২৮শে সেপ্টেম্বর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ ভোর ৫:০২
ব্রেকিং নিউজঃ

ভগবান রাম আমার শিরায় শিরায়, দিদি ঘাবড়ে গেলেন কেন, প্রশ্ন মোদীর

রিপোর্টার নাম
  • আপডেট টাইমঃ সোমবার, মে ৬, ২০১৯,
  • 95 সংবাদটি পঠিক হয়েছে

কলকাতা: দিদি এতটাই ঘাবড়ে গিয়েছেন যে এখন ভগবানের নাম শুনতে পারছেন না৷ ভগবানের নামও তাঁর কানে খারাপ লাগে৷ হলদিয়ার নির্বাচনী প্রচার মঞ্চ থেকে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে তীব্র আক্রমণ শাণালেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী৷ সোমবার ওই মঞ্চ থেকে মোদী বলে চলেন, জয় শ্রী রাম বলা যাবে না! যারা জয় শ্রী রাম বলেছেন, দিদি তাঁদের গ্রেফতার করিয়েছেন৷ জেলে পুরেছেন৷ পশ্চিমবঙ্গে মানুষের পুজো করার ক্ষমতা নেই! কোনও উৎসব পালন করার অধিকার নেই৷

মোদীর এই অভিযোগের প্রেক্ষাপট রচিত হয়েছিল কয়েকদিন আগে৷ রাজ্য সড়ক ধরে চলছিল মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের গাড়ি৷ চন্দ্রকোণায় থামলেন৷ কারণ তিনি কানে কিছু শুনেছেন৷ প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য, কিছু মানুষ রাস্তার ধারে দাঁড়িয়ে ‘‘জয় শ্রীরাম’’ ধ্বনি দিচ্ছিলেন৷ গাড়ি থেকে নেমে মুখ্যমন্ত্রী বলতে থাকেন ‘‘পালাচ্ছিস কেন, আয় আয়৷ পালিচ্ছিস কেন? হরিদাস সব …৷ যারা স্লোগান দিচ্ছিলেন, ততক্ষণে পালিয়ে গিয়েছে৷ মুখ্যমন্ত্রীকে রাস্তায় দেখে প্রত্যক্ষদর্শীরা জোরহাত করেছেন৷

২১ সেকেন্ডের এই ভিডিওটি ভাইরাল হয়ে যায়৷ শনিবার ওই ঘটনার পর বিজেপির নেতারা নিজেদের স্যোশাল মিডিয়া পেজে ওই ভিডিও শেয়ার করেন৷ লিখে দেন নানান মন্তব্য৷ ফেসবুক এবং হোয়াটস্ অ্যাপের মাধ্যমে আম জনতার কাছে পৌছে যায় ওই ভিডিও৷ রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সঙ্ঘের দক্ষিণবঙ্গ শাখার তরফ থেকে এক মুখপাত্র সাফ জানান, এই কাজ একজন মুখ্যমন্ত্রী করতে পারেন তা না দেখলে বিশ্বাস করা যায় না৷ উনি কেনও কাজই ঠিক করে করে উঠতে পারছেন না৷ তাই হতাশা বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে৷

এদিন ঝাড়গ্রামের অন্য একটি একটি সভায় মোদী বলেন, ‘‘ভগবান রাম আমার শিরায় শিরায় রয়েছেন৷ রাবণকে হারিয়ে লঙ্কা জয় করে ভগবান রাম ভ্রাতা লক্ষণকে বলেছেন, এই সোনার লঙ্কা চাই না৷ মা, জন্মভূমি আমার কাছে স্বর্গ৷’’ মোদী আরও বলেন, ‘‘ভগবান রামই আমার প্ররণা, আমার প্রজ্ঞা৷’’

বিশেষজ্ঞদের মতে, পশ্চিম মেদিনীপুরের চন্দ্রকোণায় যে অঞ্চলে ঘটনাটি ঘটেছে সেখানে বিজেপির সংগঠন বেশ শক্ত তা পঞ্চায়েত নির্বাচনের পরই বোঝা গিয়েছিল৷ পশ্চিম মেদিনীপুরেই রাজ্য বিজেপির সভাপতি দিলীপ ঘোষের পৈত্রিক বাড়ি৷ এই জেলা থেকেই তিনি বিধায়ক হয়েছেন৷ জঙ্গলমহলের বিজেপির শক্ত অবস্থানের খবর রাখেন মমতাও৷ তিনি ইতিমধ্যেই কিছু নেতৃত্বের পরিবর্তন করেছেন৷’’

তবে মুখ্যমন্ত্রীকে শুনিয়ে জয় শ্রী রাম ধ্বনী তাকে অযথা উত্তেজিত করার প্রচেষ্ঠা বলেও মনে করছে রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা৷ স্বাভাবিকভাবেই বিজেপি মমতার ওই আচরণ থেকে রাজনৈতিক ফায়দা তুবে তা মনে করছে রাজনৈতিক মহল৷ বিজেপির বক্তব্য, মুখ্যমন্ত্রী অযথা উত্তেজিত হলেন কেন? জয় শ্রী রাম ধ্বনী – বলা তী অপরাধ? মুখ্যমন্ত্রী গাড়ি থেকে নেমে তাদের সঙ্গে গলা মেলাতে পারতেন৷ তাঁকে দেখে সাধারণ মানুষ কেন পালালেন? প্রচারে বিজেপি বলতে শুরু করেছে, ‘‘সাধারণ মানুষ মুখ্যমন্ত্রীর কনভয়ের পাশে এমন কাজ করার সাহস পাচ্ছেন৷ এই থেকে অনুমান করা কঠিন নয় যে মানুষের মনে অসন্তোষ রয়েছে৷ সুযোগ পেলেই সেই অসন্তোষ বাইরে বেরিয়ে পড়ছে৷ মানুষ শাসকদলের নেতাদের এখন ভয় পাচ্ছে না৷ ’’

মোদী সোমবার জনসভায় বলেছেন, দিদি গণতন্ত্রকে ভয় পাচ্চেন৷ রাজ্যের মানুষের উপর দিদির চমকি-ধমকি চলবে না৷ এখন জনতার চমকি ধমকি চলবে৷ যদি দিদি মানুষের রায়কে ভয় পান তবে এই ভয় ভালো, দিদি যদি গণতন্ত্রকে ভালোবাসেন তবে এই ভয় ভলো৷ ‘‘দিদি বুঝে গিয়েছেন, তিনি ১০টি আসন পর্যন্ত পৌছবেন না৷’’

এই পোস্টটি শেয়ার করুন...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ ...
© All rights Reserved © 2020
Developed By Engineerbd.net
Engineerbd-Jowfhowo
Translate »