৩রা ডিসেম্বর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ বিকাল ৫:০৯
ব্রেকিং নিউজঃ
ভারতে ‘লাভ জিহাদ’ রুখতে বিল পাশ মানিকগঞ্জে একটি হিন্দু পরিবারের উপর হামলা বিশ্ব হিন্দু পরিষদের(ভি,এইচ,পি)তিন দফা হিন্দু সুরক্ষা আইন ও পৃথক মন্ত্রণালয় গঠনের দাবি হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদকে নিষিদ্ধ করার দাবি বাংলাদেশ আওয়ামী ওলামা লীগ জয়ন্তী হালদারকে জোর করে তুলে নিয়েছিল রাশেদ উদ্ধার করে পুলিশ । হামলা চালিয়ে ইরানের শীর্ষ বিজ্ঞানীকে হত্যা তৃণমূল ছেড়ে বিজেপিতে যোগ দিলেন শুভেন্দু-ঘনিষ্ঠ সিরাজ খান পার্বত্য চট্টগ্রামের বাসিন্দাদের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ বছরে ৪শ’ কোটি টাকার চাঁদাবাজি দৃশ্যমান হলো পদ্মা সেতুর ৫৮৫০ মিটার দুবলার চরে রাস পূর্ণিমায় নিরাপত্তা দিবে কোস্ট গার্ড

সিলেট যতরপুরে দেবোত্তর সম্পত্তি দখল : বাসা নির্মানের কাজ চলছে দ্রুত

রিপোর্টার নাম
  • আপডেট টাইমঃ বুধবার, জুন ১০, ২০২০,
  • 56 সংবাদটি পঠিক হয়েছে

সিলেটনগরীতে ৩০ কোটি টাকার দেবোত্তর সম্পত্তি দখল করে বাসা নির্মানের অভিযোগ পাওয়া গেছে। স্থানীয় সংখ্যালঘুদের মধ্যে বিষয়টি নিয়ে চাপা ক্ষোভ বিরাজ করলেও দখলকারীরা প্রভাবশালী থাকায় মুখ খোলার সাহস পাচ্ছেননা। ঘটনাটি নগরীর যতরপুর এলাকায়। দেবোত্তর সম্পত্তি দখল করে বাসা নির্মান করছেন জতরপুরের আলহাজ্ব আবদুল মুকিত চৌধুরীর ছেলে আজহারুল কবির চৌধুরী সাজু।
এ ব্যাপারে ২৯ এপ্রিল ২০২০ তারিখে মন্দির কমিটির পক্ষ থেকে সিলেট কোতোয়ালি থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বরাবরে একটি লিখিত অভিযোগ দাখিল করে মন্দির কমিটি। পরবর্তীতে সেই আবেদন তদন্তের জন্য সোবহানীঘাট ফাড়ির ইনচার্জ বরাবরে পাঠানো হয়েছে।

মন্দির কমিটির সাথে কথা বলে জানাগেছে, ১৯৫৬ সালের রেকর্ডমূলে (পাকিস্তান আমলে) নগরীর যতরপুর এলাকায় ১৭৮২ নং খতিয়ানে শ্রী শ্রী বিশ্বেশ্বর জিউর দেবতার নামে ২.৯৪ শতক জায়গা রেকর্ড হয়। রেকর্ডকৃত সম্পত্তির ১৩ টি খতিয়ানে মন্দিরের নামে ২.৯৪ শতক জায়গা রয়েছে। প্রতি শতক অনুযায়ী যার বর্তমান জায়গার মূল্য ৩০ কোটি টাকা।
অভিযোগে উল্লেখ করা করা হয় যতরপুরের শ্রী শ্রী বিশ্বেশ্বর জিউর আখড়ার ১১১৬১ নং দাগের এই ভুমিতে বর্তমানে অভিযুক্ত আজহারুল কবির চৌধুরীর আইনের প্রতি বৃদ্ধাঙ্গুলী দেখিয়ে নির্মান কাজ অব্যাহত রেখেছেন।

আখড়ার পরিচালনা কমিটির সাধারণ সম্পাদক মনোজ কপালী মিন্টু জানান, ২০১৭ সালে অর্পিত সম্পত্তি অবমুক্তির নিমিত্তে ট্রাইবুনালে ৩৩৮/২০১২ মামলা দায়ের করে দেবতার পক্ষে মামলার রায় প্রদান করা হয়। পরবর্তীতে উক্ত রায় ডিক্রীর বিরুদ্ধে জেলা প্রশাসক আপিল (অর্পিত) জেলা জজ ট্রাইবুনালে দায়ের করেন, যার মামলা নং ২২৪/২০১৭। মামলায় উভয় পক্ষের শুনানী শেষে ২০১৭ সালের ১৬ নভেম্বর পুর্নবার রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে দেবতার পক্ষে রায় প্রদান করা হয় এবং পরবর্তীতে ৭ দিন পর ২৩ নভেম্বর উল্লেখিত সম্পত্তি মন্দিরের পক্ষে ডিক্রী প্রদান করা হয়।
ডিক্রিতে উক্ত সম্পত্তি অবমুক্ত করে ৩০ দিনের ভিতরে মন্দির পক্ষে কমিটির কাছে হস্তান্তর করতে জেলা প্রশাসককে নির্দেশ প্রদান করা হয়।
এদিকে আজহারুল কবির চৌধুরী জেলা জজে ডিক্রির ২৬ দিন পর পেশিশক্তির বলে ওই দেবোত্তর সম্পত্তি সিলেট সাব রেজিস্ট্রার অফিসে ভুল বুঝিয়ে রাষ্ট্রীয় দেবোত্তর সম্পত্তির তালিকার ২৭ নং ক্রমিকে ওই সম্পত্তি তালিকা ভুক্ত থাকা অবস্থায় মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে একটি জাল দলিল সৃষ্টি করে নেন, যার দলিল নং ১০৭৬৩/২০১৭, তারিখ ১২/১২/২০১৭ যার বিএসডিপি ১২৯৯৬, বিএস দাগ ৩৪৭১৯ এস এ ১১১৬১। তিনি কৌশল হিসেবে ছলচাতুরীর মাধ্যমে সিলেট সদর ভূমি অফিসে এসিল্যান্ড বরবরে নিজ নামে নামজারি আবেদন করে। যাচাই বাছাই শেষে তৎকালীন তহসিলদার সঞ্জয় কান্তি দেব ভুমি কর্মকর্তা বরাবরে উল্লেখিত সম্পত্তি সরকারের দেবোত্তর সম্পত্তির তালিকায় ২৭ নং ক্রমিকে অন্তর্ভুক্ত উল্লেখ করে এই সম্পত্তি ব্যক্তি নামে নামজারির সুযোগ নেই বলে ভুমি কর্মকর্তাকে দেওয়া প্রতিবেদনে উল্লেখ করেন। সময়টি ২০১৮ সালের।
পরবর্তীতে পুনরায় ওই সদর ভূমি অফিসে নামজারি মোকদ্দমা নং ৩.৩৮৬ (আই এক্স -আই)২০১৯ -২০২০ মোকদ্দমায় দেবোতার পক্ষে ডিক্রীরকৃত সম্পত্তি সহকারী তহসিলদার অর্জুন রায় মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে দেবোত্তর তালিকা এবং মন্দিরের পক্ষে আদালতের রায় গোপন করে নামজারি করার নিমিত্তে একটি প্রতিবেদন প্রদান করেন । প্রতিবেদনের পর পরই ভূমি কর্মকর্তা আজহারুল আজহারুল কবির চৌধুরী বরাবরে নামজারি সম্পন্ন করেন। যার খতিয়ান নং ১৭৯৯৬।

বিষয়টি জানতে পেরে মন্দির কমিটির সম্পাদক ও আইনজীবী ওই নামজারি বাতিলের জন্য সহকারী কমিশনার ভূমি বরাবরে চলতি বছরের ২৫ ফেব্রুয়ারি একটি আবেদন দাখিল করেন। আবেদনের প্রেক্ষিতে যাচাই বাছাই শেষে উক্ত নামজারি বাতিল করেন একই সাথে সহকারি তহসিলদার অর্জুন রায়কে শো’কজ করা হয়। তবুও থেমে থাকেননি আজহারুল কবির।

এমতাবস্থায় ২৯ এপ্রিল ২০২০ তারিখে কোতোয়ালি থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বরাবরে লিখিত অভিযোগ দাখিল করে মন্দির কমিটি। পরবর্তীতে সেই আবেদন তদন্তের জন্য সোবহানীঘাট ফাঁড়ির ইনচার্জ বরাবরে জানানো হয়।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে সোবহানীঘাট ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই বিমল জানান, মন্দির কমিটির লিখিত অভিযোগ আমার হস্তগত হয়েছে। এ বিষয়ে তদন্ত চলমান রয়েছে। তদন্ত শেষে যথাসময়ে প্রতিবেদন দাখিল করা হবে।

মন্দিরের জায়গায় বাসা নির্মান এবং দখল প্রসঙ্গে অভিযুক্ত আজহারুল কবির চৌধুরী বলেন, ‘মন্দির কমিটির অভিযোগ ঠিক নয় এবং আমি ক্রয়সুত্রে এই জায়গার মালিক। মহল্লার একটি ঘৃণিত চক্র বারবার সংখ্যালঘু ইস্যু তোলে আমাকে ঘায়েল করার প্রচেষ্টা চালাচ্ছে।’

এই পোস্টটি শেয়ার করুন...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ ...
© All rights Reserved © 2020
Developed By Engineerbd.net
Engineerbd-Jowfhowo
Translate »