১৪ই জুন, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ রাত ৮:৩৫

অপ্রিয় অপদার্থ পিতা,

রিপোর্টার নাম
  • আপডেট টাইমঃ সোমবার, মে ১০, ২০২১,
  • 106 সংবাদটি পঠিক হয়েছে

আশা করছি তুমি ভালো নেই। তোমার শিক্ষায় শিক্ষিত আমি। তুমি বলছিলে-‘আমরা (মানুষ) সব কিছু নিয়ন্ত্রন করি!’ তুমি শিখিয়েছো-‘সব আমাদের! এই পানি-মাটি-আকাশ-মহাকাশ সব আমাদের!’ গাছ, ফুল, ফল,পাখি সবকিছুই নাকি আমাদের (মানুষ) জন্য! আমার বেঁচে থাকার জন্য ও ভালো রাখার জন্য মা (পৃথিবী) সব কিছু সাজিয়ে রেখেছেন! তুমি বলেছো,-‘তোমার যা ইচ্ছা করো! কেউ তোমাকে বাঁধা দিবে না। তোমার জন্য সকল প্রাণীকুল উপভোগ্য’ তাইতো মহাশক্তিধর ম্যামথ হয়ে গিয়েছে হাতি, যে হাতিকে আমি নিয়ন্ত্রন করি! আমাকে প্রাণী চেনানোর জন্য তুমি চিড়িয়াখানা তৈরী করলে! তিমি থেকে শুরু করে ছোট মাছ পর্যন্ত সকল পানির প্রানী আমার জন্যই! নির্বিচারে খুন করতে শেখালে; কারনে-অকারনে বন উজাড় করতে শেখালে! তোমার হাত ধরেই শিখলাম-আকাশের উড়ন্ত পাখি কিভাবে মেরে ফেলতে হয়। এমনকি তুমি শেখালে ভাইয়ে-ভাইয়ে কিভাবে যুদ্ধ করে যেকোনো মুল্যে জয়ী হতে হয়! কল-কারখানা তৈরী করার জন্য কোনো কিছুই বিচার করার প্রয়োজন নেই! আমি শিখলাম; আমি আমার সন্তানদেরও তোমার পাঠই পড়ালাম! সভ্যতা তৈরী করলাম কিন্তু রাশ টানতে শিখলাম না! তুমিও যেমন আমাকে শেখাওনি, আমিও আমার সন্তানদের শিখাই নি। পিতা, দেখো, তোমার দেয়া শিক্ষায় আজ আমি সভ্যতাকে হাতের মুঠোয় নিতে শিখেছি! পিতা, আজ আমি মহাকাশ নিয়ন্ত্রনের কাছাকাছি। আমার ভাইয়েরাও পাল্লা দিয়ে একই কাজ করছে। পিতা, তোমার শিক্ষায় শিক্ষিত আমি তো কোনো ভুল করি নি, আমার ভাইয়েরাও নয়। কারন তোমার কাছ থেকে শিখেছি-যুদ্ধে সব কিছু জায়েজ!
কিন্তু পিতা, তুমি তো এটা শিখিয়ে দাও নি যে, মা (পৃথিবী) আমার উপরে কখনো রাগ করতে পারেন! এক অনুজীব আমাদের সাজানো বাগান শেষ করে ফেলছে পিতা! মা (পৃথিবী) যেনো তার অন্যান্য সন্তানদের বাঁচাতে গিয়ে আজ আমাকে ভুলে গেছেন বা আমাকে হয়তো সন্তানই ভাবছেন না! পিতা, তুমি তো জানতে ‘আদর দেওয়ার অনেক দোষ, শাসন করার অনেক গুণ তাই পুত্রকে শাসন করাই দরকার, আদর দেওয়া নয়।’ তুমি এও জানতে ‘নানাভাবে শিক্ষা পেলেও দুর্জন সাধু হয় না, নিমগাছ যেমন আমূল জলসিক্ত করে কিংবা দুধে ভিজিয়ে রাখলেও কখনও মধুর হয় না।’ তুমি কি ইচ্ছা করেই ভুলে গিয়েছিলে যে ‘একটি কুবৃক্ষের কোটরের আগুন থেকে যেমন সমস্ত বন ভস্মীভূত হয়, তেমনি একটি কুপুত্রের দ্বারাও বংশ দগ্ধ হয়।’ আজ আমার কারনেই জগতসংসারে হাহাকার! আমি আর আমার বংশধরব্যতীত সবাই আজ খুশি! আমরা শুধু প্রতিনিয়ত মৃত্যুর সংখা গুনছি সভ্যতার লাগামহীন দৌরাত্মে! আজ প্রানীজগতের অন্য সবাই ভালো আছে! ঝকঝকে নির্মল আকাশ, ডলফিনের ঝাঁক, গাছ-লতা, পাখি, প্রানী এমনকি পোকা-মাকড়ও! দল বেঁধে ফিরে আসছে পরিযায়ী পাখির দল!
পিতা, তোমার দেয়া শিক্ষায় শিক্ষিত আমার আচরনে আর উন্মাদনায় মহান সৃষ্টিকর্তা এবং তিতিবিরক্ত মা (পৃথিবী) আর সইতে না পেরে অটো-ইমিউনিটি সিস্টেম এর বোতামটাই টিপে দিয়েছেন!
আজ কেনো যেনো মনে হচ্ছে তোমার দেয়া অনেক শিক্ষাই ভুল! অপদার্থ আমি তোমার কথা শুনে গিয়েছি হাজার-হাজার বছর ধরে! আজ তোমাকে মনে হচ্ছে অপদার্থ, নিজেকে মনে হচ্ছে অপদার্থ! স্বীকার করছি যে আমিও সীমা-লংঘন করে ফেলেছি! হ্যাঁ, স্বীকার করছি যে আমিও ভুলে গিয়েছিলাম যে মহান সৃষ্টিকর্তা (আল্লাহপাক) সীমা লংঘনকারীকে পছন্দ করেন না! আজ আমার মনে হচ্ছে যে, আমি তোমার থেকে অনেক কিছুই ভুল শিখেছি কিন্তু সবচেয়ে বড় ভয়ের কথা আমি আর আমার ভাইয়েরা এখন আর আমাদের সন্তানদেরকে বোঝাতে পারছি না যে, তোমার দেয়া শিক্ষা ভুল! পিতা, তুমি কেনো শেখাওনি যে, প্রকৃতিও প্রতিশোধ নেয়। কেনো মনে করিয়ে দাও নি যে, ‘থামো! মহান সৃষ্টিকর্তা (আল্লাহপাক) সীমা লংঘনকারীকে পছন্দ করেন না!’ জানি না মা (পৃথিবী) শান্ত হবেন কিনা? হলেও আমরা আমাদের ভুল থেকে শিক্ষা গ্রহন করবো কিনা? তবে আশা করতে দোষ কি যে নতুন পৃথিবীতে নতুনভাবে নামবে সবাই আমূল বদলে যাওয়া জীবনকে নতুন করে বাঁধতে।

এই প্রত্যাশায়-
তোমার জনৈক অপদার্থ সন্তান।
© আহমেদ রুবাইয়াত ইফতেখার

এই পোস্টটি শেয়ার করুন...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ ...
© All rights Reserved © 2020
Developed By Engineerbd.net
Engineerbd-Jowfhowo
Translate »