২রা ডিসেম্বর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ রাত ১২:৫৪
ব্রেকিং নিউজঃ
ভারতে ‘লাভ জিহাদ’ রুখতে বিল পাশ মানিকগঞ্জে একটি হিন্দু পরিবারের উপর হামলা বিশ্ব হিন্দু পরিষদের(ভি,এইচ,পি)তিন দফা হিন্দু সুরক্ষা আইন ও পৃথক মন্ত্রণালয় গঠনের দাবি হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদকে নিষিদ্ধ করার দাবি বাংলাদেশ আওয়ামী ওলামা লীগ জয়ন্তী হালদারকে জোর করে তুলে নিয়েছিল রাশেদ উদ্ধার করে পুলিশ । হামলা চালিয়ে ইরানের শীর্ষ বিজ্ঞানীকে হত্যা তৃণমূল ছেড়ে বিজেপিতে যোগ দিলেন শুভেন্দু-ঘনিষ্ঠ সিরাজ খান পার্বত্য চট্টগ্রামের বাসিন্দাদের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ বছরে ৪শ’ কোটি টাকার চাঁদাবাজি দৃশ্যমান হলো পদ্মা সেতুর ৫৮৫০ মিটার দুবলার চরে রাস পূর্ণিমায় নিরাপত্তা দিবে কোস্ট গার্ড

দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জন দাশের জন্মবার্ষিকী আজ !!

রিপোর্টার নাম
  • আপডেট টাইমঃ বুধবার, নভেম্বর ৪, ২০২০,
  • 84 সংবাদটি পঠিক হয়েছে

সুমন হালদারঃ
দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জন দাশের জন্ম ৫ নভেম্বর ১৮৭০ সালে মুন্সীগঞ্জ জেলার লৌহজং উপজেলার তেলিরবাগ গ্রামে। তার পিতা ভুবনমোহন দাশ ছিলেন একজন এটর্নি ও ব্রাহ্মণ সমাজের প্রভাবশালী নেতা। দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জন দাশ লেখাপড়া করেন কলকাতায়। পরে লন্ডনে যান আইন বিষয়ে সর্বোচ্চ ডিগ্রির জন্য। ফিরে এসে কলকাতায় আইন ব্যবসা শুরু করেন। ব্রিটিশবিরোধী আলীপুর ‘বোমা মামলা’র অরবিন্দ ঘোষের পক্ষ নিয়ে প্রচুর সুনাম অর্জন করেন চিত্তরঞ্জন দাশ। তিনি ইংরেজদের বিরুদ্ধে অসহযোগনীতি অনুসরণ করে আদালত বর্জন করেন এবং কলকাতা শহরের বিভিন্ন স্থানে পিকেটিং করেন। ১৯২১ সালে ইংরেজদের কারাদণ্ডে দণ্ডিত হন। মহাত্মা গান্ধীর সঙ্গে রাজনৈতিক মতপার্থক্য দেখা দেয় এবং তিনি ‘স্বরাজ পার্টি’ নামে একটি দল গঠন করেন। তিনি রাজনীতির সঙ্গে সঙ্গে সাহিত্য ও সাংবাদিকতাও করেছেন। তিনি ‘ফরোয়ার্ড’ ও লিবার্টি নামক দুটি পত্রিকা প্রকাশ করতেন। দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জন দাশ কলকাতা করপোরেশনের প্রথম মেয়র ছিলেন। ১৯২৪ সালে তিনি মেয়র হন।
ভারতীয় উপমহাদেশের মানুষ তাকে চিনে একজন সুবিখ্যাত রাজনীতিক ও আইনবিদ হিসেবে। লন্ডন থেকে ব্যারিস্টারি পাস করে কলকাতায় আইন ব্যবসা করতেন তিনি। ১৮৯৪ সালে কলকাতায় যখন চালের মণ ছিল মাত্র আড়াই টাকা তখন তিনি প্রতিটি মামলার পরামর্শ ফি নিতেন এক হাজার টাকা। রাজনীতিতে ছিল তার যশ, খ্যাতি ও জনপ্রিয়তা। প্রথম জীবনে তিনি বিলাসী ও ব্যয়বহুল জীবনযাপন করতেন। তিনি এতটাই সৌখিন ছিলেন যে তার কাপড়-চোপড় ফ্রান্সের প্যারিস থেকে ধোলাই করে আনা হতো। অবশ্য রাজনীতিতে এসে তিনি বিলাসিতা ত্যাগ করেন। এই মানুষটি হলেন দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জন দাশ। রাজনীতিক ও আইনবিদ হলেও তিনি ছিলেন সাহিত্যপ্রেমী। তার এ কাব্য সাধনার কথা নিকটজন ছাড়া অনেকেই জানত না। চিত্তরঞ্জন দাশকে নিয়ে রবীন্দ্রনাথ ও নজরুল কবিতাও লিখেছেন।
চিত্তরঞ্জন যে সময় কবিতাচর্চা শুরু করেন তখন গোটা ভারতবর্ষ ব্রিটিশ শাসনে। এদেশের মানুষ বিদেশি শাসক দ্বারা অত্যাচারিত হতো। তার কবিতায় মানুষের দুঃখ-কষ্ট আর ব্যথার কথাই ফুটে উঠতো। আবার দুঃখ-কষ্ট সহ্য করতে ও সাহসের বাণী প্রতিফলিত হতো দেশবন্ধুর কবিতায়। এ বাংলার মাটি ও মানুষের কথাই প্রতিফলিত হতো কবিতার প্রতিটি চরণে। ‘দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জন দাশ’ মালঞ্চ, মালা, সাগরসঙ্গীত, অন্তর্যামী ও কিশোর-কিশোরী নামে পাঁচটি কাব্যগ্রন্থ রচনা করেন। মানব কল্যাণমূলক ও সেবাধর্মী কবিতাই তিনি বেশি লিখতেন। কবি চিত্তরঞ্জন দাশের ‘পরার্থে কামনা’ একটি শ্রেষ্ঠ কবিতা। কবিতাটির কয়েকটি চরণ তুলে ধরা হলো—‘মোছ আঁখি মনে কর এ বিশ্ব সংসার/কাঁদিবার নহে শুধু বিশাল প্রাঙ্গণ। রাবণের চিতাসম যদিও আমার/জ্বলিছে জ্বলুক প্রাণ, কেনগো ক্রন্দন/ অপরের দুঃখ জ্বালা হবে মিটাতে/হাসির আবরণ টানি দুঃখ ভুলে যাও। জীবনের সর্বস্ব অশ্রু মুছাইতে/বাসনার স্তর ভাঙ্গি বিশ্ব ঢেলে দাও/হায় হায় জন্মিয়া যদি না ফুটালে/একটা জীবনে ব্যথা যদি না জুড়ালে/ বুক ভরা প্রেম ঢেলে বিফল জীবনে/আপনা রাখিলে, ব্যর্থ জীবনে সাধনা/ জন্ম বিশ্বের তবে পরার্থে কামনা।’ ‘সাগর সঙ্গীত’ দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জন দাশের একটি কাব্যগ্রন্থ। রচনাকালের হিসেবে এটি তাঁর তৃতীয় এবং প্রকাশকালের হিসেবে দ্বিতীয় কাব্যগ্রন্থ। ১৯১১ সালের পূজার ছুটির সময় ইংল্যান্ড যাত্রাকালে কাব্যটি রচিত হয়। কবিতাগুলির বিষয় প্রকৃতি এবং এগুলির মধ্যে একটি অখণ্ড ভাবপ্রবাহ রক্ষিত হয়েছে। মূল গ্রন্থে কবিতাগুলির কোনো শিরোনাম নেই, এগুলি সংখ্যা দ্বারা চিহ্নিত হয়েছে। এই কাব্যের প্রথম প্রকাশক ছিলেন গুরুদাস চট্টোপাধ্যায় অ্যান্ড সনস, কলকাতা। বেঙ্গল লাইব্রেরির ক্যাটালগে গ্রন্থটি সম্পর্কে লেখা হয়, ‘Lyrical poems on the Ocean and its various majestic scenes.’ অরবিন্দ ঘোষ প্রথমে ইংরেজি গদ্যে এই কাব্যের অনুবাদ করেন; পরে তিনিই শ্রীঅরবিন্দ নামে ইংরেজি পদ্যে এই কাব্যের অনুবাদ করেছিলেন। ১৯২৩-২৪ সাল নাগাদ ‘Songs of the Sea’ নামে এই ইংরেজি অনুবাদটি মাদ্রাজ (অধুনা চেন্নাই) থেকে প্রকাশিত হয়।
১৬ জুন ১৯২৫ সালে মাত্র পঞ্চান্ন বছর বয়সে কবি, সাংবাদিক ও রাজনীতিক দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জন দাশ মারা যান। দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জন দাশকে উদ্দেশ করে বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর লিখলেন : ‘এনেছিলে সঙ্গে করে মৃত্যুহীন প্রাণ, মরণে তাহাই তুমি করে গেলে দান’। বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলাম তার চিত্তনামা কাব্যও দেশবন্ধুকে স্মরণ করেই লেখেন।

এই পোস্টটি শেয়ার করুন...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ ...
© All rights Reserved © 2020
Developed By Engineerbd.net
Engineerbd-Jowfhowo
Translate »