২৮শে মে, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ সকাল ৯:৩৬
ব্রেকিং নিউজঃ
প্রেসক্লাব নওয়াপাড়ার বর্ধিত সভা অনুষ্ঠিত। এ্যাসিড সন্ত্রাসের শিকার চারমাসের সূর্য হাসপাতালে যন্ত্রনায় কাতরাচ্ছে । বাউফলে হিন্দু পরিবারের নারীসহ কুপিয়ে আহত ৫ পশ্চিমবঙ্গের রামপুরহাটে নারকীয় হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ক্ষতিয়ে দেখতে আসবেন কেন্দ্রীয় প্রতিনিধি দল। ফের চালু হতে চলেছে ভারত-বাংলাদেশ যাত্রীবাহী ট্রেন চলাচল হিন্দু ব্যবসায়ী হত্যাকে কেন্দ্র করে উত্তাল পাকিস্তান সংঘ পরিবারের কর্মসূচি রূপায়ণের পথে আরেক পদক্ষেপ মোদি সরকারের? সরস্বতী পূজা উদযাপিত নিপুণের অপেক্ষায় ছিলেন বিজয়ীরা কাল শপথ নেবেন নবনির্বাচিত শিল্পীরা ব‌রিশা‌লে সড়ক দুর্ঘটনায় সা‌বেক সরকা‌রি কর্মকর্তা নিহত

এ্যাসিড সন্ত্রাসের শিকার চারমাসের সূর্য হাসপাতালে যন্ত্রনায় কাতরাচ্ছে ।

রিপোর্টার নাম
  • আপডেট টাইমঃ বুধবার, মে ১১, ২০২২,
  • 34 সংবাদটি পঠিক হয়েছে

অ্যাসিড সন্ত্রাসের শিকার চার মাসের সূর্য হাসপাতালে যন্ত্রণায় কাতরাচ্ছে। শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে রোববার তার কান্না থামানোর চেষ্টা করছেন দাদি। মাথায় হাত রেখে চোখের পানি ফেলছেন মা। বগুড়ার এই দুই নারীও দগ্ধ হয়েছেন অ্যাসিডে- সমকাল

চার মাসের সূর্য। ১২০ দিনের শিশুটির তুলতুলে দেহখানা সইতে পারছে না অ্যাসিড যাতনার ধকল। থুতনির নিচের অংশ বাদে ছোট্ট মুখাবয়বের পুরোটাই অ্যাসিডের বিষে পোড়া। ছোড়া অ্যাসিড থেকে বাদ যায়নি সূর্যের মায়াবী চোখ জোড়াও। ডান চোখটা খুইয়েছে দৃষ্টি ফেলার শক্তি; বাঁ চোখের পাতা মেলে মাঝেমধ্যে নিষ্ঠুর পৃথিবীর আলো খুঁজছে অবুঝ শিশুটা। দুই হাতের কনুইয়ের নিচের অংশেও পোড়া ক্ষত সাদা ব্যান্ডেজে ঢাকা। মুখের ভেতর আর মাথার সামনের অংশও পুড়েছে অনেকখানি। শরীরের পোড়া চামড়ার কোন অংশে যন্ত্রণার তীব্রতা বেশি, তা বোঝানোর ক্ষমতা কিংবা বয়স কোনোটিই হয়নি তার। কেবল হাসপাতালের বিছানায় কাঁদতে কাঁদতে জানান দিচ্ছে- কষ্ট কাকে বলে!

চোখের সামনে নাড়িছেঁড়া ধনের এমন গোঙানি আর অনবরত কান্নায় মা বীণা কর্মকারের বুকে বইছে বেদনার স্রোত। পাশে বসে নাতির ছটফটানি আর অস্থিরতা দেখতে দেখতে দাদি দীপালি কর্মকারও মুষড়ে পড়েছেন। সূর্যের বাবা-কাকাও নির্বাক। এমন মর্মস্পর্শী ছবিটা দেখা গেল গতকাল রোববার দুপুরে রাজধানীর শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে।

গত শুক্রবার ভোরের দিকে বগুড়ার গাবতলীর তেলেহাটি গ্রামে গৃহবধূ বীণা কর্মকারের শ্বশুরবাড়ির ঘরের জানালা দিয়ে অ্যাসিড ছুড়ে মারে অচেনা দুর্বৃত্ত। এতে বীণা কর্মকার, তার শাশুড়ি দীপালি ও একমাত্র ছেলে সূর্য দগ্ধ হন। ঘটনার পরই তাদের বগুড়ার শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। অবস্থা গুরুতর হওয়ায় শিশুটিকে ঢাকায় স্থানান্তরের পরামর্শ দেন সংশ্নিষ্ট চিকিৎসক। শুক্রবার সন্ধ্যায় শিশুটিসহ তিনজনই রাজধানীর শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে ভর্তি হন। বীণার বাবার বাড়ি লালমনিরহাটের কালীগঞ্জ। শ্বশুরবাড়িতে থেকে তিনি কালীগঞ্জের একটি কলেজে অনার্স দ্বিতীয় বর্ষে লেখাপড়া করেন।

গতকাল হাসপাতালে গিয়ে দেখা যায়, ১০ নম্বর বেডের পাশে দাদি দীপালি কর্মকার নাতিকে কোলে নিয়ে হাঁটাহাঁটি করছেন। তখনও শিশুটি চোখ বন্ধ রেখে চিৎকার করছিল।

সূর্যের মা বীণা কেঁদে কেঁদে বলছিলেন, ‘অবুঝ ছেলেটা কী অপরাধ করেছিল! কেন তার ওপর অ্যাসিড মারা হলো? আমরা তো কারও ক্ষতি করিনি। অ্যাসিড যদি মারতেই হয়; শুধু আমার ওপর মারত। ওর যন্ত্রণা, কান্নাকাটি সহ্য করতে পারছি না। বুকটা ফেটে যাচ্ছে।’

হাসপাতালের চিকিৎসক আবিদ আজাদ জানান, সূর্যের শরীরের ১০ শতাংশ পুড়ে গেছে। শিশু বলে ১০ শতাংশ পোড়াটাও বেশ গুরুতর। কেমিক্যাল বার্নের সমস্যা হচ্ছে, অনেক গভীরে দগ্ধ হয়। এ কারণে যন্ত্রণাও বেশি। চোখের বিষয়ে তিনি বলেন, এখন দগ্ধ হওয়ার স্থানগুলোর চিকিৎসা চলছে। একটু সুস্থ হলে চক্ষু বিশেষজ্ঞের কাছে পাঠাতে হবে। শিশুটির মা বীণার শরীরের ২ শতাংশ এবং দাদি দীপালির শরীরের ৪ শতাংশ দগ্ধ হয়েছে।

সূর্যের বাবা সাগর কর্মকার। সাগরের ছোট ভাই আনন্দ কর্মকার অবিবাহিত। দুই ভাই ও মা-বাবা এক বাড়িতে থাকেন। গ্রামের রাস্তার পাশে তাদের আধাপাকা বাড়ি। বাড়ির সামনে ও পাশের অংশ প্রাচীরে ঘেরা। পূর্ব পাশে রাস্তা হওয়ায় প্রাচীর নেই। ফলে জানালা পড়েছে রাস্তার দিকে।

ঘটনার রাতের বর্ণনা দিতে গিয়ে দীপালি বলেন, সূর্য জন্ম নেওয়ার পর রাতে এক ঘরে থাকেন শিশুটির বাবা ও কাকা। তার পাশের কক্ষে থাকেন তার দাদা দুলাল কর্মকার। আরেক ঘরে নাতি ও ছেলের বউকে নিয়ে তিনি এক খাটে থাকেন। সূর্য থাকে মাঝখানে। ঘরের পশ্চিম পাশে খাট পাতা। পূর্ব পাশের জানালা থেকে বেশ দূরত্বে খাট। জানালার পাশে রাস্তা। বৃহস্পতিবার রাত ১১টার দিকে তারা ঘুমিয়ে পড়েন। ঘুমানোর আগে কাঠের জানালায় ছিটকিনি দেওয়া হয়।

বীণা কর্মকার জানান, ঘুমের মধ্যে দেখেন, শরীর প্রচ জ্বলছে। শরীরে পানির মতো কী যেন লেগে আছে! ছেলে চিৎকার করে কাঁদছে। তার শরীরেও পানি। তাদের চিৎকারে পাশের ঘর থেকে স্বামী, দেবর ও শ্বশুর ছুটে আসেন। চিৎকারে প্রতিবেশীরাও জেগে যান। রাস্তার পাশের জানালা খোলা। জানালা দিয়েই অ্যাসিড ছুড়ে মারা হয়েছে ঘরের মধ্যে। জানালার গ্রিলের ফাঁক দিয়ে হাত ঢোকানো যায়। তারা মশারি টানিয়ে ঘুমান। মশারির তিন অংশ পুড়ে গেছে। পাশাপাশি বিছানার চাদর এবং শিশুটির কোলবালিশও পুড়ে যায়।

বীণা আরও জানান, জানালার ছিটকিনি পুরোনো। সে কারণে ঠিকমতো আটকায় না। ঘরে আলো জ্বলছিল। আলোতে তিনজনকে দেখেই অ্যাসিড ছোড়া হয়েছে বলে ধারণা তার। ঘরে প্লাস্টিক বোতলের নিচের কাটা অংশ পাওয়া গেছে। সেটি ব্যবহার করেই অ্যাসিড ছোড়া হয়েছে।

সূর্যের বাবা সাগর কর্মকার জানান, গ্রামে তাদের কোনো শত্রু নেই। কারা এ ঘটনা ঘটাতে পারে, তা সন্দেহের বাইরে।

সাগরের ভাই আনন্দ কর্মকার বলেন, ‘আমাদের সংসারে কোনো অভাব নেই। ঝগড়াঝাঁটি নেই। সুখ হয়তো কারও সহ্য হয়নি। এ কারণে আমাদের ক্ষতি করতে চেয়েছে।’

বগুড়ার গাবতলী মডেল থানার ওসি সিরাজুল ইসলাম (০১৩২০১২৬৬৭৯) বাংলাদেশ মাইনরিটি ওয়াচকে জানান, অ্যাসিড নিক্ষেপের ঘটনায় গতকাল শিশুটির দাদা দুলাল কর্মকার বাদী হয়ে অচেনা কয়েকজনকে আসামি করে মামলা করেছেন। কে বা কারা এবং কী কারণে অ্যাসিড নিক্ষেপের ঘটনা ঘটিয়েছে, তা খুঁজে বের করতে তদন্ত চলছে। মামলা নং ৪ তারিখ ০৮,০৫.২২ ধারা ঃ নারী ও শিশু নির্যাতন আইনের ৪(১)/৪(২) ।

বাংলাদেশ মাইনরিটি ওয়াচ এহেন এসিড সন্ত্রাসের তীব্র নিন্দা করেছেন। এই ধরনের সন্ত্রাসের সঙ্গে যারা সংশ্লিষ্ট তাদেরকে গ্রেফতার করে আইনের আওতায় এনে শাস্তির বাবস্তার দাবী জানাচ্ছে ।

এই পোস্টটি শেয়ার করুন...

Leave a Reply

Your email address will not be published.

এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ ...
© All rights Reserved © 2020
Developed By Engineerbd.net
Engineerbd-Jowfhowo
Translate »