১৭ই সেপ্টেম্বর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ রাত ১২:১৮
ব্রেকিং নিউজঃ
চানক‍্য-কৌটিল‍্য বিএনপি সন্ত্রাসীদের দৌরত্বে প্রধানমন্ত্রী, বরাবর, আবেদন করলেন অসহায় একটি হিন্দু পরিবার। হরিণের চামড়া ও মাংস পাচারকালে,এনজিও পরিচালক মৃদুল হালদারসহ চার জন গ্রেফতার যোগের মহিমা কি? ৩ সেপ্টেম্বর থেকে বাংলাদেশ-ভারত ফ্লাইট চালু পিরোজপুরের দৈহারীতে মন্দির ভাঙ্গায় চেয়ারম‍্যান জহিরুল ইসলামের হাত আছে স্থানিয়দের ধারনা। সাদিক আব্দুল্লাহর নাম ভাংগিয়ে এলাকায় ত্রাস-ভূমি দখলের চেষ্ঠা মাসুম বিল্লাহর ।। সরকারী খালে বাধ দিয়ে মাছ চাষ করায় হাজারো কৃষকের ভাগ্য পানির নিচে।। অর্পিতাকে বাঁচাতে এক হলেন তিন দেশের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক! আফগানদের আকাশ থেকে ফেলে গেল যুক্তরাষ্ট্র ভারতের সঙ্গে ফ্লাইট চালু ২০ আগস্ট

পশ্চিমবঙ্গে কেন বিজেপির উত্থান?

রিপোর্টার নাম
  • আপডেট টাইমঃ শনিবার, মে ১৮, ২০১৯,
  • 116 সংবাদটি পঠিক হয়েছে

সম্পাদকীয়ঃ

পশ্চিমবঙ্গে ক্রমশ বিকশিত হচ্ছে পদ্ম৷ চলতি লোকসভা নির্বাচনে রাজ্যে দ্বিতীয় বৃহত্তম শক্তি হিসেবে উঠে আসতে পারে বিজেপি৷ বিভাজনের রাজনীতি, না রাজ্যে প্রতিষ্ঠান-বিরোধিতা, কোন কারণে মোদী বাহিনীর এই উত্থান?

দুজন সাংসদ রয়েছেন পশ্চিমবঙ্গে৷ বিধায়কের সংখ্যাও মাত্র তিন৷ তা সত্ত্বেও ভোটের ফল প্রকাশের আগে এই রাজ্যে কার্যত দ্বিতীয় বৃহত্তম শক্তির মর্যাদা পেয়ে গিয়েছে হিন্দু জাতীয়তাবাদী বিজেপি৷ তৃণমূল কংগ্রেসের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে ধরা হচ্ছে নরেন্দ্র মোদীর দলকেই৷ বিজেপি সভাপতি অমিত শাহ বাংলায় তার দল কমপক্ষে ২৩টি আসনে জিতবে বলে দাবি করেছেন৷ এই দাবির সারবত্তা বোঝা যাবে ২৩ মে ফল বেরোলে৷ কিন্তু, তার আগেই বিজেপির উত্থান নিয়ে কাটাছেঁড়া শুরু হয়ে গিয়েছে৷ এর পিছনে বেশ কয়েকটি কারণ রয়েছে বলে পর্যবেক্ষকদের ধারণা৷তবে এর পিছনে ব্যাপক ভুমিকা রাখছে পশ্চিম বাংলার চানক্য হিসাবে পরিচিত যার হাতধরেই তৃনমূলের উত্থান হয়ে ছিল সেই আলোচিত মুকুল রায় আছেন পশ্চিম বঙ্গ বিজেপির নির্বাচন পরিচালনার দায়িত্বে ।

বিভাজনের রাজনীতি

তৃণমূল, বাম, কংগ্রেস-সহ দেশের অধিকাংশ দলের অভিযোগ, ধর্মনিরপেক্ষ ভারতে বিজেপি সাম্প্রদায়িক রাজনীতি করে৷ হিন্দু জাতীয়তাবাদের প্রবক্তা রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘ ও তার রাজনৈতিক সহযোগী বিজেপির প্রধান কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে উত্তরপ্রদেশের অযোধ্যায় রামমন্দির নির্মাণ৷ এই রাজনীতি অন্য রাজ্যের মতো অবশেষে পশ্চিমবঙ্গেও সাফল্যের মুখ দেখতে চলেছে বলে অনুমান করা হচ্ছে৷

‘তৃণমূলের সন্ত্রাসে আমাদের সংগঠন অনেক জায়গায় দুর্বল হয়েছে’

শক্তিশালী বিরোধী শক্তির অভাব

কংগ্রেস নেতা-কর্মী-বিধায়করা গত কয়েক বছরে দলে দলে তৃণমূলে যোগ দিয়েছেন৷ বামেরাও ক্রমশ দুর্বল হয়েছে৷ দাপট বাড়িয়েছে তৃণমূল৷ রাজনীতিতে বিরোধী স্থান শূন্য থাকে না৷ তাই বাম ও কংগ্রেসকে টপকে চতুর্থ থেকে দ্বিতীয় শক্তির দিকে উত্থান হচ্ছে বিজেপির৷ দুর্বলতার কথা স্বীকার করে সিপিএম বিধায়ক তন্ময় ভট্টাচার্য বলেন, ‘‘তৃণমূলের সন্ত্রাসে আমাদের সংগঠন অনেক জায়গায় দুর্বল হয়েছে৷ ভয় দেখিয়ে, ভুয়ো মামলায় ফাঁসিয়ে দেওয়া হয়েছে নেতাদের৷ তাই সমর্থকদের একটা অংশ মনে করছে, তৃণমূলের বিরুদ্ধে আমরা লড়াইয়ের জায়গায় নেই৷ বিজেপি সেই সুযোগটা নিচ্ছে৷”

সংখ্যালঘু তোষণের অভিযোগ

পশ্চিমবঙ্গে সংখ্যালঘু ভোট প্রায় ৩০ শতাংশ৷ এদের সিংহভাগই তৃণমূলের সমর্থক৷ বিজেপির অভিযোগ, ভোটের স্বার্থে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সংখ্যালঘু তোষণ এতটা তীব্র যে সংখ্যাগুরুরা মার খেলেও মমতা সংখ্যালঘুদের পক্ষে কথা বলছে , সংখ্যালঘুদের ভোটব্যাঙ্ক হিসেবে ব্যবহার করছেন৷ বিজেপির এই প্রচার সংখ্যাগুরুদের মধ্যে ব্যাপক প্রভাব ফেলেছে বলে অনুমান রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের৷ রাষ্ট্রবিজ্ঞানের অধ্যাপক বিমলশঙ্কর নন্দ ডয়চে ভেলেকে বলেন, ‘‘তৃণমূলের লক্ষ্য মুসলিম ভোট৷ মুখ্যমন্ত্রী তাঁর কথাবার্তা, পোশাক, আচরণে এই বার্তা দেওয়ার চেষ্টা করেন৷ এমনকি তিন তালাক প্রথা বাতিলেরও বিরোধিতা করেছেন তিনি৷ বসিরহাটের প্রার্থী নুসরাত জাহান তিন তালাকের বিরোধিতা করেছিলেন৷ সেখানে প্রচারে গিয়ে মমতা বলেছেন, নুসরাত বাচ্চা মেয়ে৷ আমরা তিন তালাকের বিরোধী নই৷ এটা সংখ্যাগুরুরা ভালো চোখে দেখছেন না৷”

তৃণমূলের নিচুতলায় দুর্নীতি

শাসক দলের তাবড় নেতা-মন্ত্রীদের বিরুদ্ধে বেআইনি অর্থলগ্নি সংস্থার মাধ্যমে টাকা আত্মসাতের অভিযোগ রয়েছে৷সারদা, চিটফান্ড ,নারদ তদন্তে গোপন ক্যামেরায় টাকা নিতে দেখা গিয়েছে অনেককে৷ এই বিচারাধীন মামলাগুলির থেকে তৃণমূলের বেশি মাথাব্যথা হয়ে দাঁড়িয়েছে পঞ্চায়েত স্তরে দুর্নীতি ও উৎকোচ৷ নিচুতলার তৃণমূল কর্মীরা বিভিন্ন সরকারি প্রকল্পের সুবিধা দিতে গ্রামবাসীদের কাছ থেকে টাকা নিচ্ছেন বলে অভিযোগ৷ স্কুল-কলেজে ভর্তি থেকে পরিষেবা দেওয়ার ক্ষেত্রে টাকা নেওয়া হচ্ছে৷ এর সঙ্গে রয়েছে উদ্ধত আচরণ, দুর্ব্যবহার৷

এর ফলে জঙ্গলমহলসহ বিভিন্ন জেলায় বিজেপি গত বছরের পঞ্চায়েত নির্বাচনে চমকপ্রদ ফল করেছে৷ এর মধ্যে অনেক স্থানেই সংখ্যালঘুদের উপস্থিতি নগণ্য, মেরুকরণ ছাড়াই প্রতিষ্ঠান-বিরোধিতার ফলে বিজেপি ভালো ফল করেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে৷ এই ত্রুটি স্বীকার করে নেন পুরুলিয়া কেন্দ্রের তৃণমূল প্রার্থী মৃগাঙ্ক মাহাতো৷ পেশায় চিকিৎসক মৃগাঙ্ক ডয়চে ভেলেকে বলেন, ‘‘একশ্রেণির কর্মীদের বিরুদ্ধে এ ধরনের অভিযোগ ছিল৷ সে কারণে মানুষের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হয়৷ তার প্রতিফলন পঞ্চায়েত ভোটে দেখা গিয়েছে৷ তবে আমরা ব্যবস্থা নিয়েছি৷ দল অনেককে এ জন্য বহিষ্কার করেছে৷”

২০১৮ সালের পঞ্চায়েত নির্বাচনে ৩৪ শতাংশ আসনে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয়ী হয়েছিল তৃণমূল৷ যেখানে ভোট হয়েছে, তার অধিকাংশ স্থানে গ্রামীণ জনতা ভোট দিতে পারেনি বলে অভিযোগ৷ একটা বড় অংশের মানুষ তৃণমূলের উপর ক্ষুব্ধ৷ তাদের ভোট শাসকদলের বিরোধী হিসেবে বিজেপির দিকে যেতে পারে৷

নেতা কেনে তৃণমূল?

কেন্দ্রে সরকারে আগ্রাসী প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী৷ তিনি পশ্চিমবঙ্গে প্রচারে ঝাঁপিয়ে পড়েছিলেন৷ তৃণমূল নেত্রীর সঙ্গে সরাসরি তাঁর দ্বৈরথ৷ শাসক দলের সঙ্গে বিজেপি কর্মীদের সংঘাত হচ্ছে চতুর্দিকে৷ অর্থাৎ, তৃণমূলের বিরুদ্ধে লড়ার মতো ক্ষমতাধর বলে বিজেপি প্রতিষ্ঠা পেয়ে গিয়েছে৷ তাই বাম ও কংগ্রেস সমর্থকরা মোদী বাহিনীর দিকে ঝুঁকছেন৷ তাঁরা মনে করছেন, তৃণমূলের সঙ্গে টক্কর দিতে পারে বিজেপিই৷ মুর্শিদাবাদ, মালদার মতো পুরুলিয়াতেও কংগ্রেসের এখনো সংগঠন টিকিয়ে রেখেছে৷ জেলা সভাপতি নেপাল মাহাতো নিজেই এবার পুরুলিয়া কেন্দ্রে দলের প্রার্থী৷ তিনি ডয়চে ভেলেকে বলেন, ‘‘মানুষ তৃণমূলের প্রতি বীতশ্রদ্ধ৷ তারা চাইছে যে কোনোভাবে তৃণমূলকে হারাতে৷ জনতা মনে করছে, শাসককে হারানোর জোর বিজেপিরই রয়েছে৷ তাই তারা পঞ্চায়েতে কংগ্রেস, বামের বদলে বিজেপির দিকে ঝুঁকেছে৷ আমাদের নেতাদের কিনে নিয়েছে তৃণমূল৷ সাংগঠনিক দুর্বলতার এই সুযোগ পুরো নিয়েছে ওরা৷ সে দিক থেকে আমরা ব্যর্থ তো বটেই৷”

‘মুখ্যমন্ত্রী তাঁর আচরণে বোঝাচ্ছেন, তাঁর সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত’

গণতান্ত্রিক পরিসরের সঙ্কোচন

বিরোধীরা অহরহ অভিযোগ তোলে পশ্চিমবঙ্গে গণতন্ত্রকে হত্যা করা হয়েছে৷ পর্যবেক্ষকরা মনে করেন, বিরোধী কন্ঠের স্বর ক্রমশঃ সঙ্কুচিত হয়ে আসছে তৃণমূলের আমলে৷ এর প্রতিবাদে কবি শঙ্খ ঘোষ লিখেছেন, ‘‘দেখ খুলে তোর তিন নয়ন/ রাস্তা জুড়ে খড়গ হাতে/ দাঁড়িয়ে আছে উন্নয়ন৷” এই পরিস্থিতিতে অনেকে বিজেপির হাত ধরছেন৷ অধ্যাপক বিমলশঙ্কর নন্দের মতে, ‘‘তৃণমূল উন্নয়ন করছে, তা নিয়ে প্রশ্ন তোলা যাবে না৷ এমনটাই বার্তা দেওয়া হচ্ছে৷ মুখ্যমন্ত্রী তাঁর আচরণে বোঝাচ্ছেন, তাঁর সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত্৷ বিরুদ্ধাচরণ তিনি বরদাস্ত করবেন না৷” এবং মুখ্যমন্ত্রী যে ভাবে উল্টোপাল্টা বক্তব্য দিচ্ছে তাতে সধারন মানুষ ভরকে যাচ্ছে এবং মূখ ঢেকে হাসছে তার এই বক্তব্যই তাকে ঘৃনিত করছে জনমনে ।

সব মিলিয়ে বিজেপির ভোট এ বার অনেকটাই বাড়বে বলে মনে করা হচ্ছে৷ সেই বৃদ্ধি কতটা হবে, তার উপর নির্বাচনের ফল অনেকটাই নির্ভর করছে৷

সম্পাদকীয়

এই পোস্টটি শেয়ার করুন...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ ...
© All rights Reserved © 2020
Developed By Engineerbd.net
Engineerbd-Jowfhowo
Translate »