১৭ই সেপ্টেম্বর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ রাত ১২:৫৪
ব্রেকিং নিউজঃ
চানক‍্য-কৌটিল‍্য বিএনপি সন্ত্রাসীদের দৌরত্বে প্রধানমন্ত্রী, বরাবর, আবেদন করলেন অসহায় একটি হিন্দু পরিবার। হরিণের চামড়া ও মাংস পাচারকালে,এনজিও পরিচালক মৃদুল হালদারসহ চার জন গ্রেফতার যোগের মহিমা কি? ৩ সেপ্টেম্বর থেকে বাংলাদেশ-ভারত ফ্লাইট চালু পিরোজপুরের দৈহারীতে মন্দির ভাঙ্গায় চেয়ারম‍্যান জহিরুল ইসলামের হাত আছে স্থানিয়দের ধারনা। সাদিক আব্দুল্লাহর নাম ভাংগিয়ে এলাকায় ত্রাস-ভূমি দখলের চেষ্ঠা মাসুম বিল্লাহর ।। সরকারী খালে বাধ দিয়ে মাছ চাষ করায় হাজারো কৃষকের ভাগ্য পানির নিচে।। অর্পিতাকে বাঁচাতে এক হলেন তিন দেশের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক! আফগানদের আকাশ থেকে ফেলে গেল যুক্তরাষ্ট্র ভারতের সঙ্গে ফ্লাইট চালু ২০ আগস্ট

মাশরাফির নেতৃত্বেই প্রথম শিরোপা উৎসব

রিপোর্টার নাম
  • আপডেট টাইমঃ শনিবার, মে ১৮, ২০১৯,
  • 95 সংবাদটি পঠিক হয়েছে

২০০৯ সালের পর ২০১৮- দীর্ঘ ৯ বছরে ৬টি ফাইনাল খেলে ফেলেছে বাংলাদেশ। আর প্রতিটি ফাইনালেই সঙ্গী হয়েছে কান্না। একেকটি ফাইনাল যায়, আর বাংলাদেশের হৃদয় ভাঙার গল্প তৈরি হয়। অবশেষে অপেক্ষা ফুরিয়েছে, শেষ হয়েছে হতাশার পালা। মাশরাফির নেতৃত্বে বহুজাতিক কোনও টুর্নামেন্টের প্রথম কোনও ট্রফি জিতলো বাংলাদেশ।

ওয়ানডে ক্রিকেটে বাংলাদেশের ৩৩ বছরের অপেক্ষা দূর হলো ডাবলিনের মাঠে। হয়তো এই টুর্নামেন্ট জেতার মাধ্যমে বাংলাদেশের ক্রিকেটে নতুন দিগন্তের সূচনা হলো। তাতে আসন্ন বিশ্বকাপে ত্রিদেশীয় সিরিজ জয়ের উত্তুঙ্গ আত্মবিশ্বাস নিয়েই যেতে পারছে মাশরাফিরা।

বাংলাদেশের ক্রিকেটে জিয়নকাঠির অপর নাম হিসেবে ‘মাশরাফি বিন মুর্তজা’-কে বলাই যায়। নিজের ক্রিকেট ক্যারিয়ারে মাশরাফি বল হাতে যেমন সফল, তেমনি সফল নেতৃত্বেও। আইসিসির ওয়ানডে র‌্যাংকিংয়ে টাইগারদের উত্তরণ তার নেতৃত্বেই। শুক্রবার আরও একটি মাইলফলকে পৌঁছালেন তিনি। গত ছয়টি ফাইনালে বাংলাদেশের তিন অধিনায়ক যা পারেনি, মাশরাফি চতুর্থবারের চেষ্টা্য় তাই করে দেখিয়েছেন। ২০১৬ সালে একবার ও ২০১৮ সালে দুইবার ফাইনালে গিয়েও মাশরাফির নেতৃত্বে শিরোপ ছুতে পারেনি বাংলাদেশ। চতুর্থ চেষ্টায় তার নেতৃত্বেই প্রথমবারের মতো বহুজাতিক কোন টুর্নামেন্টের শিরোপা জিতে বাংলাদেশ ইতিহাস গড়লো।

অধিনায়ক হিসেবে মাশরাফি কৃতিত্ব পেতেই পারেন। তবে সবচেয়ে বেশি কৃতিত্ব দিতে হবে সৌম্য সরকারকে। ৪১ বলে ৬৬ রানের ইনিংসে শুরু থেকে যেভাবে খেললেন, তার ওমন ইনিংসই জয়ের ভিতটা গড়ে দিয়েছে। ওই ভিতের ওপর দাঁড়িয়ে মোসাদ্দেক পেয়েছেন ঝড়ো ইনিংস খেলার আত্মবিশ্বাস। আর তাতেই ২৪ বলে ৫২ রান করে দলকে জয়ের বন্দরে নিয়ে যেতে পেরেছেন তরুণ এই অলরাউন্ডার।

তবে অতীতের স্মৃতিগুলো বেদনায় ভরা। সেই ২০০৯ সালে আশরাফুলের নেতৃত্বে প্রথমবারের মতো ত্রিদেশীয় সিরিজের ফাইনালে খেলে বাংলাদেশ। সাকিবের অসাধারণ পারফরম্যান্সে ফাইনালেও উঠেছিল লাল-সবুজ জার্সীধারীরা। দুর্দান্ত বোলিং করেও মুত্তিয়া মুরালিধরনের কাছ আশরাফুলের দলকে হার মানতে হয়। ২০১২ সালের এশিয়া কাপেও আসে ট্রফি জেতার দ্বিতীয় সুযোগ। কিন্তু মুশফিকের নেতৃত্বে এশিয়া কাপের ফাইনালে পাকিস্তানের কাছে শেষ ওভারের নাটকীয়তায় মাত্র ২ রানের হারে সাকিব-তামিমদের কান্নায় ভেসেছে মিরপুর থেকে শুরু করে ৫৬ হাজার বর্গমাইল।

ফাইনালের বাকি গল্পটা অবশ্য মাশরাফি নিয়েই। ২০১৬ সালের এশিয়া কাপের পর ঘরের মাঠে ২০১৮ সালে জিম্বাবুয়ে-শ্রীলঙ্কাকে নিয়ে ত্রিদেশীয় সিরিজ এবং একই বছর দুবাইতে অনুষ্ঠিত এশিয়া কাপের মাশরাফির নেতৃত্বে খেলেছে বাংলাদেশ। কিন্তু তিনবারই ট্রফি ছাড়া ফিরতে হয়েছে। একই বছরের শুরুতে অবশ্য সাকিবের নেতৃত্বেও একটি ট্রফির ফাইনালে উঠেছিল বাংলাদেশ। ভারতের বিপক্ষে নিশ্চিত জয়ের সম্ভাবনা থাকা ম্যাচটিতেও হুট করে হেরে যেতে হয়েছে।

সবকিছুকে ছাপিয়ে অবশেষে এলো সেই মাহেন্দ্রক্ষণ। ডাবলিনে শুক্রবার আশরাফুল, সাকিব, মুশফিককে হারিয়ে দিয়ে মাশরাফির হাতেই উঠলো বহুজাতিক টুর্নামেন্টের প্রথম কোনও ট্রফি। এমন জয়ে ঈদের আগে বাংলাদেশের ক্রিকেটপ্রেমীদের আরও একটি উৎসবের উপলক্ষ এনে দিয়েছেন মাশরাফিরা। তার নেত্বেত্বে বাংলাদেশ গত কয়েক বছরে অনেক সাফল্য পেয়েছে। দ্বি-পাক্ষিক সিরিজ ছাড়াও আইসিসির বড় দুটি ইভেন্টে সেমিফাইনাল ও কোয়ার্টার ফাইনাল খেলতে পেরেছে। আসন্ন বিশ্বকাপে হয়তো নতুন কোন চমক অপেক্ষা করছে!

তার ওপর ২০১৯ বিশ্বকাপই মাশরাফির ক্যারিয়ারের শেষ বিশ্বকাপ—এটা মোটামুটি সবারই জানা। শুধু শেষ বিশ্বকাপই নয়, আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারও শেষ, সেটাও বলা যায়! ক্যারিয়ারের শেষ লগ্নে এসে দেশবাসীকে এমন একটি উপহার দিতে পারা অনেক বড় ব্যাপার। মাশরাফি বলেই হয়তো সম্ভব হয়েছে। এই বয়সে এসেও দলকে উজ্জীবিত করে সাফল্য এনে দিয়েছেন। আয়ারল্যান্ডে ত্রিদেশীয় সিরিজ জেতার পর, বিশ্বকাপ ট্রফিকে ঘিরে সমর্থকদের প্রত্যাশার বেলুনও নিশ্চয়ই আরও বড় হবে!

এমন কিছু হতো না যদি ২০১৪ সালে বাংলাদেশের ক্রিকেটে ‘দুই অধিনায়ক’ তত্ত্বের প্রয়োগ হতো। মুশফিকুর রহিমকে সরিয়ে ওয়ানডের নেতৃত্বে আনা হয় মাশরাফিকে। বাংলাদেশের ক্রিকেটে যা যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত হিসেবে বিবেচিত হয়ে আসছে। সেখানেই শুরু মাশরাফির ‘দ্বিতীয়’ ইনিংস। এই পথ চলায় শুক্রবার ডাবলিনে আরও একটি সাফল্যের পালক যুক্ত হলো মাশরাফির নামের পাশে। আগামী বিশ্বকাপে মাশরাফি হয়তো এই সাফল্যকেও ছাড়িয়ে যাবেন। এমন প্রত্যাশায় গোটা দেশ!

এই পোস্টটি শেয়ার করুন...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ ...
© All rights Reserved © 2020
Developed By Engineerbd.net
Engineerbd-Jowfhowo
Translate »