২২শে এপ্রিল, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ রাত ১১:৩৮
ব্রেকিং নিউজঃ
জুলাইয়ের আগে করোনার টিকা রপ্তানি অনিশ্চিত : সেরাম ইনস্টিটিউট পশ্চিমবঙ্গ ষষ্ঠ দফার ভোট মোটামুটি শান্তিপূর্ণ, সফর বাতিল মোদির এত মৃত্যু এত শূন্যতা আগামীকালের ষষ্ঠ দফার ৪৩-টি আসনে কোন দল এগিয়ে !! বাংলাদেশের ভোটার হয়ে কি ভাবে ভারতের বিধান সভায় নির্বাচন করছেন আলো রানী সরকার ? করোনায় মারা গেলেন কবি শঙ্খ ঘোষ বিজেপি মন্ত্রীসভার প্রধান মুখ হতে পারেন যাঁরা !! ঠিকাদারকে টাকা পরিশোধ না করায় থমকে গেছে উজিরপুরে বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য নির্মান কাজ ।। ধুলো বালীতে ফ্যাকাশে হয়ে আছে ম্যূরাল।। আওয়ামী লীগ নেতাকর্মিদের ক্ষোভ।। ফিরহাদের ভিডিয়ো নিয়ে কমিশনে বিজেপি, তৃণমূল প্রার্থীকে নিষিদ্ধ করার দাবি জানাল গেরুয়া শিবির পশ্চিমবঙ্গে এক দিনে মোদির ৪ সভা

নাম সৌরভ হওয়ায় ‘কলমা পাঠ’

রিপোর্টার নাম
  • আপডেট টাইমঃ বৃহস্পতিবার, এপ্রিল ১, ২০২১,
  • 85 সংবাদটি পঠিক হয়েছে

ধর্মভিত্তিক সংগঠন হেফাজতে ইসলামের ডাকা হরতালে রোববার নারায়ণগঞ্জের মৌচাক এলাকায় তথ্য সংগ্রহ ও ছবি তোলার সময় সংগঠনটির কর্মীদের হাতে লাঞ্ছিত হয়েছেন দৈনিক সংবাদের নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি সৌরভ হোসাইন সিয়াম। এ সময় সিয়ামের ধর্মীয় পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার জন্য তাকে ‘কলমা’ পাঠ করানো হয়।

ঢাকা-চট্টগ্রাম ও ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের মাদানীনগর মাদ্রাসা এলাকার রাস্তা রোববার দুপুরে অবরোধ করে সেখানে গাড়িতে আগুন জ্বালিয়ে দেয় হরতাল সমর্থকেরা। সিয়াম সেই ঘটনার ছবি তোলার সময় হেফাজত কর্মীদের রোষানলে পড়েন।

নিজের নাম প্রথমে সৌরভ বলাতে তাকে হিন্দু মনে করা হয়। বেধড়ক পেটানো হয় তাকে। পরে তিনি নিজেকে মুসলিম পরিচয় দিয়ে পুরো নাম বলার পর ধর্মীয় পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার জন্য তাকে কলমা পড়তে বলা হয়।

রাতে এক ফেসবুক স্ট্যাটাসে এ বিবরণ দিয়েছেন সিয়াম নিজে।

সিয়াম তার স্ট্যাটাসে লিখেছেন: ‘রোববার দিনভর সংবাদকর্মীদের প্রতি হিংস্রতা দেখিয়েছে হেফাজতের হরতালে থাকা পিকেটাররা। হেফাজতের হামলার শিকার আমি সৌরভ হোসেন সিয়াম নিজে। তাদের কাছে আমার পরিচয় নিশ্চিত করতে হয়েছে। চার কলমার দুই কলমা মুখস্থ বলতে হয়েছে। কয়টা সুরা মুখস্থ তা জানাতে হয়েছে।’

সিয়াম নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আমি নারায়ণগঞ্জ জেনারেল হাসপাতাল থেকে চিকিৎসা নিয়ে বাড়িতে অবস্থান করছি। ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী ওষুধ নিয়েছি। তবে গায়ে এখন জ্বর ও ব্যথা আছে অনেক। এ বিষয়ে আমি থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করব।’

যা হয়েছে রোববার দিনভর

হেফাজতের হরতালে চলাকালে রোববার ভোর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে সাইনবোর্ড মোড় থেকে শিমরাইল মোড় পর্যন্ত সংবাদ সংগ্রহের কাজে ঢাকা ও নারায়ণগঞ্জের অন্তত ২০ জন সাংবাদিক হামলার শিকার হয়। ছবি নিতে গেলে বা পরিচয়পত্র ঝুলিয়ে রাস্তা পারাপারের সময় একের পর এক হামলার শিকার হয়েছেন তারা।

শিরাইরাইলের কাছাকাছি জায়গায় হামলার শিকার হন নিউএইজের সাংবাদিক মোক্তাদির রশিদ রোমিও। তার সঙ্গে ছিলেন আরটিভি অনলাইনের একজন সাংবাদিক।

দুজন মহাসড়ক ধরে যাওয়ার পথে তাদের আটকায় কয়েকজন পিকেটার। পরিচয়পত্র দেখানোর পর তাদের ছাড়া হয়নি।

‘সঠিক নিউজ প্রচার হচ্ছে না’ দাবি করে রোমিও মাথায় বাঁশের লাঠি দিয়ে আঘাত করা হয়। হেলমেট মাথায় থাকায় রোমিও খুব একটা আঘাত না পেলেও তার হেলমেটটি ভেঙে গেছে।

নাম সৌরভ হওয়ায় ‘কলমা পাঠ’
দিনভর ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের নারায়ণগঞ্জ অংশে আক্রমণাত্মক ছিল হেফাজত কর্মীরা

রোমিও নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আমাকে আটকানোর পর তারা কোনো কথাই শুনছিল না। আইডি কার্ড দেখানোর পর তারা আরও ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে। একজন আমার মাথায় আঘাত করে। ভাগ্যক্রমে বেঁচে যাই। এরপর তাদেরই দুজন আমাকে সড়িয়ে নিয়ে আসে।’

রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে থাকা বেসরকারি টেলিভিশন নিউজ টোয়েন্টিফোরের একটি গাড়ি সানারপাড় মোড়ের কাছে দাঁড়ানো ছিল। পিকেটাররা চালককের মারধর করে গাড়ির চাবি রেখে দেয়। এরপর গাড়িটি ভেঙে চুরমার করা হয়।

এক পর্যায়ে পিকেটারদেরই একজন গাড়িটি চালিয়ে রাস্তায় মাঝখানে নিয়ে আসে জ্বালিয়ে দেয়ার জন্য।

এ সময় নারায়ণগঞ্জের স্থানীয় দুজন সাংবাদিক পিকেটারদের দিকে এগিয়ে যান। তাদের অনুরোধে গাড়িটি না জ্বালিয়ে চাবি ফিরিয়ে দেয় পিকেটাররা।

সাইনবোর্ড এলাকায় ছবি তুলতে গিয়ে হামলার শিকার হয়েছেন নিউজবাংলা টোয়েন্টিফোরের নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি বিল্লাল হোসাইন।

তার মোবাইল ফোনটি কেড়ে নিয়ে যায় পিকেটাররা। এরপর ওই এলাকা থেকে নিরাপদ স্থানে সড়ে আসেন তিনি।

নাম সৌরভ হওয়ায় ’কলমা পাঠ’
দিনভর হেফাজত কর্মীরা ছিল মারমুখী। তাদেরকে মোকাবিলায় পুলিশের পাশাপাশি বিজিবি সদস্যদেরকেও হিমশিম খেতে হয়

গাড়িতে আগুনের ফুটেজ নেয়ার সময় মারধরের শিকার হয়েছেন জিটিভির ক্যামেরাপারসন মাসুদুর রহমান। মাথা ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত পেয়েছেন তিনি।

মূল সড়ক ধরে সানারপাড় বাসস্ট্যান্ড থেকে মৌচাকের দিকে যাওয়ার পথে বেধড়ক মারধরের শিকার হয়েছে ইনডিপেনডেন্ট টেলিভিশনের সাংবাদিক এম কে রায়হান ও বৈশাখী টেলিভিশনের আশিক মাহমুদ।

ধাওয়া করে তাদের মারধর করে হরতাল সমর্থক একদল যুবক। ছিনিয়ে নেয় মোবাইল ফোন।

আশিক মাহমুদ বলেন, “আমরা কোনো ছবি তুলছিলাম না, এমনকি ফোনও আমাদের হাতে ছিল না। পুলিশ পিকেটারদের হটিয়ে সামনে যাওয়ার পর আমাদের পেয়ে ‘এই ধর সাংবাদিক, পিঠা, জন্মের মাইর দে’ এসব বলে আমাদের বেধড়ক লাঠিসোটা দিয়ে মারধর করা হয়েছে। সারা শরীর জুড়ে মাইরের দাগ।

এই পোস্টটি শেয়ার করুন...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ ...
© All rights Reserved © 2020
Developed By Engineerbd.net
Engineerbd-Jowfhowo
Translate »