৩০শে জানুয়ারি, ২০২৩ খ্রিস্টাব্দ রাত ১০:০২

কর্মস্থলেই ডাক্তারের যৌন লালসার শিকার হয়ে গৃহবধূর আত্মহত্যা!

রিপোর্টার নাম
  • আপডেট টাইমঃ রবিবার, জানুয়ারি ২৭, ২০১৯,
  • 311 সংবাদটি পঠিক হয়েছে


নওগাঁয় কর্মস্থলেই এক ডাক্তারের যৌন লালসার শিকার হয়েছেন এক নারী। যৌন নিপীড়নের যন্ত্রণা সইতে না পেরে বিষপানে আত্মহননের পথ বেছে নেন খাদিজা আকতার (৩০)। খাদিজা মারা যাবার পর তার ফোন রেকর্ড থেকে যৌন নিপীড়নের বিষয়টি স্পষ্ট হওয়ায় মামলার প্রেক্ষিতে পুলিশ ডাক্তার হেলাল আহম্মেদ লিটনকে শুক্রবার গ্রেপ্তার করেছে। আলোচিত এ ঘটনাটি নওগাঁ শহরের পাটালির মোড় এলাকার। খাদিজা শহরতলীর আরজী নওগাঁ মধ্যপাড়ার রাজমিস্ত্রি জাহাঙ্গীর আলমের স্ত্রী। ধর্ষক ডাক্তার হেলাল আহম্মেদের বাড়ি নড়াইল জেলার নড়াগাতী থানার কলাবাড়িয়া শিবপুর গ্রামে।

নওগাঁ সদর মডেল থানার ওসি আব্দুল হাই ও খাদিজার স্বজনরা জানান, ৫ বছর আগে শহরের পাটালীর মোড়ে জনৈক শাহিন হোসেনের বাসার দুটি রুম ভাড়া নিয়ে সেখানে পাইলস্‌ কিউর সেন্টার খোলেন ডা. হেলাল আহম্মেদ (ডিপিএইচ, মেডিশিন/ডিএমএফ,ঢাকা)। এখানে গত ৩ সপ্তাহ আগে আয়া কাম চেম্বার সহকারী হিসেবে চাকরি নেন এক সন্তানের জননী খাদিজা আকতার।

গত ১৮ই জানুয়ারি বিকাল ৫টার দিকে ডাক্তার হেলাল আহম্মেদ তার চেম্বারের ভেতরে খাদিজাকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে।

খাদিজার জা আয়েশা সিদ্দিকা জানান, ধর্ষণের শিকার হয়ে প্রাণচঞ্চল খাদিজা নীরব পাথর হয়ে যান। খাদিজার হঠাৎ করে নীরব হয়ে যাওয়ার বিষয়টি জানার জন্য তার জা অনেক পীড়াপীড়ি করলে সে জানায়, ডাক্তার তাকে ধর্ষণ করেছেন। এ লজ্জায় স্বামী, সন্তান বা অন্য কারো দিকে তাকাতে পারছে না। এক পর্যায়ে সে তার স্বামীর গৃহে গত ২০শে জানুয়ারি বিকাল সাড়ে ৫টার দিকে বিষপান করলে প্রথমে নওগাঁ সদর হাসপাতাল এবং পরে তাকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়া হয়। এই হাসপাতালে গত ২২ তারিখ মধ্যরাতে মারা যান খাদিজা।

খাদিজার স্বামী জাহাঙ্গীর আলম জানান, ময়নাতদন্ত শেষে ২২শে জানুয়ারি খাদিজাকে দাফনের পর খাদিজার মোবাইল ফোনে ওই ডাক্তার একাধিকবার ফোন করেন। কিন্তু আমি ফোন ধরিনি। কৌতূহলবশত ফোন চেক করতে গিয়ে ফোনে পাওয়া যায় তাকে ধর্ষণের বর্ণনা সহ রেকর্ড। মোবাইল ফোনে খাদিজা বাড়িওয়ালা (যে বাড়িতে ডাক্তারের চেম্বার রয়েছে) সাহিন হোসেনকে তাকে জোরপূর্বক ধর্ষণের বিষয়টি বর্ণনা করেন। পরে বিষয়টি নওগাঁ সদর থানায় অবহিত করলে পুলিশ খাদিজার বাবাকে বাদী করে এ বিষয়ে একটি মামলা নিয়ে শুক্রবার ডাক্তার হেলাল আহম্মেদকে গ্রেপ্তার করেন।

নওগাঁ সদর মডেল থানার ওসি আব্দুল হাই বলেন, মামলার প্রেক্ষিতে পুলিশ শুক্রবার ভোরে ডাঃ হেলাল আহমেদকে তার পাটালীর মোড়ের চেম্বার থেকে গ্রেপ্তার করেছে। পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে খাদিজাকে ধর্ষণের কথা স্বীকার করেছেন ডা. হেলাল।

এই পোস্টটি শেয়ার করুন...

Leave a Reply

Your email address will not be published.

এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ ...
© All rights Reserved © 2020
Developed By Engineerbd.net
Engineerbd-Jowfhowo
Translate »