১৬ই অক্টোবর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ রাত ১:৪৩

রিক্সা চালিয়ে এক ছেলেকে ডাক্তার, দুই ছেলেকে বিসিএস বানিয়েছেন এই বাবা !

রিপোর্টার নাম
  • আপডেট টাইমঃ বুধবার, জানুয়ারি ২৩, ২০১৯,
  • 83 সংবাদটি পঠিক হয়েছে

আমাদের মৌলিক অধিকারের একটি হল শিক্ষা। রাষ্ট্রেরই দায়িত্ব তার নাগরিককে শিক্ষিত করে গড়ে তোলা। অথচ আমাদের সন্তানদের শিক্ষা ব্যবস্থার ব্যয়ভার প্রচুর।

এখানে একজন ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ারের পেছনে খরচ করতে হয় কাড়িকাড়ি টাকা। এমনই এক রাষ্ট্রে দরিদ্র পরিবারে জন্ম নেয়া সন্তানএকাডেমিক পড়াশুনার দৌড়ে কতটুকুই বা আগাতে পারে।

কিন্তু না, সন্তানদের জন্য দারিদ্রের শিকল ভেঙে ফেলেছেন এক পিতা।

সন্তানদের শিক্ষার জন্য, তাদের ভাগ্য বদলের জন্য প্রচুর পরিশ্রম করেছেন তিনি। রিক্সার প্যাডেল ঘুরিয়ে সন্তানদের ভাগ্য বদলে ফেলেছেন খুলনার আব্দুল খালেক শেখ (৮১)। নিজে রিক্সা চালিয়ে তাঁর সন্তানদের বানিয়েছেন বিসিএস ক্যাডার ও ডাক্তার।

আব্দুল খালেক শেখ, গ্রামের বাড়ি বাগেরহাটের কাঁঠাল গ্রামে। তবে স্বাধীনতার পর থেকে তিনি থাকেন খুলনায়। খুলনা শিপইয়ার্ডে বেশ কয়েক বছর চাকরি করেছেন। এখনও থাকেন সেই এলাকায়। তিন ছেলের বাবা তিনি। স্ত্রী ফাতেমা এক সময় খুলনার বন্ধ হয়ে যাওয়া দাদা ম্যাচ ফ্যাক্টরিতে কাজ করতেন।

সংসারের এমন অবস্থা যে, বলতে গেলে খাওয়াটাই ঠিক মত চলে না। সেখানে সন্তাদের পড়াশুনাতো পরের কথা। তবে ভেঙে পড়েননি আব্দুল খালেক। তিনি জানতেন, সন্তানদের শিক্ষিত করে গড়ে তুলতে পারলে ফিরে আসবে সুদিন। সেই আশাতেই ঘুড়িয়ে চলেছেন রিক্সার প্যাডেল। একে একে তিন ছেলেকে উচ্চ শিক্ষায় শিক্ষিত করেছেন।

বড় ছেলে টুটুল শেখ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অর্থনীতি বিষয়ে পড়াশোনা শেষ করে ৩৪তম বিসিএস দিয়ে গাইবান্ধা জেলায় কিছুদিন আগে চাকরিতে যোগ দিয়েছেন। মেজ ছেলে ইব্রাহিম শেখ খুলনার সরকারি বিএল কলেজ থেকে একই বিষয়ে পড়াশোনা করে ৩৬তম বিসিএস পাস

করে ঢাকায় আছেন। আর ছোট ছেলে সোহরাব শেখ খুলনা মেডিকেল কলেজ থেকে এমবিবিএস শেষ করে ইন্টার্ন করছেন। গাজী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে সার্জারি বিভাগে প্র্যাকটিসও করছেন।

আব্দুল খালেক বলেন, “নিজে শিক্ষিত হতে না পারলেও ছেলেদের পড়াশোনার সুযোগ থেকে বঞ্চিত করিনি। সংসার চালাতে কষ্ট হলেও ছেলেদের শিক্ষিত করতে প্রাণপণ চেষ্টা করেছি। তবে আমার একার চেষ্টায় নয় ছেলেদের প্রবল আগ্রহ আর মেধার কারণে তারা শিক্ষিত হতে পেরেছে।”

ছেলেদের কষ্টের কথা বলতে গিয়ে তিনি বলেন, “আমার একার আয়ে অনেক সময় পারতাম না।

তাই ওরা প্রাইভেট পড়িয়ে নিজেদের পড়ার খরচ যুগিয়েছে। সন্তানদের পড়াশোনায় স্ত্রী আমাকে সহযোগিতা করেছে।”

গর্বিত পিতা আব্দুল খালেককে তার জীবনের স্বার্থকতা কি জানতে চাইলে বলেন, “আমি মরে গেলে সবাই বলবে ওদের তো মানুষের মতো মানুষ করেছি।

আশা করছি ছেলেদের যেখানে পৌঁছে দিতে পেরেছি তাতে তাদের কাজের কারণে কেউ আমাকে গালি দিতে পারবে না।”ছেলেরা রিকশা চালাতে নিষেধ করে না জানতে চাইলে তিনি বলেন, “ছেলেরা রিকশা চালানো ছেড়ে দিতে চাপ দিচ্ছে। ওরা পুরোদমে বেতন পেলে ছেড়ে দিবো।”

এই পোস্টটি শেয়ার করুন...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ ...
© All rights Reserved © 2020
Developed By Engineerbd.net
Engineerbd-Jowfhowo
Translate »