১৪ই জুন, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ রাত ৯:৩০

কূটনৈতিক শিষ্টাচার লঙ্ঘনের অপরাধে চীন দূতাবাসকে ক্ষমা চাইতে হবে: মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চ

রিপোর্টার নাম
  • আপডেট টাইমঃ শুক্রবার, মে ১৪, ২০২১,
  • 53 সংবাদটি পঠিক হয়েছে

চীনের রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশের ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন করার উদ্দেশ্যে কূটনৈতিক শিষ্টাচার বহির্ভূত মন্তব্য করায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ এবং বক্তব্য প্রত্যাহার করে অবিলম্বে ক্ষমা চাওয়ার দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চ।

বাংলাদেশ মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চ, কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুল ও সাধারণ সম্পাদক মো: আল মামুন স্বাক্ষরিত এক লিখিত প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে একথা জানানো হয়েছে।

লিখিত প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, “১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধের বিরোধিতাকারী রাষ্ট্র চীনের বাংলাদেশে নিযুক্ত রাষ্ট্রদূত লি জিমিং কর্তৃক বাংলাদেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার উদ্দেশ্যে কূটনৈতিক শিষ্টাচার বহির্ভূত মন্তব্যের বিরুদ্ধে তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছে বাংলাদেশ মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চ। চীন রাষ্ট্রদূতের এ ধরনের কূটনৈতিক শিষ্টাচার বহির্ভূত বক্তব্য অবিলম্বে প্রত্যাহার করে বাংলাদেশের নিকট আনুষ্ঠানিক ভাবে ক্ষমা চাইতে হবে। গত ১০মে ডিপ্লোমেটিক করেসপন্ডেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে সম্প্রতি চীনের প্রতিরক্ষা মন্ত্রীর ঢাকা সফর নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নে চীন রাষ্ট্রদূত লি জিমিং বলেন যুক্তরাষ্ট্র, ভারত, অস্ট্রেলিয়া ও জাপানের সমন্বয়ে গঠিত জোট কোয়াডে বাংলাদেশ যোগ দিলে ঢাকা-বেইজিং দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের ক্ষতি হবে। কোয়াড নিয়ে চীনের রাষ্ট্রদূত লি জিমিংয়ের এধরনের মন্তব্য অত্যন্ত দুঃখজনক এবং কূটনৈতিক শিষ্টাচার বহির্ভূত। বাংলাদেশ একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্র। স্বাধীন রাষ্ট্রের পররাষ্ট্র নীতি সরকারই নির্ধারণ করবে। বাংলাদেশের পররাষ্ট্র নীতি হচ্ছে, সকলের সাথে বন্ধুত্ব, কারো সাথে বৈরিতা বা শত্রুতা নয়। কোন বিদেশী রাষ্ট্র অন্য স্বাধীন দেশের পররাষ্ট্রনীতির ওপর কখনোই হস্তক্ষেপ করতে পারে না। চীন রাষ্ট্রদূতের এ ধরনের বক্তব্যের মাধ্যমে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতির ওপর নগ্ন হস্তক্ষেপের চেষ্টা হয়েছে। বাংলাদেশের ভাবমূর্তি চরমভাবে ক্ষুণ্ন করা হয়েছে। ১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধে চীন পাকিস্তানের পক্ষ নিয়ে বাংলাদেশের স্বাধীনতার বিরোধিতা করেছিল। বিএনপি-জামাতের শাসনামলে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়াকে ১৫ আগস্টে জন্মদিনের উপহার পাঠিয়েছিলো ঢাকাস্থ চীন দূতাবাস। এসব ঘটনায় প্রমাণ করে চীন আজও পর্যন্ত বঙ্গবন্ধু, বাংলাদেশ ও মুক্তিযুদ্ধকে মেনে নিতে পারেনি। একাত্তরে পরাজিত হওয়ার প্রতিশোধ নেয়ার জন্য চীন এবং পাকিস্তান প্রতিনিয়ত বাংলাদেশ বিরোধী ষড়যন্ত্রে করে যাচ্ছে। সম্প্রতি চীন রাষ্ট্রদূতের বাংলাদেশ বিরোধী মন্তব্য, ১৫ আগস্টে খালেদা জিয়াকে জন্মদিনের উপহার পাঠানো, একাত্তরে মুক্তিযুদ্ধের বিরোধিতা করা-এসব ষড়যন্ত্র একই সূত্রে গাঁথা।

চীন রাষ্ট্রদূতের এধরনের কূটনৈতিক শিষ্টাচার বহির্ভূত বক্তব্য প্রত্যাহার করে অবিলম্বে বাংলাদেশের নিকট আনুষ্ঠানিকভাবে ক্ষমা চাইতে হবে। অন্যথায় বাংলাদেশ মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চ চীন দূতাবাস ঘেরাওসহ সমগ্র দেশে আরোও কঠোর কর্মসূচী ঘোষণা করবে।”

এই পোস্টটি শেয়ার করুন...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ ...
© All rights Reserved © 2020
Developed By Engineerbd.net
Engineerbd-Jowfhowo
Translate »