২৩শে এপ্রিল, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ রাত ১২:১৭
ব্রেকিং নিউজঃ
জুলাইয়ের আগে করোনার টিকা রপ্তানি অনিশ্চিত : সেরাম ইনস্টিটিউট পশ্চিমবঙ্গ ষষ্ঠ দফার ভোট মোটামুটি শান্তিপূর্ণ, সফর বাতিল মোদির এত মৃত্যু এত শূন্যতা আগামীকালের ষষ্ঠ দফার ৪৩-টি আসনে কোন দল এগিয়ে !! বাংলাদেশের ভোটার হয়ে কি ভাবে ভারতের বিধান সভায় নির্বাচন করছেন আলো রানী সরকার ? করোনায় মারা গেলেন কবি শঙ্খ ঘোষ বিজেপি মন্ত্রীসভার প্রধান মুখ হতে পারেন যাঁরা !! ঠিকাদারকে টাকা পরিশোধ না করায় থমকে গেছে উজিরপুরে বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য নির্মান কাজ ।। ধুলো বালীতে ফ্যাকাশে হয়ে আছে ম্যূরাল।। আওয়ামী লীগ নেতাকর্মিদের ক্ষোভ।। ফিরহাদের ভিডিয়ো নিয়ে কমিশনে বিজেপি, তৃণমূল প্রার্থীকে নিষিদ্ধ করার দাবি জানাল গেরুয়া শিবির পশ্চিমবঙ্গে এক দিনে মোদির ৪ সভা

নানা কারণে আজ প্রথম দফার ভোটে উত্তাল হল পশ্চিমবাংলা !!

রিপোর্টার নাম
  • আপডেট টাইমঃ রবিবার, মার্চ ২৮, ২০২১,
  • 29 সংবাদটি পঠিক হয়েছে

আজ প্রথম দফার ভোটে দুটি অডিও রেকর্ডিং সহ প্রধানমন্ত্রীর দু’দিনের বাংলাদেশ সফরের বিষয়গুলো বিশেষভাবে সামনে উঠে এসেছে। অডিও রেকর্ডিং প্রসঙ্গে আসার আগে প্রধানমন্ত্রীর বিদেশ সফরের দিকে একটু তাকানো যাক। যারা এ প্রসঙ্গে আমার বক্তব্যের মধ্যে মোদীর পক্ষে আমার ওকালতি খুঁজবেন তাঁরা এই কয়েক লাইন স্কিপ করে যেতে পারেন। যাইহোক, প্রথমেই একটা কথা স্পষ্ট করে নেওয়া যেতে পারে–ভারতের প্রধানমন্ত্রী বাংলার বিধানসভা ভোটে বিশেষ রাজনৈতিক ফায়দা তোলার কথা ভেবে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে অনুরোধ জানান নি, তাঁকে বাংলাদেশের দুটি জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ স্মরণ অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ জানানোর জন্যে। বাংলাদেশের স্বাধীনতার ৫০ বছর এবং সে দেশের জাতির জনক শেখ মুজিবর রহমানের জন্মশতবর্ষ পালিত হওয়ার তারিখ ঘটনাক্রমে ২৬ মার্চ পড়ে যাওয়ায় প্রতিবেশি দেশটির আমন্ত্রণে ভারতের প্রধানমন্ত্রীকে দু’দিনের সফরে বাংলাদেশ যেতে হয়েছে। বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে ভারতের ভূমিকার কথা মাথায় রেখেই হাসিনা মোদীকে আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন। ভারতের একটি অঙ্গরাজ্যের ভোটের কারণে ভারতের প্রধানমন্ত্রীর কূটনৈতিক বিদেশ সফরকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করার সাংবিধানিক অধিকার নির্বাচন কমিশনের আছে কিনা এবং প্রধানমন্ত্রীর ভিসা ও পাসপোর্ট বাতিল করার এক্তিয়ারও নির্বাচন কমিশনের আছে কিনা আমার জানা নেই। বাংলাদেশে এর আগেও মোদী ঢাকেশ্বরী মন্দির সহ কিছু মঠ-মন্দিরে গিয়েছেন। এবারেও তিনি যশোরেশ্বরী কালীমন্দিরে গেছেন। ওড়াকান্দি গ্রামে মতুয়া সম্প্রদায়ের আদি মন্দির দর্শনেও গেছেন। এতেই বাংলার রাজ্যরাজনীতিতে গোল বেধেছে। বাংলায় মতুয়া অধ্যুষিত আসনের সংখ্যা ৩৫-থেকে ৪০-এর মতো। এই আসনগুলিতে মতুয়াদেরই নির্ণায়ক ক্ষমতা রয়েছে। বাংলাদেশে প্রধানমন্ত্রীর মতুয়াদের আদি মন্দির দর্শন ও সেখানে তাঁর দলের মতুয়া সাংসদ শান্তনু ঠাকুরের ঢালাও প্রশংসা–এই বাংলার ভোটে মতুয়াদের বিশেষভাবে প্রভাবিত করতে পারে এই আশঙ্কাটা মিথ্যেও নয়। কিন্তু পরষ্ট্রনীতির প্রতি রাষ্ট্রীয় দায়বদ্ধতার প্রশ্নটিকে নির্বাচন কমিশন কিভাবে দেখবে তা আমি জানি না, তবু প্রধানমন্ত্রী নির্বাচনী বিধি ভঙ্গ করেছেন–এই অভিযোগ বিশেষ মান্যতা পাবে বলে আমার মনে হয় না। কারণ, নির্বাচন চলাকালীন সময়েও যদি প্রধানমন্ত্রী ঠাকুরনগরের মতুয়া-মন্দির দর্শনে এসে শান্তনু ঠাকুরের ঢালাও প্রশংসা করতেন–সেটা কি নির্বাচনী বিধিভঙ্গের বিষয় হতো? নির্বাচনী প্রচারের মধ্যে মন্দিরে মন্দিরে পুজো দেওয়ার ধুম পড়ে যায় এ দেশে–মসজিদ-গুরুদ্বার দর্শনেও কোনো খামতি থাকে না। সুতরাং ধর্মীয় ভাবাবেগ তৈরির সুযোগ এসব ক্ষেত্রেও থাকে। এখন দেখা যাক–নির্বাচন কমিশন কি পদক্ষেপ গ্রহণ করেন !
আজই–অর্থাৎ প্রথম দফার ভোটের সকালে ৯-২৭ মিনিটে মুখ্যমন্ত্রী তথা তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বিজেপি’র তমলুক জেলা সংগঠনের সভাপতিকে ফোন করে তৃণমূলের হয়ে কাজ করার অনুরোধ জানিয়েছেন। ভোটের দিন সকালেই তাঁর এই অনুরোধের নৈতিকতা নিয়ে বা তিনি যাকে ফোন করেছিলেন তার এই ফোন রেকর্ডিং প্রকাশ করে দেওয়ার নৈতিকতা নিয়ে আমি কোনো কথা বলছি না। মহামাত্য মুখপাত্র শ্রীমান কুণাল ঘোষ যথারীতি তাঁর নিজস্ব ভঙ্গিতে বার বার দাবি করেছেন তাঁর দলনেত্রী এক অভিমানী প্রাক্তন দলীয় কর্মীকে ফোন করে দলে ফিরিয়ে আনার জন্যে নিতান্তই সৌজন্যমূলক ফোন একশোবার করতে পারেন। প্রাক্তন ব্যাপারটা অতীতের ব্যাপার–বর্তমানের সত্য হল এই যে তিনি প্রথম দফার ভোটের সকালেই ফোন করেছিলেন বিজেপি’র তমলুক জেলা সাংগঠনিক সভাপতি প্রলয় পাল-কে। মহামাত্য মুখপাত্র নানান ধরণের যুক্তি সাজিয়ে বিষয়টিকে নির্ভেজাল বৈধতা দেওয়ার প্রাণপণ চেষ্টা করেছেন–বিষয়টিকে ‘মহৎ’ হিসেবে উপস্থাপনের চেষ্টা সুব্রত মুখোপাধ্যায়ও করেছেন। কিন্তু তাতে অনিবার্য্যভাবেই উঠে আসা প্রচুর অস্বস্তিকর প্রশ্নের উত্তর পাওয়া যায় নি। অভিমানী প্রাক্তনী’র মান ভাঙানোর চেষ্টা আজকেই করতে হল কেন? শুভেন্দু’র দলত্যাগের পরপরই তো করা যেত–কিংবা নির্বাচনের পর? কেন সেটা করা গেল না তার কারণ হিসেবে যেসব বিষয় নিয়ে মানুষ চর্চা শুরু করে দিয়েছে তাতে বিড়ম্বনা অনেকটাই বেড়ে গেল। প্রশ্ন উঠছে মুখ‍্যমন্ত্রী প্রলয় রায়ের তুলনায় অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ নেতা মুকুল-শুভেন্দু-রাজীব-সব‍্যসাচী-শোভন সহ আরও অনেকেরই মান ভাঙাতে সৌজন‍্যমূলক ‘মহৎ’ রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে কি ফোন করেছিলেন? করলেও মানুষ সে খবর পায় নি বা রাখে না। ফলে এ ঘটনা অস্বস্তিকর তো হবেই !
মুখ্যমন্ত্রী বার বার বলছেন, তাঁকে মেদিনীপুরে ঢুকতে দেওয়া হতো না, তিনি কিছুই জানতে পারতেন না ! তাঁর মতো ভারতবর্ষ কাঁপানো নেত্রী তথা রাজ্যের দাপুটে মুখ্যমন্ত্রীকে একটি জেলায় ঢুকতে দেওয়া হতো না–এ অভিযোগ রাজ্যবাসীর পক্ষে মেনে নেওয়া একেবারেই সহজ নয়। তাঁর এই দাবি কিন্তু তাঁর প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক দুর্বলতাকেই প্রকট করছে। কারুর পক্ষেই বিশ্বাসযোগ্য মনে হচ্ছে না। মানুষ যেটা বিশ্বাস করছে সেটা হল–মেদিনীপুর সহ গোটা জঙ্গলমহলে তাঁর দলের ভরাডুবির সম্ভাবনা জোরালো হয়ে উঠেছিল। প্রকৃতপক্ষে সেটা আর অস্বীকারের জায়গা নেই। আজকের যে ভোটচিত্র সারাদিন দেখা গেল–তৃণমূল শিবিরগুলিতে যে প্রাণহীন নৈঃশব্দ্যের ছবি উঠে এল তাতে গভীর উৎকণ্ঠা তৈরি হতেই পারে। শুধু তাই নয়–নির্বাচন নিয়ে বিরোধী দলগুলো যেভাবে নির্বাচন কমিশনে বার বার অভিযোগ-নালিশ নিয়ে ছুটে যেত–এবারে দেখা গেল সেই ছবিটা সম্পূর্ণ উল্টে গেছে–এবারে তৃণমূলকে ছুটতে হচ্ছে সংসদীয় দল নিয়ে ! জল যে প্রায় মাথা ছুঁই-ছুঁই হয়ে উঠেছে সেটা আর গোপন রাখা যাচ্ছে না। আমার পর্যবেক্ষণে কিন্তু এর সুস্পষ্ট পূর্বাভাস ছিল।
দ্বিতীয় অডিও রেকর্ডিং-এ মুকুল-শিশির বাজোরিয়ার যে কথপোকথন তুলে ধরেছেন মহামাত্য মুখপাত্র তাতে নতুন কোনো বিষয় ছিল না। চমকে ওঠার মতো চাঞ্চল্যকর তো নয়-ই, যারা এখনও শোনেন নি তারা শুনলেই বুঝবেন এই দাবি নিয়ে যে কোনো দল নির্বাচন কমিশনে যেতেই পারে। এজেন্ট নিয়োগের নতুন নিয়ম চালু হয়ে গেছে ২০১৯ সালেই। কিন্তু প্রশ্ন তা নিয়ে নয়–প্রশ্ন হল এই অডিও রেকর্ডিং মহামাত্য মুখপাত্র ঘোষমশায়ের হাতে মুকুল রায় বা বাজোরিয়া তুলে দেন নি। এটা ফোন ট্যাপিংয়ের ঘটনা। মুকুল রায় বা বাজোরিয়া যদি আদালতে যান তাহলেই ব্যাপারটা স্পষ্ট হবে।
কিন্তু একটা গুরুতর প্রশ্নও উঠে আসছে সামনে। এইভাবে যদি বিভিন্ন মানুষের কথপোকথনের রেকর্ডিং প্রকাশ্যে উঠে আসতে থাকে তাহলে তো সামাজিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে এক গভীর সমস্যা তৈরি হবে। ব্যক্তিগত আলাপচারিতায় এমন বহু প্রসঙ্গ বা কথা উঠে আসতেই পারে যা দু’জনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকা উচিত। তা কি অদূর ভবিষ্যতে থাকবে?
যাইহোক, প্রথম দফার ভোটচিত্র কিন্তু তৃণমূলের পক্ষে রীতিমতো নৈরাশ্যজনক চেহারা নিয়েছে। আগামী ১-লা এপ্রিল নন্দীগ্রামে ভোট–মমতা রবিবার থেকে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত নন্দীগ্রামেই থাকবেন। পায়ে চোট পাওয়ার পর থেকে তিনি নন্দীগ্রামে যান নি। পাঁচদিন নন্দীগ্রামে ঘাঁটি গেড়ে বসে থাকলেও লড়াইটা তাঁর পক্ষে কতটা সহজ হবে তা নিয়ে যথেষ্ট আশঙ্কা থাকছেই। নন্দীগ্রাম লাগোয়া খেজুরিতে আজ ভোটের যে চেহারা দেখা গেল তা নন্দীগ্রামে তৃণমূলের জন্যে খুব স্বস্তির নয়। কাঁথি উত্তর, কাঁথি দক্ষিণ, এগরা, ভগবানপুর, শালবনি, গড়বেতা সহ ঝাড়গ্রামের চারটি বিধানসভাই তৃণমূলকে প্রবল দুশ্চিন্তার মধ্যে ঠেলে দিয়েছে। এমন কী স্বস্তিতে থাকছেন না রামনগরের বাদশা অখিল গিরিও। হাড্ডাহাড্ডি লড়াই থেকে দূরে থাকতে পারছে না রামনগর। ওদিকে পুরুলিয়া-বাঁকুড়া নিয়ে আমার যে পূর্বাভাস ছিল তা মনে হচ্ছে না মিথ্যে হবে বলে !!

এই পোস্টটি শেয়ার করুন...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ ...
© All rights Reserved © 2020
Developed By Engineerbd.net
Engineerbd-Jowfhowo
Translate »