২০শে এপ্রিল, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ সকাল ৬:৫৯

প্রশাসনের কঠোরতায় মাদক ও সন্ত্রাসের অভায়রণ্য উজিরপুর এখন শান্তিপ্রিয় জনপদ।।

রিপোর্টার নাম
  • আপডেট টাইমঃ মঙ্গলবার, এপ্রিল ১৬, ২০১৯,
  • 76 সংবাদটি পঠিক হয়েছে

নিকুঞ্জ বালা পলাশ :

এক সময়ে সন্ত্রাসের জনপদ হিসেবে খ্যাত নিষিদ্ধ ঘোষিত সর্বহারা অধ্যুষ্যিত বরিশালের উজিরপুর উপজেলা এখন অনেকটাই শান্তির জনপদে পরিনত হয়েছে। বিশাল আয়তনের এ উপজেলার যোগাযোগ ব্যাবস্থার উন্নয়ন ও পুলিশ প্রশাসনসহ স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতৃত্বের স্বদিচ্ছার কারনে মাদক ও সন্ত্রাস নির্মূল করার কাজটি সম্ভব হয়েছে বলে মনে করছেন উপজেলার বিভিন্ন শ্রেনী পেশার মানুষ। ইতিপূর্বে উপজেলার বিভিন্ন হাটবাজার-অলিগলিতে ফেন্সিডিল ইয়াবা ও হেরোইনসহ বিভিন্ন মাদকের ছড়াছড়ি থাকলেও বর্তমানে সহজে মিলছে না এ মাদক। মাদকের সহজলভ্যতায় এক সময়ে স্কুল কলেজের শিক্ষার্থিসহ তরুন সমাজ বিপদগ্রস্থ্য হয়ে পরেছিলো। তবে সে অবস্থার উত্তরন হয়েছে পুলিশ প্রশাসনের সদিচ্ছার কারনেনেই। বিশেষ করে বরিশাল রেঞ্জ ডিআইজি মো : শফিকুল ইসলাম বিপিএম ও জেলা পুলিশ সুপার মো : সাইফুল ইসলাম বিপিএম এর কঠোর নির্দেশনা ও উজিরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শিশির কুমার পালের ঐকান্তিক প্রচেষ্ঠার ফসল হিসেবে সন্ত্রাস ও মাদকের ছড়াছরির উজিরপু এখন অনেকটাই মাদক ও সন্ত্রাস মুক্ত উজিরপুরে পরিনত হয়েছে। উজিরপুরের বিভিন্ন এলাকায় খোজ নিয়ে জানা গেছে, মাদকের স্বর্গরাজ্য গুঠিয়া, ওটরা, সাতলা, হারতা, জল্লা, রবারোঠা ও বামরাইল এখন অনেকটাই মাদকমুক্ত এলাকায় পরিনত হয়েছে। ইতিপূর্বে উল্লেখিত এলাকায় হাত বাড়ালেই মাদক মিললেও বর্তমানে এসব এলাকায় মাদক অনেকটা দূর্লভ বস্তুতে পরিনত হয়েছে।  বিশেষ করে  পুলিশের কঠোর মনোভাব ও একের পর এক মাদক বিরোধী অভিযানের কারনেই উজিরপুর উপজেলায় মাদক বিক্রেতা ও মাদক সেবীরা অনেকেই স্বাভাবিক জীবনে ফিওে এসেছে। যারা স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসেনি মামলা ও পুলিশের অভিযানের কারনে তারা অনেকটা গা ঢাকা দিয়েছে। এছাড়া মদক বিক্রিতে বাধা দেওয়ায় জল্লা ইউপি চেয়ারম্যান বিশ^জিৎ হালদার নান্টু নিহত হওয়ার ঘটনায় উত্তপ্ত জল্লা এখন অনেকটাই শান্ত। হত্যাকারীদের চিহ্নিত করে আইনের আওয়াতায় আনা ও মুল হত্যাকারী পুলিশেল ক্রস ফায়ারে নিহত হওয়ার পর পুলিশের উপর আস্তা ফিরে পায় সকল শ্রেনী পেশার মানুষ। এর পুরো কৃতিত্ব  জেলা পুলিশ সুপার সাইফুল ইসলাম ও উজিরপুর মড়েল থানার ওসি শিশির কুমার পালেরই। চেয়ারম্যান নান্টু হত্যাকান্ডের পর এ দুই পুলিশ কর্মকর্তার কঠোর পরিশ্রম ও প্রচেষ্ঠায় আসামীরা গ্রেফতার হয়েছে। এছাড়া সম্প্রতি সময়ে অনুষ্ঠিত উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে পুলিশ প্রশাসনের কঠোরতায় আইনশৃংখলা পরিস্থিতির কোন অবনতি হয়নি। ইতিপূর্বে যেসব নির্বাচন হয়েছে প্রতিটি নির্বাচনে সহিংস ঘটনা ঘটলেও এবার ছিলো তার ভিন্নরুপ। নির্বাচনে তৃ-মুখি সংঘাতের আশংকার মধ্য দিয়ে শান্তিপূর্ন পরিবেশে নির্বাচন সম্পন্ন উজিরপুরের একটি নজিরবিহীন ঘটনা। বর্তমানে ধান কাটার মৌসুম। উপজেলার বিভিন্ন স্থানে উত্তেজনা থাকলেও কঠোরভাবে আইনশৃংখলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে রাখছেন ওসি শিশির কুমার পাল। এছাড়া জমি সংক্রান্ত বিষয়গুলো নিজেই তদারকি করে অসহায় মানুষের ও ন্যায়ের পক্ষে কাজ করছেন তিনি। বড় ধরনের কোন অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটার আগেই উভয় পক্ষকে ডেকে বিরোধীয় বিষয়গুলো নিস্পত্তি করে আইনশৃংখলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে রাখছেন। এক সময়ের সন্ত্রাসের জনপদগুলোতে পুলিশের ব্যাপক নজদারী বৃদ্ধি করায় উজিরপুরের বিভিন্ন এলাকা এখন অনেকটাই সন্ত্রাসমুক্ত। ফলে চুরি-ডাকাতি-রাহাজানি ও ছিনতাইয়ের ঘটনা নেই বললেই চলে। এ বিষয়ে উজিরপুর উপজেলা যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক খায়রুল বাশার লিটন বলেন,গুঠিয়া, জল্লা সাতলা ও ওটরাসহ বিভিন্ন এলাকা সন্ত্রাস ও মাদকের জনপদে পরিনত হয়েছিলো। কিন্তু বর্তমান ওসি শিশির কুমার পাল উজিরপুরে যোগদানের পর উজিরপুরের সেই চিত্র অনেকটাই পাল্টে গেছে। এখন চাইলেই কেউ মাদক পাচ্ছে না। ফলে মাদক সেবীরাই এখন বেকায়দায় পরেছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক উজিরপুরের এক সিনিয়র সাংবাদিক জানান, ইতিপূর্বে উজিরপুর থানায় অনেক ওসিই দেখেছি, মাদক নির্মূলে কেউ প্রত্যক্ষ ও আন্তরিকভাবে কাজ করেনি যা বর্তমান ওসি শিশির কুমার পাল করছেন। ওসির প্রচেষ্ঠায় উজিরপুরে মাদক অনেকটাই কমে এসেছে, তবে পরোটা নির্মূল হয়নি। তবে মাদক ও সন্ত্রাস যতটুকুই নির্মূল ও নিয়ন্ত্রন করা হয়েছে এতো বেশি তিনি আশা করেননি। এজন্য তিনি উজিরপুরের সাধারন মানুষের পক্ষ থেকে তাকে ধন্যবাদ জানান।

এ বিষয়ে উজিরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শিশির কুমার পাল বলেন, তিনি ২০১৮ সালের এ মার্চ উজিরপুর থানায় ওসি হিসেবে যোগদান করেছেন। এখানে যোগদানের পর  তিনি শুধু উর্দ্ধতন কর্মকর্তাদের নির্দেশ পালন করেছেন। উজিরপুরের মাদক ও সন্ত্রাস দমনে তার কৃতিত্ব নেই, পুরো কৃতিত্ব রেঞ্জ ডিআইজি ও পুলিশ সুপার স্যারের। তাদের নিয়মিত দিক নির্দেশনা মোতাবেক কাজ করে যাচ্ছেন তিনি। তবে মাঠ পর্যায়ে যেসব পুলিশ সদস্য রয়েছেন প্রত্যেকেই আন্তরিকভাবে কাজ করায় উজিরপুরের সন্ত্রাস ও মাদক নিয়ন্ত্রনের মধ্যে রয়েছে। মাদক ও সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে তাদের এ অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে জানান তিনি। তবে মাদক ও সন্ত্রাস দমনের ক্ষেত্রে সকলের সহযোগীতা কামনা করেন এ পুলিশ কর্মকর্তা।

এ বিষয়ে উজিরপুর উপজেলা পরিষদের নব নির্বাচিত চেয়ারম্যান আব্দুল মজিদ সিকদার বাচ্চু বলেন, উজিরপুরে যারা মাদক বিক্রেতা ও সন্ত্রাসী কর্মকান্ডর সাথে জড়িত রয়েছে আমরা তাদের ভালো করেই চিনি। এখন থেকে তারা হয় স্বাভাবিক জীবনে ফিরে যাবে নতুবা এলাকা ছেড়ে পালাবে। তাদের দেখা মাত্রই প্রশাসনের হাতে তুলে দেওয়া হবে। তিনি বলেন, উজিরপুরের মানুষ শান্তিপ্রিয় মানুষ। তারা সন্ত্রাস ও মাদককে ঘৃনা করে। তাই এলাকার শান্তি শৃংখলা রক্ষায় সন্ত্রাস ও মাদকের বিরুদ্ধে কাজ করে যাবেন বলে জানান এ জন প্রতিনিধি।

এ বিষয়ে বরিশাল জেলা পুলিশ সুপার মো : সাইফুল ইসলাম বিপিএম বলেন, মাদক ও সন্ত্রাস নিয়ন্ত্রনে রেঞ্জ ডিআইজি স্যারের নির্দেশনা মোতাবেক কাজ করছেন তিনি। বরিশালে যোগদানের পর তিনি মাদক ও সন্ত্রাস দমনে প্রতিটি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের কঠোর নির্দেশনা দিয়েছেন। তিনি বলেন, আজকের যুব সমাজই আগামী দিনের পথ প্রদর্শকের ভূমিকায় থাকবে। তাই আমাদের ভবিষ্যত প্রজন্মকে রক্ষায় সন্ত্রাস ও মাদকের সাথে কোন আপোষ হতে পারে না। তিনি বলেন, পুলিশের কঠোরতায় বরিশালের প্রতিটি উপজেলায় এখন মাদকের ছড়াছড়ি আগের মতো নেই। হাত বাড়ালেই মাদক মিলছে না। এমনকি মাদক বিক্রেতা ও সেবীর সংখ্যাও কমে গেছে। যে কারনে বিভিন্ন উপজেলায় মাদক এখন দূর্লভ বস্তুতে পরিনত হয়েছে। তিনি প্রতিটি পরিবারের অভিভাবককে তার প্রাপ্ত বয়স্ক সন্তানের গতি বিধির দিকে লক্ষ্য রাখার অনুরোধ জানান। তিনি বলেন, শুধু প্রশাসনের পক্ষে মাদক নির্মূল সম্ভব নয়, এ ক্ষেত্রে প্রতিটি পরিবারের অভিভাবক ও জন প্রতিনিধিদেরও সদিচ্ছা প্রয়োজন। 

এ বিষয়ে বরিশাল রেঞ্জ ডিআইজি মো : শফিকুল ইসলাম বিপিএম বলেন, তিনি বরিশালে রেঞ্জ ডিআইজি হিসেবে যোগদানের পর থেকেই রাজশাহীর মতো বরিশালেও মাদকের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছেন। তিনি মাদক বিক্রেতা ও সেবীদের স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে দিতে নানান উদ্যোগ নিয়েছেন। ইতিমধ্যে তিনি ২৭৫ জন মাদক সেবীকে মাদক নিরাময় কেন্দ্রে ভর্তি করে চিকিৎসা শেষে স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে দিয়েছেন। এখন তারা আর মাদক সেবন করছে না। এছাড়া বরিশাল রেঞ্চের ৮ শতাধিক মাদক বিক্রেতাকে স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে দিয়েছেন যারা বিভিন্ন কর্মসংস্থানের মাধ্যমে রোজগার করে পরিবার পরিজন নিয়ে শান্তিতে বসবাস করছে। তিনি বলেন মাদকের বিরুদ্ধে পুলিশের কঠোর মনোভাবের কারনে মাদক বিক্রেতা ও সেবীরা স্বাভাকিব জীবনে ফিরে আসতে বাধ্য হচ্ছে। যারা স্বাভাবিক জীবনে আসছে না তাদের বিরুদ্ধে মামলা ও গ্রেফতার করা হচ্ছে। এ কারনে বরিশালে মাদক বিক্রেতা ও সেবীর সংখ্যা কমে আসছে। ফলে চাইলেই এখন মাদক মিলছে না। পুলিশের এ অভিযান অব্যাহত থাকবে বলেও জানান তিনি।

এই পোস্টটি শেয়ার করুন...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ ...
© All rights Reserved © 2020
Developed By Engineerbd.net
Engineerbd-Jowfhowo
Translate »