২৭শে সেপ্টেম্বর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ রাত ৮:০৫
ব্রেকিং নিউজঃ

নুসরাতকে হত্যার কথা স্বীকার অধ্যক্ষ সিরাজের

রিপোর্টার নাম
  • আপডেট টাইমঃ রবিবার, এপ্রিল ২৮, ২০১৯,
  • 89 সংবাদটি পঠিক হয়েছে

মামলা প্রত্যাহার না করলে নুসরাতকে হত্যা করতে নির্দেশ দেন প্রধান আসামি অধ্যক্ষ সিরাজ-উদ-দৌলা। তিনি আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। রবিবার দুপুরে ফেনীর সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট জাকির হোসেনের আদালতে তাকে হাজির করা হয়। রাত ৮টা ৫০ মিনিটে তার জবানবন্দি রেকর্ড শেষ হয়।

পরে সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে পিবিআই চট্টগ্রাম বিভাগের বিশেষ পুলিশ সুপার মো: ইকবাল জানিয়েছেন, সিরাজ আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। উক্ত জবানবন্দিতে তিনি রাফীকে শ্লীলতাহানির চেষ্টার ঘটনায় দায়েরকৃত মামলা তুলে নিতে পরিবারকে হুমকি দিয়ে কাজ না হলে পুড়িয়ে হত্যা করে তা আত্নহত্যা বলে চালিয়ে দিতে কারাগারে দেখা করতে যাওয়া নুর উদ্দিন ও শাহাদাত হোসেন শামীমকে নির্দেশ দেন।

এসময় তিনি আরো বলেন, জবানবন্দিতে সিরাজ এ হত্যার বিষয়ে আরো চাঞ্চল্যকর কিছু তথ্য দিয়েছেন। কিন্তু মামলার তদন্তের স্বার্থে তা এখন বলা যাচ্ছে না। এর আগে ২৭ মার্চ নিজ কক্ষে ডেকে রাফীকে শ্লীলতাহানির চেষ্টার অভিযোগে দায়েরকৃত মামলায় সিরাজকে গ্রেফতার করে পুলিশ। ৬ এপ্রিল রাফীকে পুড়িয়ে হত্যার ঘটনায় ৯ এপ্রিল রাফীর ভাই মাহমুদুল হাসান নোমানের দায়ের করা মামলায় ১ নম্বর আসামি করা হয় সিরাজকে।

১০ এপ্রিল সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট শরাফ উদ্দিনের আদালতে তাকে হাজির করে ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন করলে আদালত ৭ দিনের রিমান্ড দেন। এ ঘটনায় গ্রেফতারকৃত আসামি নুর উদ্দিন ও শাহাদাত হোসেন শামীম ১৬৪ ধারায় ১৫ এপ্রিল ফেনীর সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ জাকির হোসেনের আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। দীর্ঘ ৯ ঘণ্টা ধরে এই জবানবন্দি রেকর্ড করা হয়।

জবানবন্দিতে নুর উদ্দিন জানান, গত ৩ ও ৪ এপ্রিল সিরাজের সঙ্গে ফেনী কারাগারে দেখা করেন। সেখানে শামীম, জাবেদ হোসেন, হাফেজ আবদুল কাদেরসহ আরও কয়েকজন ছিলো। তারা ‘আলেম সমাজকে হেয় করায় রাফীকে একটি কঠিন সাজা দেওয়ার জন্য সিরাজের হুকুম চায়। এই সময় শামীম নুসরাতকে পুড়িয়ে মারার প্রস্তাব দিলে এ প্রস্তাবে সায় দিয়ে সিরাজ নির্দেশনা দিয়ে বলেন, ‘তোমরা কিছু একটা করো।’ একইসঙ্গে সিরাজ এ নিয়ে ‘বেশ কিছু গোপন টিপস’ দেন বলে জবানবন্দিতে উল্লেখ করেন নুর উদ্দিন।

নুর উদ্দিন আরও জানায়, সিরাজের নির্দেশনা পাওয়ার পর গত ৫ এপ্রিল, শামীম, জাবেদ হোসেন ও হাফেজ আবদুল কাদেরসহ আরও কয়েকজন মাদ্রাসার পাশের পশ্চিম হোস্টেলে বৈঠকে বসে। সেই বৈঠকে নুসরাতকে আগুনে পুড়িয়ে মারার ব্যাপারে চূড়ান্ত পরিকল্পনা নেওয়া হয়, যা ৬ এপ্রিল বাস্তবায়ন করা হয়।

এ মামলায় এজাহারভূক্ত ৮ আসামিসহ মোট ২৩ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গ্রেফতারকৃত আসামিদের মধ্যে নুর উদ্দিন, শাহাদাত হোসেন শামীম, আবদুর রহিম শরিফ, হাফেজ আবদুল কাদের, উম্মে সুলতানা পপি, কামরুন্নাহার মনি, জাবেদ হোসেন ও জোবায়ের আহম্মদ আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছেন।

এই পোস্টটি শেয়ার করুন...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ ...
© All rights Reserved © 2020
Developed By Engineerbd.net
Engineerbd-Jowfhowo
Translate »