২৭শে সেপ্টেম্বর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ সন্ধ্যা ৬:৫৬
ব্রেকিং নিউজঃ

পিরোজপুরের সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের উপর হামলা… আহত নারীসহ ৬ জন!

রিপোর্টার নাম
  • আপডেট টাইমঃ শনিবার, এপ্রিল ২৭, ২০১৯,
  • 440 সংবাদটি পঠিক হয়েছে

পিরোজপুরের নাজিরপুর উপজেলার চর বানিয়ারী গ্রামে মোঃ শওকত মোল্লা, মোঃ নজরুল সরদার ও মোঃ আবু মেম্বারের নেতৃত্বে সংখ্যালঘু হিন্দু সম্প্রদায়ের উপর বর্বরোচিত হামলা

আহতরা হলেন, নাজিরপুর উপজেলার চর বানিয়ারী গ্রামের বিশ্বদেব বিশ্বাসের ছেলে মৃনাল বিশ্বাস ওরফে বিধান (৩২), সমর বিশ্বাস (৩০), বিদ্যুৎ বিশ্বাস, মোবারক শিকদারের ছেলে এমাদুল শিকদার (২৮), জাফর খানের ছেলে জামাল খান (১৮) ও সমর বিশ্বাসের স্ত্রী নুপুর বিশ্বাস।

স্থানীয় রসময় বিশ্বাস জানান, শুরু থেকেই দুই থানার পুলিশের ভুমিকা রহস্যজনক। তাদের কাছে জমির বৈধ কাগজপত্র থাকার পরেও পুলিশ পক্ষপাতিত্ব করে আসছে। আজ পুলিশ আমাদের গ্রামে ঢুকে পুরুষের পাশাপাশি নারীদেরও মারধর করেছে।

ভুক্তভোগী বীনা বিশ্বাস ও জয়ন্তী বিশ্বাস জানান, শওকত মোল্লা, নজরুল সরদার, কেস্ট মেম্বার ও আবু মেম্বারের নেতৃত্বে শতাধিক লাঠিয়াল বাহিনী নিয়ে তারা প্রথমেই বিধান বিশ্বাসের জমির ধান কাটতে শুরু করে। এ সময় বিধান ও তার ভাইয়েরা গিয়ে বাঁধা দিলে তাদের ওপর হামলা চালানো হয়। এ সময় চিতলমারী থানা পুলিশও তাদের সহায়তা করেছে। চিতলমারী থানার পুলিশ মোঃ রফিকের রাইফেলের আঘাতে বিধানের মাথা ফেটে যায়।

স্থানীয়দের সাথে কথা বলে জানা গেছে, নাজিরপুর ও চিতলমারী উপজেলার সীমান্তে বল্লেশ্বর নদে জেগে ওঠা চরের ২৪নং চরবানিয়ারী মৌজার জমি ৪০/৫০ বছর ধরে খাজনা দিয়ে ভোগদখল করে আসছে নাজিরপুর উপজেলার চরবানিয়ারী গ্রামের হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকজন। তাদের ভোগদখলীয় প্রায় ১০০ একর জমি চিতলমারী উপজেলার প্রভাবশালী এক ব্যক্তি অবৈধভাবে দখলে নিয়ে ইটভাটা করে এ নিয়ে দুপক্ষের মধ্যে বিরোধ দেখা দেয়। ইটভাটার মালিক পেশাদার লাঠিয়াল বাহিনীর মাধ্যমে হিন্দু সম্প্রদায়ের ওপর ধারাবাহিক নির্যাতন চালিয়ে আসছে।

সম্প্রতি ওই জমির ধানকাটা নিয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে নতুন করে বিরোধ শুরু হয়। এ বিরোধ নিষ্পত্তির লক্ষ্যে গত বৃহস্পতিবার নাজিরপুর ও চিতলমারী থানার ওসি, এসিল্যান্ড ও স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যানদের সমন্বয়ে এক বৈঠক হয়। সেখানে সিদ্ধান্ত হয় দুই উপজেলার এসিল্যান্ড মিলে ওই জায়গার ধান কাটিয়ে নাজিরপুরের মাটিভাঙ্গা ও চিলতমারীর সন্তোষপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানের কাছে জমা থাকবে। পরে কাগজপত্র যাচাই বাচাই করে মিমাংসার পরে প্রকৃত মালিকদের ধান বুঝিয়ে দেয়া হবে।

গতকাল শনিবার সকালে এ সিদ্ধান্ত অমান্য করে চিতলমারী উপজেলার লোকজন বিরোধীয় জমির ধানকাটা শুরু করলে নাজিরপুরের চরবানিয়ারী গ্রামের হিন্দুরা বাঁধা দিলে তাদের ওপর হামলা চালানো হয়। এ সময় চিতলমারী উপজেলার ওই প্রভাবশালীর লাঠিয়াল বাহিনী ও চিতলমারী থানার পুলিশ হিন্দুদের ওপর হামলা চালায়।

নাজিরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার ডা. শোভন রায় চৌধুরী জানান, আহতদের মধ্যে মৃনাল বিশ্বাস ও এমাদুল শিকদারের অবস্থা আশংকা জনক হওয়ায় তাদের উন্নত চিকিৎসার জন্য খুলনা মেডিকেলে রেফার করা হয়েছে। মৃনাল বিশ্বাসের মাথায় গুরুতর আঘাত। কোন ভাবেই তার বমি বন্ধ হচ্ছে না।

এই পোস্টটি শেয়ার করুন...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ ...
© All rights Reserved © 2020
Developed By Engineerbd.net
Engineerbd-Jowfhowo
Translate »