২২শে এপ্রিল, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ রাত ১১:২৫
ব্রেকিং নিউজঃ
জুলাইয়ের আগে করোনার টিকা রপ্তানি অনিশ্চিত : সেরাম ইনস্টিটিউট পশ্চিমবঙ্গ ষষ্ঠ দফার ভোট মোটামুটি শান্তিপূর্ণ, সফর বাতিল মোদির এত মৃত্যু এত শূন্যতা আগামীকালের ষষ্ঠ দফার ৪৩-টি আসনে কোন দল এগিয়ে !! বাংলাদেশের ভোটার হয়ে কি ভাবে ভারতের বিধান সভায় নির্বাচন করছেন আলো রানী সরকার ? করোনায় মারা গেলেন কবি শঙ্খ ঘোষ বিজেপি মন্ত্রীসভার প্রধান মুখ হতে পারেন যাঁরা !! ঠিকাদারকে টাকা পরিশোধ না করায় থমকে গেছে উজিরপুরে বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য নির্মান কাজ ।। ধুলো বালীতে ফ্যাকাশে হয়ে আছে ম্যূরাল।। আওয়ামী লীগ নেতাকর্মিদের ক্ষোভ।। ফিরহাদের ভিডিয়ো নিয়ে কমিশনে বিজেপি, তৃণমূল প্রার্থীকে নিষিদ্ধ করার দাবি জানাল গেরুয়া শিবির পশ্চিমবঙ্গে এক দিনে মোদির ৪ সভা

শিশিরবাবুর মন্তব্য ভাল চোখে দেখছেন না কেন বিজেপি নেতারা !!

রিপোর্টার নাম
  • আপডেট টাইমঃ রবিবার, মার্চ ২৮, ২০২১,
  • 35 সংবাদটি পঠিক হয়েছে

তাঁর এবং শুভেন্দু’র স্থানীয় গুণমুগ্ধদের ইচ্ছেতে সায় দিয়ে শিশিরবাবু সাংবাদিকদের সামনে বলেছেন একজন বাবা হিসেবে তিনি, তাঁর পরিবার এবং স্থানীয় লোকজন চান শুভেন্দু মুখ্যমন্ত্রী হোন। স্নেহময় পিতা হিসেবে শিশিরবাবু নির্দোষ এই ইচ্ছে প্রকাশ করে কোন দিক থেকে ‘ভাল’ করেন নি সেটা সাধারণ মানুষের কাছে বোধগম্য হচ্ছে না। তিনি বিজেপি নেতা হিসেবে প্রকাশ্য মঞ্চে ভাষণ প্রসঙ্গে তাঁর এই ইচ্ছের কথা বলেন নি। আমন্ত্রিত হয়ে অমিত শাহ এবং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী’র জনসভায় উপস্থিত হওয়ার কারণে দু’য়ে-দু’য়ে চার মিলিয়ে দেওয়ার মতো তিনি বিজেপিতে যোগ দিয়েছেন বলে যারা দাবি করছেন তাঁরা কি কোন বিজেপি নেতার হাত থেকে পতাকা গ্রহণের ছবি বা তাঁর বিজেপি সদস্য পদের নথি দেখাতে পারবেন? কোনো দলে যোগদানের একটা আবশ্যিক আনুষ্ঠানিকতা থাকে–বৈধ রীতি পদ্ধতি থাকে এবং তার মধ্য দিয়ে যেতে হয়–যা শুভেন্দু’র দলত্যাগ এবং বিজেপিতে যোগদানের মধ্যে প্রতিফলিত হয়েছিল। দীর্ঘ সংসদীয় রাজনৈতিক রীতি পদ্ধতির মধ্যে অবাধে বিচরণ করতে থাকা শিশিরবাবুও জানেন এক দল থেকে অন্য দলে যেতে হলে তাঁকে কি করতে হবে। ইতিমধ্যেই তাঁর বিরুদ্ধে দলত্যাগের এবং অন্যদলে যোগদানের প্রামাণ্য নথিপত্র ছাড়াই লোকসভার স্পীকারের কাছে নালিশ ঠুকে দেওয়া হয়েছে। স্পীকার নিশ্চয়ই শিশিরবাবুর কাছে বিস্তারিত জানতে চাইবেন। শিশিরবাবুও যথাযোগ্য উত্তরাদি দেবেন। কুণাল ঘোষের মতো তৃণমূলী মহামাত্যরা শিশিরবাবুর হিম্মতের প্রশ্ন তুলে দাবি করছেন তিনি দলের সংসদীয় পদ থেকে ইস্তফা দিচ্ছেন না কেন? কিন্তু আমার খুব অবাক লাগছে এই ভেবে যে–শিশিরবাবুর না হয় ‘হিম্মত’ নেই–তিনি দলের অনুশাসন ভঙ্গ করছেন–সাংবিধানিক রীতিনীতিও ভঙ্গ করছেন–এত কিছু করার পরেও কুণালবাবুদের হিম্মত হচ্ছে না কেন তাঁকে দল থেকে বহিষ্কার করার? এক পক্ষের হিম্মতের অভাব থাকতেই পারে–কিন্তু অমিত বিক্রমশালী অপর পক্ষে উপযুক্ত হিম্মতের অভাব দেখা দিচ্ছে কেন? কেন সে অভাব দেখা যাচ্ছে তা কারুর বুঝতে অসুবিধে হওয়ার কথা নয়–শিশিরবাবু নিজেও সেটা জানেন–তাই এ ব্যাপারে এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি সাফ জানিয়ে দিয়েছেন–আমি কিছুই করবো না–যারা আমাকে জোর করে বিজেপি’র দিকে ঠেলে দিয়েছে তারা যা পারে করুক ! প্রকৃতপক্ষে আইন ও সংবিধান মোতাবেক যে মহামাত্যদের কিছুই করার নেই প্রবল উত্তেজনায় চিড়বিড় করা ছাড়া–এটা সকলেই বুঝতে পারছেন।
শুভেন্দু কোথাও ভুল করেও দাদবি করেন নি–তিনি মুখ্যমন্ত্রী হতে চান। কিন্তু তাঁর বাবা বা তাঁর পরিবার এবং তাঁর অনুগামী সমর্থকরা একশোবার চাইতে পারেন তিনি মুখ্যমন্ত্রী হোন। শিশিরবাবু তাঁর ইচ্ছে গোপন করার কোনো চেষ্টা না করেও বলেছেন–কে মুখ্যমন্ত্রী হবেন সেটা ঠিক করবে বিজেপি দল। এটা সম্পূর্ণভাবেই তাদের এক্তিয়ারের মধ্যে পড়ে। তবু বিজেপি’র কিছু নেতার গায়ে ছ্যাঁকা লাগছে কেন? লাগারই কথা। কারণ, মুকুল-শুভেন্দু-রাজীব ও তাদের সতীর্থরা বিজেপিতে যোগ দিয়ে মরাগাঙে প্রবল জোয়ার এনে দিয়েছেন। এর পরে যদি নন্দীগ্রামে শুভেন্দুর কাছে মমতা পরাজিত হন এবং সামগ্রিকভাবে বিজেপি নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়ে যায় তাহলে শুভেন্দু-মুকুল-রাজীব লবিকে উড়িয়ে দেওয়া কোনোমতেই সম্ভব হবে না। কারণ, ইতিমধ্যেই মেদিনীপুরের মাটিতে দাঁড়িয়ে অমিত শাহ এবং নরেন্দ্র মোদী সোচ্চারে জানিয়েছেন–ইস মিট্টিকা সন্তান-ই মুখ্যমন্ত্রী বনে গা ! না, তাদের দুজনের একজনও বলেন নি–ইস বঙ্গাল কি বেটা মুখ্যমন্ত্রী বনে গা ! ফলে বিশেষ মহলে তীব্র উদ্বেগ তৈরি হয়েছে শুভেন্দুদের নিয়ে।
এরই মধ্যে–সত্যি মিথ্যে জানি না–সর্বভারতীয় সভাপতি জে পি নাড্ডাকে নাকি একটি মারাত্মক চিঠি লিখেছেন বঙ্গ বিজেপি সভাপতি দিলীপ ঘোষ–সে চিঠির প্রতিপাদ্য বিষয় থেকেই বুঝতে অসুবিধে হচ্ছে না রাজ্য জুড়ে টিকিট বন্টন নিয়ে বিজেপি সমর্থকরা এত ক্ষোভ বিক্ষোভ দেখাচ্ছেন কেন ! শুধু দিলীপ ঘোষই নন–সঙ্ঘাশ্রয়ী বেশ কিছু কট্টর হিন্দুত্ববাদী বিজেপি নেতারাও আশঙ্কা করছেন বিজেপি এই নির্বাচনে যতগুলি আসন পেতে চলেছে তার অর্দ্ধেকের বেশ খানিকটা বেশি আসনে জিতে আসবেন মুকুল-শুভেন্দু-রাজীব লবির প্রার্থীরা। ব্যাপারটা যে সেদিকেই যাচ্ছে সেটা আশঙ্কা করেই টিকিট বন্টনের বিষয়টিকে ইস্যু করে যারা ঝাঁপিয়ে পড়েছেন তাদের সিংহভাগই দিলীপ ঘোষের ভাবশিষ্য অনুগামী। যে কোনো সূত্রেই হোক এই গূঢ় ও গভীর রহস্যময় সংবাদ দলের কেন্দ্রীয় শীর্ষস্তরে পৌঁছে যেতে দেরি হয় নি। তাই অনেকটাই আচমকা রাজ্যের মানুষকে হতচকিত করে প্রধানমন্ত্রী প্রকাশ্য মঞ্চে দিলীপ ঘোষের প্রশংসা করে গেলেন। এর পরেও দলীয় বিক্ষোভ প্রদর্শন চলতে দেওয়াটা যে হিতে বিপরীত হতে পারে সেটা মনে হয় অনেকেই বুঝতে পেরেছেন। কিন্তু ভবিষ্যতে–বিশেষ করে মুখ্যমন্ত্রী নির্বাচনের প্রশ্নে দলকে যে বেজায় সমস্যার মুখোমুখি হতে হবে–তা কমবেশি সবাই বুঝতে পারছেন। এইরকম একটা পরিস্থিতিতে শিশিরবাবুর (যিনি আইনতঃ এখনও বিজেপি’র সদস্য নন এবং তৃণমূল কংগ্রেসেরই সাংসদ) ইচ্ছের কথা প্রকাশ্যে আসতেই বিজেপি’র একটি বিশেষ মহল নড়েচড়ে বসতে বাধ্য হচ্ছেন। গতকাল কাঁথিতে নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে শিশিরবাবু ও শুভেন্দুর যে গভীর কেমিস্ট্রির ছবি দেখা গেল তাতে বিজেপি’র কিছু নেতার বিচলিত বোধ করারই কথা।
ওদিকে সংখ্যালঘু ভোটব্যাঙ্কে থাবা বসাতে ভাইজানকে নিয়ে আসছে সিপিএম। ভাইজান যে ভাষায় এবং ভঙ্গিতে তাঁর বক্তব্য পেশ করেন তাতে সংখ্যালঘু মহলে বেশ খানিকটা প্রভাব পড়ে যায়। মহম্মদ সেলিম ভাইজানকে দিয়ে সেই কাজটুকুই করাতে চান। মমতাকে বেকায়দায় ফেলার যত রকমের ‘রাজনৈতিক’ প্যাঁচ তাঁর জানা আছে তার সবকটিই তিনি ব্যবহার করার সুযোগ ছাড়তে চান না। কাজেই ভাইজান যে তৃণমূলের রক্তচাপ অনেকটাই বাড়িয়ে দিতে পারেন তা নিয়ে সন্দেহ নেই। মমতাও তৈরি হচ্ছেন নন্দীগ্রামে যথাশক্তি নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়ার জন্যে। তিনি ইতিমধ্যেই ভাইপো অভিষেককে নন্দীগ্রামে পাঠিয়ে দিয়েছেন। প্রচুর তারকা নিয়ে তিনি নন্দীগ্রাম চষে বেড়াবেন হুইল চেয়ারে বসেই–এবারে যে এই হুইলচেয়ার তাঁকে কিছুটা বাড়তি সুবিধে দিতে পারে এমনটা মনে হতেই পারে। হাসপাতালে শুয়ে তিনি তাঁর চোটকে দুর্ঘটনা জনিত বললেও এখন আর রাখঢাক না করেই বলছেন–বিজেপি তাঁর পায়ে মেরেছে ! যুক্তি-তর্ক নিয়ে খুব কম মানুষই মাথা ঘামায়–বিশেষ করে গ্রামের মানুষ–ফলে তিনি এর মধ্যেই কিছুটা বাড়তি সুবিধে পেয়েই গেছেন। সেন্টিমেন্ট আরও খানিকটা বাড়িয়ে দিয়ে গেলেন অভিষেক। বাকি কাজটুকু করতে মমতা নন্দীগ্রামে যাচ্ছেন। কিন্তু শুভেন্দুর হয়ে এখনও প্রচারে আসেন নি মিঠুন এবং শিশিরবাবু। এরা দুজন শেষ মুহূর্তে নন্দীগ্রামে এলে রাজনৈতিক সমীকরণ যে বেশ কিছুটা বদলে যাবে তা নিয়ে কোনো সন্দেহ থাকার কথা নয়।
প্রথম পর্বের ভোটের চেহারা দেখেই পরবর্তী রণকৌশল তৈরি করবে সব রাজনৈতিক দল-ই। নির্বাচন কমিশনও নতুন কিছু পদক্ষেপ গ্রহণের কথা ভাবতে পারে। মাঝে আর একটা দিন–পরশু সকাল থেকেই শুরু হতে চলেছে ভোট গ্রহণপর্ব। নেতাদের পাশে নেতারা থাকেন তাই তাদের শরীরে এতটুকু আঁচড় লাগে না–রক্ত ঝড়ে হতদরিদ্র সাধারণ কর্মী-সমর্থকদের–তাদের ঘরের উঠোনগুলোই হাহাকার আর আর্তনাদে ফেটে পড়ে। বড় কষ্টের বড় যন্ত্রণার সেই হাহাকার আর্তনাদ মুক্ত ভোট হোক রাজ্যের প্রতিটি বুথে–একজন সাধারণ মানুষ হিসেবে ঈশ্বরের কাছে এইটুকু প্রার্থনাই জানাতে পারি। বাকিটা তো পুরোপুরি নির্ভর করছে রাজনৈতিক কাপালিকদের ইচ্ছের ওপর !!

এই পোস্টটি শেয়ার করুন...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ ...
© All rights Reserved © 2020
Developed By Engineerbd.net
Engineerbd-Jowfhowo
Translate »