২২শে এপ্রিল, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ রাত ১০:৪৮
ব্রেকিং নিউজঃ
জুলাইয়ের আগে করোনার টিকা রপ্তানি অনিশ্চিত : সেরাম ইনস্টিটিউট পশ্চিমবঙ্গ ষষ্ঠ দফার ভোট মোটামুটি শান্তিপূর্ণ, সফর বাতিল মোদির এত মৃত্যু এত শূন্যতা আগামীকালের ষষ্ঠ দফার ৪৩-টি আসনে কোন দল এগিয়ে !! বাংলাদেশের ভোটার হয়ে কি ভাবে ভারতের বিধান সভায় নির্বাচন করছেন আলো রানী সরকার ? করোনায় মারা গেলেন কবি শঙ্খ ঘোষ বিজেপি মন্ত্রীসভার প্রধান মুখ হতে পারেন যাঁরা !! ঠিকাদারকে টাকা পরিশোধ না করায় থমকে গেছে উজিরপুরে বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য নির্মান কাজ ।। ধুলো বালীতে ফ্যাকাশে হয়ে আছে ম্যূরাল।। আওয়ামী লীগ নেতাকর্মিদের ক্ষোভ।। ফিরহাদের ভিডিয়ো নিয়ে কমিশনে বিজেপি, তৃণমূল প্রার্থীকে নিষিদ্ধ করার দাবি জানাল গেরুয়া শিবির পশ্চিমবঙ্গে এক দিনে মোদির ৪ সভা

অকৃতজ্ঞ বাংলাদেশ মুক্তিযুদ্ধে ভারতের কোন স্মৃতি চিন্থের অস্তিত্ব রাখেনি।

রিপোর্টার নাম
  • আপডেট টাইমঃ মঙ্গলবার, মার্চ ৩০, ২০২১,
  • 56 সংবাদটি পঠিক হয়েছে

যে কারণে পাকিস্তানের সাথে ভারতের সম্পর্ক খারাপ ঠিক প্রায় একই কারনে বাংলাদেশের সাথেও ভারতের সম্পর্ক খারাপ।কারন ভারত বিদ্বেষী মনোভাব কোন সময়ই পাকিস্তান বা বাংলাদেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ মুসলমানের মন থেকে মুছে ফেলা যায়নি।মুক্তিযুদ্ধের সময়টা মনে হতে পারে একটি ব্যতিক্রম।কিন্তু আসলে তা নয়।সেই সময় টায় বুঝা না গেলেও এখন পরিস্কার বুঝা যাচ্ছে মুক্তিযুদ্ধের সময় যারা বাংলাদেশে অবস্থান করছিলেন তাদের মধ্যে সিংহভাগ মানুষ স্বাধীনতার পক্ষে ছিলেন না।ভারতীয় বাহিনী ছিল কেবলই একটি ভাড়াটিয়া বাহিনী। মুক্তিযুদ্ধে ভারতের ৪ হাজার মতান্তরে ১৭ হাজার সেনাবাহিনীর জওয়ান মারা গিয়েছিলেন।কিন্তু অত্যন্ত পরিতাপে বিষয় তাদের উদ্দেশ্যে সারা বাংলাদেশ জুড়ে একটিও স্মৃতি সৌধ খুঁজে পাবেন না।যে নেত্রীর চাতুর্য্যে সারা পৃথিবীকে তাঁক লাগিয়ে অস্ত্র দিয়ে ট্রেনিংদিয়ে রসদ জোগিয়ে ১ কোটি শরনার্থীদের ভরনপোষণ করে সর্বশেষ নিজের সেনাবাহিনী কাজে লাগিয়ে বাংলাদেশকে একটি নুতন দেশ উপহার দিয়েছিলেন। সেই নেত্রীর কোন স্মৃতি বাংলাদেশে নেই।সোহরাওয়ার্দি উদ্দানে ইন্দিরা গান্ধীর নামে একটি মঞ্চ ছিল বিদ্বেষের রোশানলে পড়ে সেই ইন্দিরা মঞ্চটিও উদাও হয়ে গিয়েছে।এই অকৃতজ্ঞতার নজির সারা পৃথিবীতে দ্বিতীয়টি নেই। নইলে এত রক্ত এত ত্যাগ তিতিক্ষার পরেও মুক্তিযুদ্ধের আদর্শ চেতনা টিকিয়ে রাখা গেল না কেন?
সেদিন সদ্য ভূমিষ্ঠ একটি মানচিত্রকে সমর্থন দিতে গিয়ে প্রয়াত ভারতের প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধীকে Old bitch(কুত্তি)নামকরণে ভূষিত হতে হয়েছিল যাকে ছোট বেলায় রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর প্রিয়দর্শিনী
নাম রেখেছিলেন।এই ভদ্রমহিলার ত্যাগ তিতিক্ষার ঋন কোনদিন বাংলাদেশীরা দিতে পারবেনা।কিন্তু বাংলাদেশের অধিকাংশ জনগন সেই ঋনের কথা বেমালুম ভুলে গিয়েছেন।মুক্তিযুদ্ধের সময় আমেরিকার সাবেক প্রেসিডেন্ট রিচার্ড নিক্সন চীন সফররত পররাষ্ট্রমন্ত্রী হেনরি কিসিঞ্জারের সাথে আলাপচারিতার এক পর্য্যায়ে ভারতের প্রধানমন্ত্রীর প্রসঙ্গ আসতেই কুত্তি বলে গালি দিয়েছিলেন।ইংরেজিতে পুরো লাইনটা ছিল,”we really slobbered over the old bitch”. ইন্দিরা গান্ধী এই নোংরা গালিটি খেয়েছিলেন লাল সবুজের একটি স্বাধীন দেশের জন্ম লগ্নে।এই গালি খেয়েও ইন্দিরা গান্ধী চুপ করে বসে থাকেননি।তিনি সারা বিশ্বের ২৪টি দেশের রাষ্ট্রপ্রধানের দুয়ারে দুয়ারে ঘুরে মানুষ হত্যার বিবরন তুলে ধরে সমর্থন চেয়েছিলেন এবং দীর্ঘ ৯মাস ১কোটি ভুখা উদ্বাস্তুদের খাইয়েছিলেন।অথচ সেই সময় দেশের উত্তরাঞ্চলে ফসল হয়নি বলে লাখ লাখ মানুষ না খেয়ে ছিলেন।শেখ সাদী বলেছিলেন,”কৃতজ্ঞ কুকুর অকৃতজ্ঞ মানুষের চেয়ে শ্রেয়।
মুক্তিযুদ্ধ সাময়িক জাতিকে ভুলিয়ে রেখেছিল ভারত বিদ্বেষ।নতুন দেশ নতুন পতাকা নতুন জাতীয় সঙ্গীত পাওয়ার উত্তেজনায় আমরা সবাই আবেগ উচ্ছাসের জোয়ারে ভাসছিলাম।কিন্তু খুব একটা বেশী সময় লাগেনি এই ঘোর কাটতে।ধীরে ধীরে জেগেছে তৌহিদি জনতা পুরনো দাবি নিয়ে।জাতি বিদ্বেষকে শিখন্ডি করে একে একে মুক্তিযুদ্ধের সব আদর্শ চেতনা হারিয়ে গেল ইসলামের শানিত তলোয়ারের নীচে।দেশের বাস্তবতা মানতে হবে।দেশের সিংহভাগ মানুষের অনুভূতিকে গুরুত্ব দিয়ে মুক্তিযুদ্ধের নেতৃত্বদানকারী দল আত্মসমর্পণ করে প্রমাণ করেছে কোন মুসলিমই ইসলাম ধর্মের উর্ধে নয়।যে শেখ হাসিনা মা-বাবা-ভাই আত্মীয় স্বজনসহ সর্বস্ব হারিয়ে দেশে এসেছিলেন তিনিও ভুলে গেলেন অতীত।চেষ্টা করেছিলেন বাপের আদর্শ টিকিয়ে রাখতে কিন্তু পারেননি।
বাংলাদেশ রাষ্ট্রীয় ভাবে শক্তির ভারসাম্য এবং ভৌগোলিক কারনে ভারতের সাথে সুসম্পর্ক বজায় রাখে।এছাড়া বন্ধুত্ব সম্প্রীতি পরধর্ম সহনশীলতা বৈষমহীন সমাজ ব্যবস্থা এসব শুধু প্রচারেই সীমাবদ্ধ।বাস্তবে বাংলাদেশে এসবের কোন অস্তিত্ব নেই।কল্পনায় আঁকা হয় হিন্দু-মুসলিম সম্প্রীতির কথা।প্রকৃতপক্ষে ইসলাম ধর্মই সকল মুসলমানকে এক অখন্ড ঐক্যসূত্রে বেধে রেখেছে।ইসলাম ধর্মই সকল মুসলমানের অনুপ্রেরণার মূল উৎস।হাজার বছর ধরে এই উপমহাদেশে মুসলমানরা বাস করেও তাদের স্বাতন্ত্র হারায়নি।সকল জাতিই নিজ নিজ ধর্মে বিশ্বাস করে কিন্তু ব্যতিক্রম মুসলিমরা।তারা শুধু বিশ্বাসই করে না তাদের রাষ্ট্রীয় নীতিও ধর্মের অভিন্ন সূত্রে গাথা।তাই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সংসদে দাঁড়িয়ে বলেন মদিনা সনদ অনুসারে দেশ পরিচালিত হবে।
গৌরবোজ্জ্বল মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে বাংলাদেশ বিজয় ছিনিয়ে এনেছিল।কত মায়ের বুক খালি হয়েছিল কত নারী তার সম্ভ্রম হারিয়েছিলেন কত পরিবার সর্বশান্ত হয়েছে এই স্বাধীনতার জন্য আর আজ সব চাপা পড়ে গিয়েছে ভারত বিদ্বেষের রোষানলে।কত আশা ছিল দেশটি হবে অসাম্প্রদায়িক আর হল সাম্প্রদায়িক একটি দেশ যার রাষ্ট্র ধর্ম হল ইসলাম।যারা প্রবীণ তারা মনে করে দেখেন এই বাংলা মুজিবের বাংলা নয় এ বাংলা জীবনানন্দ দাসের বাংলা নয় এ বাংলা নজরুলের বাংলা নয়।এ বাংলা ইসলামের বাংলা এ বাংলা জাতি বিদ্বেষীদের বাংলা এ বাংলার জন্য আমরা যুদ্ধ করিনি।যারা ভাবছেন গোটা পৃথিবীতে আমরা সবাই পাশাপাশি শান্তিতে থাকব হিন্দু মুসলিম আমরা সবাই ভাই ভাই।দাঙ্গা হবে না লাশ পড়বে না।কারন অন্তত মুসলিম ধর্মের বিধান মতে সারা পৃথিবীতে অন্যকোন ধর্মের লোক তাদের ভাই হওয়ার যোগ্যতা রাখেনা।এমনকি মুসলিমদের মধ্যেও শিয়ারা সুন্নিদের সুন্নিরা শিয়াদের কোপাচ্ছে।সেখানে সনাতনীরা তো কোন ছার।
বাংলাদেশে যে ভারত বিদ্বেষী মনোভাব চরম আকার ধারণ করবে তা আচ করা যাচ্ছিল ভারতে বিজেপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকেই।এতদিন যারা ভারতের ক্ষমতায় ছিলেন তাদের সাথে বর্তমান বিজেপি সরকারের মৌলিক পার্থক্য রয়েছে।যে কারনে ভারত বিদ্বেষ বর্তমান বিজেপি সরকার তার মূলে হাত দিয়েছে যা এতদিন ভারতের অন্যকোন সরকার হস্তক্ষেপ করেনি।বিগত সরকারগুলো মুসলিম তোষণ করে দেশকে এমন এক জায়গায় নিয়ে গিয়েছিল যে ভারত যে একটি হিন্দু সংখ্যাগরিষ্ঠ রাষ্ট্র তার অস্তিত্ব সংকট দেখা দিয়েছিল।যারজন্য বিজেপি সরকার বাধ্য হয়ে এমন কতগুলো কড়া পদক্ষেপ নেয় যার প্রেক্ষিতে বাংলাদেশ তো বটেই সারা পৃথিবীর মুসলিম জাহান আতংকিত হয়ে পড়ে।প্রথমে বিজেপি কাশ্মীরে- ৩৭০ ধারা এবং ৩ তালাক বাতিল করে তারপর সংশোধিত নাগরিকত্ব আইন পাশ করে মুসলিম জাহানের গালে একটি থাপ্পড় বসিয়ে দেয়।নাগরিকত্ব আইনে প্রতিবেশী দেশ থেকে নির্যাতন নিপীড়ন এবং ধর্মান্তকরনের স্বীকার হয়ে যে সমস্ত সংখ্যালঘু হিন্দু বৌদ্ধ খৃস্টান জৈন এবং শিখেরা ভারতে আশ্রয় নিয়েছিলেন তাদের নাগরিকত্ব দেয়ার সিদ্ধান্তে বাংলাদেশ নাখোশ হয়।মুসলিমদের বাদ দিয়ে কেন এই নাগরিকত্ব।যেভাবে অবৈধ বাংলাদেশী মুসলিমরা ভারতে অবস্থান করছিল তাতে ভারতের ভূ-প্রকৃতি বদল হওয়ার উপক্রম হয়ে পড়েছিল।আর এই আইন পাশ হওয়াতে প্রত্যক্ষভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে বাংলাদেশী অনুপ্রবেশকারীরা।সারা পৃথিবীর কোন মুসলিম কান্ট্রিতে অবৈধভাবে একটি লোকও বসবাস করতে পারেনা।কিন্তু ভারত তার দেশে অবৈধ অনুপ্রবেশকারীদের থাকতে দিতে হবে।ভারত সেটি মানেনি।এতে শুধু বাংলাদেশ নয় সারা পৃথিবীর মুমিনদের মাথায় বাজ পড়েছে।ভারতের এই সরকার নিজেদের স্বার্থ জলাঞ্জলি দিয়ে কারো রক্ত চক্ষুকে পরোয়া করে না বলেই মোদি সারা পৃথিবীর মুমিনদের কাছে এত চক্ষুশূল।ভারত বিদ্বেষের দ্বিতীয় কারনটি ছিল দেশভাগের পরে এই প্রথম ভারতীয় সংসদে বাংলাদেশে হিন্দু সম্প্রদায়ের প্রতি হত্যা,ধর্মান্তকরন,পুড়িয়ে মারার মতো কিছু নৃশংস ঘটনার তালিকা তুলে ধরা হয়েছিল।এতে বাংলাদেশ সরকার বেকায়দায় পড়েছিল। ভারতের ধর্মশালা হয়ে থাকতে হবে এই নীতি থেকে ভারত সরে এসেছে।এতে প্রতিবেশীদের মধ্যে ক্ষোভ এবং আতংকে ভারত বিদ্বেষ কয়েক গুন বেড়ে গিয়েছে।ভারত তার অভীষ্ট লক্ষে অবিচল।

এই পোস্টটি শেয়ার করুন...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ ...
© All rights Reserved © 2020
Developed By Engineerbd.net
Engineerbd-Jowfhowo
Translate »