১৩ই আগস্ট, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ সকাল ১১:৩৫
ব্রেকিং নিউজঃ
ড্রাইভিং লাইসেন্সের লিখিত পরীক্ষার স্ট্যান্ডার্ড ৮৫টি প্রশ্ন ব্যাংক ও উত্তর নিজে শিখুন এবং অন্যকে শেখার জন্য উৎসাহিত করুন। আবার ভুমিদস্যুর হাতে আহত সংখ্যালঘু হিন্দু… বাংলাদেশেও অর্থপাচারের অভিযোগ পার্থের বিরুদ্ধে বাংলাদেশ-পাকিস্তানের সম্পর্ক উন্নয়নে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রশ্নবিদ্ধ ভূমিকা ঢাকায় ভারতের নতুন হাইকমিশনার প্রণয় কুমার ভার্মা ট্রেনের ধাক্কায় নিহত ১১ দুর্ঘটনাস্থলে সিগন্যাল, লাইনম্যান ছিল না আদমশুমারি: জনসংখ্যা সাড়ে ১৬ কোটি, পুরুষের চেয়ে নারী বেশী, কমেছে হিন্দু জনগোষ্ঠী সিলেটের হবিগন্জে হিন্দুদের উপর হামলা একজন নির্যাতিতের আকুতি। রাজশাহী বাঘার কৃতিসন্তান রথীন্দ্রনাথ দত্ত যুগ্ম-সচিব হওয়ায় সর্ব মহলের শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন

বরিশালের বিস্মৃত বীর সন্তানেরা

রিপোর্টার নাম
  • আপডেট টাইমঃ শনিবার, মে ১১, ২০১৯,
  • 246 সংবাদটি পঠিক হয়েছে

সাংবাদিকরা যখন সংবাদের জন্য বিভিন্ন বিটে কাজ করেন, তখন সেই বিটসংশ্লিষ্ট মানুষদের সাথে তাদের নিয়মিত যোগাযোগ রাখতে হয়। এভাবেই কারো সাথে সুসম্পর্কও গড়ে ওঠে।  সংবাদের জন্য সোর্স তৈরি করা ও সুসম্পর্ক বজায় রাখায়ও জরুরী।  তবে এই প্রক্রিয়ায় আমরা অনেক সময় ভূলে যাই। এই যোগাযোগ কিংবা সম্পর্কগুলো মূলত পেশাগত।  এখানে কারো একান্ত ব্যক্তিগত স্বার্থ চরিতার্থ করার সুযোগ নেই। কারো সঙ্গে সম্পর্কের কারণে তার বা তাদের জন্যেই শুধু নয়, কেউ আবার নিজে থেকেই ক্ষুদ্র ব্যক্তিগত স্বার্থের কাছে পেশাগত নীতি-নৈতিকতা বিসর্জন দিয়ে দেই। এসব কারণে যে অনাকাঙ্খিত ঘটনাগুলো ঘটে থাকে, সেগুলো হলো – ১. নিউজ করার সময় পেশাগত দায়িত্ব-কর্তব্য এবং নীতি-নৈতিকতার সাথে আপস করেও অনেক সময় কারো স্বার্থরক্ষার চেষ্টা করতে হয়। মূলত, সেসব ব্যক্তি/প্রতিষ্ঠানের সাথে সুসম্পর্ক নষ্ট হওয়ার ভয়ে এমন করা হয়। ২. সোর্সের কাছ থেকে পাওয়া তথ্য কোনো রকম যাচাই-বাছাই না করেই প্রকাশ/প্রচার করা হয়! যা পাঠক-দর্শক-শ্রোতার মাঝে বড় ধরনের বিভ্রান্তি সৃষ্টি করে। ৩. কারো না কারো স্বার্থে কখনও এমনকি জেনেশুনেও কখনও ভুল কিংবা ভর্তি তথ্য প্রকাশ/প্রচার করা হয়ে যায়। ৪. যে প্রতিষ্ঠানে কাজ করা হয়, অনেক সময় সেই প্রতিষ্ঠান কিংবা পাঠক-দর্শক-শ্রোতার চেয়েও সেইসব ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের প্রতি বেশি দায়বদ্ধতা তৈরি হয়ে যায়। কখনও এমন দেখা যায়, কেউ কেউ স্বার্থসংশ্লিষ্ট বক্তব্য বা সংবাদ এক তরফাভাবে প্রচার বা প্রকাশ করতে চান। একপেশে বক্তব্য বা সংবাদ প্রচার বা প্রকাশ সাংবাদিকতার পেশাদারির পরিপন্থি, তবুও তারা তা করতে চান। তখন প্রতিষ্ঠান আপত্তি করলে তারা ওই ব্যক্তি-গোষ্ঠীর সঙ্গে তাদের সম্পর্ক নিয়ে চিন্তিত হয়ে পড়েন। তার কারণে তার প্রতিষ্ঠান ছোট হচ্ছে কি না? কিংবা পাঠক-দর্শক-শ্রোতা বিভ্রান্ত হচ্ছেন কি না সেই চিন্তা তাদের মাঝে কাজ করে না। এই ধারাবাহিকতায় এক সময় সাংবাদিকের পেশাগত দক্ষতাও কমে যায়। পেশাদারি তলানীতে ঠেকে। আমরা দেখি ‘অমুক সূত্র জানিয়েছে’ বলে কোনো সুনির্দিষ্ট তথ্য-প্রমাণ ছাড়াই কেউ কারো সম্পর্কে ভয়াবহ সব কথাবার্তা প্রকাশ বা প্রচার করে থাকেন। সেসব পড়ে বা শুনে সাধারণ পাঠক-দর্শক-শ্রোতা সেই ব্যক্তি সম্পর্কে নেতিবাচক ধারণা করে বসে থাকেন। কেনো না, মানুষ এখনও এমন বিশ্বাস করেন যে, সাংবাদিকরা তাদের চেয়ে বেশি জানেন। আবার কখনও দেখা যায়, অনুসন্ধানী নিউজের মতো করে কাউকে দোষী বা অপরাধী হিসেবে তুলে ধরার পর শেষের দিকে বলা হয়, ‘বিষয়টি খতিয়ে দেখছেন গোয়েন্দারা’। প্রশ্ন হলো, তাহলে সাংবাদিকের দায়িত্বটা কি? সাংবাদিকেরই তো কাজ, অনুসন্ধানের মাধ্যমে সত্য প্রকাশ করা। সাংবাদিকদের তো একটি কথা মনে রাখতে হয়, যে যার সম্পর্কে যা-ই বললো কোনো যাচাই-বাছাই ছাড়া সে সবই যদি প্রচার বা প্রকাশ করা হয়, তাহলে মানুষ এক সময় সাংবাদিকদের ওপর আর আস্থা রাখবেন না। বর্তমানে অনেক সংবাদপত্রে দেখা যায় নিউজ করেন রাজধানীর পাশের এলাকা থেকে পুলিশ কয়েকজন কিশোরকে আটক করেছে। বয়সের দিক দিয়ে তারা শিশু। পরেদিন গণমাধ্যমে প্রচার হলো ‘সমকামিতার দায়ে’ তাদের আটক করা হয়েছে। আবার সেই সংবাদেই রয়েছে, পুলিশ তাদের বিরুদ্ধে মাদকের আইনে অভিযোগ দিয়েছে। এক্ষেত্রে দেখা যায় নিউজ এমনকি সম্পাদনার ক্ষেত্রে যে সাধারণ সাবধানতা মানা দরকার তাও করা হয়নি। পুলিশ মুখে যেভাবে বলেছে, কোনো রকম চিন্তা-ভাবনা ছাড়া তাই ছাপিয়ে দেওয়া হয়েছে। এতে পাঠক যে বিভ্রান্ত হলো,ঐ দিকে শিশুদের জীবনও যে দূর্বিসহ অবস্থায় পড়লো তা বিবেচনা করা হয়নি। কিছুদিন আগে একটি বিদেশি সংবাদ মাধ্যমের বরাত দিয়ে কয়েকটি গণমাধ্যম নিউজ করলো শেখ হাসিনাকে প্রাণনাশের চেষ্টা, প্রাধানমন্ত্রীর কার্যালয়ও এমন খবরকে ভিত্তিহীন বলে উল্লেখ করেছে।  এমন ভয়াবহ এবং স্পর্শকাতর সংবাদ প্রকাশের ক্ষেত্রেও দায়িত্বশীল কোনো ব্যক্তির বক্তব্য না নিয়েই তা প্রকাশ করা হলো। এর মধ্যে দিয়ে দেশ-বিদেশের সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে শুরু করে সাধারণ পাঠক-দর্শক-শ্রোতার কাছে গণমাধ্যমের বিশ্বাসযোগ্যতা এবং মর্যাদা ক্ষুন্ন হলো। নিজেরা কোনো অনুসন্ধান বা যাচাই-বাছাই না করে শুধু ‘শোনা গেছে ‘ ‘জানা গেছে ‘ ‘ তিনি বলেন ‘ ‘ তিনি আরও বলেন ‘ এমন শব্দগুলো দিয়ে যে সাংবাদিকতার এ যুগে পাঠক এখন তা চ্যালেঞ্জ করতে শুরু করেছে। এ অবস্থায় পেশাদারিত্বের চর্চায় অনেক বেশি নিষ্ঠাবান ও গুণবিচারি হওয়ার বিকল্প নেই। তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির বিকাশের এই যুগে এখন মানুষ নিজেই মিডিয়া। এ যুগে গণমাধ্যমের সংঞ্জা বলতে গিয়ে কেউ কেউ বলেন  “I am media ” অর্থাৎ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমসহ তথ্য ও প্রযুক্তি ব্যবহার করে অনেকেই তার মতো করে মিডিয়া পরিচালনা করেন। এ অবস্থা মূলধারার গণমাধ্যমের জন্য চ্যালেঞ্জ। গণমাধ্যম যদি গভীরতা, পেশাদারি নৈতিকতা বজায় রাখতে না পারে তাহলে মানুষ আস্থাহীন নিজের মিডিয়া নিজেই পরিচালনা করবেন। বর্তমানে ইন্টারনেটর সহজলভ্যতার কারণে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমসহ বিভিন্নভাবে অনেক সময় ভিত্তিহীন এবং অসৎ উদ্দেশ্য প্রণোদিত সংবাদ ছড়ায়। এক্ষেত্রে মূলধারার গণ্যমাধ্যমের দায়িত্ব অনেক বেড়েছে। চেক-ক্রসচেকের মাধ্যমে সত্যানুসন্ধান করে মানুষকে প্রকৃত বিষয়টি জানানো গণমাধ্যমেরই কাজ। মানুষ এখনও মূলধারার গণমাধ্যমের ওপর নির্ভর করতে চায়। এমন বাস্তবতায় সাংবাদিকতায় পেশাদারিত্বের ইতিবাচক চর্চায় প্রেস ক্লাবের মতো সংগঠনের ভূমিকা দিন দিন আরো জোরালো হওয়া প্রয়োজন। শুরুতে অনেক নীতি-নৈতিকতার কথা বলছিলাম, শেষে রবি ঠাকুরের রচনা সংবাদপত্রের কথা মনে করে দেই- কত অজানাকে তুমি জানাইলে বন্ধু, কত ঘরে দিলে ঠাই। দুরকে করিলে নিকট বন্ধু,  পরকে করিলে ভাই।

এই পোস্টটি শেয়ার করুন...

Leave a Reply

Your email address will not be published.

এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ ...
© All rights Reserved © 2020
Developed By Engineerbd.net
Engineerbd-Jowfhowo
Translate »