২৪শে অক্টোবর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ রাত ২:২০
ব্রেকিং নিউজঃ
বনগাঁ বিধায়ক স্বপন মজুমদারের করা হুশিয়ারী পেট্রাপোল স্থল বন্দর বন্ধ করে দেওয়া হবে। কুমিল্লায় মুর্তির পায়ে রেখে কোরান অবমাননাকারী গ্রেফতার তিন ! সাম্প্রদায়িক অপশক্তির বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোর আহ্বান, ইন্দো-বাংলা ফ্রেন্ডশিপ এসোসিয়েশনের। সোমবার, ১৮ই অক্টোবর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ ২রা কার্তিক, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ: রাত ২:০৩ AVBP বাড়ি Breaking News বিভৎস নোয়াখালী, ‌ভো‌রের আলো ফুট‌তেই পুকু‌রে ভে‌সে উঠ‌লো আ‌রও এক ইসক‌নের সাধুর মৃত‌দেহ পীরগঞ্জে হামলায় পুড়ল ২০ বাড়িঘর কুমিল্লার একটি পূজামণ্ডপে কোরআন পাওয়া এবং সেটিকে কেন্দ্র করে সহিংসতা সমগ্র বাংলাদেশে। কুমিল্লায় ফেসবুক লাইভে উত্তেজনা ছড়ানো ফয়েজ আটক ভারতে যেন এমন কিছু না হয়, যার জন্য বাংলাদেশের হিন্দুদের ভুগতে হয়! কুমিল্লা নিয়ে হুঁশিয়ারি হাসিনার চীনকে মোকাবিলায় লাদাখে ভারতের কামান কলকাতার মণ্ডপে বুর্জ খলিফা এবং তালেবান মাতার প্রতীকে মমতা

চট্টগ্রামের পাইকারি স্বর্ণ ব্যবসায়ী গোপাল কান্তি দাসকে ক্রসফায়ারের ভয় দেখিয়ে ২০টি সোনার বার লুট

রিপোর্টার নাম
  • আপডেট টাইমঃ শুক্রবার, আগস্ট ১৩, ২০২১,
  • 136 সংবাদটি পঠিক হয়েছে

চট্টগ্রামের পাইকারি স্বর্ণ ব্যবসায়ী গোপাল কান্তি দাসকে ক্রসফায়ারের ভয় দেখিয়ে ২০টি সোনার বার লুট করেছেন ফেনী গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) ৬ কর্মকর্তা। ওই ব্যবসায়ী প্রাণভিক্ষা চাইলে তার কাছে ১ কোটি টাকা চাঁদা দাবি করে তারা। ওই সময় স্বর্ণ ব্যবসায়ী বৈধ কাগজপত্র দেখালে পুলিশ কর্মকর্তারা বলেন, ‘তোর কাছে যতই বৈধ কাগজপত্র থাকুক না কেন, তোকে ক্রসফায়ারে দেব।’ ব্যবসায়ী জানান, ছিনতাই হওয়া ২০টি স্বর্ণের বারের মোট ওজন ২৩৩০ গ্রাম (২ কেজি ৩৩০ গ্রাম)। যার বাজারমূল্য প্রায় ১ কোটি ২৭ লাখ ৮৪ হাজার ৬৩৬ টাকা।

গত ৮ আগস্ট, রোববার ফেনী মডেল থানার ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের ফতেহপুর রেলওয়ে ওভারব্রিজ এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় ফেনী মডেল থানায় একটি মামলা হলে অভিযুক্ত ৬ কর্মকর্তাকে গ্রেফতার করেছে থানা পুলিশ।

উল্লেখ্য, চট্টগ্রামের কোতোয়ালি থানার হাজারী লেনের ইকুইটি কোহিনূর মার্কেটের দ্বিতীয়তলায় ‘আলো জুয়েলার্স’র স্বত্বাধিকারী গোপাল কান্তি দাস। গত রোববার বিকাল পৌনে ৪টার দিকে একটি প্রাইভেটকারে করে চট্টগ্রাম থেকে ২০ পিস স্বর্ণের বার নিয়ে উন্নতমানের অলঙ্কার তৈরির জন্য ঢাকার তাঁতীবাজারের উদ্দেশে রওনা হন। পথিমধ্যে বিকাল সোয়া ৫টার দিকে ফেনী মডেল থানার ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের ফতেহপুর রেলওয়ে ওভারব্রিজের সামনে পৌঁছলে ওয়্যারলেস ও পিস্তলসহ গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের জ্যাকেট পরিহিত চারজন অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তি তার গাড়ি থামতে সিগন্যাল দেয়। এ সময় রাস্তার পাশে আরও কয়েকজন পুলিশ সদস্য দাঁড়ানো ছিল। গাড়ি থামানোর পরপরই জ্যাকেট পরিহিত তিনজন তার গাড়ির ভেতরে ঢুকে পড়ে। এ সময় তাদের একজন ওই ব্যবসায়ীর মাথায় পিস্তল ধরে ও অন্য আরেকজন গাড়িচালক শওকতকে বেধম মারধর শুরু করে।

ব্যবসায়ী গোপাল কান্তি দাস ঘটনার বর্ণনা দেন এভাবে, মারধরের একপর্যায়ে তারা নিজেদের ফেনী ডিবি পুলিশের কর্মকর্তা পরিচয় দিয়ে বলেন, ‘তোদের কাছে অবৈধ মালামাল আছে, তাড়াতাড়ি বের কর।’ তখন অবৈধ মালামাল না থাকার বিষয়টি জানিয়ে আমার কাছে থাকা ২০ পিস বৈধ স্বর্ণের বারের কথা জানাই। তখন তারা বলেন, ‘ডিবির ওসি স্যার আসতেছে, উনি এলে বিস্তারিত আলাপ হবে।’ এভাবে ২০/৩০ মিনিট যাওয়ার পর সাদা রঙের একটি কারে সাদা পোশাকে একজন কর্মকর্তা আসলে তারা জোর করে আমাকে ওই গাড়িতে উঠায়। অন্যেরা নীল রঙের একটি আইআরএক্স হায়েসে উঠে।

ব্যবসায়ী বলেন, গাড়িতে ওঠানোর পর ঊর্ধ্বতন ওই কর্মকর্তা স্বর্ণের বারগুলো দেখতে চাইলে তাকে দেখানোমাত্র তিনি কপালে পিস্তল ঠেকিয়ে বলেন, ‘তোর কাছে যতই বৈধ কাগজপত্র থাকুক না কেন এ মুহূর্তে তোকে ক্রসফায়ারে দেব অথবা ৫০০ থেকে ৭০০ পিস ইয়াবা দিয়ে চালান দেব।’ তখন আমি ভয় পেয়ে তাদের কাছে প্রাণভিক্ষা চাইলে তারা বলে, ‘স্বর্ণের বারগুলো তো পাবিই না, তোর এই গাড়ি, ড্রাইভার ও তোর নিজের জীবন বাঁচানোর জন্য ১ কোটি টাকা দিতে হবে।’

এরপর ঘটনাস্থল থেকে প্রায় আধা কিলোমিটার দূরে ফ্লাইওভারের নিচে রেলগেট সংলগ্ন নির্জন এলাকায় নিয়ে প্রায় ৩ ঘণ্টা ধরে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করলে একপর্যায়ে আমি অসুস্থ হয়ে পড়ি। তখন তারা আমাকে দিয়ে এটা বলতে বাধ্য করে যে, ‘আমার কাছে তারা ১২ পিস স্বর্ণের বার পেয়েছে যার বৈধ কাগজ দেখালে তারা আমাকে ছেড়ে দেয় এবং জোর করে ভিডিও ধারণ করে।’ ঘটনাটি কারও কাছে প্রকাশ করলে প্রাণে মেরে ফেলার হুমকি দেয়। এরপর আমাদেরকে ওই কর্মকর্তার গাড়িতেই চোখ বেঁধে অজানা গন্তব্যে রওনা হয়ে বেশ কিছুদূর গিয়ে গাড়িটি এক জায়গায় থামায়, চোখ খুলে দিলে জায়গাটি বারৈয়ারহাট বলে চিনতে পারি। ওই সময় তারা আবারও আগের মতো জোর করে স্বীকারোক্তিমূলক ভিডিও ধারণ করে। সবশেষে রাত প্রায় সোয়া ৮টার দিকে আমার গাড়িতে চালক শওকতকেসহ তুলে দিয়ে সোজা বাড়ি ফিরে যেতে বলে। আরও বলে, ‘এখানে যা হয়েছে সব ভুলে যাও’। এ ঘটনা নিয়ে বাড়াবাড়ি করলে মেরে ফেলার হুমকিও দেয় তারা। পরবর্তী সময়ে আমরা গাড়ি নিয়ে সোজা চট্টগ্রামে নিজ বাসায় ফিরে আসি।

চট্টগ্রামের বাড়িতে ফিরে ঘটনাটি তার পরিবার, আত্মীয়-স্বজন ও স্বর্ণ ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি-সাধারণ সম্পাদককে জানান। সবার পরামর্শে গত মঙ্গলবার ফেনী মডেল থানায় হাজির হয়ে থানার ওসিকে মৌখিকভাবে জানান। তখন ওসি বিষয়টি নিয়ে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা করেন। এক পর্যায়ে ওইদিন দুপুর ১টা ২০ মিনিটে পুলিশ লাইনে কর্মরত ডিবির কর্মকর্তাদের জ্যাকেট পরিহিত অবস্থায় হাজির করলে ডিবির ওসি মো. সাইফুল ইসলাম, এসআই মোতাহের হোসেন, এসআই নুরুল হক ও এএসআই মাসুদ রানাকে শনাক্ত করতে সক্ষম হন তিনি। জিজ্ঞাসাবাদ করলে তারাও স্বর্ণের বার ছিনিয়ে নেওয়ার কথা স্বীকার করে এবং বারগুলো ওসি ডিবির বাসায় রয়েছে বলে জানায়।

এরপর থানার ওসির নেতৃত্বে একটি টিম ওসি ডিবি মো. সাইফুল ইসলামের বাসায় গিয়ে বেডরুমে থাকা একটি কাঠের আলমারি থেকে কালো ব্যাগে স্কচটেপ দিয়ে মোড়ানো অবস্থায় ১৫টি বার উদ্ধার করে। যার মোট ওজন ২২৪২.৫০ গ্রাম (২ কেজি ২৪২ গ্রাম) এবং এর বাজারমূল্য ১ কোটি ২৩ লাখ ৪ হাজার ৫৯৭ টাকা। ওই সময় ঘটনাস্থলে উপস্থিত সাক্ষীদের সামনে পুলিশ জব্দকৃত স্বর্ণের বারগুলো তাদের হেফাজতে নেয়। বাকি পাঁচটি বার পাওয়া যায়নি।

এই মামলায় গোয়েন্দা পুলিশের গ্রেফতারকৃত ওসি সাইফুল ইসলামকে ৪ দিন ও এসআই মোতাহের হোসেন, এসআই মিজানুর রহমান, এসআই নুরুল হক, এএসআই অভিজিৎ রায় এবং এএসআই মাসুদ রানাকে ৩ দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত।

সূত্রঃ সময়ের আলো

এই পোস্টটি শেয়ার করুন...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ ...
© All rights Reserved © 2020
Developed By Engineerbd.net
Engineerbd-Jowfhowo
Translate »