১৬ই অক্টোবর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ সকাল ৯:৫০

পাহাড়ের আঞ্চলিক সংগঠন গুলোর মাঝে অস্থিরতা

রিপোর্টার নাম
  • আপডেট টাইমঃ সোমবার, জানুয়ারি ৭, ২০১৯,
  • 83 সংবাদটি পঠিক হয়েছে

আতংকে পাহাড়ের সাধারণ মানুষ

একাদশ সংসদ নির্বাচনের পরবর্তী সময়ে পাহাড়ের আঞ্চলিক সংগঠন গুলোর মাঝে অস্থিরতা বিরাজ করতে শুরু করেছে। নির্বাচনে নৌকার পক্ষে সমর্থন দেয়ায় রাঙ্গামাটির বাঘাইছড়িতে পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতি জেএসএস সংস্কার গ্রুপের বসু চাকমা নামে এক নেতার হত্যাকান্ডের পর উভয় পক্ষের মাঝে অস্থিরতা ছড়িয়ে পড়েছে। কখন কার উপর গুলিবর্ষণ হয় এই নিয়ে আতংকে ভূগছে পাহাড়ের সাধারণ মানুষ এমনটাই মনে করছে অভিজ্ঞ মহল।একাদশ সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে পাহাড়ের উভয় পক্ষের মাঝে চাপা ক্ষোভ বিরাজ করলেও কোথাও কোন অপ্রীতিকর ঘটনার ঘটেনি। তবে নির্বাচনের ৫ দিনের মাথায় গত ৪ জানুয়ারী শুক্রবার বসু চাকমা হত্যাকার ঘটনায় তাদের নিরবতা আর ধরে রাখতে পারেনি। বসু চাকমা হত্যার প্রতিশোধ নিতে আবার কোথায় রক্ত ঝড়ে তা নিয়ে আতংকে দিন কাছে পাহাড়ের মানুষ।পাহাড়ের আঞ্চলিক রাজনৈতিক দলগুলোর মাঝে সংঘাত বেড়ে যাওয়ায় দীর্ঘদিন পর জেএসএস ও ইউপিডিএ এখন এক হওয়ায় আঞ্চলিক অপর দুটি দল জেএসএস সংস্কার ও ইউপিডিএফ গণতান্ত্রিক এখন বাইরে রয়েছে। পাহাড়ে দফায় দফায় তাদের সাথে সংঘাত লেগেই রয়েছে। তবে নির্বাচনের আগে এদের মধ্যে সংঘাত বন্ধ হলেও। নির্বাচনের আগে খাগড়াছড়িতে উভয় পক্ষের মাঝে বন্ধুকযুদ্ধে ২ জন নিহত হয়েছে। সর্বশেষ বাঘাইছড়ির বসু চাকমাকে বলি হতে হলো।
স্থানীয় অভিজ্ঞ মহল মনে করেছেন পাহাড়ের এখনো অবৈধ অস্ত্রের ঝনঝনানি বৃদ্ধি পাচ্ছে। এই নির্বাচনকে ঘিরে পাহাড়ের আবারো অশান্তি সৃষ্টি হতে পারে। রাঙ্গামাটি জেলায় জেএসএস সমর্থিত স্বতন্ত্র প্রার্থী উষাতন তালুকদার এবং খাগড়াছড়িতে ইউপিডিএফ সমর্থিত স্বতন্ত্র প্রার্থী নতুন চাকমার হেরে যাওয়ার পর উভয়ে আবারো নতুন করে ছক কষছে এমন আভাস পাওয়া যাচ্ছে। শুরুতেই বাঘাইছড়িতে বসু চাকমা এবার কোন উপজেলায় লাশ পরবে তা নিয়ে ভয়ে আছেন পাহাড়ের মানুষ।স্থানীয়রা মনে করেন পাহাড়ের মানুষের ভোটাধিকার এখন আর তাদের মাঝে নেই। তারা চাইলে কোন দলের প্রার্থীকে ভোট দিতে পারবে না। অস্ত্রধারীরা যেখানে ভোট দিতে বলবে সেখানেই তাদেরকে ভোট দিতে হবে। তারই প্রতিফলন ঘটাতে গেলেই অপর পক্ষের রোষানলে পড়তে হচ্ছে সাধারণ ভোটারদের। এই অবস্থায় চলতে থাকলে কোথায় গিয়ে থামকে রাঙ্গামাটির ভোটাধিকার এই নিয়ে এখন প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।অন্যদিকে দীর্ঘ ৫ বছর পাহাড়ের উন্নয়ন তেমন না হওয়ায় পাহাড়ের মানুষ আবার নৌকায় ফিরে আসছে। স্থানীয়রা মনে করছে পাহাড়ের মানুষ যদি নিজের ইচ্ছামতো ভোট প্রয়োগ করতে পারে তাহলে ভালো দলই জয় লাভ করবে। এবারের নির্বাচনে সেই ইচ্ছার প্রতিফলন ঘটনোই মনে হয় নৌকা ভোট বেশি পেয়েছে। তারা বলেন, শুধু দুর্গম হেলিসটি ২১ টি কেন্দ্রের কথা যদি আমরা বলি তাহলে এই একুশটি কেন্দ্রে নৌকা প্রচারণার সুযোগ পাইনি গত বার এবং এবারও। তার পরও দশম সংসদ নির্বাচেন অবৈধ অস্ত্রধারীদের চাপে ২১ টি কেন্দ্রের সব কয়টি ভোট পেয়েছে জেএসএস স্বতন্ত্র প্রার্থী ঊষাতন তালুকদার। ২১ টি কেন্দ্রে ভোট ছিলো প্রায় ১৯ হাজারো মতো। এর মধ্য দীপংকর তালুকদার পেয়েছে ১২৩ ভোট ঊষাতন তালুকদার পেয়েছে প্রায় ১৮ হাজার ভোট। একাদশ সংসদ নির্বাচনে আইন শৃঙ্খলা বাহিনী সজাগ থাকায় এবং প্রতিটি কেন্দ্রে সেনা মোতায়েন থাকায় ভোটাররা তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পেরেছে। হেলিসটি ২১ টি কেন্দ্রে মোট ভোটার ছিলো ২৮ হাজার ৭০৫ ভোট এর মধ্য ভোট পড়েছে ১৯ হাজার ২৭০ ভোট। এখানে স্বতন্ত্র প্রার্থী ঊষাতন তালূকদার পেয়েছেন ১২ হাজার ৫৪১ ভোট, দীপংকর তালুকদার পেয়েছে ৩ হাজার ৬৮৫ ভোট এবং মনি স্বপন দেওয়ান পেয়ে ৭৭৫ ভোট। এতে করে বোঝা যায় পাহাড়ের মানুষ ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারলে তাদের পছন্দের প্রার্থীকেই ভোট প্রয়োগ করবে।
নির্ভরযোগ্য একটি সুত্র জানায়, দুর্গম এই ২১টি কেন্দ্রের ভোটারা পড়েছে এখন রোষানলে। প্রতিনিয়ত তাদের উপর অত্যাচার নির্যাতন বেড়ে গেছে। নৌকায় কোন এতো বেশী ভোট পড়েছে তার জন্য তাদের উপর প্রতিনিয়ত চলছে চাপ আর চাপ। কেউ এ নিয়ে মুখ খুলতে পারছে না বলেও সাধারণ মানুষ বলেন। তাদের কাছে প্রতিক্রিয়া জানতে চাইলে তারা কিছুই বলতে পারছে না। শুধু বলে আমরা ভালো নেই।
অভিযোগ উঠেছে ভোটের আগের দিন তারা এসব এলাকা দখলে নেয়। এ জন্য প্রশাসনের প্রত্যক্ষ সহযোগিতা ছিল বলে অভিযোগ করেন স্বতন্ত্র প্রার্থী ও জেএসএস সহসভাপতি ঊষাতন তালুকদার। তিনি বলেন, সংস্কারপন্থীরা ভোট কেন্দ্রে অবস্থান নিয়ে ভোটারদের কাছ থেকে ব্যালট নিয়ে নৌকায় সিল মেরেছে এবং যেসব ভোটার সিংহ মার্কায় সিল মেরেছে সেসব ব্যালট পেপার ছিঁড়ে বাইরে ফেলে দেয়া হয়।এদিকে এতদিন জেএসএস সংস্কারদের সঙ্গে মূল ইউপিডিএফের মধ্যে বিরোধ চলমান থাকলেও মূল জেএসএসের সঙ্গে সংস্কারপন্থীদের কোনো সংঘাত ছিল না। অপর দিকে জেএসএস মূল দলের পক্ষ হয়ে প্রত্যক্ষভাবে কাজ করেছে অপর আঞ্চলিক দল ইউপিডিএফ। কিন্তু এ নির্বাচনে সংস্কারপন্থীরা জেএসএসের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে সরাসরি প্রতিপক্ষের পক্ষ হয়ে কাজ করায় বেশ ক্ষুব্ধ মূল জেএসএস। ভোটের দিনই মূল জেএসএস ও সংস্কারপন্থী জেএসএসের সংঘর্ষও হয়। অপহরণ হয় উভয় পক্ষের ৯ জন। এদের কাউকে ছেড়ে দেয়া হয়নি বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো।জেএসএস এমএন লামার গ্রুপের তথ্য ও প্রচার সম্পাদক সুধাকর ত্রিপুরা বলেন, একাদশ জাতীয় সংসদে আমরা চুক্তি বাস্তবায়নের স্বার্থে বর্তমান সরকারের পক্ষে কাজ করছি। আমরাতো দেখেছি গত ৫ বছর জেএসএস স্বতন্ত্র প্রার্থী সংসদে ছিলো কিন্তু কোন কাজ করতে পারেনি। সংসদ সদস্য শুধু নিজের আখের গুছিয়েছে। এমপি হিসাবে কোটি কোটি টাকা বরাদ্ধ পেলেও কোথাও কোন অনুদান প্রদান করেনি। বিভিন্ন এলাকায় প্রজেক্ট নিয়ে নিজেদের নেতা কর্মীদের দিয়েছে। তাই আমরা এবার নৌকার পক্ষে কাজ করছি। গ্রামের সাধারণ মানুষদেরকে বোঝাতে সক্ষম হয়েছি। তাই নৌকা বিপুল ভোটে জয় লাভ করেছে। তারই বলিদান হিসাবে আমাদের নেতাকর্মীদের হত্যা করেছে। আমরা এই হত্যাকান্ডের জন্য বাঘাইছড়ি উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান বড় ঋষিকে দায়ী করছি। ইতিমধ্যে নিহতের পরিবার থেকে মামলা দায়ের করা হয়েছে। আর এই হত্যাকান্ডের বিচার চাই।এদিকে ইউপিডিএফ প্রচার ও প্রকাশনা বিভাগের প্রধান নিরন চাকমা বলেন, এটি তাদের দলীয় কোন্দল। তারা নৌকার পক্ষে থেকে বিশাল অংকের টাকা নিয়েছে টাকা ভাগাভাগিতে তাদের মধ্যে হত্যাকান্ডের ঘটনা ঘটে। এখানে আমাদের কোন হাত নেই। তিনি বলেন, আমরা চুক্তির পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়নের পক্ষে কাজ করছি। আমাদের কোন অস্ত্রধারী সংগঠনেই। আমরা সামাজিক আন্দোলনে বিশ্বাস করি। তারা ভুল করেছে বলে আমরা ভুল করতে পারি না। আমরা আশা করি তারা ভুল বুঝতে পেরে সত্যের পথে চলে আসবে।

এই পোস্টটি শেয়ার করুন...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ ...
© All rights Reserved © 2020
Developed By Engineerbd.net
Engineerbd-Jowfhowo
Translate »