১৬ই অক্টোবর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ বিকাল ৩:০৪

চার আসন ধানের শীষশূন্য

রিপোর্টার নাম
  • আপডেট টাইমঃ সোমবার, ডিসেম্বর ১৭, ২০১৮,
  • 82 সংবাদটি পঠিক হয়েছে

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রচারণা চালানোর মাঝপথে উচ্চ আদালতের নির্দেশে একদিনে প্রার্থিতা থেকে বাদ পড়ে গেলেন বিএনপির পাঁচ জন প্রার্থী। এর মধ্যে বগুড়া-৩ আসনে আব্দুল মুহিত তালুকদার, বগুড়া-৭ আসনে সরকার বাদল ও ঢাকা-২০ আসনে তমিজ উদ্দিন, মানিকগঞ্জ-৩ আসনে আফরোজা খান রিতার বিষয়ে সিদ্ধান্ত দিয়েছেন আপিল বিভাগ। অন্যদিকে ঢাকা-১ আসনের বিএনপি ও ঐক্যফ্রন্টের প্রার্থী নবাবগঞ্জ উপজেলা চেয়ারম্যান খন্দকার আবু আশফাকের প্রার্থিতার বিষয়ে স্থগিতাদেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট।  এর আগে গত ১১ ডিসেম্বর ঋণখেলাপের কারণে ময়মনসিংহ-১ আসনের বিএনপি প্রার্থী আলী আজগরের মনোনয়নপত্রও স্থগিতের আদেশ দেন আপিল বিভাগ।

সোমবার (১৭ ডিসেম্বর) প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বে আপিল বিভাগ ও হাইকোর্টের একটি বেঞ্চ এসব নির্দেশ দিয়েছেন।

উচ্চ আদালতের এই আদেশের ফলে ময়মনসিংহ-১, ঢাকা-২০ ও মানিকগঞ্জ-৩ আসনে বিএনপির কোনও প্রার্থী থাকলো না। এছাড়াও ঢাকা-১ আসনে বিএনপির প্রার্থীর মনোনয়ন স্থগিত করায় উচ্চ আদালতে না গেলে তারও একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আর অংশগ্রহণের সম্ভাবনা নেই। এ আসনে বিএনপি তথা জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের বিকল্প কোনও প্রার্থীও নেই। তবে প্রতিটি আসনে বিএনপি একাধিক বিকল্প প্রার্থীকে প্রাথমিক মনোনয়ন দেওয়ায় বগুড়া-৩ ও ৭ আসনে বিএনপির দুই প্রার্থী বাদ পড়লেও সেখানে দলটির মূল প্রার্থীরা ভোটের মাঠেই রয়েছেন।

সোমবার সকালে প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনের নেতৃত্বাধীন আপিল বেঞ্চ নির্বাচনে প্রার্থিতা নিয়ে বিএনপির চার প্রার্থীর রিট আবেদনের শুনানি শোনেন। পৃথকভাবে করা এসব আবেদনের শুনানি অনুষ্ঠিত হয়।

আদালতে বিএনপি নেতাদের পক্ষে শুনানি করেন সিনিয়র আইনজীবী এ জে মোহাম্মদ আলী ও প্রবীর নিয়োগী। অন্যদিকে নির্বাচন কমিশনের পক্ষে ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম, অ্যাডভোকেট ওবায়দুর রহমান মোস্তফা।

ধামরাই উপজেলা চেয়ারম্যানের পদ থেকে তমিজ উদ্দিনের পদত্যাগপত্র গ্রহণের আগেই তিনি ঢাকা-২০ আসনে মনোনয়নপত্র জমা দেন। কিন্তু রিটার্নিং কর্মকর্তা ২ ডিসেম্বর তা বাতিলের সিদ্ধান্ত নেন। ওই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে তমিজ উদ্দিন আপিল করলে ইসি ৬ ডিসেম্বর তার আপিল মঞ্জুর করে তাকে বৈধ প্রার্থী ঘোষণা করে।

এরপর ইসির আদেশের বিরুদ্ধে রিট করেন ওই আসনের আওয়ামী লীগ প্রার্থী বেনজীর আহমেদ। গত ১১ ডিসেম্বর বিচারপতি জে বি এম হাসান ও বিচারপতি মো. খায়রুল আলমের হাইকোর্ট বেঞ্চ তমিজ উদ্দিনের মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করে নির্বাচন কমিশনের দেওয়া সিদ্ধান্ত স্থগিত করে রুলসহ আদেশ দেন।

হাইকোর্টের আদেশ স্থগিত চেয়ে তমিজ উদ্দিনের আবেদনের পর গত ১২ ডিসেম্বর চেম্বার বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকীর আদালত হাইকোর্টের আদেশ স্থগিত করে শুনানির জন্য আপিল বিভাগে পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চে পাঠানোর আদেশ দেন।

এদিকে, উপজেলা চেয়ারম্যান পদে থেকে পদত্যাগ না করায় বগুড়া-৩ আসনে আদমদিঘি উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান বিএনপির প্রার্থী আব্দুল মুহিত তালুকদার ও বগুড়া-৭ (গাবতলী-শাজাহানপুর) আসনের বিএনপির প্রার্থী শাহজাহানপুর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান সরকার বাদল মনোনয়নপত্র বাতিল করে নির্বাচন কমিশন। এরপর প্রার্থিতা ফিরে পেতে তারা হাইকোর্টে পৃথক পৃথক রিট দায়ের করেন। হাইকোর্ট গত ৯ ডিসেম্বর রিটের শুনানি নিয়ে নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্ত স্থগিত করেন। পরে এ আদেশের বিরুদ্ধে আপিল বিভাগে আবেদন করে নির্বাচন কমিশন। আপিল বিভাগের চেম্বার আদালত হাইকোর্টের আদেশ স্থগিত করে দেন। একইসঙ্গে পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চে পাঠানোর আদেশ দেন এবং সোমবার (১৭ ডিসেম্বর) আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চে শুনানির দিন নির্ধারণ করেন। আজ শুনানি শেষে তাদের প্রার্থিতা অবৈধ বলে আদেশ দেন আপিল বিভাগ।

এছাড়া, সোনালী ব্যাংক ঋণখেলাপের অভিযোগ আনায় নির্বাচন কমিশনে (ইসি) মানিকগঞ্জ-৩ আসনে বিএনপি প্রার্থী আফরোজা খান রিতার মনোনয়নপত্র গ্রহণের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে হাইকোর্টের স্থগিতাদেশের পর আজ শুনানি শেষে বিষয়টি নিয়ে কোনও আদেশ দেননি (নো অর্ডার) আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চ। ফলে রিতার প্রার্থিতার বিষয়ে হাইকোর্টের স্থগিতাদেশ বহাল থাকায় তিনি নির্বাচনে অংশ নিতে পারছেন না বলে জানিয়েছেন আইনজীবীরা।

আদালতে রিতার পক্ষে শুনানিতে ছিলেন ব্যারিস্টার আজমালুল হোসেন কিউসি। অন্যদিকে, সোনালী ব্যাংকের পক্ষে শুনানিতে ছিলেন আইনজীবী কাজী আকতার হামিদ।

প্রসঙ্গত, রিতার মনোনয়নপত্র নির্বাচন কমিশনে গৃহীত হওয়ার পর এর বিরুদ্ধে রিট দায়ের করে সোনালী ব্যাংক কর্তৃপক্ষ। রিতার বিরুদ্ধে ঋণখেলাপের অভিযোগ এনে করা ওই রিটের শুনানি নিয়ে গত ১২ ডিসেম্বর বিচারপতি জে বি এম হাসান ও বিচারপতি মো. খায়রুল আলমের হাইকোর্ট বেঞ্চ তার মনোনয়নপত্র বৈধ করার ওপর স্থগিতাদেশ দেন। সেই আবেদনের ওপর কোনও আদেশ দেননি আপিল বিভাগ।

অন্যদিকে, ঢাকা-১ আসনের বিএনপি ও ঐক্যফ্রন্টের প্রার্থী নবাবগঞ্জ উপজেলা চেয়ারম্যান খন্দকার আবু আশফাকের মনোনয়নপত্র বৈধ বলে দেওয়া নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্ত স্থগিত করেছেন হাইকোর্ট।

আসনটির কুলা প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করা বিকল্প ধারার জালাল উদ্দিনের করা রিটের প্রাথমিক শুনানি নিয়ে সোমবার (১৭ ডিসেম্বর) বিচারপতি জে বি এম হাসান ও বিচারপতি মো. খায়রুল আলমের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ রুলসহ এ আদেশ দেন।

আদালতে আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী এ এম আমিন উদ্দিন। সঙ্গে ছিলেন ব্যারিস্টার শামীম আহমেদ মেহেদী ও ব্যারিস্টার আব্দুল কাইয়ুম।

পরে এ এম আমিন উদ্দিন বলেন, উপজেলা চেয়ারম্যানের পদত্যাগপত্র গৃহীত হওয়ার আগেই তিনি সংসদীয় নির্বাচনের জন্য মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছিলেন। যদিও নির্বাচন কমিশন তার মনোনয়ন পত্র বৈধ করেছিল। কিন্তু রিটের শুনানি নিয়ে নির্বাচন কমিশনের ওই সিদ্ধান্ত হাইকোর্ট স্থগিত করেছেন। এ আসনে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টভুক্ত দলগুলোর আর কোনও প্রার্থী নেই।

প্রসঙ্গত বগুড়া-৩ আসনে ধানের শীষ দেওয়া হয়েছে মাছুদা মোমিনকে। আব্দুল মুহিত তালুকদার এখানে বিকল্প প্রার্থী ছিলেন। বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া নির্বাচনে অংশ নিতে না পারায় বগুড়া-৭ আসনে তার প্রধান বিকল্প প্রার্থী করা হয়েছে মোরশেদ মিল্টনকে। শাহজাহানপুর উপজেলা চেয়ারম্যান থেকে অব্যাহতি নেওয়া সরকার বাদল ছিলেন তৃতীয় বিকল্প। ফলে আব্দুল মুহিত তালুকদার ও সরকার বাদল মনোনয়ন না পেলেও বগুড়ার এ দুটি আসনে ধানের শীষের প্রার্থী থাকছেন।

তবে ঢাকা-১ আসনে খন্দকার আবু আশফাক ও ঢাকা-২০ আসনে তমিজ উদ্দিন এবং মানিকগঞ্জ-৩ আসনে আফরোজা খান রিতাই ছিলেন বিএনপির প্রথম পছন্দের প্রার্থী। তাদের মনোনয়নপত্র বাতিল হওয়ায় এসব আসন ধানের শীষ প্রতীক শূন্য হয়ে পড়বে। অবশ্য, ঢাকা-১ আসনে খন্দকার আবু আশফাকের সামনে এখন খোলা আছে শুধু আপিল বিভাগের রাস্তা।

এর আগে ঋণখেলাপের অভিযোগে ময়মনসিংহ-১ আসনের বিএনপি প্রার্থী আলী আজগরের মনোনয়নপত্র স্থগিত করে হাইকোর্টের দেওয়া আদেশ বহাল রেখেছেন আপিল বিভাগ। এর ফলে তিনি একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আর অংশ নিতে পারছেন না বলে জানিয়েছেন আইনজীবীরা।

এই পোস্টটি শেয়ার করুন...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ ...
© All rights Reserved © 2020
Developed By Engineerbd.net
Engineerbd-Jowfhowo
Translate »