১লা আগস্ট, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ রাত ৩:৪৬

‘লাইসার্জিক অ্যাসিড ডাইইথ্যালামাইড’

রিপোর্টার নাম
  • আপডেট টাইমঃ বুধবার, জুন ২, ২০২১,
  • 279 সংবাদটি পঠিক হয়েছে

আহমেদ রুবাইয়াত ইফতেখার (বাবু)

‘লাইসার্জিক অ্যাসিড ডাইইথ্যালামাইড’ বললে হয়তো বোঝা যাবে না, LSD বললে ঠিক আছে? হ্যা, এবার চেনা গেলো! বর্তমান সময়ে সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া একটি মাদকের নাম।
গাঁজা, আফিম, ইনজেকটিক মাদক, হেরোইন, ফেনসিডিল, ইয়াবা, ক্রিস্টাল মেথ বা আইস ও খাতের পর এখন দেশে মিলছে ভয়ংকর মাদক লাইসার্জিক অ্যাসিড ডাইথ্যালামাইড বা LSD! LSD অনেক পুরোনো মাদক হলেও বাংলাদেশে সহজলভ্য ছিলো না বা সবাই জানতো না কোথায় বা কিভাবে পাওয়া যেতে পারে এই মাদক।

ধন্যবাদ(!) গনমাধ্যম, সামাজিক মাধ্যমে, online news-এ ঢালাওভাবে এই মাদক, মাদক ব্যবসায়ী, কিভাবে আসে এই মাদক তা সবার সাথে পরিচয় করিয়ে দেয়ার জন্য!

শুভেচ্ছা(!) তাদের, যারা LSD কিভাবে এদেশে বসে পাওয়া যাবে-এই নিয়ে রোমান্চকর একটি স্বপ্ন দেখতো!

অভিনন্দন(!) আমাদের দেশের নতুন কয়েকজন ‘জাতীয় ক্রাশ’ তরুনকে(!), যারা এখন অনেক তরুনীদের রাতের ঘুম হারাম করে দিয়েছে!

অনেক কথা লিখতে ইচ্ছে করছে কিন্তু মুল কথায় আসি।

এই অ্যাসিড এক ধরনের সাইকেডেলিক ওষুধ, যা মনস্তাত্ত্বিক প্রভাবের জন্য পরিচিত। এটি প্রধাণত প্রমোদমূলক মাদক হিসেবে ব্যবহৃত হয়। এই ধরনের মাদকের প্রভাবে মানুষের মতিভ্রম ঘটে। আশেপাশের পরিবেশ ও বাস্তবতাকে মুহূর্তেই ভুলে গিয়ে অলীক বস্তু প্রত্যক্ষ করতে থাকেন। এই মাদক গ্রহনে সাধারণত মানুষকে ‘হ্যালুসিনেট’ করে বা মানুষ এমন দৃশ্য দেখে যা বাস্তবে নেই! ব্যবহারকারীরা যে কল্পনাজগত চোখের সামনে দেখতে পান, সেসব মস্তিষ্কে জমে থাকা তথ্যভাণ্ডার থেকে আসে। সেসব তথ্য সবসময় মস্তিষ্কের পেছন দিকে অবস্থিত ভিজ্যুয়াল কর্টেক্স থেকে আসে না। অর্থাৎ মানুষের দৃশ্যমান স্মৃতির সঙ্গে সম্পর্কিত থাকে না। এই মাদকের প্রভাবে মস্তিষ্কের কাজ করার ভিন্ন ভিন্ন অংশ মিলেমিশে যায়। একই সঙ্গে এলএসডি সেবনের কারণে মস্তিষ্কের স্বাভাবিক নেটওয়ার্কিং ব্যবস্থা ভেঙে যায় এবং পৃথকভাবে কাজ করতে থাকে। ফলে ব্যবহারকারী পৃথিবীতে শুধু নিজেকেই দেখতে পান এবং একক সম্পর্ক অনুভব করেন, যাকে বলা হয় ‘ইগো ডিসোল্যুশন’। অনেক সময় অলীক দৃশ্য দেখার কারণে দুর্ঘটনার শিকার হয়ে থাকে। অনেকেই উন্মাদ হয়ে ভয়ঙ্কর কিছু পরিস্থিতি করতে গিয়েই বিপদগ্রস্ত হয়ে থাকেন।

সকলের প্রতি সম্মান রেখেই বলছি, যে কয়জন তরুনকে গ্রেফতার করা হয়েছে; তাদের ছবি গনমাধ্যম, সামাজিক মাধ্যমে, online news-এ ঢালাওভাবে প্রকাশ করাটা কি খুব দরকার ছিলো? কারন প্রথমত, এদের কতদিন আটক রাখা যাবে? এরা যদি ছাড়া পেয়ে যায়, রাতারাতি এরা তারকা বলে যাবে (ইতিমধ্যেই হয়েছে বলে মনে হয়)! কয়েকদিন বা মাস হয়তো গা-ঢাকা দিয়ে থাকবে। এরপর হবে আসল খেল শুরু! যারা একবার হলেও LSD গ্রহনের স্বপ্ন দেখতো, তাদের জন্যে এরা হবে দেবতা! হন্যে হয়ে এদের পিছনে লেগে থাকবে শুধু একটিবার LSD পাওয়ার আশায়!

এদের কাছ থেকে যে আবার LSD নিতে পারবে, সে হবে উঠতি তারকা। এভাবেই হয়তো আজ যেমন প্রত্যন্ত গ্রামে ‘ইয়াবা’ পৌছে গিয়েছে; পৌছে যাবে LSD ও! (আমি মনে প্রানে চাই যে আমার এই ধারনা ভুল প্রমানিত হোক)।

গ্রেফতারসহ সময়ে এদের চেহারাতে যে হাসি ছিলো-এটা কি সাধারন কিছু? না, এরা অভস্ত্য এবং তারা ঠিক যা চেয়েছিলো, ঠিক সেভাবেই প্রচারনা পেয়েছে, হয়তো তাই কোনো বিকার ছিলো না বরং তারা খুশি ও উচ্ছসিত।

এখন আসি, আমাদের দেশে LSD ‘র ড্রাগ ডিলারদে উপর ক্রাশ খাওয়া আমাদের পরবর্তী প্রজন্মের তরুনীদের প্রসংগে। এটা হলো একধরনের সিনড্রোম বা মানসিক অসুস্থতা যাকে হাইব্রিষ্টোফিলিয়া (Hybristophilia) বলে! এই সিনড্রোমের ভুক্তভোগীরা ড্রাগ এডিকটেড, সিরিয়াল কিলার, রেপিস্ট –এধরনের ক্রিমিনালদের প্রতি এট্রাকটেড হয় বা তাদের প্রতি সেক্সুয়াল ইন্টারেস্ট পোষণ করে। সাধারনত সেসব মেয়েরা এই সিনড্রোমে ভোগে-যারা ডমিনেটেড হতে পছন্দ করে। আমাদের দেশে এটাই প্রথমবার না। ২০১৬ সালে গুলশানের হলি আর্টিজান বেকারি-তে জঙ্গি হামলার সময় নিহত জঙ্গি নিবরাসের উপরও সেসময় অনেক মেয়ে ক্রাশড ছিল। এরা সবাই আসলে মানসিককভাবে অসুস্থ ও হাইব্ৰিষ্টোফিলিয়া সিনড্রোমে আক্রান্ত। এদের মানসিক চিকিৎসকের কাউন্সিলিং জরুরী।

ইদানীং প্রত্যেকটি নেতিবাচক খবর (বিশেষ করে যে কোনো ভয়ংকর খবর) গনমাধ্যম, সামাজিক মাধ্যমে, online news বিষদভাবে প্রচার করা হয়। আমাদের দেশে এখন বিশেষায়িত অনেকগুলো আইন শৃংখলা বাহিনী রয়েছে, যাদের প্রত্যেকেই অতন্ত্য দক্ষ এবং অতি মাত্রায় আধুনিক। আমার জানামতে, তাদের প্রতিটি শাখার একটি করে মিডিয়া সেল রয়েছে এবং তারা প্রত্যেকেই তাদের কার্যবিধি-প্রনালী এবং করনীয় সম্পর্কে পরিপূর্ন ওয়াকিবহাল। তাই তারা শুধু জানলেই হবে যে, কিভাবে বিদেশ থেকে আনা হয় এলএসডি সহ অন্যান্য মাদক। আমাদের মতো সাধারন মানুষ বা কেউ যদি আগ্রহী হয় মাদক গ্রহনে, তারা গনমাধ্যম, সামাজিক মাধ্যমে, online news বিষদভাবে যদি পেয়েই যায় যে মাদক গ্রহন বা সংগ্রহের পদ্ধতি-তবে আর কি থাকে!

দেশে কারা বা কে কে মাদক বিক্রিতে সক্রিয় তা নিয়ে অনুসন্ধান করতে তো মানা নেই, এটা খুবই ভালো কাজ। আমার মতে, এই জঘন্য মাদক যতটুকু সম্ভব নিয়ন্ত্রনে (নির্মুল সম্ভব নয় সম্ভবত) অনুসন্ধানী রিপোর্ট বা তথ্য কাটতির জন্য ঢালাওভাবে গনমাধ্যম, সামাজিক মাধ্যমে, online news বিষদভাবে দেয়ার থেকে বিশেষায়িত আইন শৃংখলা বাহিনী’র কাছে পৌঁছানোই বেশী কার্যকারী হবে বলে আমি মনে করি।

যেখানে আমাদের দেশে মোবাইল অপারেটরদের বিজ্ঞাপনে ব্যবহৃত হয়-
পুরো পৃথিবী এক দিকে আর আমি অন্য দিক
সবাই বলে করছ ভুল আর তোরা বলিস ঠিক
সুসম্পর্ক দুঃসম্পর্ক আত্মিয় অনাত্মিয় শত্রু মিত্র
রক্ত সম্পর্কে কেউ বা দ্বিতীয় শর্ত সব দূরে কাছে বৈধ অবৈধ
হাজারো এসব সম্পর্ক ভাঙ্গে থাকে বন্ধুত্ব,
তোরা ছিলি তোরা আছিস জানি তোরাই থাকবি
বন্ধু বোঝে আমাকে, বন্ধু আছে আর কি লাগে?
বা
চাইলে দিয়ে দিব কলিজার হাফ; বন্ধুর বেলাতে সব দোষ মাফ!

(গানের কলি গুলো পড়লে বোঝা যাবে যে আমি কি বলতে চাইছি। আমি বন্ধুত্বের বিপক্ষে অবশ্যই নই। তবে গানের কলিতে- বৈধ অবৈধ সম্পর্ক মানে কি? বন্ধু আছে আর কি লাগে? মানে কি। বাবা/মা/ভাই/বোন সুসম্পর্ক/দুঃসম্পর্ক/আত্মিয়ের প্রয়োজন নেই বা কলিজার হাফ মানে কি? আমি আধুনিকতা বুঝি। বুঝি সময়ের প্রয়োজন। কিন্তু বুঝি না যে সবকিছু কেনো শুধুমাত্র কাটতির জন্য গনমাধ্যম বা সামাজিক মাধ্যমে ঢালাও করে প্রচার করতে হবে!

এরপরে একই সাথে বিভিন্ন সামাজিক মাধ্যম যেমন-YouTube বা এর ভ্লগ (Vlog), এর চ্যানেলস (Channels); Instagram, Facebook, tweeter সহ TikTok নিয়ে একটু কথা বলি। বিষয়টা হচ্ছে এইসব সামাজিক মাধ্যম আসলে সবার জন্য। সাধারণত মানুষের জন্য এই প্লাটফর্মগুলো খুবই উপযুক্ত হলেও সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশে অসংখ্য মানুষ বয়স, আচরণ, অবস্থানের সাথে অসামাঞ্জস্যপূর্ণ কনটেন্ট ক্রিয়েট করাতে এখন মনে হয় এগুলো আসলে অপু, হৃদয় বাবু টাইপের মানুষজনদের জায়গা।
আমার মতে, হয়তো ধারনাটি ভুল! আপনি যখন মন্দ কন্টেন্টকে জায়গা দেন, তখনই ভাল কন্টেন্ট বাজার থেকে হারিয়ে যায়। অর্থনীতির ভাষায় Gresham’s Law অনুসারে ‘Bad money drives out good money!’ ঠিক সেই Law অনুসারে যদি মানুষের ক্ষেত্রে বলা যায় তো, বলা যায়-ভাল মানুষরা জায়গা ছেড়ে দিলে সেটা খারাপ মানুষরাই নিয়ে নেয়।

আমি যেহেতু একজন রাজনৈতিক কর্মী তাই এর উদাহরণ রাজনীতির মাঠ থেকেই দিতে চাই। ভালো ছাত্ররা বলবে আমরা রাজনীতি করব না (আমিও খারাপ ছাত্র ছিলাম না)। এখন তারা যদি রাজনীতি না করে বা রাজনৈতিক সচেতন না হয় তবে নুরুর মতো প্রানীই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে সর্বোচ্চ ভোট পেয়ে ডাকসুর নেতা হবে-এটাই হচ্ছে বাস্তবতা। সব জায়গায় মোটামুটি একই অবস্থা। উদাহরণ-বাংলাদেশের নাটক, চলচিত্র, গান, নাচ সহ নানা সৃজনশীল মিডিয়া!

আমার ভাবনা ভুল হতেই পারে! কিন্তু আমার মুল কথা হলো-কোনো কিছুই শেষ হয় না, নিয়ন্ত্রন সম্ভব। আর তার জন্যে সবার আগে প্রয়োজন পারিবারিক বন্ধন-শিক্ষা; সাথে সবচেয়ে বেশী প্রয়োজন উচিত-অনুচিত নিয়ে চিন্তা করা; প্রজন্মকে সচেতন করে তোলা।
কোনো কিছু বন্ধ করে দিয়ে বা চাপিয়ে দিলেই সবকিছু নিয়ন্ত্রন সম্ভব নয় কারন ‘প্রয়োজনই আবিষ্কারের প্রসূতি’। যার যা প্রয়োজন সে ঠিকই খুঁজে নিতে চাইবে। তাই কোনটা প্রয়োজন আর কোনটা নয়-তা খুঁজে বের করাটা বেশী জরুরী।
আর যারা নিজেদের সমাজ সংস্কারক বলে মনে করেন আর সরকার ও আইন শৃংখলা বাহিনী কঠোর মনোভাবের সমালোচনা করেন, তাদের বলছি-মাঝে মধ্যে দৃষ্টান্তমুলক শাস্তি প্রদান না করলে ধৃষটতা যে কমবে না। আমার মতে, একটা মানুষকে খুন করার অপরাধীকে যদি ফাঁসি দেয়া হয় বা মৃতুদন্ড; তবে মাদকের কারনে যদি একটা প্রজন্মই খুন হয়, তবে জড়িতদের শাস্তির বিধান বোধহয় বিশেষায়িত আইন শৃংখলা বাহিনী’র হাতেই তুলে দেয়া উচিত। কারন-
‘দাগ থেকে যদি ভালো কিছু হয়, তাহলে দাগই ভালো!’

পরিশেষে, আমি বলতে চাই, গনমাধ্যম, সামাজিক মাধ্যমে, online news এর বিপক্ষে বলছি না (আমি নেতিবাচক খবর ঢালাও ও বিষদভাবে প্রচারের বিপক্ষে) বা আইন শৃংখলা বাহিনী’র দালালও নই। তবে এটাও সত্যি যে-আমি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু’র সোনার বাংলা আর রাষ্ট্রনায়ক শেখ হাসিনা’র নেতৃত্বে বর্তমান ও ভবিষ্যতের সম্ভাবনাময়, ইতিবাচক বাংলাদেশের দালাল।…

এই পোস্টটি শেয়ার করুন...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ ...
© All rights Reserved © 2020
Developed By Engineerbd.net
Engineerbd-Jowfhowo
Translate »