর কিছুক্ষণ পর একটি লাল রঙের মাইক্রো নিয়ে মর্গে আসেন তাসপিয়ার বাবা মোহাম্মদ আমিন ও চাচা নুরুল আমিনসহ প্রায় ৩০ থেকে ৪০ জন স্বজন ও প্রতিবেশী।

এ সময় তাসপিয়ার বাবা মিডিয়াকে বারবার এড়িয়ে যাচ্ছিলেন। চাচা নুরুল আমিন জানান, তাসপিয়া পরিবারের সবার বড়। গ্রামের বাড়ি টেকনাফ পৌরসভার ৫নং ওয়ার্ডের ডেইলপাড়া এলাকায়। এখানে নগরীর ওআর নিজাম রোডে ভাড়া বাসায় সপরিবারে থাকেন। পরিবারের ৪ সন্তানের মাঝে তাসপিয়া সবার বড়। এরপর আরো দুই বোন। সর্বকনিষ্টজন ভাই। তবে পরিবারের সদস্য ছাড়া তাসপিয়া কখনো একা বাসা থেকে বের হয়নি। গাড়ি নিয়েই স্কুলে আসা-যাওয়া করতো। সাথে মা, না হয় বাবা থাকতেন। এর মধ্যেও ফেসবুকে সম্পর্ক হয়ে আজ এতো বড় ক্ষতি।

এই পোস্টটি শেয়ার করুন...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ ...
© All rights Reserved © 2020
Developed By Engineerbd.net
Engineerbd-Jowfhowo
Translate »