২৫শে নভেম্বর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ রাত ৮:২৩
ব্রেকিং নিউজঃ
শিশু নির্যাতন অবসানে আমরা কি আন্তরিক বিজেপিতে যাচ্ছেন অভিনেত্রী বিজয়শান্তি! করোনায় ভাসমান যৌনকর্মীদের ‘আশ্রয়স্থল’ ছিলেন রিনা ডিম খেয়ে কমবে ওজন, খেয়াল রাখুন এই ৫টি বিষয় পোশাক নিয়ে সমালোচনার কবলে নুসরাত ফারিয়া হিন্দু হয়েও ইসলাম ধর্ম পালন করে অভিনেত্রী,শাহনাজ পারভীন দুলারী ভারতে ধেয়ে আসছে ঘূর্ণিঝড় ‘নিভার’ পাকিস্তানের মাটি খুঁড়ে খোঁজ মিলল ১,৩০০ বছর আগে নির্মিত হিন্দু মন্দিরের নানা আয়োজনের মধ্যে দিয়ে বরিশালের নবগ্রহ মন্দিরে সার্বজনীন শ্রী শ্রী জগদ্ধাত্রী পূজা অনুষ্ঠিত ফরিদপুর ডুমাইনে গুচ্ছগ্রাম শ্মশান এলাকায় আশ্রায়ন প্রকল্প প্রস্তাব করার প্রতিবাদে মানববন্ধন

তানিষ্ক বিজ্ঞাপনের বিরোধিতা কি প্রতিক্রিয়াশীলতা নাকি উগ্র হিন্দুত্ববাদীদের অপরিণামদর্শিতা?

রিপোর্টার নাম
  • আপডেট টাইমঃ বৃহস্পতিবার, অক্টোবর ১৫, ২০২০,
  • 90 সংবাদটি পঠিক হয়েছে

লেখিকাঃ দেবযানী হালদার
বিগত কয়েক দিন ধরে টাটার টাইটানের সাব ব্র্যান্ড তানিষ্ক জুয়েলারীর একটা বিজ্ঞাপন নিয়ে বিতর্ক ছড়িয়ে পড়েছে। আজকে সেই বিজ্ঞাপনের বক্তব্য কম বেশি সবার জানা। একটি মুসলিম পরিবারে একটি হিন্দু মেয়ের সাধের অনুষ্ঠান যাকে বাঙ্গালীরা সাধভক্ষণ, উত্তর ভারতীয়রা ‘গোদ ভরাই’ ও দক্ষিণ ভারতীয়রা ‘সীমন্তম’ বলে, ইংরেজিতে এই অনুষ্ঠানকে ‘বেবি শাওয়ার’ বলে। এই অনুষ্ঠান কোন শাস্ত্রীয় আচার না হলেও লোকাচার হিসাবে মোটামুটি ভারতবর্ষের বিভিন্ন রাজ্যে নানা রকম ভাবে পালিত হয়। এই অনুষ্ঠান আসলেই খুব সুন্দর একটা ঘরোয়া অনুষ্ঠান। “এই বিজ্ঞাপনে দেখানো হয় হিন্দু পুত্রবধূ তার মুসলিম শাশুড়িকে বলছে যে এই প্রথা তো ওদের নেই। তার উত্তরে মুসলিম শাশুড়ি বলছে যে মেয়েদের খুশি করার জন্য প্রথা সব বাড়িতেই আছে।” এই ধরনের বিজ্ঞাপন আমাদের দেশে একেবারেই নতুন কিছু নয়। এই ধরনের একপেশে ধর্মনিরপেক্ষতায় মোড়া বিজ্ঞাপন, সিনেমা, শিল্প, সাহিত্যের ভুরি ভুরি প্রমাণ আছে। কিন্তু বিপরীত চিত্রের প্রমাণ একটাও নেই। জনগণের আপত্তিটা এখানেই ছিল। এবারের আপত্তি এত সার্বিক ও সমাজের বিভিন্ন স্তর থেকে এত অভাবনীয়ভাবে সাড়া পাওয়া যায় যে তানিষ্ক ক্ষমা চেয়ে বিজ্ঞাপন সরিয়ে নেয় বা নিতে বাধ্য হয়।
এর আলোচনা, পর্যালোচনা, সমালোচনা হয়েছে। কতটা যৌক্তিক, প্রশ্ন তুলেছেন পশ্চিমবঙ্গের অনেকে যেমন প্রতিবারই হয়। কিন্তু হিন্দুত্ববাদের মুখ হিসেবে পরিচিত বর্ষীয়ান সাংবাদিক যখন তানিষ্কের বিরুদ্ধে করা ক্যাম্পেইনকে উগ্র হিন্দুত্ববাদীদের অপরিণামদর্শিতা বলে উল্লেখ করেন তখন উত্তর দেবার দায়বদ্ধতা আমার মতন অতি সাধারন এক হিন্দুত্ববাদীর কর্তব্য হয়ে দাঁড়ায়। এই প্রথম পশ্চিমবঙ্গের হিন্দুত্ববাদীরা সারা ভারতবর্ষের সঙ্গে একযোগে এক ডাকে একপেশে ধর্মনিরপেক্ষতার বিপক্ষে তোলা আওয়াজে ব্যাপকভাবে সাড়া দিয়েছিল। লাগাতার ইমেইল ক্যাম্পেইন থেকে টুইটার ক্যাম্পেইন করেছে। টুইটারের হ্যাশট্যাগ ছিল “বয়কট তানিষ্ক” যেটা আসলে হিন্দু ঐক্যশক্তি কর্পোরেট জগতকে বুঝিয়ে দিতে সক্ষম হয়েছে। যে দেশে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ধর্মীয় ভাবাবেগের মূল্য চোকাতে গিয়ে সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষকে বাধ্যতামূলকভাবে হালাল মাংস খেতে বাধ্য করা হয়, আবার সেই হালাল অর্থনীতির টাকা আমাদেরই বিরুদ্ধে ব্যবহার করা হয়, সেই মুহূর্তে হিন্দুদের একজোট হয়ে প্রতিবাদী কণ্ঠস্বর ভীষণ ইঙ্গিতপূর্ণ। কর্পোরেট জগতকে বুঝতে হবে হিন্দুদের ভাবাবেগের কথা। তানিষ্কের অনলাইন সাইটে হিন্দুদের জন্য কোন গয়না না থাকলেও মুসলমানদের জন্য নির্দিষ্ট গয়না আছে। এর কিন্তু কেউ এখনো পর্যন্ত যৌক্তিকতা দেখাতে পারে নি। আরেকজন আপত্তি তুলেছেন যে এইভাবে কর্পোরেটের বিরুদ্ধে আওয়াজ উঠালে প্রধানমন্ত্রীর প্রতিচ্ছবি নাকি ধুলোয় মিশে যাচ্ছে, পৃথিবীর কাছে আমরা আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর ছবি খারাপ করে দিচ্ছি। এখানে ‘আমরা অর্থে নব্য হিন্দুত্ববাদী’, ‘আমরা অর্থে উগ্র হিন্দুত্ববাদী’।
বেশ কিছু জিনিষ বেশ গোলমেলে। কিছু প্রশ্নও আছে। নব্য হিন্দুত্ববাদী হিসেবে যিনি নাম লিখিয়েছেন তিনি কি অপরাধী? যিনি এত বছর ধরে বিকৃত ইতিহাস মুখস্থ করে ভারতবর্ষকে অন্য চোখে দেখতে বাধ্য হয়েছিলেন, আজকে হিন্দুত্ববাদের প্রচার ও প্রসারের ফলে নতুন চোখে ভারতকে আবিষ্কার করে হিন্দুত্ববাদী হওয়া কি সত্যিই খুব বড় অপরাধ? যে সমাজে মেয়েরা বউ হয়ে এলে ধর্ম পরিবর্তন না করলে স্বামীর সম্পত্তির উত্তরাধিকারী হয় না, আবার তাদের মেয়েরা অন্য ধর্মে বিবাহের পরে গেলে পৈতৃক সম্পত্তির অধিকার হারিয়ে ফেলে, তারা কি সত্যিই মেয়েদের ভালো রাখার কথা কখনো ভাবে? তারা কি কখনই মেয়েদের ইচ্ছার সম্মান দেয়? যদি দিত তাহলে তানিষ্ক বিজ্ঞাপনের কয়েকদিন আগে ঘটে যাওয়া দিল্লীর রাহুল বা দক্ষিণে লক্ষ্মীপতি শুধুমাত্র মুস**লিম মেয়ের প্রেমে পড়েছিল বলে খুন হয়ে যেত না। যারা বাঙ্গালীর এই সর্বভারতীয় বয়কট তানিষ্ক ক্যাম্পেইনে নাম লেখানোয় আশু বিপদের গন্ধ পেয়েছেন, এমনকি সিঙ্গুরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আন্দোলনের সঙ্গে তুলনা করে ভবিষ্যতে পশ্চিমবঙ্গে শিল্পায়নের সম্বন্ধে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন, তারা কি আদৌ নিশ্চিত যে দুটোর পটভূমিকা একই? যারা টাটার প্রতি শ্রদ্ধাশীল হবার অজুহাত দিচ্ছেন, তারা কি দেখাতে পারবেন ‘বয়কট টাটা’ বলে কোন হ্যাশট্যাগ তানিষ্কের এই বিজ্ঞাপনের বিরোধিতা করে নামিয়েছিল কেউ? এই দেশে গঙ্গা-যমুনা সমতলের হিন্দু-মুস**লমান ঐক্যের নামে বারবার মুসল**মানের পক্ষে কথা বলে এসেছে এত এত বছর ধরে, প্রতিবার হিন্দু ইফতার পার্টির যোগাড় করেছে, দুর্গা পুজোর মন্ডপে আযান দিয়েছে। কিন্তু আজ পর্যন্ত কেউ মস-জিদ থেকে হরির লুঠ দেওয়াতে পারেনি, ভজন কীর্তন লঙ্গরখানা এসব তো অনেক পরের ব্যাপার। এই দেশে এখনো এমন আইন হয় নি যেদিন কোন মস-জিদের ভেতরে প্রশাসন তল্লাশি করতে যেতে পারে।
হিন্দুরা সুদীর্ঘ সময় প্রতিবাদ না করে সহ্য করে এসেছে। কিন্তু যে বারবার মার খায় সে যখন প্রতিরোধ করে, তার শক্তি সম্বন্ধে অন্যের কোন ধারণা নেই। নিউটনের তৃতীয় সূত্র বলে, সব ক্রিয়ার সমান ও বিপরীত প্রতিক্রিয়া আছে। আমরা বৈষম্যের শিকার হয়েছি, কাজেই প্রতিক্রিয়াশীল হওয়া কেন অপরাধ হবে? হিন্দুদের সম্মিলিত এই আওয়াজকে যাদের হঠাৎ ‘উগ্র’ মনে হচ্ছে, হতে পারে তাদের হিন্দুত্ববাদের জন্য অবদান বিশাল, কিন্তু তাতে খুব সাধারন হিন্দুত্ববাদীদের অনুভূতির কোনো মূল্য নেই একথা বলা সম্পূর্ণরূপে ভুল। যাদের মনে হচ্ছে মুস**লমান বাড়িতে হিন্দুর কোন আচার পালন হচ্ছে এবং সেটা হিন্দুদের পক্ষে ভাল, তাদের কাছে আমার ছোট্ট প্রশ্ন, যে সন্তান জন্মাবে, সামাজিক ও প্রথাগত ভাবে সে কোন ধর্ম পালন করবে? বেশীরভাগ ক্ষেত্রে স্পেশাল ম্যারেজ অ্যাক্ট যেখানে দুজন ভিন্ন ধর্মের মানুষ বিবাহ করতে পারে ভারতীয় আইন অনুসারে, অথচ বাস্তবে হিন্দু মেয়েকে মুস**লমান ধর্ম গ্রহণ করতে হয় কেন? তার কারণ নিকাহ পড়তে গেলে যেটা আসলে একটা বিবাহের চুক্তি, সেখানে বর-কনের দু’জনকেই মুসল**মান হতে হয়, নাহলে নিকা কবুল হয় না।
আগামী বছর 2021 এ পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভা নির্বাচন। এই নির্বাচন এতো অসম্ভব গুরুত্বপূর্ণ যেটা একজন সামান্য মানুষ হিসেবে এর গুরুত্ব বোঝার মতন ক্ষমতা আমার অন্তত আছে। জিহাদি আগ্রাসন থেকে পশ্চিমবঙ্গকে বাঁচাতে গেলে এবারের ভোটে বিজেপি ছাড়া যে কোনো উপায় নেই, এর থেকে বড় সত্য আর কিছু নেই। গণতন্ত্রে ভোটে নির্বাচিত হয়ে আসাই শেষ কথা। সেই রাজনীতিতে অনেক দায় বদ্ধতা থাকে, গণতান্ত্রিক দায়বদ্ধতা, সাংবিধানিক দায়বদ্ধতা, রাজনৈতিক দায়বদ্ধতা। কিন্তু তোষণের দায়বদ্ধতা থাকে কি? আজকে সমগ্র ভারতবর্ষ জুড়ে দ্বিতীয়বার নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে বিজেপি শাসিত সরকার আসার প্রধান কারণ দেশের জনগণ তোষণমূলক রাজনীতিকে পরিত্যাগ করেছে। ধর্মনিরপেক্ষতার নামে ন্যাকামিকে এদেশের জনগণ জবরদস্ত করে না সেটা বিজেপির ভোটের ফল এবং কংগ্রেসের দুর্বলতা থেকেই বোঝা যায়। যে শিল্পের দোহাই দেওয়া হচ্ছে, উত্তরপ্রদেশ এবং আসামে বিজেপি সরকার, তারা কি শিল্পায়নের বিরুদ্ধে? যে অসংখ্য দক্ষিণ ভারতীয়, মারাঠী, পাঞ্জাবী, উত্তর ভারতীয়, পূর্ব ভারতীয়, পশ্চিম ভারতীয়রা বয়কট তানিষ্কের আহবানে সাড়া দিয়ে গুচ্ছ গুচ্ছ টুইটার, ইমেইল করেছিল, তারা সবাই শিল্পায়নের বিরুদ্ধে? তারা কি সবাই অর্থনীতি নিয়ে চিন্তিত নয়? আসামের সরকার লাভ জিহাদের বিরুদ্ধে, অবৈধ মাদ্রাসার বিরুদ্ধে যেভাবে কঠোর নীতি অবলম্বন করতে চলেছে, সেক্ষেত্রে তাকেও কি শিল্পায়নের বিরোধী বলে চিহ্নিত করা হবে? উত্তরপ্রদেশের গত বিধানসভা নির্বাচনে একটিও মুসল**মান প্রার্থী দাঁড় করানো হয় নি। কিন্তু তবুও বিপুল ভোটে ক্ষমতায় এসেছিল যোগী আদিত্যনাথের সরকার। সেখানে কি শিল্পায়ন স্তব্ধ হয়ে গেছে? কোন দিন দেখব প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী, মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ, মন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা, এরাও সবাই উগ্র হিন্দুত্ববাদী বলে চিহ্নিত হয়ে যাবেন। এদেরকেও অপরিণামদর্শী বলা হবে! এই প্রসঙ্গে বলে রাখি, দল একুশের নির্বাচনে যদি কোন মুসলিম সংগঠনের সমর্থন পায়, সেটাও নির্বাচনী কৌশল এবং দলের এই সিদ্ধান্ত প্রশ্নাতীত, সমর্থন থাকবে।
রাজনৈতিকভাবে বিজেপি হিন্দু জাতীয়তাবাদের সমর্থক। প্রকৃত ধর্মনিরপেক্ষ দেশ গঠনের লক্ষ্যে কাজ করে চলেছে। তাই তোষণের রাজনীতি তাকে কখনো করতে হয় নি। এই বিজ্ঞাপনকে মেনে নেওয়ার অর্থ, তোষণমূলক রাজনীতির পৃষ্ঠপোষকতা যা কখনো বিজেপির রাজনৈতিক অবস্থান নয়। আশ্চর্য লাগে যারা হালাল নিয়ে কথা বলে, যারা হিন্দু অর্থনীতি নিয়ে কথা বলে, তারাই তানিষ্কের বিজ্ঞাপনের বিরোধিতা মেনে নিতে পারে না। এই ভন্ডামি, এই ন্যাকামি বাঙ্গালী অনেকদিন হজম করেছে। এখন প্রতিবাদ করতে শুরু করেছে। প্রতিবাদ ফেসবুকে হয়, প্রতিবাদ সোশ্যাল মিডিয়ায় হয়। এই উগ্র হিন্দুত্ববাদীরাই একটা সময় যখন হিন্দু দেবদেবীদের বিকৃত করে নাটক, সিনেমা, শিল্প, সাহিত্য হয়ে যাবার পরেও প্রতিবাদ করে নি, কারণ সচেতনতা ছিল না। তারা কখনো পয়গম্বরের জীবন নিয়ে একটা লাইন না নাটক না সিনেমা না শিল্প হবার দাবি করে নি, কারণ সেই সচেতনতার অভাব। 70 বছর ধরে শুধু ভুল শেখানোর জন্য কখনও তারা প্রশ্ন করে নি যে ক্রিয়েটিভিটির সব দায় কেন হিন্দুর? সেদিন এই সব লোকেদের অবশ্য উগ্রও বলে নি কেউ। তখন তারা কেউ প্রশ্ন করে নি যে হিন্দুর আচার-আচরণ ভালো হওয়া সত্বেও বারবার কেন প্রশ্নচিহ্নের মুখে পড়ে যায়, সেই সচেতনতার বোধের অভাব। অনেকেই নগ্ন সরস্বতী মূর্তির ছবিকে আধুনিকতা বলেছিল, আবার তাসলিমা নাসরিনকে আশ্রয় দেয় না যারা সিএএ এনআরসির প্রতিবাদ করে কয়েক মাস রাজধানী অচল করে রেখেছিল। সবটাই নির্দিষ্ট চেনা পথে, নির্দিষ্ট ছকে, নির্বাচিত নিজেদের পছন্দ মতো। আর যেদিন এইসব অসচেতন মানুষ জেগে উঠে প্রতিবাদ করতে শুরু করল, তখন কেউ বলে তালিবান, কেউ বলে হিন্দু সন্ত্রাসবাদী, আর নিজেদের লোক উগ্র হিন্দুত্ববাদী বলে। আজকে তবে নব্য হিন্দুত্ববাদীদের এবং উগ্র হিন্দুত্ববাদীদের ভোটের দরকার নেই তো? আমি জানি তিনি আজকে দলীয় নেতা হলেও দলের মুখপাত্র বা প্রাতিষ্ঠানিক মুখ নন। কাজেই তাঁর বক্তব্যকে সত্যিই গুরুত্ব দেবার মতো কিছু হয় নি। কিন্তু ওই যে একটা দায়বদ্ধতা থেকে যায়। পশ্চিমবঙ্গে যখন খবরের একমাত্র উৎস স্থল ফেসবুক, তখন প্রতিবাদ হয় ফেসবুকে, প্রতিবাদেরও প্রতিবাদ আবার ফেসবুকেই হয়। কিন্তু জানতে ইচ্ছে করে যারা প্রধানমন্ত্রীর ছবি, সঙ্ঘের আদর্শ ইত্যাদি নিয়ে গুলিয়ে দেবার চেষ্টা করে অনেক উপদেশ দিয়েছেন, আমি মাত্র দুটো মিডিয়ার নাম করছি, স্বরাজ্য ম্যাগাজিন এবং ওপ ইন্ডিয়া। তাহলে এরা কারা, নব্য হিন্দুত্ববাদী, উগ্র হিন্দুত্ববাদী? তবে কি এদের অপরিণামদর্শিতা কার্যকলাপের জন্য আজ ভারতবর্ষে শিল্পায়নের বিরুদ্ধ পরিবেশ তৈরি হচ্ছে? যে দুটো মিডিয়া হাউজের জন্য আজকে প্রতিদিন ঘটে যাওয়া অসংখ্য খবরের প্রকৃত সত্য অনুসন্ধান করে সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে দিচ্ছে, তারা প্রধানমন্ত্রীর প্রতিচ্ছবি খারাপ করার জন্য দায়ী? এরা কি সবাই স্বল্প শিক্ষিত, অশিক্ষিত, মূর্খ? এরা কি রাজনীতির হিসাব হিন্দুত্বের অংক দিয়ে করতে শেখে নি? বিজেপির সর্বভারতীয় স্তরে এবং সঙ্ঘে এদের গ্রহণযোগ্যতা কি প্রশ্নাতীত নয়?
আসলে আমার মতন অসংখ্য হিন্দুত্ববাদী আজকে বড় প্রশ্ন চিহ্নের সামনে। আমরা কিন্তু রতন টাটার বিরুদ্ধে এই ঘটনার জন্য তাঁকে কেউ দায়ী করি নি। সে ক্ষেত্রে রতন টাটার হয়ে হঠাৎ ঝোল টেনে নেবার কোন যৌক্তিকতা আছে? আমরা অখন্ড ভারতের স্বপ্ন দেখি। সেই অখন্ড ভারত এমন এক রাষ্ট্র যেখানে সবার জন্য এক আইন থাকবে। সবার জন্য হালালের মত সমান্তরাল অর্থনীতি গড়ে উঠবে না। আমার অনিচ্ছা সত্ত্বেও 65 ডেসিবেলের শব্দ দূষণের মাত্রা ছাড়িয়ে দিনে পাঁচবার করে আমারই মৃত্যুর পরোয়ানা শুনতে হবে না।
আর পরিশেষে আরেকটা খুব কটু সত্য কথা বলি। এই পশ্চিমবঙ্গে কেন ভারতবর্ষে এই মুহূর্তে হিন্দুত্ববাদের বিকল্প যেমন কিছু নেই, ঠিক তেমনি রাজনৈতিকভাবে বিজেপির বিকল্প কিছু নেই। সেই হিন্দুত্ববাদের দোহাই দিয়ে যখন বরাবরের মত বামপন্থী ষড়যন্ত্রের অঙ্গ হিসেবে বাঙ্গালীকে বাকি ভারতের মূল স্রোতের থেকে বিচ্ছিন্ন করে ক্ষুদ্র প্রাদেশিকতা তুলে ধরতে হচ্ছে, তাহলে সঠিক কারা? সঙ্ঘের আদর্শে কোন আঞ্চলিকতা বা প্রাদেশিকতা নেই। যে অখণ্ড ভারতের সে জয়গাথা গায় সেখানে কোন তৈমুরের বংশধর নয় শিবাজীর অনুসারী প্রধান হবে বলে শেখানো হয়। প্রতিদিন যে সব নতুন নতুন মানুষ হিন্দুত্ববাদের সঙ্গে যুক্ত হচ্ছেন, রাষ্ট্রবাদী হিসাবে পরিচিত হতে চাইছেন, তাঁদের দূরে সরিয়ে রাখার যৌক্তিকতা জানতে বড় মন চায়। দেশের ও দশের ভালর জন্য যদি উগ্রতম হিন্দুত্ববাদী হতে হয় আমি তাতেও রাজী। এই রাজ্যের অস্তিত্ব রক্ষা করতে আবার নেকড়েদের সঙ্গে আপোষ না করলেই কি নয়?

এই পোস্টটি শেয়ার করুন...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ ...
© All rights Reserved © 2020
Developed By Engineerbd.net
Engineerbd-Jowfhowo
Translate »