২৪শে সেপ্টেম্বর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ বিকাল ৪:০৪
ব্রেকিং নিউজঃ

প্রথমবার হিন্দু বাবা ও মুসলিম মায়ের সন্তানকে জন্মের শংসাপত্র দিল আরব আমিরশাহী

রিপোর্টার নাম
  • আপডেট টাইমঃ রবিবার, এপ্রিল ২৮, ২০১৯,
  • 109 সংবাদটি পঠিক হয়েছে

অনলাইন ডেস্ক: দীর্ঘ টানাপোড়েনের পর এক ভারতীয় দম্পতির ৯ মাসের শিশুকে জন্মের শংসাপত্র দিল সংযুক্ত আরব আমিরশাহী। সেদেশের আইন অনুযায়ী, একজন মুসলিম পুরুষ একজন অমুসলিম মহিলাকে বিয়ে করতে পারে। কিন্তু, একজন মুসলিম মহিলা কখনই মুসলিম সম্প্রদায়ের বাইরে কোনও পুরুষকে বিয়ে করতে পারবে না।

কিন্তু, এই নিয়মটি জানতেন না কেরলের কিরণ বাবু ও সনম সাব্বু সিদ্দিকি। ২০১৬ সালে ভারতে থাকাকালীনই তাঁদের বিয়ে হয়। তারপর সংযুক্ত আরব আমিরশাহীতে চলে আসেন ওই দম্পতি। ২০১৮ সালের জুলাই মাসে সেখানেই জন্ম হয় তাঁদের শিশুকন্যার। কিন্তু, এক হিন্দুর ঔরসে মুসলিম মহিলার সন্তান প্রসবকে স্বীকৃতি দেয়নি হাসপাতাল। ফলে পাওয়া যায়নি ওই শিশুর জন্মের শংসাপত্রও।

এপ্রসঙ্গে ওই শিশুকন্যার বাবা কিরণ বাবু বলেন, “আমার কাছে আবু ধাবির ভিসা ছিল। ছিল ইনসিওরেন্স কভারেজও। তাই আমার গর্ভবতী স্ত্রীকে এখানকার একটি হাসপাতালে সন্তান প্রসবের জন্য ভরতি করি। কিন্তু, আমি হিন্দু বলে স্ত্রী শিশুকন্যা প্রসব করার পর তার জন্মের শংসাপত্র দিতে চায়নি হাসপাতাল। এরপরই আদালতের কাছে নো-অবজেকশন সার্টিফিকেটের জন্য আবেদন জানাই আমি। ওই আবেদনের ভিত্তিতে চার মাস ধরে শুনানি চললেও মামলাটি খারিজ হয়ে যায়। তখন বাধ্য হয়ে ভারতীয় দূতাবাসের সাহায্যে সংযুক্ত আরব আমিরশাহী সরকারের দ্বারস্থ হই। কিন্তু, তাদের কাছেও আমার মেয়ের জন্ম সংক্রান্ত কোন তথ্য না থাকায় তারা আমায় কোনও সাহায্য করতে পারেনি। লড়াইয়ের ওইদিনগুলো খুবই কঠিন ছিল।”

বাধ্য হয়ে শেষ পর্যন্ত ফের আদালতেরই দ্বারস্থ হন কিরণ বাবু। আরব আমিরশাহীতে অবস্থিত ভারতীয় দূতাবাসের কাউন্সিলর এম রাজামুরুগানের উদ্যোগে এবার তাঁর মামলা শুনতে রাজি হয় আদালত। কিরণ বাবুর কথায়, “এবার আমার মামলাকে ব্যতিক্রম হিসেবে ধরে শুনানি শুরু করে বিচার বিভাগ। এরপরই এবিষয়ে আমার আবেদনকে মান্যতা দিয়ে অনুমোদন করেন আরব আমিরশাহীর প্রধান বিচারপতিও। শুধু তাই নয়, স্বাস্থ্য দপ্তরকে আমার মেয়ের জন্মের শংসাপত্র দেওয়ার নির্দেশও দেন।”

অবশেষে আদালতের নির্দেশে গত ১৪ এপ্রিল কিরণ বাবু ও সনম সাব্বু সিদ্দিকির মেয়ে আনমতা কিরণকে জন্মের শংসাপত্র দেয় সংযুক্ত আরব আমিরশাহী সরকার। কিরণ বাবুর কথায়, “সংযুক্ত আরব আমিরশাহীর ইতিহাসে আমার ঘটনাই প্রথম যেখানে নিয়ম ভাঙা হল।”

সংযুক্ত আরব আমিরশাহীর প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, ২০১৯ সালকে পরধর্মসহিষ্ণুতার বছর হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছিল। তাই দুটি ভিন্ন সম্প্রদায়ের মধ্যে ঐক্য গড়ে তুলতে সবরকমের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। ওই শিশুটিকে জন্মের শংসাপত্র দেওয়া তারই একটা অঙ্গ।

এই পোস্টটি শেয়ার করুন...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ ...
© All rights Reserved © 2020
Developed By Engineerbd.net
Engineerbd-Jowfhowo
Translate »