১৩ই জুন, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ সকাল ১১:২৯

বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক আজ সর্বোচ্চ পর্যায়ে: অরুন জেটলি

রিপোর্টার নাম
  • আপডেট টাইমঃ বৃহস্পতিবার, অক্টোবর ৫, ২০১৭,
  • 128 সংবাদটি পঠিক হয়েছে

ভারতের অর্থমন্ত্রী অরুণ জেটলি বলেছেন, বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক আজ সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে এবং অন্যান্য দেশের জন্য অনুসরণযোগ্য একটি মডেল হয়ে দাঁড়িয়েছে। ভারত বাংলাদেশের সঙ্গে তার সম্পর্ককে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে থাকে যা সাম্প্রতিক কালে আরো বৃদ্ধি পেয়েছে। ভারতের স্বার্থে প্রয়োজন একটি শক্তিশালী, স্থিতিশীল ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ এবং আমরা আমাদের পারস্পরিক সংযোগ গভীর করতে বাংলাদেশের সাথে কাজ করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

গতকাল বুধবার অর্থ মন্ত্রণালয়ে বাংলাদেশের অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক এবং সাড়ে চারশ কোটি ডলারের ঋণচুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানের পর এক বিবৃতিতে অরুণ জেটলি এ কথা বলেন। অরুণ জেটলি ও অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতের উপস্থিতিতে গতকাল অর্থমন্ত্রণালয়ে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ (ইআরডি) ও ভারতের রাষ্ট্রায়ত্ত এক্সপোর্ট-ইমপোর্ট ব্যাংকের (এক্সিম) মধ্যে ৪৫০ কোটি ডলারের একটি ঋণ চুক্তি হয়। এটি হলো ভারতের তৃতীয় লাইন অব ক্রেডিট (এলওসি) বা তৃতীয় ঋণ রেখা। এর আগে আরও দুটি এলওসির আওতায় মোট তিনশ কোটি ডলার ঋণ চুক্তি করেছে ভারত। যার মাধ্যমে ৩০টি উন্নয়ন প্রকল্প হাতে নেয় বাংলাদেশ। গতকাল বাংলাদেশ সরকারের পক্ষে ইআরডি সচিব কাজী শফিকুল আজম            এবং ভারত সরকারের পক্ষে এক্সিম ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ডেভিড রাজকোয়েনা চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন। ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে বিনিয়োগ বৃদ্ধি ও সুরক্ষার  চুক্তির উপর যৌথ ব্যাখ্যামূলক নোটসমূহও স্বাক্ষরিত হয়।

এসময় অরুন জেটলি উল্লেখ করেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাম্প্রতিক ভারত সফর একটি উল্লেখযোগ্য ঘটনা, এর ফলে রেকর্ড সংখ্যক ৩৬টি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। অন্তর্ভুক্তিমূলক সামাজিক উন্নয়নের সঙ্গে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জনে বাংলাদেশের দ্রুত অগ্রগতি দেখে আমি মুগ্ধ। তিনি বলেন, বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে অংশীদার হতে ভারত পূর্ণ প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে আমরা বাংলাদেশকে ৮শ কোটি ডলারের তিনটি ঋণ রেখা প্রদান করেছি। এ পর্যন্ত এটাই ভারতের কোনো দেশকে দেওয়া সর্বোচ্চ মাত্রার ঋণ। তৃতীয় ঋণরেখা চুক্তি স্বাক্ষরের ফলে বাংলাদেশের বিদ্যুত্, রেলপথ, সড়ক, জাহাজ চলাচল, বন্দরের মতো অবকাঠামোগত গুরুত্বপূর্ণ খাতে ১৭টি পূর্বচিহ্নিত অগ্রাধিকার ভিত্তিক উন্নয়নমূলক প্রকল্প বাস্তবায়ন সম্ভব হবে। তিনি বলেন, প্রকল্প নির্বাচন, জমি অধিগ্রহণসহ অভ্যন্তরীণ অনেক ইস্যুতে অর্থ ছাড়ে বিলম্ব হয়। এটা শুধু বাংলাদেশে নয়, সব দেশই হয়। আশা করছি- এ দুর্বলতা কাটিয়ে উঠব।

তিনি জানান, বাংলাদেশকে ভারতের দেওয়া অতীতের ঋণরেখাগুলোর মতো এই ঋণও হবে হ্রাসকৃত সুদে বছরে মাত্র ১ শতাংশ হারে। ৫ বছরের রেয়াতকালসহ ২০ বছরে এটি পরিশোধ করতে হবে। তিনি বলেন, আমাদের দ্বিপক্ষীয় উন্নয়ন অংশীদারিত্ব, উপ-আঞ্চলিক অর্থনৈতিক সহযোগিতা এবং এঅঞ্চলের অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির ক্ষেত্রে সাফল্য অর্জনে যোগাযোগ সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। সড়ক, রেল, নৌ ও উপকূলীয় জাহাজ চলাচলসহ ১৯৬৫ পূর্ব সংযোগ পুনরুদ্ধারে আমাদের উভয় দেশের সরকার গুরুত্বারোপ করেছে। আমার বিশ্বাস আমাদের দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য এবং দুই দেশের মানুষের মাঝে যোগাযোগ বৃদ্ধিতে এটি সহায়তা করবে।

চুক্তি স্বাক্ষরের পর অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত বলেছেন, ভারত বাংলাদেশের ঘনিষ্ঠ বন্ধু। দুই দেশের মধ্যে বিদ্যমান সম্পর্ক সর্বোচ্চ পর্যায়ে রয়েছে। এ ঋণ বাংলাদেশের প্রতি ভারতের সুসম্পর্কের বহিঃপ্রকাশ। ভারতের এলওসির বিষয়ে অর্থমন্ত্রী বলেন, ভারত থেকে নেওয়া প্রথম পর্যায়ের একশ কোটি ডলারের পুরোপুরি বাস্তবায়ন করা হয়েছে। তবে দ্বিতীয় পর্যায়ের দুইশ কোটি ডলারের ঋণ বাস্তবায়ন পুরোপুরি সম্ভব হয়নি, তবে তা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। আগের দুটি এলওসির অর্থ ছাড় সন্তোষজনক না হলেও এ পরিস্থিতির উন্নতি ঘটবে। এবার তৃতীয় ধাপের ঋণ যথাযথভাবে ব্যবহার করা হবে। এ জন্য বিভিন্ন প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে। মূলত এ ঋণের অর্থ ব্যয় হবে সামাজিক নিরাপত্তা, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে। এখন দুই দেশের বাণিজ্যিক সম্পর্কও অত্যন্ত চমত্কার।

নগদ বিহীন লেনদেন পদ্ধতিতে ভারতের অর্থনীতি আরো গতিশীল হবে

গতকাল দুপুরে রাজধানীর একটি হোটেলে পলিসি রিসার্চ ইন্সটিটিউট এবং ভারতীয় হাই কমিশনের যৌথ উদ্যোগে ‘ম্যাক্রো ইকোনমিক ইনিশিয়েটিভ অব দ্যা গভর্নমেন্ট অব ইন্ডিয়া: ফিন্যান্সিয়াল ইনক্লুশন ডিমনিটাইজেশন এন্ড ক্যাশলেস ইকোনমি’ শীর্ষক সেমিনারে মূল বক্তব্য উপস্থাপন করেন ভারতের অর্থমন্ত্রী অরুণ জেটলি। এ সময় তিনি ভারতের ব্যাংকিং সেবায় দরিদ্র মানুষের অন্তর্ভুক্তি, নোট বাতিলকরণ কর্মসূচি, নগদবিহীন লেনদেন কর্মসূচি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন। অনুষ্ঠানের শুরুতে ভারতীয় হাইকমিশনার হর্ষ বর্ধন শ্রিংলা স্বাগত বক্তব্য দেন। অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত তথ্য প্রযুক্তির মাধ্যমে দুদেশের সম্পর্ক আরো উন্নত করা সম্ভব বলে  উল্লেখ করেন। তার মধ্যে দুর্নীতি দূর করার জন্য গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম হলো তথ্য প্রযুক্তির ব্যবহার।

বক্তব্যের শুরুতে অরুণ জেটলি বাংলাদেশের আতিথেয়তার প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, বিগত বছরগুলোতে ভারতের অর্থনীতি দ্রুত হারে এগিয়েছে। বিশ্বের মধ্যে দ্রুত উন্নয়নকারী দেশের মধ্যে ভারত অন্যতম। তিনি বলেন, ‘ক্যাশলেস ট্রানজেকশন’ বা নগদবিহীন লেনদেন পদ্ধতি চালু করতে নরেন্দ্র মোদী সরকার ধাপে ধাপে এগিয়েছে। ২০১৪ সালে আমরা দেখেছি যে ভারতে মাত্র ৫৮ ভাগ জনগোষ্ঠী ব্যাংকিং সেবার আওতায় ছিল। ৪২ শতাংশ মানুষকে ব্যাংকিং সেবার আওতায় নিয়ে আসাটা আমাদের জন্য চ্যালেঞ্জ ছিল। তাদের মধ্যে গ্রামীণ পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠী রয়েছে। প্রথম পর্যায়ে আমরা প্রচারণা চালালাম। ব্যাংকিং খাতের সঙ্গে যুক্ত হতে জনগণের জন্য বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করলাম। এর মাধ্যমে আমরা বাড়তি ৩০ কোটি মানুষকে ব্যাংকের সঙ্গে যুক্ত করতে পেরেছি। কিন্তু পরবর্তী চ্যালেঞ্জ হলো ব্যাংকের একাউন্টগুলোকে কার্যকর করা। কারণ ৭৮ শতাংশ একাউন্টে কোনো লেনদেন হতো না তাদের জমা ছিল শূন্য। এজন্য আমরা বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করলাম। বিশেষ করে স্বল্প ব্যয়ে ইন্স্যুরেন্স এবং পেনশনসহ একাউন্টগুলোকে কিছু প্রণোদনা দেওয়া শুরু হলো।

তিনি বলেন, জনসাধারণের জন্য সরকারের ভর্তূকি দেওয়ার বিষয়টি চ্যালেঞ্জের। কারণ সরকার যখন কোনো খাতে ভর্তুকি দেয় তখন সবাই এর থেকে সুবিধা গ্রহণ করে। যেমন জ্বালানি তেল, এখাতে ভর্তুকি দিলে সবাই সেটি গ্রহণ করে। ভর্তূকির অর্থ সুনির্দিষ্ট করে দেওয়ার জন্য সকল নাগরিকের জন্য আমরা জাতীয় পরিচয়পত্র বা ‘আধার’ চালু করলাম। তিনি বলেন, ভারতে একশ কোটি মোবাইল গ্রাহক রয়েছে। এর পাশাপাশি আধার নম্বর এবং ব্যাংক একাউন্টের মাধ্যমে আমরা ভর্তুকি দেওয়ার জন্য মূল জনগোষ্ঠীকে চিহ্নিত করতে সক্ষম হলাম। এর পর দেওয়া হলো নগদ ভর্তুকি প্রদান কর্মসূচি। সঠিক জনগোষ্ঠীকে চিহ্নিত করে তাদের একাউন্টে দেওয়া হলো ভর্তুকির অর্থ। এর ফলে অচল একাউন্টগুলো সচল হলো। শূন্য তহবিলের একাউন্ট সংখ্যা ২০ শতাংশে নেমে আসলো। তিনি বলেন, আর্থিক অন্তর্ভুক্তির এই দুই ধাপ পার হওয়ার পর আমাদের কাছে চ্যালেঞ্জ হলো নগদ লেনদেনের প্রবাহ কমিয়ে আনা। কারণ নগদ লেনদেন বা ক্যাশ ভিত্তিক লেনদেনে এই অর্থের মালিকানা শনাক্ত করা সম্ভব হয় না। এ ধরনের লেনদেনে ছায়া অর্থনীতির জন্ম দেয়। তা ছাড়া দুর্নীতি এবং সন্ত্রাসী অর্থায়নের মাধ্যম হলো নগদ লেনদেন। তাই নগদ লেনদেন কমিয়ে আনতে আমরা তিন ধাপে এগিয়েছি।

এই পোস্টটি শেয়ার করুন...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ ...
© All rights Reserved © 2020
Developed By Engineerbd.net
Engineerbd-Jowfhowo
Translate »