১৬ই অক্টোবর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ রাত ১:৪৯

ঢাকার আশুলিয়ায় হিন্দু শিক্ষককে ৬ টুকরো করে হত্যা ।

রিপোর্টার নাম
  • আপডেট টাইমঃ মঙ্গলবার, আগস্ট ১০, ২০২১,
  • 144 সংবাদটি পঠিক হয়েছে

শ্রেণিকক্ষে অধ্যক্ষ মিন্টু চন্দ্র বর্মণকে হত্যার পর লাশ ৬ টুকরো করে মোতালেব, বাদশা এবং রবিউল…….
আশুলিয়ার নরসিংহপুর সংলগ্ন বেরন এলাকার রূপায়ন মাঠের নিজ বাসা স্বপ্ন নিবাস থেকে গত ১৩ই জুলাই নিখোঁজ হন সাভার রেসিডেন্সিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ মিন্টু চন্দ্র বর্মণ। বাসা থেকে নিখোঁজের পরই তার মুঠো ফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়। এরপর তার পরিবার সাতদিন খোঁজাখুঁজি করে না পেয়ে ২২ জুলাই আশুলিয়া থানায় নিখোঁজ ডায়েরি করেন মিন্টুর ছোট ভাই দীপক চন্দ্র বর্মন। পরে ছায়া তদন্তের মাধ্যমে তিনজনকে আটক করে গতকাল লাশের সন্ধান পায় র‌্যাব। এই ঘটনায় চাঞ্চল্যকর তথ্য বেড়িয়ে এসেছে। জানা যায়, অধ্যক্ষ মিন্টু চন্দ্রের দুই সহকর্মী যারা তার বন্ধু ছিলেন তারাই তাকে হত্যা করেছে। অধ্যক্ষের দুই বন্ধু মোতালেব, বাদশা ও রবিউল মিলে তাকে শ্রেণিকক্ষে হত্যার পর লাশ ছয় টুকরো করে কলেজটির পাশে পুতে রাখে। গতকাল বেলা সাড়ে ১১টা থেকে সাভারের আশুলিয়ার নরসিংহপুর এলাকার রূপায়ন স্বপ্ন নিবাস আবাসনের সাভার রেসিডেন্সিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজের আঙিনা থেকে পুঁতে রাখা লাশের পাঁচ টুকরো উদ্ধার করে র‌্যাব। আর মাথা আশকোনার একটি ডোবা থেকে উদ্ধার করা হয়। দুই বছর আগে মিন্টু চন্দ্র বর্মণ এবং তার দুই বন্ধু মিলে সাভারে একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান চালু করেন। যার নাম দেন সাভার রেসিডেন্সিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজ। সেইসাথে, অধ্যক্ষের দায়িত্ব পালন করছিলেন মিন্টু।
ঘটনার আরো বিস্তারিত বিবরণে জানা যায়, প্রথমে ৭ জুলাই অধ্যক্ষ মিন্টুকে হত্যার পরিকল্পনা করে। পরে ১৩ জুলাই স্কুলটিতে কোচিং পরবর্তী সময়ে ১০৬ নম্বর কক্ষে মিন্টুকে ডেকে নিয়ে যায় বাদশা ও মোতালেব। এ সময় মিন্টুর মাথায় হাতুড়ি দিয়ে বাদশা আঘাত করে। পরে তিনজন মিলে মিন্টুর লাশ ছয় টুকরো করে মাথা রাজধানীর আশকোনার একটি ডোবায় ফেলে দেয়। বাকি পাঁচ টুকরো স্কুলের আঙিনায় পুঁতে রাখে তারা। মিন্টু বর্মণের সুনাম ও খুব ভালো শিক্ষক হওয়ায় পেশাগত হিংসা শুরু করেন তারা। এ ছাড়া প্রতিষ্ঠানের লভ্যাংশ নিয়েও তাদের মধ্যে মনোমালিন্য ছিল। এর জের ধরেই তাকে হত্যা করা হয়। এরপর থেকেই রবিউল পলাতক ছিল। গতকাল রাতে রবিউলকে আব্দুল্লাপুর থেকে, তার ভাগ্নে বাদশাকে গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ থেকে আর মোতালেবকে আশকোনা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে রবিউলের দেওয়া তথ্য মতে, স্কুলের আঙিনা থেকে মিন্টুর শরীরের পাঁচটি অংশ উদ্ধার করা হয়।
খুনের শিকার মিন্টু চন্দ্র বর্মণ লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা উপজেলার টংভাঙ্গা ইউনিয়নের বাড়াইপাড়া গ্রামের শর্ত বর্মণের ছেলে। নিজের জমি বিক্রি করে ওই শিক্ষা প্রতিষ্ঠান তৈরিতে বড় ভূমিকা রেখেছিলেন তিনি।
আসামীরা ইতিমধ্যে আটক হয়েছে, হত্যাকান্ডের দায় স্বীকার করেছে, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছেও ঘটনার পুরো তথ্য প্রমাণ বিস্তারিত সবই আছে, অতি দ্রুত বিচারের মাধ্যমে খুনীদের ফাঁসির দাবি জান।।

এই পোস্টটি শেয়ার করুন...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ ...
© All rights Reserved © 2020
Developed By Engineerbd.net
Engineerbd-Jowfhowo
Translate »