২৭শে সেপ্টেম্বর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ সন্ধ্যা ৬:৫৮
ব্রেকিং নিউজঃ

‘জননী আমার তুমি, পৃথিবী আমার’

রিপোর্টার নাম
  • আপডেট টাইমঃ রবিবার, মে ১২, ২০১৯,
  • 298 সংবাদটি পঠিক হয়েছে

ত্রি-ভুবনের সবচেয়ে মধুরতম শব্দ ‘মা’। এই ছোট্ট নামেই সব মমতার মধু মাখা। মা নামটি উচ্চারণের সঙ্গে সঙ্গে হৃদয়ের অতল গহীনে যে আবেগ ও অনুভূতি রচিত হয়, তাতে অনাবিল সুখের আবেশ নেমে আসে। প্রতিক্ষণ-প্রতিদিন নিজেকে বিলিয়ে দিয়ে সন্তানদের পৃথিবীতে চলার যোগ্য করে দেন যিনি, সেই নমস্য ‘মা’কে বছরে একটি দিন বিশেষভাবে মাতৃ ভক্তরা পালন করেন।

মে মাসের দ্বিতীয় রবিবার আজ বিশ্ব মা দিবস। মাতৃ অন্তঃপ্রাণ সন্তানরা ‘জননী আমার তুমি, পৃথিবী আমার, মধুর আমার মায়ের হাসি চাঁদের মুখে ঝরে-এই কথাটুকুন প্রমাণে প্রাণের সবটুকু ভালোবাসা ঢেলে দিতে বহুমাত্রিক চেষ্টা করেন।’ তোমার তুলনা তুমিই ‘মা’ এই প্রতিপাদ্যে মা দিবস পালন নিয়ে উইকিপিডিয়া তুলে ধরেছে দুইটি ইতিহাস।

‘মা দিবসের’ প্রচলন শুরু হয় প্রথম প্রাচীন গ্রীসে। সেখানে প্রতি বসন্তকালে একটি দিন দেবতাদের মা ‘রিয়া’ যিনি ক্রোনাসের সহধর্মিণী তার উদ্দেশে উদযাপন করা হতো। ষোড়শ শতাব্দী থেকে এই দিনটি যুক্তরাজ্যেও উদযাপন করা হতো ‘মাদারিং সানডে’ হিসেবে। অপর ইতিহাস হলো- সর্ব প্রথম ১৯১১ সালের মে মাসের দ্বিতীয় রবিবার আমেরিকাজুড়ে ‘মাদারিং সানডে’ নামে একটি বিশেষ দিন উদযাপন করা হয়। ১৯১৪ সালে আমেরিকার প্রেসিডেন্ট উড্রো উইলসন দিবসটিকে রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি দেন। এরপর দেশে দেশে মা দিবসটি পালনের রেওয়াজ ছড়িয়ে পড়ে।

পৃথিবীর সব দেশেই এই মা শব্দটিই কেবল সর্বজনীন। মা প্রথম কথা বলা শেখান বলেই মায়ের ভাষা হয় মাতৃভাষা। মা হচ্ছেন মমতা-নিরাপত্তা-অস্তিত্ব, নিশ্চয়তা ও আশ্রয়। মা সন্তানের অভিভাবক, পরিচালক, দার্শনিক, শ্রেষ্ঠ শিক্ষক ও বড় বন্ধু।

সনাতন হিন্দু ধর্মে মায়ের স্থান সব থেকে অনেক উঁচুতে। মনুসংহিতার শ্লোকে আছে: উপাধ্যায়ান্ দশাচার্য্য আচার্য্যণাং শতং পিতা। সহস্রন্ত্ত পিতৃন্মাতা গৌরবেণাতিরিচ্যত ” ভূমে গরীয়সী মাতাঃ ”
মাতার স্থান উঁচুতে।
মাতা জননী ধরিত্রী, দয়াদ্র হৃদয়া সতী। দেবীভ্যো রমণী শ্রেষ্ঠা নির্দ্দোশা সর্ব দুঃখ হারা।।
শাস্ত্রে বলা হয়েছে পিতার চাইতে মাতার স্থান সহস্র গুন উচ্চে।
” সহস্রং তু পিতৃম্মাতা গৌরবেণাতিরিচ্যতে ” (মনুস্মৃতি ২।১৪৫)

খ্রিষ্ট ধর্মেও মায়ের মর্যাদা উঁচু স্তরে। বৌদ্ধ ধর্মেও মা সব কিছুর ঊর্ধ্বে। অথচ মা দিবসের নামে এই মাকেও পাশ্চাত্য বেনিয়ারা বাণিজ্য লক্ষ্মী বানিয়েছে। মাকে শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা জানাতে নির্দিষ্ট দিন চালু করেছে তারা।

মাকে মহান আল্লাহ তা’য়ালা স্বীয় রাসুলে পাক সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়া সালামের পরে সর্বোচ্চ আসন দিয়েছেন। পবিত্র আল কোরআনে বলা হয়েছে, ‘তোমার প্রতিপালক আদেশ দিয়েছেন, তিনি ব্যতীত অন্য কারও ইবাদত না করতে এবং মাতা-পিতার সঙ্গে সদ্ব্যবহার করতে। তাঁদের একজন অথবা উভয়ে তোমার জীবদ্দশায় বার্ধক্যে উপনীত হলে তাঁদের ‘উফ্’ বলবে না এবং তাঁদের ধমক দেবে না; তাঁদের সঙ্গে সম্মানসূচক কথা বলবে। মমতাবশে তাঁদের প্রতি নম্রতার ডানা প্রসারিত করো এবং বলো, ‘হে আমার প্রতিপালক! তাঁদের প্রতি দয়া করো, যেভাবে শৈশবে তাঁরা আমাকে প্রতিপালন করেছেন।’ (সুরা ইসরা-বনি ইসরাইল, ২৩-২৪)। রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘সন্তানের জান্নাত মায়ের পদতলে।’


এই পোস্টটি শেয়ার করুন...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ ...
© All rights Reserved © 2020
Developed By Engineerbd.net
Engineerbd-Jowfhowo
Translate »