২৩শে এপ্রিল, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ রাত ১২:০৪
ব্রেকিং নিউজঃ
জুলাইয়ের আগে করোনার টিকা রপ্তানি অনিশ্চিত : সেরাম ইনস্টিটিউট পশ্চিমবঙ্গ ষষ্ঠ দফার ভোট মোটামুটি শান্তিপূর্ণ, সফর বাতিল মোদির এত মৃত্যু এত শূন্যতা আগামীকালের ষষ্ঠ দফার ৪৩-টি আসনে কোন দল এগিয়ে !! বাংলাদেশের ভোটার হয়ে কি ভাবে ভারতের বিধান সভায় নির্বাচন করছেন আলো রানী সরকার ? করোনায় মারা গেলেন কবি শঙ্খ ঘোষ বিজেপি মন্ত্রীসভার প্রধান মুখ হতে পারেন যাঁরা !! ঠিকাদারকে টাকা পরিশোধ না করায় থমকে গেছে উজিরপুরে বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য নির্মান কাজ ।। ধুলো বালীতে ফ্যাকাশে হয়ে আছে ম্যূরাল।। আওয়ামী লীগ নেতাকর্মিদের ক্ষোভ।। ফিরহাদের ভিডিয়ো নিয়ে কমিশনে বিজেপি, তৃণমূল প্রার্থীকে নিষিদ্ধ করার দাবি জানাল গেরুয়া শিবির পশ্চিমবঙ্গে এক দিনে মোদির ৪ সভা

মোবাইল আসক্তি শিশুদের মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতা কমিয়ে দেয়

রিপোর্টার নাম
  • আপডেট টাইমঃ রবিবার, মার্চ ১৪, ২০২১,
  • 71 সংবাদটি পঠিক হয়েছে

বর্তমানে শিশুরা মাঠে বা খোলা জায়গায় খেলা-ধূলা করার চেয়ে বেশি স্মার্টফোনে আসক্ত হয়ে পড়ছে। একটু সচেতনতার মাধ্যমে প্রাত্যহিক কিছু চর্চার মধ্য দিয়ে ধীরে ধীরে এই স্মার্টফোনে আসক্তি কমিয়ে আনা সম্ভব।

ডিজিটালাইজেশনের এই যুগে শিশুদের মোবাইল আসক্তি দিন দিন বাড়ছে। অনেক অভিভাবকদের
ব্যস্ততা বা মোবাইল আসক্তির কারণে সন্তানদের হাতে স্মার্টফোন তুলে দিচ্ছেন। যার ফলে মাত্র ৪-৫ বয়স থেকেই চোখের ও মস্তিষ্কের ক্ষতি হচ্ছে।
গবেষণায় দেখা গেছে, কেবল ২ মিনিটের জন্য ফোনে কথা বলা ও স্ক্রিনের মাধ্যমে শিশুর মস্তিষ্কের অভ্যন্তরে বৈদ্যুতিক ক্রিয়াকলাপ পরিবর্তন হয়ে যায়। মস্তিষ্কের ক্রিয়াকলাপটি মেজাজের ধরণ এবং আচরণগত প্রবণতার পরিবর্তনের কারণ। শিশুদের নতুন জিনিস শিখতে বা সঠিকভাবে মনোনিবেশ করতে সমস্যা হয়। শিশুদের অতিরিক্ত জেদ, অসামাজিকতা ও খিট্খিটে মেজাজ এর অন্যতম প্রধান কারণ।

শিশুদের মোবাইল আসক্তি বেড়ে যাওয়ার কারণে পারিবারিক বন্ধন ধারণায় পরিবর্তন আসছে বলে মনে করছেন গবেষকরা। সিএনএন অবলম্বনে চিকিৎসা মনোবিজ্ঞানীরা বলছেন, ‘স্মার্টফোনের এই আসক্তি অনেকটাই সংক্রামক। কোন ঘরে বা আড্ডায় কেউ একজন হাতে স্মার্টফোন তুলে নিলে দ্রুতই অন্যরাও একে একে হাতে নিয়ে তাতে নজর বুলাতে শুরু করেন।’

এছাড়াও, চিকিৎসা মনোবিজ্ঞানী ক্যাথেরিন স্টাইনার অ্যাডায়ার সিএনএনকে বলেন, ‘অনেক মানুষেরই কিছুক্ষণ পরপর স্মার্টফোন চেক করার বদঅভ্যাস আছে। প্রতিটি নোটিফিকেশন, লাইক, কমেন্ট এসব যেন তাদের মস্তিষ্কে একটা আনন্দ সংবাদের মতো প্রতিক্রিয়া করে এবং তারা উদগ্রীব হয়ে ফোন দেখতে শুরু করেন।’

যুক্তরাষ্ট্রের ওয়ানলাইট ইন্সটিটিউটের প্রতিষ্ঠাতা ও সভানেত্রী শারমিন আহমেদ শিশুদের মোবাইল আসক্তি কমানোর উপায় সম্পর্কে জানিয়েছেন, ‘মোবাইল নিয়ে শিশুদের আসক্তির (স্ক্রিন এডিকশন) ফলাফল শুভ নয়।’

শিশুর একাকিত্ব ঘোচাতে প্রচুর গল্প করুন। শিশুরা ছোটবেলা থেকে বড়দের অনুকরণ করে। মাতৃগর্ভে থাকাকালে গল্প শুনলেও তার মানসিক বিকাশ বৃদ্ধি পায়। তাই শিশুকে বেশি সময় দিতে হবে এবং গল্প করতে হবে।

ঘরে ইলেকট্রনিক ডিভাইসের পরিমান কমাতে হবে। কারণ শিশুরা প্রথম শিক্ষা পায় পরিবার থেকে। তাই বাবা-মাকে এক্ষেত্রে বিশেষ সতর্কতা অবলম্বন করা দরকার। যতটা সম্ভব শিশুদের সামনে মোবাইল বা ডিভাইস পরিহার করুন।

ঘরের চারদিকে শিশুদের উপযোগী রঙ, তুলি, ছবি আঁকার জিনিস, কালার পেনসিল, বিভিন্ন মিউজিক্যাল ইন্সট্রুমেন্ট (বাঁশি, সেতার, ভায়োলিন) রাখতে পারেন। এতে করে আপনার শিশু সেগুলোর প্রতি মনোযোগী হবে। এতে করে সে একা থাকলেও ছবি আঁকার চেষ্টা করবে, মিউজিক বাজানোর চেষ্টা করবে।

বাসায় প্রচুর পরিমানে বই রাখুন। শিশুদের ঘরে অবশ্যই মিনি লাইব্রেরি তৈরী করা উচিত। অবসর সময়ে অবিভাবকের বই পড়ার অভ্যাস থাকলে সন্তানও তা রপ্ত করবে।

শিশুদের প্রকৃতির সান্নিধ্যে নিয়ে যাওয়া খুব জরুরি। শিশুকে নিয়ে বাগানে বা প্রকৃতির মধ্যে খেলাধুলা করুন। লুকোচুরি খেলুন, ছোটাছুটি করুন, সময় কাটান। তাতে শিশুরা সামাজিক হয়ে উঠতে পারবে। নতুন কিছু আবিষ্কার করতে পারবে। যারা শহরে থাকেন তারা সপ্তাহে একদিন বা মাসে দুইদিন শিশুকে নিয়ে প্রকৃতির কাছে যেতে পারেন। আপনার সন্তানের মানসিক বিকাশের উন্নতি হবে।

শিশুদের ঘরে কাজে ব্যস্ত রাখতে পারেন। বিশেষ করে মায়েরা এ কাজটি করতে পারেন। আপনার সন্তানকে ছোট ছোট কাজে সহযোগিতা করা শিখতে পারেন। এতে আপনার সন্তান ঘরের কাজের প্রতি আগ্রহী হবে এবং মোবাইল আসক্তি থেকে সরে আসবে।

এই পোস্টটি শেয়ার করুন...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ ...
© All rights Reserved © 2020
Developed By Engineerbd.net
Engineerbd-Jowfhowo
Translate »