১০ই মে, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ রাত ১:০৪

কেশবপুরে তিনটি অবৈধ ইটভাঁটি উচ্ছেদ

রিপোর্টার নাম
  • আপডেট টাইমঃ শুক্রবার, নভেম্বর ১৬, ২০১৮,
  • 71 সংবাদটি পঠিক হয়েছে

নিজস্ব সংবাদদাতা, কেশবপুর ॥ বৃহস্পতিবার দুপুরে কেশবপুরের ব্যাপক আলোচিত অবৈধ তিনটি ইটভাঁটির উচ্ছেদ করা হয়েছে। হাইকোটের নির্দেশে এ সকল ইটভাঁটি উচ্ছেদ করা হয়। যশোর জেলা ম্যাজিস্ট্রেট এ কে এম নওশদ ও উপজেলা নির্বাহী অফিসার মিজানূর রহমান কেশবপুর পৌরসভার ভোগতি গ্রামের জামান ব্রিক্স, উপজেলার কাস্তা-বারুইহাটির রোমান ব্রিক্স ও সাতবাড়িয়া বাজারের সুপার বিক্সের যাবতীয় ইট ও ইট নির্মান সামগ্রী নষ্ট করে দেন।

গত বছরে প্রশাসন মোবাইল কোর্ট করে এ তিনটিসহ নতুন ৫টি অবৈধ ইটভাঁটি বন্ধ করা হয়েছিল এবং নতুন ইটভাটির মালিক আবুবক্কর সিদ্দিক ও পৌরসভার ভোগতির জামান ব্রিক্সের মালিক মমতাজ বেগমকে জেল জরিমানাও করে ভ্রাম্যমান আদালত। এতোকিছুর পরও তারা ইটভাঁটি নির্মান কাজ বন্ধ না করায় হাইকোর্টের নির্দেশে বৃহস্পতিবার তিনটি ইটভাঁটি উচ্ছেদ করে দেয়া হয়েছে।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার মিজানূর রহমান জানান, সরকারি নিয়ম নীতি উপেক্ষা করে কেশবপুরে অবাধে নির্মান করা হয়েছে অবৈধ ইটভাঁটা। ফসলের মাঠ নষ্ট করে বিত্তবান ও ক্ষমতাশীন লোকেরা অনুমতি ছাড়াই ইটেরভাঁটা নির্মান করে নিজেদের আখের তৈরী করে আসছিল। পরিবেশ রক্ষায় এলাকাবাসির অভিযোগে ২০১৬ সালে কেশবপুরের সকল ইটভাঁটির মালিককে অনুমতিপত্রসহ উপজেলা নির্বাহী অফিসার তার অফিসে মালিকদের ডাকেন। কিন্তু ১৫টি ইটভাঁটির মধ্যে মাত্র তিনজন মালিক তাদের বৈধ কাগজপত্র দেখাতে পারেন। উপজেলা নির্বাহী অফিসার মিজানূর রহমান তাদের সাতদিনের মধ্যে কাগজপত্র হাজির করতে বললে মালিকরা তা আজও দেখাতে পারেনি।

কোন অনুমতি ছাড়াই তারা অবৈধ ইটভাঁটির কার্যক্রম চালাচ্ছিল। এলাকাবাসির অভিযোগে সর্বশেষ সাতদিনের মধ্যে উল্লেখিত তিনটি ইটভাঁটি উচ্ছেদের নির্দেশ প্রদান করেন। সে মোতাবেক বৃহস্পতিবার দুপুরের যশোর জেলা ম্যাজিস্ট্রেট এ কে এম নওশদ ও উপজেলা নির্বাহী অফিসার মিজানূর রহমান, ডি এস ডি কাওসার আজম, সহকারি কমিশনার (ভূমি) এনামুলসহ বিপুল পুলিশ, র্যাব, পরিবেশ অধিদপ্তরের লোকজনকে নিয়ে কেশবপুর পৌরসভার ভোগতি গ্রামের জামান ব্রিক্স, উপজেলার কাস্তা-বারুইহাটির রোমান ব্রিক্স ও সাতবাড়িয়া বাজারের সুপার বিক্সের যাবতীয় ইট ও ইট নির্মানের সামগ্রী বিনষ্ট করেন। এ সময় ইটভাঁটির আগুন ফায়ার সার্ভিসের লোকজন পানি দিয়ে নিভিয়ে ও কাঁচা ইট নষ্ট করে দেয়া হয়।

কেশবপুরের নীচু জমিতে মাছের ঘের আর উচুঁ জমিতে ইটভাঁটি করায় দখল হয়ে যাচ্ছে কৃষি জমির পরিমান। কেশবপুরের শতকরা ৯০ ভাগ কৃষিজীবি মানুষ দিনদিন তাঁদের ফসলের জমি হারিয়ে দিশাহারা হয়ে পড়ছেন। ফসলের মাঠ, জনবসতি এলাকা, শহর-বাজার, স্কুল-কলেজের পাশেসহ যত্রতত্র অবৈধ ইটভাঁটি স্থাপন করায় কেশবপুরের পরিবেশ হুমকির মুখে পড়েছে। অথচ ইট প্রস্তুত ও ভাঁটা স্থাপন (নিয়ন্ত্রন) আইন-২০১৩ অনুযায়ি পৌরসভা এলাকায়, আবাসিক এলাকায় ও কৃষি জমিতে ইটভাঁটি স্থাপন করা যাবে না। পরিবেশ অধিদপ্তরের অনুমতি ছাড়াই শুধুমাত্র ট্রেড লাইন্সেস এবং উপজেলা চেয়ারম্যানের অনাপত্তিপত্র নিয়ে কেশবপুরে ফসলি জমিতে নতুন করে তিনটি অবৈধ ইটভাঁটি নির্মান করা হয়।

এই পোস্টটি শেয়ার করুন...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ ...
© All rights Reserved © 2020
Developed By Engineerbd.net
Engineerbd-Jowfhowo
Translate »