২৪শে অক্টোবর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ রাত ২:২৮
ব্রেকিং নিউজঃ
বনগাঁ বিধায়ক স্বপন মজুমদারের করা হুশিয়ারী পেট্রাপোল স্থল বন্দর বন্ধ করে দেওয়া হবে। কুমিল্লায় মুর্তির পায়ে রেখে কোরান অবমাননাকারী গ্রেফতার তিন ! সাম্প্রদায়িক অপশক্তির বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোর আহ্বান, ইন্দো-বাংলা ফ্রেন্ডশিপ এসোসিয়েশনের। সোমবার, ১৮ই অক্টোবর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ ২রা কার্তিক, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ: রাত ২:০৩ AVBP বাড়ি Breaking News বিভৎস নোয়াখালী, ‌ভো‌রের আলো ফুট‌তেই পুকু‌রে ভে‌সে উঠ‌লো আ‌রও এক ইসক‌নের সাধুর মৃত‌দেহ পীরগঞ্জে হামলায় পুড়ল ২০ বাড়িঘর কুমিল্লার একটি পূজামণ্ডপে কোরআন পাওয়া এবং সেটিকে কেন্দ্র করে সহিংসতা সমগ্র বাংলাদেশে। কুমিল্লায় ফেসবুক লাইভে উত্তেজনা ছড়ানো ফয়েজ আটক ভারতে যেন এমন কিছু না হয়, যার জন্য বাংলাদেশের হিন্দুদের ভুগতে হয়! কুমিল্লা নিয়ে হুঁশিয়ারি হাসিনার চীনকে মোকাবিলায় লাদাখে ভারতের কামান কলকাতার মণ্ডপে বুর্জ খলিফা এবং তালেবান মাতার প্রতীকে মমতা

আগামীকালের ষষ্ঠ দফার ৪৩-টি আসনে কোন দল এগিয়ে !!

রিপোর্টার নাম
  • আপডেট টাইমঃ বৃহস্পতিবার, এপ্রিল ২২, ২০২১,
  • 214 সংবাদটি পঠিক হয়েছে

২১/০৪/২০২১
আমার রাজনৈতিক পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী ষষ্ঠদফার ৪৩-টি আসনের মধ্যে বিজেপি ২১ এবং তৃণমূল ২২-টি আসনে এগিয়ে থাকছে বলেই আমার ধারণা। দুই দিনাজপুর, পূর্ব বর্ধমান, উত্তর চব্বিশ পরগণা, নদিয়াতে বিজেপি এবারে নজরকাড়া ফলাফল করতে পারে। উত্তর চব্বিশপরগণার নৈহাটি, খড়দহ, ব্যারাকপুর, টিটাগড়, ভাটপাড়া, বীজপুর কেন্দ্রগুলির হিন্দিভাষী ভোটাররা বিজেপি’র পাশেই থাকবে বলে বিভিন্ন সূত্র মারফত খবর পাচ্ছি। একমাত্র নৈহাটি ছাড়া বাকি অবাঙালি অধ্যুষিত কেন্দ্রগুলি বিজেপির দখলে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে এবং সেটা বোঝা যাচ্ছে গত রাত থেকে ব্যাপক বোমাবাজির মধ্য দিয়ে। উত্তর ২৪-পরগণা নদিয়ার ১১-টি আসনে মতুয়ারা-ই নির্ণায়ক শক্তি–যার মধ‍্যে কমবেশি ৮-টি আসন বিজেপি পেতে পারে। সম্প্রতি বাংলাদেশে গিয়ে মোদী ওড়াকান্দিতে হরিচাঁদ ঠাকুরের জন্মস্থান দর্শন করে এসেছেন, মতুয়াদের সামগ্রিক চাহিদার কথা বিচার বিবেচনা করে নানা রকম প্রতিশ্রুতিও দিয়েছেন মোদী।
কোন কোন বিশ্লেষক বলছেন–তৃণমূল সন্ত্রাসের আবহ তৈরি করে পঞ্চায়েত নির্বাচনের মতো ওভার পাওয়ার গেমের (খেলা হবে) মাধ্যমে ভোট ‘করিয়ে নেওয়া’র মরিয়া চেষ্টা করে চলেছে। সংখ্যাগরিষ্ঠ ভোটারদের ভোট কেন্দ্রে যেতে না দেওয়ার মতো ম্যান পাওয়ার তৃণমূলের রয়েছে। অন্যদিকে ভোটারদের ভোটকেন্দ্র পর্যন্ত পৌঁছে দেওয়ার মতো ম্যান পাওয়ার বিজেপি’র নেই। এটা খুব ভাল করেই জানতেন অমিত শাহ এবং নরেন্দ্র মোদী। তাই শাহ বার বার হুঙ্কার ছুঁড়েছেন–ভোট কেন্দ্রের আশেপাশে ভোটার ছাড়া একটা পতঙ্গও যাতে ঢুকতে না পারে তার ব্যবস্থা করা হবে। যদিও তা তিনি করতে পারেন নি। পারেন নি বলেই এবারের ভোটে এখনও পর্যন্ত বিভিন্ন দলের ৩০ জনের বেশি নিহত হয়েছেন, জনা চল্লিশেক প্রার্থী আক্রান্ত হয়েছেন। চতুর্দিকে প্রচুর অস্ত্রশস্ত্র বোমা গুলি উদ্ধার হচ্ছে এবং প্রচুর বোমা ফাটছেও। অর্থাৎ এক কথায় বলতে গেলে শান্তিপূর্ণ পরিবেশে অনেক মানুষই ভোট দিতে পারছেন না। বহু জায়গায় ভোটপর্ব মিটে গেলেও সংঘর্ষ ঘরবাড়ির বহ্ন্যুৎসব রক্তপাত হানাহানি চলছেই। রাজ্যের মুখমন্ত্রী রাজ্যে কোথাও অশান্তি হচ্ছে না বলে দাবি করছেন এবং এসব বিরোধীদের ও সংবাদমাধ্যমের কুৎসা বলে দাবি করার সঙ্গেই সঙ্গেই বলছেন তাঁর দলের পনেরজন কর্মী নিহত হয়েছেন !
কেন্দ্রীয় বাহিনীকে যথপোযুক্ত সক্রিয় রেখে শান্তিপূর্ণ ভোটপর্ব পরিচালনার ক্ষেত্রে নির্বাচন কমিশন যে রীতিমতো ব্যর্থ হচ্ছেন সেটা আড়াল করা যাচ্ছে না–দেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীও দেখছেন কিন্তু কিছু করার ক্ষমতা যে তাঁরও নেই সেটাও প্রকট হচ্ছে। সুতরাং রাজ্যের ক্ষমতাসীন দল অন্যান্য রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতো–সন্ত্রাসের আবহ তৈরি করে ‘ভোট করিয়ে নেওয়া’র যথাসাধ্য চেষ্টা করে যাচ্ছে। কেন্দ্রীয় বাহিনী ১০০% সক্রিয় না হলেও অন্ততপক্ষে ৯০% বুথে ছাপ্পা ভোটের সুযোগ দিচ্ছে না। অথচ প্রায় সর্বত্রই কমবেশি ৮০% ভোট পড়ে যাচ্ছে ! প্রকৃত আতঙ্কটা এখানেই ! পঞ্চায়েত ভোটের মতো ৬০-৭০% ওভার পাওয়ার ভোট করা যাচ্ছে না। তার মানে এটাই দাঁড়াচ্ছে যে, কমবেশি ৮০% ভোটের মধ্যে ৬০-৭০% জেনুইন ভোট পড়ছে–যার ওপর তৃণমূলের কোনো নিয়ন্ত্রণই থাকছে না ! এই অবস্থা চলতে দিলে ক্ষমতায় ফেরার স্বপ্ন বাস্তবায়িত হবে না। এর ওপর রয়েছে ২২ থেকে ৪২-এর মধ্যের কয়েক প্রজন্মের মারাত্মক রোষ এবং ক্ষোভ–যাদের সরকারি চাকরির বয়স চোখের সামনে দিয়ে গত দশ বছরের মধ্যে লুপ্ত হয়ে গেল ! জন গ্রহণযোগ্যতা হারানোর এগুলো বড় কারণ। যা ভোটারদের শারীরিক ভাষায় ফুটে উঠছে। এর জন্যেই বেশ কিছু রথী-মহারথীর রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ আজ রীতিমতো প্রশ্নের মুখে। শুধু মানুষেরই নয় দলের অভ্যন্তরেও অনেক নেতা-নেত্রীর গ্রহণযোগ্যতা আজ তলানিতে গিয়ে ঠেকেছে।
আগামীকালের ভোটে উত্তর চব্বিশ পরগণারও বেশ কিছু রথী-মহরথীর ভবিষ্যৎ সঙ্কটাপন্ন হতে চলেছে। জীবনে দশটি নির্বাচনের একটিতেও না জেতা রাহুল সিনহা এবারে হয়তো বা জয়ের মুখে এসে দাঁড়াচ্ছেন। যদি ভাগ্যদোষে হেরেও যান তাহলেও ফটো ফিনিশ ব্যবধানে হারবেন তিনি।
উত্তরবঙ্গের দুই দিনাজপুরের মোট ১৫-টি আসনের মধ্যে চোপড়া এবং গোয়ালপোখরে তৃণমূল এগিয়ে থাকলেও ১৩-টি আসনে রীতিমতো হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হতে চলেছে। এই দুই জেলায় বেশ কয়েকটি আসন সংখ্যালঘু অধ্যুষিত হলেও বিজেপি’র সম্ভাবনা বেশি দেখা যাচ্ছে। দু’তিনটি আসনে রাজবংশী সমর্থন বিজেপি’র পাশে থাকার কারণে তৃণমূলের হাতছাড়া হতে পারে–যেমন, করণদীঘি এবং হেমতাবাদ। দুই দিনাজপুরে সংযুক্ত মোর্চা প্রার্থীদের একেবারে নস্যাৎ করে দেওয়া যাবে না। প্রাক্তন বাম মন্ত্রী -বিধায়কদের কেউ কেউ তৃণমূলের বাড়া ভাতে ছাই দিতে পারে। এমন কয়েকটি আসন রয়েছে এই দুই জেলায় যেখানে তুণমূল ও মোর্চার প্রার্থী সংখ্যালঘু–বিজেপি’র প্রার্থী সংখ্যাগরিষ্ঠ সম্প্রদায়ের। এইসব কেন্দ্রে সংখ্যালঘু ব্যাপক হারে না হলেও যতটা ভাগাভাগি হবে তাতে সুবিধে পাবে বিজেপি। কারণ, এবারে যতই বলা হোক না কেন–সংখ্যালঘু ভোট তৃণমূলের পাশে এককাট্টা হতে চলেছে–সব কেন্দ্রে সেটা হতে পারছে না। বিজেপি হিন্দু ভোটের ৫৫ থেকে ৬০%-এর ওপর নির্ভর করেই নির্বাচন জিততে চাইছে–এ ব্যাপারে তাদের কেনো অস্পষ্টতা নেই। নন্দীগ্রাম থেকে নবদ্বীপ–সর্বত্রই এই মেরুকরণের রাজনীতির ফায়দা তোলার চেষ্টা করে চলেছে বিজেপি–বহু অপ্রত্যাশিত আসনও তাই তাদের খাতায় উঠে আসতে চলেছে।
রায়গঞ্জ বিজেপি’র দিকেই ঝুঁকে রয়েছে। কংগ্রেস এবং তৃণমূলের লড়াইয়ের মাঝখান দিয়ে সসম্মানে বিজেপি বেরিয়ে যাবে। খাদের কিনারে দাঁড়িয়ে রয়েছেন–ইসলামপুরে আব্দুল করিম চৌধুরী (তৃণমূল) এবং রায়গঞ্জে কানাইয়ালাল অগরওয়াল (তৃণমূল)। উত্তর দিনাজপুরের তৃণমূল নেতা অমল আচার্য দলবল নিয়ে বিজেপিতে যোগ দেওয়ায় বেশ কিছু অঙ্ক এলামেলো হয়ে গেছে। চরম গোষ্ঠী কোন্দলের চোরা স্রোত এবং দলবদলের ঘটনায় বেশ কিছুটা প্রশ্নের মুখে দাঁড়িয়ে পড়েছেন হরিরামপুরের তৃণমূল প্রার্থী বিপ্লব মিত্র। এই কেন্দ্রে সংযুক্ত মোর্চার প্রার্থী সংখ্যালঘু ভোটে বেশ কিছুটা ভাগ বসাবেন। বিপ্লবের মূল প্রতিপক্ষ নীলাঞ্জন রায় একদা কংগ্রেসের জেলা সভাপতি ছিলেন–এখন বিজেপি প্রার্থী এবং তাঁর পাশে এসে দাঁড়িয়েছেন তৃণমূলের দাপুটে নেতা শুভাশিস পাল। সুতরাং বিপ্লব দেবও রীতিমতো মহা সঙ্কটে। আগেই বলেছি ১৩টি আসনে লড়াই হবে ঘামাসান–নিষ্পত্তি হবে অধিকাংশ আসনেই ফটো ফিনিশে !
প্রথমেই আমি যদিও বলেছি ষষ্ঠ দফার ভোটে বিজেপি ২১ এবং তৃণমূল ২২-টি আসন পেতে পারে। এমনটাই হওয়ার কথা যদি ভোটাররা বুথ পর্যন্ত পৌঁছুতে পারেন–শান্তিতে ভোট দিতে পারেন। একটা-আধটা আসন এদিক ওদিক হতে পারে। পূর্ব বর্ধমানেও বিজেপি এবারে বেশ ভাল জায়গায় রয়েছে। আমার জেলাওয়ারি পূর্বাভাস থেকে তাই এখনও সরে আসার বিশেষ কোনো কারণ আমি দেখছি না ।
মুকুল পুত্র শুভ্রাংশু এবং মুকুল রায় নিজে সসম্মানে জয়ী হওয়ার জায়গায় রয়েছেন। যদিও উত্তর চব্বিশ পরগণার নৈহাটি, বীজপুর, টিটাগড়, জগদ্দল, ভাটপাড়া, খড়দহ, ব্যারাকপুর (এখানে রাজ চক্রবর্তীও খাদের কিনারে দাঁড়িয়ে রয়েছেন) অঞ্চলে ব্যাপক গণ্ডগোল হয়ে থাকে–এবারেও যে সম্ভাবনা রয়েছে তা গত রাত থেকে যে হারে বোমাবাজি ও গোলাগুলি শুরু হয়েছে তাতেই স্পষ্ট হচ্ছে !

এই পোস্টটি শেয়ার করুন...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ ...
© All rights Reserved © 2020
Developed By Engineerbd.net
Engineerbd-Jowfhowo
Translate »