২৫শে জানুয়ারি, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ রাত ৪:৩৩

বেদনার জাত ধর্ম নেই বন্ধ হোক ধর্মের নামে মানবহত্যা

রিপোর্টার নাম
  • আপডেট টাইমঃ সোমবার, মে ১৩, ২০১৯,
  • 117 সংবাদটি পঠিক হয়েছে

হামলাকারীর ৯ জনের একজন নারী, রয়েছে যুক্তরাজ্য-অস্ট্রেলিয়া থেকে ডিগ্রিধারীও
প্রথাপের তরুণ এক পরিবার, পরিবারের মধ্যে তার স্ত্রী আনিস্তি ন্যাপোলিওন এবং তার ৭ বছরের মেয়ে আন্দ্রিনা এবং ১ বছর বয়সী আব্রিনা। এটাই ছিল দক্ষিণ এশিয়ার দেশটির ইস্টার সানডের আগের জগত। পরিবারটি সচারাচর সেন্ট অ্যান্থনি গির্জায় যেতেন না, ইস্টার সানডে উপলক্ষে হাজার হাজার ধর্মানুরাগীদের সঙ্গে সে দিন তারাও গির্জায় যান প্রার্থনা করতে। দুর্ভাগ্যও তাদের সঙ্গেই ছিল, আত্মঘাতী হামলাকারীও তাদের পাশাপাশি গির্জায় উপস্থিত ছিল। আচমকা বিকট শব্দে এশিয়ার ছোট্ট দেশটির ক্ষুদ্র এক পরিবার বিভক্ত হয়ে গেল নিমিষেই।

বিস্ফোরণের পরে স্বজনরা প্রথাপের পরিবারকে খুঁজতে হন্য হয়ে স্থানীয় হাসপাতাল, মর্গ এবং শেষমেশ গির্জায় উপস্থিত হলো। সেখানেই নিষ্পাপ দুই কন্যাসহ পরিবারের খণ্ডিত মৃতদেহের সন্ধান পায় প্রিয় স্বজনেরা। এই পরিবারের ঘনিষ্ঠ এক মুসলিম বন্ধু ফজল হানিফা নিষ্ঠুর এই হামলার নিন্দা জানিয়ে ‘সিএনএন’কে বলে, ‘তারা (হামলাকারীরা) মানুষ না, তারা পশু।’

বিদ্বেষ, সংঘাত, হিংস্রতা মানুষকে বারবার বিবর্তনের আদিম অতীতে নিয়ে যায়, পাশবিকতা মানুষের সহজাত বৈশিষ্ট্য, মানবতা শুরুটা বর্বরতা একটা রুপান্তরিত রূপ। নিজের জীবন দিয়ে আরও শত মানুষের প্রাণ কেড়ে নেয়ার মধ্যে ধর্মীয় মাহাত্ম্যের যে অজুহাত দেয়া হয়, তা ভিত্তিহীন। মানুষের পাশবিক বৈশিষ্ট্যকে কাজে লাগিয়ে এক শ্রেণির মানুষ মৃত্যুর বাণিজ্য করে, মানুষের পরিকল্পনায়, মানুষের দ্বারা মানুষকে হত্যা করা। এর বাহিরে ইসলামিক জঙ্গি, খ্রিস্টান উগ্র, আফ্রিকান মৌলবাদের মতো আস্তরণে ঢেকে দেয়া হয়।

ছবি : সংগৃহীত মাত্র এক দশক আগে গৃহযুদ্ধ থেকে উঠে আসা দেশটিকে এক ভয়াবহ আত্মঘাতী বোমা বিস্ফোরণের মধ্য দিয়ে যেতে হচ্ছে। যে বোমা হামলায় এখন পর্যন্ত অন্তত ৩৫৯ জন প্রাণ হারিয়েছে এবং ৫ শতাধিক আহত হয়েছে। যার মধ্যে অনেক বিদেশি নাগরিক রয়েছে, রয়েছে মুসলিম, বৌদ্ধ, হিন্দুসহ নানা জাতির, নানা ধর্মের মানুষ। ক্রাইস্টচার্চ থেকে কলম্বো বিশ্বে শান্ত দেশ হিসেবে সমাধিক পরিচিত নিউজিল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চের দুটি মসজিদে হামলার প্রতিশোধ নিতে শ্রীলঙ্কায় হামলা চালানো হয়েছিল বলে শ্রীলঙ্কান সরকার দাবি করছে। কলম্বোস্থ একজন সিনিয়র মুসলিম নেতা সরকারের দাবিটি বাতিল করে দিয়েছেন। একটা গণহত্যার প্রতিশোধ আরেক গণহত্যা করে নেয়ার তত্ত্বের মতো পাশবিক কারণ থাকতে পারে না। ধর্মের অজুহাত দিয়ে দুটোতেই নিরীহ মানুষের প্রাণ নিচ্ছে কিছু বিকৃত মস্তিষ্কের মানুষ। এ দিকে, দুটি হামলার মধ্যকার স্বল্প সময়ের দিকে নির্দেশ করে শ্রীলঙ্কার মুসলিম কাউন্সিলের সহসভাপতি হিলি আহমেদ বলেন, এত অল্প সময়ে শ্রীলঙ্কায় এই বোমা হামলার পরিকল্পনা করা অসম্ভব। এটা বহুদিনের একটা পরিকল্পনা যাতে বহিরাগত শক্তির প্রভাব রয়েছে।

এই পোস্টটি শেয়ার করুন...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ ...
© All rights Reserved © 2020
Developed By Engineerbd.net
Engineerbd-Jowfhowo
Translate »