২৮শে সেপ্টেম্বর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ ভোর ৫:০৮
ব্রেকিং নিউজঃ

সাকিব-মুশফিকরা যে উদারতা দেখাতে পারেননি, সেটাই করে দেখালেন পাহাড়ি মেয়ে মণিকা

রিপোর্টার নাম
  • আপডেট টাইমঃ শুক্রবার, মে ৩, ২০১৯,
  • 97 সংবাদটি পঠিক হয়েছে

ডেস্ক রিপোর্ট : বঙ্গমাতা আন্তর্জাতিক নারী গোল্ডকাপ ফুটবলের ফাইনালে উঠে গেছে বাংলাদেশের মেয়েরা। সেমিফাইনালে মঙ্গোলিয়াকে ৩-০ গোলে হারিয়ে ফাইনালের টিকিট নিশ্চিত করেছে মৌসুমীরা। গতকালের ওই ম্যাচে বাংলাদেশের ত্রানকর্তা ছিলেন এক পাহাড়ি কন্যা মণিকা চাকমা। একটি গোল নিজে করে এবং সতীর্থকে দিয়ে আরেকটি করিয়ে ম্যাচের নায়ক ছিলেন তিনিই। এরপর ম্যাচসেরার পুরস্কার পাওয়ার পর দেখিয়েছেন অভিনব বদান্যতা। যা দেখে খুব সুন্দর একটি স্ট্যাটাস লিখেছেন বিশিষ্ট সাংবাদিক, দৈনিক প্রথম আলোর সহকারী সম্পাদক কাজী আলিম উজ জামান।

মণিকা চাকমাকে নিয়ে তার লেখা স্ট্যাটাসটি হুবহু তুলে ধরা হলো আমাদের পাঠকদের জন্য।

মণিকা চাকমা একটি গোল করেছেন। ম্যাচসেরাও হয়েছেন। পেনাল্টি আর্কের ওপর থেকে দুর্দান্ত ভলিতে গোল করে গ্যালারির দর্শকদের আনন্দ ভাসিয়েছেন। দ্বিতীয়ার্ধে সতীর্থ মার্জিয়া আক্তারকে দিয়েও করিয়েছেন একটি গোল। প্রাইজমানি পেয়েছেন ৫০০ ডলার। টাকার হিসাবে ৪৩ হাজার টাকার মতো।

এই টাকাটা তাঁর একার। কিন্তু তিনি একা নেবেন না। কি বলেছেন জানেন? বলেছেন, সতীর্থরা যদি বল না দিত তাহলে তো গোল করতে পারতেন না। সবাই মিলে খেলেছেন বলেই তো শক্তিশালী মঙ্গোলিয়াকে হারাতে পেরেছেন। তাই টাকাটা টিমমেট সবাইকে কিছু কিছু দেবেন।

সকাল থেকে মনিকা চাকমার কথাটা ভাবছি। এ রকমও হয়? কখনও তো শুনিনি। কখনও শুনিনি সাকিব, মাশরাফি, মুশফিকরা ম্যান অব দ্য ম্যাচের টাকা সতীর্থদের মধ্যে ভাগ করে দেওয়ার কথা বলেছেন। দিয়ে থাকলে ভালো। কিন্তু শুনিনি। জানি তুলনা করা ঠিক হবে না। অনেকে হয়তো খেপেও যাবেন। কিন্তু তুলনাটা আসা কি অন্যায়?

ন্যায়-অন্যায়ের প্রশ্ন পাশে সরিয়ে রেখে একটা কথাই বলা যায়, মণিকা চাকমা অনেক বড় মনের পরিচয় দিয়েছেন। সত্যিকারের নেতার পরিচয় দিয়েছেন। আমরা সবাই যখন নিজের ভাবনায় ডুবে আছি, ঠিক তখন মণিকা দেখিয়েছেন, রাস্তার মোড়ে যখন কেউ কোনো বৃক্ষ রোপণ করে, আর সেই বৃক্ষটা যখন বড় হয়, তখন যিনি বৃক্ষটা রোপণ করেছিলেন তিনি একা নন, সবাই সেই ছায়ার নিচে দাঁড়িয়ে শ্রান্তি দূর করতে পারে।

একই সঙ্গে এটা মাথায় আসছে যে বাংলাদেশ নারী ফুটবল দলে আরও পাহাড়ি মেয়ে নেওয়া যায় কি না। কারণ এই মেয়েরা বেশি পরিশ্রমী ও অনমনীয় মানসিকতার হয়, বাঙ্গালী মেয়েদের চেয়ে। কথাটা এক ধরণের সরলীকরণ হলেও অসত্য কি?
কাজী আলিম-উজ-জামান এর ফেসবুক স্ট্যাটাস থেকে

এই পোস্টটি শেয়ার করুন...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ ...
© All rights Reserved © 2020
Developed By Engineerbd.net
Engineerbd-Jowfhowo
Translate »