৮ই আগস্ট, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ রাত ২:০৪
ব্রেকিং নিউজঃ
ড্রাইভিং লাইসেন্সের লিখিত পরীক্ষার স্ট্যান্ডার্ড ৮৫টি প্রশ্ন ব্যাংক ও উত্তর নিজে শিখুন এবং অন্যকে শেখার জন্য উৎসাহিত করুন। আবার ভুমিদস্যুর হাতে আহত সংখ্যালঘু হিন্দু… বাংলাদেশেও অর্থপাচারের অভিযোগ পার্থের বিরুদ্ধে বাংলাদেশ-পাকিস্তানের সম্পর্ক উন্নয়নে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রশ্নবিদ্ধ ভূমিকা ঢাকায় ভারতের নতুন হাইকমিশনার প্রণয় কুমার ভার্মা ট্রেনের ধাক্কায় নিহত ১১ দুর্ঘটনাস্থলে সিগন্যাল, লাইনম্যান ছিল না আদমশুমারি: জনসংখ্যা সাড়ে ১৬ কোটি, পুরুষের চেয়ে নারী বেশী, কমেছে হিন্দু জনগোষ্ঠী সিলেটের হবিগন্জে হিন্দুদের উপর হামলা একজন নির্যাতিতের আকুতি। রাজশাহী বাঘার কৃতিসন্তান রথীন্দ্রনাথ দত্ত যুগ্ম-সচিব হওয়ায় সর্ব মহলের শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন

গোপালগঞ্জে ছাত্রীকে লাগাতার ধর্ষণ, হাসপাতালে ভর্তির পর ফের অপহরণ!

রিপোর্টার নাম
  • আপডেট টাইমঃ রবিবার, মে ৫, ২০১৯,
  • 178 সংবাদটি পঠিক হয়েছে

গোপালগঞ্জে লম্পট গৃহ শিক্ষক ৪র্থ শ্রেণির ছাত্রীকে হত্যার হুমকি দিয়ে অব্যাহত ধর্ষণ করেছে। ওই ছাত্রী গোপালগঞ্জ জেনারেল হাসপতালে ভর্তি হওয়ার পর ধর্ষণের আলামত নষ্ট করতে তাকে অপহরণ করা হয়েছে।

গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার দুর্গাপুর ইউনিয়নের হাতিকাটা শেখ মণি জ্ঞানেন্দ্র সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৪র্থ শ্রেণির ছাত্রীর সাথে এ ঘটনা ঘটানো হয়েছে। এ ব্যাপারে ১০ এপ্রিল রাতে গোপালগঞ্জ সদর থানায় ওই স্কুলের প্রধান শিক্ষক সুরেশ চন্দ্র দত্ত বাদী একটি মনোজ কুমার বিশ্বাস ও শাহজাহান শেখের নাম উল্লেখ সহ অজ্ঞাত আরো ৩ জনকে আসামী করে ধর্ষণ এবং অপহরণের অভিযোগে মামলা দায়ের করেছেন।

দুর্গাপুর ইউনিয়নের ২নং ওয়ার্ড মেম্বর হাসান শেখ এ ঘটনায় অভিযুক্ত মনোজ কুমার বিশ্বাসকে এ ঘটনা থেকে রক্ষার চেষ্টা করছেন। তিনি মনোজকে পালিয়ে যেতে সহায়তা করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। পাশাপাশি ওই ইউপি মেম্বরের ভাই শাহজাহান শেখ গোপালগঞ্জ জেনারেল হাসপাতাল থেকে ধর্ষণের শিকার স্কুল ছাত্রীকে অপহরণ করেছে বলে মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।

এ ছাড়া মেম্বরের ভয়ে ধর্ষণের শিকার স্কুল ছাত্রীর মা-বাবা পলাতক রয়েছে। এ ঘটনায় হাতিকাটা গ্রামের বিভিন্ন শ্রেণি পেশার মানুষের মধ্যে তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। তারা এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার দাবি করেছেন।

স্কুলের প্রধান শিক্ষক সুরেশ চন্দ্র দত্ত বলেন, হাতিকাটা গ্রামের উত্তম বিশ্বাসের ছেলে মনোজ কুমার বিশ্বাস প্রতিবেশী ওই ছাত্রীকে প্রইভেট পড়াতেন। ভয়ভীতি ও হত্যার হুমকি দিয়ে ৩য় শ্রেণিতে পড়ার সময় ছাত্রীটিকে মনোজ তার বাড়িতে নিয়ে গত বছরের ১ নভেম্বর প্রথম ধর্ষণ করে। গত ৯ এপ্রিল পর্যন্ত বিভিন্ন সময় তাকে জোর করে ধর্ষণ করে। বিষয়টি কাউকে জানালে তাকে হত্যা করা হবে বলে হুমকি দেয় ধর্ষক। গোপন রাখার শর্তে ওই ছাত্রী বিষয়টি তার সহপাঠীদের জানায়। এ কারণে আমরা জানতে পারিনি।

গত ৯ এপ্রিল স্কুলে এসে ওই ছাত্রী জ্ঞান হারিয়ে ফেলে। এ সময় তার রক্ত ক্ষরণ হচ্ছিল। পরে ইউপি চেয়ারম্যান স্কুল ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি, ইউপি মেম্বর, স্থানীয় ক্লাবের সভাপতি ও গণ্যমান্য ব্যক্তির সামনে ওই ছাত্রী ধর্ষণের বর্ননা দেয়। এতে তার অনেক বার রক্তক্ষরণ, তলপেট ব্যথা হয়েছে। অসহ্য যন্ত্রনার কথাও সে বলেছে। ধর্ষকের হাতে পায়ে ধরে মিনতি করার পরও সে রক্ষা পায়নি। এ সময় তার বক্তব্য রেকর্ড করা হয়। পরে তাকে গোপালগঞ্জ জেনারেল হাসপতালে ভর্তি করা হয়। ধর্ষণের আলামত নষ্ট করতে ওই দিন রাতেই ওই ছাত্রীকে হাসপতাল থেকে অপহরণ করা হয়।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয়রা জানিয়েছেন, ইউপি নির্বাচনে মনোজ ইউপি মেম্বর হাসানের দল করেছে। তাই ইউপি মেম্বর মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে ধর্ষক মনোজকে পালাতে সহায়তা করেছে। হাসান ঘটনাটি ধামাচাপা দিতে অপচেষ্টা চালাচ্ছে। ইউপি মেম্বরের ভাই শাহজাহান ধর্ষণের আলামত নষ্ট করতে ২/৩ জনকে সাথে নিয়ে ওই ছাত্রীকে হাসপতাল থেকে অপহরণ করেছে। ইউপি মেম্বর বিষয়টি মিমাংসা করে দিতে ওই ছাত্রীর পরিবারের ওপর চাপ প্রয়োগ করে। ইউপি মেম্বরের ভয়ে ছাত্রীর মা-বাবা গা ঢাকা দিয়েছে।

এ অবস্থায় স্কুলের প্রধান শিক্ষক বাদী হয়ে মামলা করেছেন। ইউপি মেম্বর ও তার ভাইয়ের অত্যাচার ও নির্যাতনে এলাকাবাসী অতিষ্ঠ বলেও অভিযোগ করেন হাতিকাটা গ্রামের মানুষ।

অভিযুক্ত ইউপি মেম্বর হাসান শেখ অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, গত ৯ এপ্রিল আমি স্কুল ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি ও স্কুলের প্রধান শিক্ষককে সাথে নিয়ে ওই ছাত্রীকে হাসপাতালে ভর্তি করি। পরে থানায় যাই। থানা থেকে এসআই বকুলের নেতৃত্বে একদল পুলিশ আমার সাথে ঘটনাস্থলে আসেন। সেখানে উপস্থিত হয়ে জানতে পারি আমার ভাই শাহজাহান আসামী মনোজকে নিয়ে পালিয়েছে। তারপর থেকে মনোজ ও শাহজাহান পলাতক রয়েছে। ওই দিন রাতে হাসপতাল থেকে ওই ছাত্রীকে কে বা কারা অপহরণ করে নিয়ে গেছে তা আমার জানা নেই। তবে আমার ভাইয়ের বিরুদ্ধে অপহরণ মামলা হয়েছে বলে শুনেছি। মনোজ আমার দল করতো। কিন্তু তাকে পালিয়ে যেতে আমি কোন সহায়তা করিনি। এমনকি টাকার বিনময়ে ঘটনাটি ধামা চাঁপা দিতে আমি চেষ্টা করছিনা। ওই ছাত্রীর মা-বাবাকে আমি কোন ভয়ভীতি দেইনি। তারা হয়তো আতংকে গা ঢাকা দিয়েছে। প্রতিপক্ষ আমাকে হেয় প্রতিপন্ন করতেই আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ করছে।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা গোপালগঞ্জ সদর থানার এসআই বকুল বলেন, হাসপতাল থেকে ওই ছাত্রীকে কৌশলে শাহজাহান সহ ৩/৪ জন অপহরণ করে নেয়। এ কারণে ওই ছাত্রীর ডাক্তারী পরীক্ষা সম্পন্ন হয়নি। ধর্ষণের আলামত নষ্ট করতেই ওই ছাত্রীকে অপহরণ করা হয়েছে বলে ধারনা করছি।

গোপালগঞ্জ সদর থানার ওসি মোঃ মনিরুল ইসলাম বলেন, এ ঘটনায় একটি মামলা রেকর্ড করা হয়েছে। আসামীদের গ্রেফতারে আমাদের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

এই পোস্টটি শেয়ার করুন...

Leave a Reply

Your email address will not be published.

এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ ...
© All rights Reserved © 2020
Developed By Engineerbd.net
Engineerbd-Jowfhowo
Translate »