১৯শে জুন, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ সকাল ১১:৩৪

অ্যানিমিয়ায় ভুগছেন দীর্ঘদিন? এই খাবারগুলি ডায়েটে রাখুন

রিপোর্টার নাম
  • আপডেট টাইমঃ শুক্রবার, মে ১১, ২০১৮,
  • 130 সংবাদটি পঠিক হয়েছে

রক্তাল্পতা শব্দটা খুব চেনা| অল্পবিস্তর সবাই এই রোগে ভোগেন| রোগটি হলে কী করেন? কিছু আয়রন ট্যাবলেট কিনে নেন? এতে সাময়িকভাবে রোগটি চাপা পড়ে| কিন্ত পুরোপুরি সারে না| তাই সাম্প্রতিক এক রিপোর্ট বলছে, আমাদের দেশের প্রায় ৫৯ শতাংশ মহিলা অ্যানিমিক। অর্থাৎ, রক্তাল্পতার শিকার| ঋতুস্রাব, অপুষ্টি, অযত্ন আর নানা কারণে মূলত মহিলা এবং শিশুরা এতে আক্রান্ত হয় বেশি| এবার জেনে নিন কী এই অ্যানিমিয়া? শরীরে লোহিত রক্ত কণিকার সংখ্যা যখন কমতে শুরু করে তখন সেই রোগকে অ্যানিমিয়া বলা হয়। প্রসঙ্গত, লোহিত রক্ত কণিকার মধ্যে থাকে হিমোগ্লোবিন নামে এক ধরনের প্রোটিন, যা শরীরে প্রতিটি কোণায় অক্সিজেন সমৃদ্ধ রক্ত পৌঁছে দেওয়ার কাজ করে থাকে। এবার বুঝতে পেরেছেন তো শরীরে লোহিত রক্ত কণিকার ঘাটতি দেখা দিলে কতটা ভয়ঙ্কর পরিস্থিতির সৃষ্টি হতে পারে! এই ভয়ঙ্কর পরিস্থিতি এড়াতে তাই আয়রন ট্যাবলেট নয়, বেছে নিন এমন কিছু খাবার যা নিয়মত খেলে রক্তাল্পতা কমবে সহজেই—

খেজুর: শরীরে আয়রনের ঘাটতি মেটানোর পাশপাশি শরীরকে চাঙ্গা রাখতে প্রতিদিন খেজুর খাওয়া শুরু করুন। এক কাপ দুধে ২টি খেজুর ফেলে সারা রাত রেখে দিন। পরদিন সকালে সেই খেজুর মেশানো দুধ খালি পেটে খেয়ে নিন। কয়েকদিন এমনটা করলেই দেখবেন অ্যানিমিয়া দূরে পালাবে।

পাতিলেবু: গবেষণা বলছে, শরীরে ভিটামিনের মাত্রা বাড়লে যেমন রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতার উন্নতি ঘটে, আয়রনের শোষণ বেড়ে যায়। ফলে, অ্যানিমিয়ার প্রকোপ কমতে সময় লাগে না। এই কারণেই প্রতিদিন খাওয়ার পাতে পাতিলেবু খাওয়ার পরামর্শ দিয়ে থাকেন ডাক্তারবাবুরা।

দই এবং হলুদ: আয়ুর্বেদ বলছে, এক কাপ দইয়ে ১ চামচ হলুদ মিশিয়ে যদি সকাল-বিকাল খাওয়া যায়, তাহলে রক্তাল্পতার মতো সমস্যা কমতে বেশি সময় লাগে না। তাই সব বয়সের মেয়েদের কাছে অনুরোধ, শরীকে বাঁচাতে দয়া করে প্রতিদিন এই ঘরোয়া টোটকাটিকে কাজে লাগাতে ভুলবেন না|

বিটরুট: এতে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে আয়রন, যা অ্যানিমিয়ার প্রকোপ কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। শুধু এই-ই নয়, শরীরে জমে যাকা টক্সিন বের করে দিয়ে অন্যান্য রোগের হাত থেকে বাঁচতেও সাহায্য করে। পরিমাণমতো বিটরুটের সঙ্গে তিনটে গাজর এবং অর্ধেক রাঙা আলু ব্লেন্ড করে সেই রস প্রতিদিন খেতে পারেন। এই রস খেতে ইচ্ছা না করলে রান্না করেও খেতে পারেন বিটরুট। একই উপকার পাবেন।

তিল বীজ: আয়রনে সমৃদ্ধ হওয়ায় অ্যানিমিয়া কমাতে এটি দারুণ কাজে দেয়। এক কাপের এক চতুর্থাংশ তিল বীজ রোজ আয়রনের চাহিদার প্রায় ৩০ শতাংশের যোগান দেয়| পরিমাণ মতো জলে ২ চামচ তিল বীজ, কম করে ২-৩ ঘন্টা ভিজিয়ে রাখুন। তারপর জল ফেলে দিয়ে বীজগুলি বেটে পেস্ট বানিয়ে ফেলুন। এবার সেই পেস্টে ১ চামচ মধু মিশিয়ে নিন। রোজ দিনে দু’বার এই মিশ্রনটি খেতে হবে।

পালং শাক: অ্যানিমিয়ার প্রকোপ কমাতে পালং শাকের কোনো বিকল্প নেই। এর মধ্যে থাকা আয়রন এবং ভিটামিন বি১২ শরীরে লোহিত রক্ত কণিকার ঘাটতি দূর করে| সেই সঙ্গে অপুষ্টি কমায়| প্রসঙ্গত, প্রতিদিন আমাদের শরীরে যে পরিমাণ আয়রনের প্রয়োজন তার প্রায় ৩৫ শতাংশ পূরণ করতে পারে হাফ কাপ পালং শাক। তাই দিনে দু’বার পালং শাকের রস খেতে পারলে দারুণ উপকার পাবেন।

আপেল: প্রতিদিন একটা আপেল ডাক্তারবাবুর সঙ্গে অ্যানিমিয়াকেও দূরে রাখে| ফলটিতে প্রচুর আয়রন রয়েছে, যা লোহিত রক্ত কণিকার সংখ্যা বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

ডালিম: এই ফলটিকে রক্তবীজ নামেও ডাকা হয়ে থাকে। কারণ, শরীরে লোহিত রক্ত কণিকার ঘাটতি দূর করতে এই ফলটি দারুণ কাজে দেয়। ডালিমের মধ্যে থাকা প্রচুর আয়রন, ক্যালসিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম এবং ভিটামিন সি রক্তের ঘাটতি দূর করার পাশাপাশি অন্য ভিটামিনের অভাবও মেটায়। এক কাপ ডালিমের রসের সঙ্গে সিকি চামচ দারচিনিগুড়ো এবং ২ চামচ মধু মিশিয়ে খালি পেটে খেলে দারুণ উপকার পাওয়া যায়। শুধু ফলটি খেলেও একই ফল পাবেন।

এই পোস্টটি শেয়ার করুন...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ ...
© All rights Reserved © 2020
Developed By Engineerbd.net
Engineerbd-Jowfhowo
Translate »