১৯শে মে, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ রাত ১২:১৭

পরকীয়া, আদালতপাড়া এবং আলাদীনের চেরাগ।

রিপোর্টার নাম
  • আপডেট টাইমঃ মঙ্গলবার, মে ৮, ২০১৮,
  • 401 সংবাদটি পঠিক হয়েছে

লেখকঃ ভানুলাল দাস
————————————————————————
কেউ কেউ সেক্সক্রেজি হয়ে গেছে। আমার বাড়ির কাছে বাজারে চা দোকানদার যুবক জয়নাল। সে এক বছর আগে বিয়ে করে। ৬ মাস পরে জয়নালের শ্বাশুড়িকে তার বাবা ভাগিয়ে এনে সাদি করে ফেলে। মসজিদের হুজুর বলেছেন, এটি ইসলাম সম্মত বিয়ে।
জয়নাল লজ্জায় বাড়ি ছেড়ে বউ নিয়ে এখন বাজারে ভাড়া থাকে।
আজ যুগান্তরে দেখলাম: ২০ বছর বয়সের বিবাহিত কন্যাকে(যার ৩ বছরের একটা ছেলে আছে) হত্যা করে মা নিজে(৪০) মেয়ের জামাইকে নিয়ে পালিয়েছে। জামাতার সাথে শ্বাশুড়ির পরকিয়া দেখে ফেলায় কন্যার এই পরিণতি হয়েছে।
রংপুরে শিক্ষিকা স্নিগ্ধা ভৌমিক কর্তৃক তার আইনজীবি ও সমাজকর্মী স্বামী বাবু সোনাকে নৃসংশ হত্যার পর পুলিশি তদন্তে যখন বেরিয়ে এল যে, স্নিগ্ধার পরকীয়ার কারণে হত্যাকান্ডটি ঘটেছে, তখন অনেকে বিশ্বাস করেননি। তারা গুরুতর সন্দেহ পোষণ করলেন এই বলে যে, পুলিশ জঙ্গী-হামলার বিষয়টি আড়াল করতে এমন নাটক করছে। প্রায় ৫০ বছরের নারী স্নিগ্ধা প্রেমে পড়ে এমন অসম্ভব কান্ড কি ঘটাতে পারে?

সন্দেহ পোষণ করা ভাল, কিন্তু সবকিছুতে সন্দেহ পোষণ করা রোগ- এর নাম সন্দেহ-বাতিক। সন্দেহের যে সকল লজিক তা ফল্টি।
১. ক্রিমিন্যাল সাইকোলজি বলে,
৪০ থেকে ৫০ বছরে মেয়েদের জীবন জটিলতায় ভরা। মেনোফ্যাজের আগে এক ধরনের বিভ্রমে পেয়ে বসে- প্রেমে পড়তে চায় নারী। বিশেষত স্বামী নামক পুরুষটি যদি তখন অপারঙ্গম হয়ে যায়- বয়সের ব্যবধানের কারণে(বৃদ্ধস্য যুবতী ভার্যা…)।
এ বয়সে অনেক নারীকে পরকীয়া করে স্বামী সংসার ত্যাগ করতে দেখেছি। পুরুষরা ৫০ থেকে ৬০ বছর বয়সে প্রেম পাগল হয়ে যায়। প্রদীপের তেল ফুরিয়ে নিবে যাবার আগে একবার ভাল করে জ্বলে উঠতে চায় পুরুষ। একে আমরা বলি ভীমরতি। অনেক অঘটন ঘটায় পুরুষ এই বয়সে।
২. এ বড় দূর্ভাগ্য যে, পুলিশ যা কিছু করে তাতে সন্দেহ করলে লোকে খায়। নিজের দায়িত্ব এড়ানো যায়। পুলিশ হল বলির পাঁঠা বা স্কেপ গুট।
আসামী জামিন পেয়ে গেলো কেন?- পুলিশের দূর্বল চার্জশীট।
আসামী খালাস পেল কেন?- পুলিশের দূর্বল চার্জশীট।
কিন্তু উকিল যে দূর্বল-সবল আছে আমরা ভুলে যাই। সরকারী উকিল যে গাছেরও খায় তলারও কুড়ায় কেউ জেনেও বলে না। সরকারি উকিলের সিংহভাগ পলিট্যাকেলি নিয়োগ পায় এবং তারা মাঝারি মানের উকিল এবং প্রায়শ এই পদের অযোগ্য হয়ে থাকে। জেলার শ্রেয়তর উকিলের সঙ্গে আইনী যুদ্ধে এরা “পরাজয়ে ডরে না বীর”।
৩. পুলিশের কিছু অতীত বিতর্কিত কার্যকলাপ পুলিশ সম্পর্কে আজকের নেতিবাচক ধারনা সৃষ্টি করেছে তা অস্বীকার করা যায় না। তারপরও অপরাধীদের দমনে, বিচারে সোপর্দে পুলিশই এখনো কার্যকর কিছু করছে। আমি আদালত পাড়ায় ঘুরে উকিল বন্ধুদের সঙ্গে আলাপ করে হতাশায় নিমগ্ন হয়ে গেছি। তারা বলে :
আরে ভাই, আপনি পাগল হলেন?
অপরাধীকে শাস্তি দিয়ে কার লাভ? সাক্ষীর খায়াদায়া কাজ নাই সাক্ষ্য দিয়ে বিপদে পড়বে? সাক্ষ্য দিতে চাইলেও সরকারী উকিলের অনাগ্রহ আর বারবার তারিখ পড়ার জন্য আগ্রহ হারিয়ে ফেলবে। সরকারি উকিল, আসামীর উকিল কেউ শাস্তি দিতে আগ্রহী নয়। শাস্তি না হলে দুই পক্ষের উকিলের লাভ। বিচারক কি করবেন? তাই ৩% সাজাও হয় না। পুলিশের ১৬৪ ধারার জবানবন্দি, আলামত বা চোরাইমাল উদ্ধার এ সবের জন্য আমরা বিপদে পড়ে যাই- আসামীকে জামিন করানো বা খালাশ করানো প্রবলেম হয়ে যায়।
আচছা “লিগ্যাল এথিক” পড়ানো হয় যে আইনে তার হল কি? – আরে দাদা, এথিক পড়ানো হয় যাতে আমরা আনএথিক্যাল কাজ বেশি করতে পারি। উকিলের কাছে নীতিকথা শুনা আর ভূতের মুখে রাম নাম শুনা একই কথা।
৪. তদন্ত শেষ হওয়ার আগে কাউকে দোষী বলা কি ঠিক?
না, এমন বলা ঠিক না। কিন্তু পুলিশ যদি চুপ থাকে মুখে কুলুপ এটে বসে থাকে, তা হলে তো পাবলিক ভাববে আসামীদের পুলিশ ছাড় দিয়ে দিয়েছে। তাই পুলিশ যখন কাউকে দায়ী বলে তখন প্রাপ্ত সাক্ষ্য প্রমাণের আলোকে যে অপরাধের জন্য দায়ী তাকেই দোষী বলে। এতে মহাভারত অশুদ্ধ হয় না, বরং শুদ্ধ হয়- কারণ জনসাধারণ এ বিষয়ে জানতে চায়। না জানালে নানা গুজবের সৃষ্টি হয়।
৫. সত্যিটা হচ্ছে, পুলিশ সব অপরাধের কুলকিনারা করতে পারে না। এ দেশেও পারে না ইউরোপ আমেরিকাতে পারে না। আনসলভড কেইস কিছু থেকেই যায়। এই নিয়ে অযথা হইচই করে গলা ফাটালে লাভ নেই।
পুলিশের কাছে আলাদীনের চেরাগ নেই যে সব রহস্য উদঘাটন করে ফেলবে। পুলিশ সকল কাজের কাজিও নয়।

এই পোস্টটি শেয়ার করুন...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ ...
© All rights Reserved © 2020
Developed By Engineerbd.net
Engineerbd-Jowfhowo
Translate »