২৪শে অক্টোবর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ সন্ধ্যা ৭:০০
ব্রেকিং নিউজঃ
বনগাঁ বিধায়ক স্বপন মজুমদারের করা হুশিয়ারী পেট্রাপোল স্থল বন্দর বন্ধ করে দেওয়া হবে। কুমিল্লায় মুর্তির পায়ে রেখে কোরান অবমাননাকারী গ্রেফতার তিন ! সাম্প্রদায়িক অপশক্তির বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোর আহ্বান, ইন্দো-বাংলা ফ্রেন্ডশিপ এসোসিয়েশনের। সোমবার, ১৮ই অক্টোবর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ ২রা কার্তিক, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ: রাত ২:০৩ AVBP বাড়ি Breaking News বিভৎস নোয়াখালী, ‌ভো‌রের আলো ফুট‌তেই পুকু‌রে ভে‌সে উঠ‌লো আ‌রও এক ইসক‌নের সাধুর মৃত‌দেহ পীরগঞ্জে হামলায় পুড়ল ২০ বাড়িঘর কুমিল্লার একটি পূজামণ্ডপে কোরআন পাওয়া এবং সেটিকে কেন্দ্র করে সহিংসতা সমগ্র বাংলাদেশে। কুমিল্লায় ফেসবুক লাইভে উত্তেজনা ছড়ানো ফয়েজ আটক ভারতে যেন এমন কিছু না হয়, যার জন্য বাংলাদেশের হিন্দুদের ভুগতে হয়! কুমিল্লা নিয়ে হুঁশিয়ারি হাসিনার চীনকে মোকাবিলায় লাদাখে ভারতের কামান কলকাতার মণ্ডপে বুর্জ খলিফা এবং তালেবান মাতার প্রতীকে মমতা

কী আছে ট্রাম্পের ‘কঠোর পদক্ষেপে পরিবার বিচ্ছিন্ন’ শিশুদের ভাগ্যে?

রিপোর্টার নাম
  • আপডেট টাইমঃ শুক্রবার, জুন ২২, ২০১৮,
  • 205 সংবাদটি পঠিক হয়েছে

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প অবৈধ অভিবাসীদের থেকে শিশুদের বিচ্ছিন্ন করার কঠোর পদক্ষেপ বন্ধ করলেও ইতোমধ্যে বিচ্ছিন্ন হওয়া ২ হাজার ৩০০ শিশুর পরিণতি কী হবে তার সুরাহা এখনও হয়নি। বৃহস্পতিবার (২২ জুন) মন্ত্রিপরিষদের এক বৈঠকে ‘অভিবাসন প্রক্রিয়া চলাকালীন অবৈধ অভিবাসী পরিবারগুলোকে একসঙ্গে রাখতে এবং পূর্বে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়াদের পুনঃএকত্রিত করতে কাজ করার জন্য’ সরকারি সংস্থাগুলোকে নির্দেশ দিয়েছেন ট্রাম্প। তবে বিচ্ছিন্ন ওই শিশু ও তাদের মা-বাবাকে একত্রিত করার জন্য এখনও কোনও পরিকল্পনা হাতে নেননি কর্মকর্তারা। পুনঃএকত্রিত করতে কত সময় লাগবে এবং শিশুদেরকে তাদের মা-বাবার সঙ্গে অভিবাসন পরিবার আটকেকেন্দ্রে পাঠানো হবে কিনা তাও স্পষ্ট নয়। বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়া শিশুদেরকে পরিবারের সঙ্গে একত্রিতকরণে প্রশাসনের পরিকল্পনায় ঘাটতি আছে বলে অভিযোগ করেছেন ডেমোক্র্যাট দলীয় সদস্যরা। অভিবাসনসংক্রান্ত আইনজীবীরাও বলছেন, বিচ্ছিন্ন পরিবারগুলোকে একত্রিকরণের কাজটি কঠিন, সমন্বয় না থাকলে সুষ্ঠুভাবে এ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা সম্ভব হবে না।

ট্রাম্প প্রশাসনের ‘জিরো টলারেন্স নীতি’র আওতায় অবৈধ অভিবাসন প্রত্যাশীদের বিরুদ্ধে শুরু হওয়া আটক অভিযান ও মামলার জেরে পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন হয়েছে দুই হাজারেরও বেশি শিশু। শিশুরা আইনের চোখে অপরাধী না হওয়ায় তাদেরকে আটক মা-বাবার কাছ থেকে বিচ্ছিন্ন করা হয়। মার্কিন অভিবাসন কর্মকর্তারা বলেছেন, ৫ মে থেকে ৯ জুন পর্যন্ত ২ হাজার ২০৬ জন বাবা-মার কাছ থেকে বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে ২ হাজার ৩৪২ জন শিশুকে।
সাবেক ও বর্তমান ফার্স্ট লেডি,রিপাবলিকান ও ডেমোক্র্যাট নেতাসহ নির্বিশেষে ট্রাম্প প্রশাসনের শিশু বিচ্ছিন্নকরণ পদক্ষেপের সমালোচনা করেন। ফুঁসে ওঠে সাধারণ মার্কিনিরাও। দেশের বাইরেও ক্যাথলিক ধর্মগুরু পোপ ও কানাডীয় প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডোসহ অনেকেই সমালোচনা করেন। চাপের মুখে বিচ্ছিন্নকরণ ঠেকাতে ‘পরিবারকে একত্রিত রাখা’র এক নির্বাহী আদেশ জারি করেন ট্রাম্প। তবে সেই আদেশেও ইতোমধ্যে বিচ্ছিন্ন হওয়া এই দুই সহস্রাধিক শিশুর ব্যাপারে কিছু বলা হয়নি। বর্তমানে হেলথ অ্যান্ড হিউম্যান সার্ভিস বিভাগের হেফাজতে থাকা এসব শিশুর পরিণতি কী হবে তা এখনও অনিশ্চিত। দেশের বিভিন্ন জায়গায় ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা আশ্রয়কেন্দ্রে তাদেরকে রাখা হয়েছে।

ট্রাম্পের নির্বাহী আদেশের পর হেলথ অ্যান্ড হিউম্যান সার্ভিসের শিশু ও পরিবারবিষয়ক প্রশাসনের মুখপাত্র কেনেথ উলফ নিউ ইয়র্ক টাইমসকে বলেন, ‘বিদ্যমান মামলাগুলোকে তো বাদ দেওয়া হচ্ছে না।’ এর মানে হলো, যে পরিবারগুলো এরইমধ্যে আলাদা হয়ে গেছে তারা সহসা পুনঃএকত্রিত হতে পারছে না। তবে উলফ-এর আশঙ্কাকে নাকচ করে দিয়ে হেলথ অ্যান্ড হিউম্যান সার্ভিসের আরেক মুখপাত্র দাবি করেন, উলফ ভুল বলেছেন। তিনি বলেন, ‘পুনঃএকত্রীকরণ সবসময়ই চূড়ান্ত লক্ষ্য।’ এ বক্তব্যে সন্তুষ্ট নন ডেমোক্র্যাটিক আইনপ্রণেতা ও অভিবাসনবিষয়ক আইনজীবীরা।

ডেমোক্র্যাট নেতা চাক শুমার ও রিপাবলিকান নেতা ন্যান্সি পেলোসি বৃহস্পতিবার ট্রাম্পকে লেখা এক চিঠিতে বলেন, ‘মনে হচ্ছে এসব শিশুকে পরিবারের সঙ্গে একত্রিত করার ক্ষেত্রে প্রশাসনের পরিকল্পনা, ইচ্ছা ও গুরুত্ব বোঝায় সক্ষমতায় ঘাটতি আছে। এসব শিশুর অনেকেই গুরুতর মানসিক জটিলতায় ভুগছে।’ বিচ্ছিন্ন হওয়া শিশুদেরকে তাদের পরিবারের সঙ্গে পুনঃএকত্রিত করার ক্ষেত্রে যেকোনও বিলম্ব অগ্রহণযোগ্য বলে উল্লেখ করেছেন শুমার।

ট্রাম্পের কঠোর পদক্ষেপের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ
অবৈধ অভিবাসীদের পরিবার থেকে বিচ্ছিন্নকরণের ঘটনা পূর্ববর্তী মার্কিন প্রশাসনগুলোতেও দেখা গেছে। তবে মানবাধিকারকর্মীরা বলছেন,সে সংখ্যাটা অনেক কম ছিল।অতীতে মেক্সিকো সীমান্ত পেরিয়ে আমেরিকায় প্রবেশকারীদের অপরাধের রেকর্ড না থাকলে তাদের কেবল অস্থায়ীভাবে আটক রাখা হতো। এ কারণে শিশুরা তাদের অভিভাবকদের সঙ্গেই থাকতে পারত। তবে ট্রাম্প প্রশাসনের জিরো টলারেন্স নীতি ঘোষণার পর সীমান্ত পেরিয়ে আসা সব মানুষকেই আইনের আওতায় নেওয়া হচ্ছে। শিশুরা আইনের চোখে অপরাধী না হওয়ায় পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন করে ফেলা হচ্ছিলো তাদেরকে।

অভিবাসন আদালতে শিশুদের আইনি সহায়তা প্রদানকারী সংগঠন কিডস ইন নিড অব ডিফেন্স (কাইন্ড)-এর প্রেসিডেন্ট ওয়েন্ডি ইয়ং। বিচ্ছিন্ন শিশুদের পরিবারের সঙ্গে একত্রিকরণ প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘এটা খুব কঠিন। আমরা এরকম কিছু মামলা নিয়ে এরইমধ্যে কাজ করার চেষ্টা করছি। মা-বাবা ও তাদের সন্তানেরা এমন এক জটিল ব্যবস্থার আওতায় আটক হয়েছে যেখানে কার্যকরী যোগাযোগের সুযোগ নেই। মূলত সেকারণে তাদের খুঁজে বের করতে আমাদের আইনজীবীদেরকে বেসরকারি অনুসন্ধানকারীদের মতো চেষ্টা করতে হবে। প্রশাসনের পরিকল্পনার মধ্যে কোনও সমন্বয় আছে বলে মনে হয় না।’

টেক্সাস সিভিল রাইটস প্রজেক্টের আইনজীবী এফরেন ওলিভারেস বেশ কিছুদিন ধরে বিচ্ছিন্ন হওয়া পরিবারের সংখ্যা নির্ণয় এবং আটককৃত প্রাপ্তবয়স্ক অবৈধ অভিবাসীদের সাক্ষাৎকার গ্রহণ করেছেন। ২৪ মে থেকে সন্তান, ছোট ভাই-বোন কিংবা ভাতিজা-ভাতিজির কাছ থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়া ৩০০-রও বেশি প্রাপ্তবয়স্ক অভিবাসন প্রত্যাশীর সাক্ষাৎকার গ্রহণ করেন টেক্সাস সিভিল রাইটস প্রজেক্টের প্রতিনিধিরা। টেক্সাসের ম্যাকালেনে একটি ফেডারেল আদালতে সাজা ঘোষণার আগেই তাদের সাক্ষাৎকার নেওয়া হয়। ওইসব অভিবাসন প্রত্যাশীর কাছ থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে তাদের সন্তানদেরকে যতটা সম্ভব শনাক্ত করার চেষ্টা করা হয়। ওলিভারেস বলেন, ‘আমরা যদি তাদের হিসাব না রাখি, তাহলে কোনও রেকর্ডই থাকবে না যে পরিবারগুলো সিস্টেমের আওতায় আছে। তাদের অনেকে নিজে নিজে সন্তানকে খুঁজে বের করতে পারবে না বলেই মনে হয়। বিশেষ করে, যখন তারা আটকাবস্থায় থাকে, এরপর মুক্ত হয় কিংবা বিতাড়িত হয়-তখন পরিস্থিতিটা আরও বাজে রূপ ধারণ করে।’

এই পোস্টটি শেয়ার করুন...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ ...
© All rights Reserved © 2020
Developed By Engineerbd.net
Engineerbd-Jowfhowo
Translate »