২২শে এপ্রিল, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ রাত ১১:১৪
ব্রেকিং নিউজঃ
জুলাইয়ের আগে করোনার টিকা রপ্তানি অনিশ্চিত : সেরাম ইনস্টিটিউট পশ্চিমবঙ্গ ষষ্ঠ দফার ভোট মোটামুটি শান্তিপূর্ণ, সফর বাতিল মোদির এত মৃত্যু এত শূন্যতা আগামীকালের ষষ্ঠ দফার ৪৩-টি আসনে কোন দল এগিয়ে !! বাংলাদেশের ভোটার হয়ে কি ভাবে ভারতের বিধান সভায় নির্বাচন করছেন আলো রানী সরকার ? করোনায় মারা গেলেন কবি শঙ্খ ঘোষ বিজেপি মন্ত্রীসভার প্রধান মুখ হতে পারেন যাঁরা !! ঠিকাদারকে টাকা পরিশোধ না করায় থমকে গেছে উজিরপুরে বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য নির্মান কাজ ।। ধুলো বালীতে ফ্যাকাশে হয়ে আছে ম্যূরাল।। আওয়ামী লীগ নেতাকর্মিদের ক্ষোভ।। ফিরহাদের ভিডিয়ো নিয়ে কমিশনে বিজেপি, তৃণমূল প্রার্থীকে নিষিদ্ধ করার দাবি জানাল গেরুয়া শিবির পশ্চিমবঙ্গে এক দিনে মোদির ৪ সভা

জয়ের আগেই জিতে যাওয়ার আত্মবিশ্বাসে ভুল সিদ্ধান্ত নিলে পস্তাতে হবে বিজেপিকে !!

রিপোর্টার নাম
  • আপডেট টাইমঃ সোমবার, মার্চ ৮, ২০২১,
  • 114 সংবাদটি পঠিক হয়েছে

ভুল সিদ্ধান্ত গ্রহণের লক্ষণ কিন্তু স্পষ্ট হচ্ছে বিজেপি’র মধ্যে। গতকালের অপ্রত্যাশিত সফল ব্রিগেড ইতিমধ্যেই মাথা ঘুরিয়ে দিয়েছে বঙ্গ বিজেপি’র তো বটেই–কেন্দ্রীয় বিজেপি’র বডিল্যাঙ্গুয়েজেও তা প্রতিফলিত হতে দেখা যাচ্ছে। প্রখ্যাত অভিনেতা, যাঁকে অনেকেই বাঙালি আইকন বলে থাকেন, আরএসএস প্রধান মোহন ভগবতের পরম ভক্ত হতেই পারেন–তাঁর সঙ্গে মিঠুনের ব্যক্তিগত ও পারিবারিক ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক থাকতেই পারে–কিন্তু সেটাকে মিডিয়াতে সোচ্ছ্বাসে প্রচার করাটা শেষপর্যন্ত না ‘কাল’ হয়ে ওঠে। মোহন ভাগবত এবং তাঁর পরম ভক্তরা বাংলা’র সঙ্গে উত্তরপ্রদেশ-রাজস্থান-মধ্যপ্রদেশ-গুজরাটের কোনোরকম ভিন্নতা দেখতে পান না বা দেখার কথা ভাবেনও না। গোবলয়ের এইসব রাজ্যে মোহন ভাগবত এবং মিঠুন চক্রবর্তীর ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক বিভিন্ন ছবি বা ভিডিও ফুটেজ যতটা রাজনৈতিক ডিভিডেণ্ড দেবে বাংলায় তা দেবে না–বরং বিশেষ উদ্দেশ্য পূরণের ক্ষেত্রে কন্টকের কাজ করতে পারে।
বাংলা ও দিল্লীর সঙ্ঘ-অনুগত কট্টর বিজেপি নেতারা মনে হচ্ছে অতিরিক্ত আত্মবিশ্বাসে এই অঙ্কটা ভুলে যাচ্ছেন যে, একুশের বিধানসভা ভোটে তাদের কম করেও ১৪৮-টি আসন দখল করতেই হবে। তাঁরা এটাও মানতে চাইছেন না যে–যোগী-সাধ্বী-সাক্ষী-রামদেব-প্রজ্ঞা কালচার বাংলার রাজনীতিতে এখনও মোটেও গ্রহণযোগ্যতা অর্জন করতে পারে নি–অদূর ভবিষ্যতেও সে সম্ভাবনা নেই। কারণ, ২০১৭ সালের পর থেকে এ রাজ্যে বিজেপি’র প্রাসঙ্গিকতা সঙ্ঘ-অনুগতদের রাজনৈতিক মেধার কারণে বা মোদীর কাট-আউটের কারণে তৈরি হয় নি। আগেও মোদীর চেয়েও উজ্জ্বলতর ও সর্বজনগ্রাহ্য অটলবিহারী বাজপেয়ীর কাট-আউটও বিশেষ প্রসঙ্গিকতা এ রাজ্যে বিজেপিকে দেয় নি। বিজেপির সেকেণ্ড-ইন-কম্যাণ্ড অমিত শাহ সেটা খুব ভালভাবে আত্মস্থ করেই বিজেপি’র দরজা খুলে দিয়েছিলেন বাংলার বিজেপি বিরোধী দলের রাজনৈতিক সংষ্কৃতিতে পরিপক্ক ও দক্ষ সাংগঠনিক নেতাদের জন্যে। হাতে হাতে তিনি তার প্রতিদানও পেয়েছেন–তাঁর চাণক্য রাজনীতি কতটা সফলতা লাভ করতে পেরেছে সেটা গতকালের বিজেপি সমাবেশ প্রমাণ করেছে। বিজেপি যদি মিঠুনের তারকা ইমেজের সঠিক ব্যবহার প্রচারের মধ্যে রাখতে পারে এবং রাজ্য রাজনীতির মধ্যে না ভেবে তাঁকে যদি দিল্লী কেন্দ্রিক সর্বভারতীয় রাজনীতির মধ্যে ব্যবহারের কথা ভাবে তাহলে বাংলায় তাদের অভিষ্ট সিদ্ধির পথে কোনো সমস্যা তৈরি হবে না। অন্যথায় চড়া মাশুল গুণতে হতে পারে। প্রথম থেকেই শুভেন্দুকে বিজেপি’র মুখ হিসেবে সামনে এনে বিধানসভা ভোটে বিজেপি যদি ঝাঁপিয়ে পড়তো তাহলে ১০০% বাংলা দখলের নিশ্চয়তা তারা স্পষ্ট টের পেতে পরতো। কিন্তু বিজেপি তা করে নি। কংগ্রেস বা বিজেপি’র মতো সর্বভারতীয় দলের পক্ষে সাধারণতঃ মুখ্যমন্ত্রীর মুখ হিসেবে ফলাফল ঘোষণার আগে করা হয় না। তবে একেবারেই যে করা হয় নি বা হয় না তাও নয়। কিন্তু নির্বাচনের ঠিক মুখে আকস্মিকভাবে কউকে সামনে এনে মুখ্যমন্ত্রীর মুখ হিসেবে আনঅফিসিয়ালি সুকৌশলে ভাসিয়ে দিয়ে একটা রহস্যাবৃত চমক তৈরির চেষ্টা কিন্তু মারাত্মকভাবে আত্মঘাতী খেলা হিসেবে চিহ্নিত হতে পারে–বিশেষ করে ফলাফল প্রকাশের পর। কারণ, তখন প্রচুর অপশন তাদের সামনে খুলে যাবে যাদের জন্যেই মূলতঃ বিজেপি’র ডানায় বসন্ত বাতাসের ছোঁয়া লেগেছে ! তুরীয় আত্মতুষ্টির কারণে ইতিমধ্যেই মুকুলের প্রতি উপেক্ষার ভাবটুকু গোপন রাখা যাচ্ছে না। মুকুলের মুখের দিকে তাকিয়ে যারা জেলায় জেলায় বিজেপি’র পতাকা তুলে নিয়েছিল তারা কিন্তু প্রথম থেকেই খুব স্বস্তিতে নেই। ফলাফল প্রকাশের অপেক্ষায় তারা দিন কাটাচ্ছে মাত্র। এই ব্যাপারটা যত স্পষ্ট হবে বহু কেন্দ্রেই বামজোট বিজেপি’র বাড়া ভাতে ছাই ফেলে দিতে পারে।
বিজেপি যদি মিঠুনকে মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে প্রোজেক্ট করার চেষ্টা করে সঙ্ঘের চাপে তাহলে নিশ্চিতভাবেই তাদের স্বপ্নভঙ্গ হবে। এমন কী প্রদেশ সভাপতি দিলীপ ঘোষকেও মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে সবাই একবাক্যে মেনে নেবেন এমন নিশ্চয়তাও কিন্তু নেই। প্রার্থী নির্বাচনের প্রশ্নে সঙ্ঘের চাপে বা আদি-নব্য’র কথা ভেবে বিজেপি যদি সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে ভুল করে তাহলে ১৪৮ আসন তাদের অধরাই থেকে যাবে। আমার কথা এই মুহূর্তে অনেকেরই মোটেই হজম হবে না। কিন্তু এই মুহূর্তে বিজেপি’র শারীরিক ভাষা ও ভঙ্গি কিন্তু তাদের লক্ষ্যপূরণের নিশ্চয়তা দিচ্ছে না। বহু জেলাতেই বিজেপি তৃণমূলের ক্ষোভ-বিক্ষোভের ফায়দা তোলার সুযোগ কাজে লাগাতে পারে–কিন্তু তাদের সঙ্ঘপ্রভাবিত গোবলীয় রাজনীতি তাদের সেই সুযোগ নিতে দিচ্ছে না। উদাহরণ হিসেবে কোচবিহার জেলার কথাই ধরা যেতে পারে। এই জেলায় বিজেপি যদি অন্ততঃ একটি আসনেও সংখ্যালঘু প্রার্থী দিতে পারে তাহলে পুরো খেলাটাই তাদের দিকে ঘুরে যেতে পারে। মালতী রাভাকে তৃফানগঞ্জের প্রার্থী হিসেবে ভেবে মহিলাদের গুরুত্ব দেওয়ার প্রশ্নে তারা খানিকটা এগিয়েই রয়েছে। কিন্তু বাকিটা তারা পারবে বলে মনে হয় না।
এরকম গোটা রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে বহু সুযোগ থাকলেও বিজেপি তার সদ্ব্যবহার করতে পারবে বলে মনে হয় না। ১৪৮-টি আসনে জিতে আসার মতো আদি বা সঙ্ঘঅনুগত প্রার্থী বিজেপি’র স্টকে নেই। শুধুমাত্র নিজস্ব ক্ষমতায় এবং মোদীর কাট-আউটের দৌলতে তারা সত্যি সত্যি ৪০ থেকে ৫০-টির বেশি আসন দখলের জায়গায় কোনোভাবেই নেই। তবু তারা ক্ষমতার কাছাকাছি এসে গেছে–কেন গেছে সেটা রাজ্যের মানুষ বুঝলেও বিজেপি’র সিংহভাগ নেতা বুঝতে চাইছেন না বা না বোঝার ভাণ করছেন। ঠিক এই জায়গাটিতেই বিপদ লুকিয়ে রয়েছে।
খুব ঘটা করেই প্রতিযোগিতায় জেতার মানসিকতা নিয়ে রুদ্রনীল সহ বেশ কিছু সেলিব্রেটিদের দলের পতাকা ধরিয়ে দেওয়া হল–তারা আশা করেছিলেন মূল মঞ্চে ঠাঁই পেয়ে তারা মোদীর আশীর্বাদ ধন্য হওয়ার সুযোগ পাবেন–কিন্তু তারা তা পেলেন না–উল্টে তারা এই আশঙ্কায় ভুগতে শুরু করে দিলেন–তৃণমূলে যাওয়া সেলিব্রেটিরা টিকিট সহ যতটা সম্মান বা গুরুত্ব পেলেন এরা তা পাবেন কিনা? সর্বভারতীয় দলের অনুশাসন-শৃঙ্খলা-দলীয় নিয়মনীতি–ইতাদি বড়বড় বোলচালের ধাক্কায় তাদের সিংহভাগই ছিটকে যাবেন বলেই মনে করা হচ্ছে। সেরকম হলে তৃণমূল স্বভাবতঃই বেশ কিছু ক্ষেত্রে খানিকটা এগিয়ে যাবেই।
আমার পর্যবেক্ষণ বলছে–কোনোক্রমে ১৪৮-এর গেড়ো পেরিয়ে গেলেও মুখ্যমন্ত্রী ইস্যুতে বিনা মেঘে বজ্রপাত হতে পারে বিজেপি’র মাথায়। রাজ্যের রাজনৈতিক সমীকরণটাই চোখের পলকে বদলে যেতে পারে–এমনটাও হতে পারে–তৃণমূল বিজেপি কেউ ক্ষমতায় ফিরল না–একটা নতুন মহাজোট তৈরি হল–তৃণমূল বিজেপিকে ঠেকানোর দায়বদ্ধতার রাজনীতির কারণে সেই জোটকে বাইরে থেকে সমর্থন জানতে বাধ্য হল–বিজেপি প্রায় পূণর্মূষিক ভবঃ হয়ে অর্দ্ধশতকের গণ্ডিতেই আটকে থাকলো ! খুবই অবাস্তব মনে হতেই পারে। কিন্তু সামগ্রিক ছবিটা যদি সঙ্ঘপ্রভাবিত কট্টর হিন্দুত্ববাদী বিজেপি’র চাপে এইরকমই ফুটে ওঠে তাহলে যা এই মুহূর্তে অবাস্তব মনে হচ্ছে সেটাই নিদারুণ বাস্তব ছবি হিসেবে সামনে উঠে আসবে ! কারণ আগেই বলেছি–এ রাজ্য গোবলয়ের রাজ্য নয়–এ রাজ্যরাজনীতিতে মেধাহীনদের যুক্তিতর্কহীন উন্মাদনা অগ্রাধিকার পায় না। কাজেই ভুল সিদ্ধান্তের চড়া মাশুল গুণতে হয় এ রাজ্যে–রাজ্যরাজনীতির ইতিহাসটা কিন্তু বার বার সেই প্রমাণই রেখেছে !!

এই পোস্টটি শেয়ার করুন...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ ...
© All rights Reserved © 2020
Developed By Engineerbd.net
Engineerbd-Jowfhowo
Translate »