২২শে এপ্রিল, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ রাত ১১:১০
ব্রেকিং নিউজঃ
জুলাইয়ের আগে করোনার টিকা রপ্তানি অনিশ্চিত : সেরাম ইনস্টিটিউট পশ্চিমবঙ্গ ষষ্ঠ দফার ভোট মোটামুটি শান্তিপূর্ণ, সফর বাতিল মোদির এত মৃত্যু এত শূন্যতা আগামীকালের ষষ্ঠ দফার ৪৩-টি আসনে কোন দল এগিয়ে !! বাংলাদেশের ভোটার হয়ে কি ভাবে ভারতের বিধান সভায় নির্বাচন করছেন আলো রানী সরকার ? করোনায় মারা গেলেন কবি শঙ্খ ঘোষ বিজেপি মন্ত্রীসভার প্রধান মুখ হতে পারেন যাঁরা !! ঠিকাদারকে টাকা পরিশোধ না করায় থমকে গেছে উজিরপুরে বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য নির্মান কাজ ।। ধুলো বালীতে ফ্যাকাশে হয়ে আছে ম্যূরাল।। আওয়ামী লীগ নেতাকর্মিদের ক্ষোভ।। ফিরহাদের ভিডিয়ো নিয়ে কমিশনে বিজেপি, তৃণমূল প্রার্থীকে নিষিদ্ধ করার দাবি জানাল গেরুয়া শিবির পশ্চিমবঙ্গে এক দিনে মোদির ৪ সভা

বিশিষ্টজনের অভিমত এখনই কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে

রিপোর্টার নাম
  • আপডেট টাইমঃ সোমবার, মার্চ ২৯, ২০২১,
  • 24 সংবাদটি পঠিক হয়েছে

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিবিরোধী বিক্ষোভে দেশের বিভিন্ন এলাকায় সহিংসতা ও তাণ্ডব চালিয়ে আবার আলোচনায় হেফাজতে ইসলাম। বিভিন্ন সময় ধর্মীয় গোঁড়ামি, নারী উন্নয়ন নীতির বিরোধিতা, বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্যবিরোধী বক্তব্যের মধ্য দিয়ে তারা কট্টর সাম্প্রদায়িক নীতি প্র্রদর্শন করে। নানা ইস্যু তৈরি করে বিভিন্ন সময় হেফাজত সরকারি-বেসরকারি স্থাপনায় ভাঙচুর ও হামলা চালাচ্ছে। অসাম্প্রদায়িক ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বাংলাদেশকে এগিয়ে নিতে হলে এখনই হেফাজতের মতো কট্টর সাম্প্রদায়িক শক্তিকে রুখতে হবে বলে মনে করেন বিশিষ্টজন। তাদের বিরুদ্ধে দ্রুত কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তারা।

সম্পত্তির উত্তরাধিকারে নারীদের সমঅধিকার দিয়ে প্রণীত জাতীয় নারী উন্নয়ন নীতিমালার বিরোধিতা করে ২০১০ সালে প্রথম আত্মপ্রকাশ ঘটে হেফাজতের। এর এক বছর যেতে না যেতেই জাতীয় শিক্ষানীতির বিরোধিতা শুরু করে তারা। সুপ্রিম কোর্ট চত্বরে ন্যায়বিচারের প্রতীক থেমিসের মূর্তি নিয়ে আপত্তি তোলে তারা। এক পর্যায়ে মূর্তি সরিয়ে নেওয়া হয়েছিল।

২০১৩ সালের ৫ মে প্রায় ১২ ঘণ্টা ঢাকা অবরোধ করে রেখেছিল হেফাজতের সহিংস নেতাকর্মীরা। রাজধানীর শাপলা চত্বরে ৫ মের লাগাতার অবস্থান সমাবেশ রাতে পুলিশি অভিযানে ভেঙে দিতে হয়েছিল। ব্লগারদের নাস্তিক উল্লেখ করে ৮৪ জনের একটি তালিকা দেয় সংগঠনটির তৎকালীন আমির মাওলানা আহমদ শফীর হেফাজত। রাজীব, অভিজিৎসহ সেই তালিকার অনেকেই পরে হত্যাকাে র শিকার হয়েছেন।

বিভিন্ন সময়ে ধর্মীয় আবেগপূর্ণ ইস্যু তৈরি করে সমাজে চাপ সৃষ্টিকারী শক্তি হিসেবে উঠে আসার পটভূমিতে সরকার তাদের মাদ্রাসা সংক্রান্ত দাবি-দাওয়ার প্রতি নমনীয়তা দেখায়। ২০১৮-এর সংসদ নির্বাচনের আগে কওমি মাদ্রাসার দাওরায়ে হাদিস ডিগ্রিকে হঠাৎ করে বিশ্ববিদ্যালয়ের মাস্টার্সের সমমানের মর্যাদা দেয় সরকার আইন করে। এরপর হেফাজত অনেকটা নরম ভূমিকায় চলে যায়।

হেফাজতের কর্মকাণ্ডের ওপর নজর রাখেন এমন একজন দায়িত্বশীল উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা সমকালকে জানান, মাওলানা আহমদ শফী মারা যাওয়ার পর হেফাজতের ভেতরে একাধিক গ্রুপ ও উপগ্রুপ তৈরি হয়। হেফাজতের দায়িত্ব পান জুনায়েদ বাবুনগরী। হেফাজতের একটি বড় অংশকে এখন নিয়ন্ত্রণ করছেন মুফতি ইজাহার ও মাওলানা মামুনুল হক। অভিযোগ আছে, মুফতি ইজাহারের সঙ্গে জঙ্গিগোষ্ঠী হরকাতুল জিহাদের সখ্য দীর্ঘদিনের। এ ছাড়া মাওলানা মামুনের সঙ্গে জামায়াত-শিবিরের ঘনিষ্ঠতা রয়েছে।

তাদের নেতৃত্বে হেফাজত ক্রমশ শক্তি প্রদর্শনে রাজপথে নামতে শুরু করে। গত তিন দিনের কর্মসূচিতে হেফাজতে ইসলামের নেতাকর্মীরা রেলস্টেশন পোড়ানো, ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা পরিষদ কার্যালয়, পৌরসভা কার্যালয়, পৌর মিলনায়তন, জেলা গণগ্রন্থাগার, আলাউদ্দিন সংগীতাঙ্গন, আনন্দময়ী কালীবাড়ি, ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত ভাষা চত্বরে আয়োজিত উন্নয়ন মেলার অন্তত অর্ধশত স্টল, জেলা আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদকের কার্যালয় ও বাড়ি, জেলা ছাত্রলীগ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের বাড়িতে অগ্নিসংযোগ করে। এ ছাড়া ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রেস ক্লাব ভবনেও হামলা চালায় হেফাজত কর্মীরা।

যোগাযোগ করা হলে গতকাল বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইমেরিটাস অধ্যাপক সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী সমকালকে বলেন, হেফাজতের বিপদ সম্পর্কে আমরা আগে থেকেই অবগত ছিলাম। তাদের নানাভাবে প্রশ্রয় দেওয়া হয়েছে। তাদের সঙ্গে এক ধরনের আপসকামিতার নীতি গ্রহণ করা হয়েছিল। দেশে মাদ্রাসার যে শিক্ষা ব্যবস্থা, এটা নিয়ে আরও গভীরভাবে ভাবতে হবে। তারা ভালো চাকরি পাচ্ছে না। এক ধরনের হতাশা ও বঞ্চনা তাদের মধ্যে রয়েছে। সেটার বহিঃপ্রকাশও তারা ঘটাচ্ছে।

হেফাজতের কর্মকাণ্ডের ব্যাপারে জানতে চাইলে একাত্তরের ঘাতক-দালাল নির্মূল কমিটির সভাপতি শাহরিয়ার কবির বলেন, হেফাজত একটি ভয়ংকর সন্ত্রাসী সংগঠন। সন্ত্রাসবিরোধী আইনের সব ক’টি ধারা প্রয়োগ করেই হেফাজতকে নিষিদ্ধ করা যায়। তারা বারবার যে তা ব চালাচ্ছে এরপরও যদি তাদের ছাড় দেওয়া হয় তাহলে বাংলাদেশ, মুক্তিযুদ্ধ ও বঙ্গবন্ধু- এর কিছু থাকবে না। হেফাজতের পেছনে আরও অনেক শক্তি যুক্ত হয়েছে। জামায়াত-শিবির তাদের সঙ্গে আছে। অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশের চেতনা সমুন্নত রাখতে হলে হেফাজতের মতো একটি ধর্মান্ধ সংগঠনের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে।

সমাজ উন্নয়নকর্মী খুশী কবির বলেন, হেফাজত আমাদের ৫০ বছরের ইতিহাসকে মুছে ফেলতে চাচ্ছে। তারা দেশকে পাকিস্তান বানাতে চায়। অধিকাংশ মাদ্রাসা তারা নিয়ন্ত্রণ করছে। সেখানে ছোট ছোট বাচ্চাকে মগজধোলাই করে সহিংসতায় জড়ানো হচ্ছে। তারা প্রগতি ও নারীর স্বাধীনতায় বিশ্বাস করে না। তারা চায় পশ্চাৎপদ সমাজ। বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্যের বিরোধিতা করার দৃষ্টতা তারা দেখিয়েছে। এ ধরনের কট্টর সাম্প্রদায়িক সংগঠনের কার্যক্রম দেশে কেউ দেখতে চায় না। এত কিছুর পর হেফাজতকে কেন ছাড় দেওয়া হচ্ছে?

খুশী কবির আরও বলেন, এর আগেও ঢাকায় ৫ মে তাদের তাণ্ডব আমরা দেখেছি। তারা কোরআন শরিফ পুড়িয়েছিল। সরকারি অফিস জ্বালিয়ে দিয়েছিল। গাছ কেটে ফেলেছিল। ওই কর্মসূচিতে তাদের কর্মীদের মৃত্যুর সংখ্যা নিয়ে অধিকার নামের সংগঠন মিথ্যাচার করেছিল। কোনো যাচাই-বাছাই না করেই হেফাজতের কাছ থেকে তালিকা নিয়ে তা বিশ্বব্যাপী প্রচার করে দেওয়া হয়।

এই পোস্টটি শেয়ার করুন...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ ...
© All rights Reserved © 2020
Developed By Engineerbd.net
Engineerbd-Jowfhowo
Translate »